বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পদ্মকে নিয়ে রওনা হয়েছি। পদ্ম বলল, আমার স্যান্ডেল কেনার কোনো দরকার নেই, আপনার সঙ্গে জরুরি কিছু কথা বলা দরকার।
আমি বললাম, বলো।
পদ্ম বলল, একগাদা মানুষের মধ্যে জরুরি কথা কীভাবে বলব! আপনার কাছে যদি টাকা থাকে, কোনো একটা চায়নিজ রেস্টুরেন্টে যাই, চলুন।
আমার কাছে কুড়ি টাকার একটা নোট আছে। এই টাকা নিয়ে চায়নিজ রেস্টুরেন্টে যাওয়া যায় না।
আপনার ভাইয়ার কাছ থেকে টাকা নিয়ে আসুন। আমার টম ইয়াম স্যুপ খেতে ইচ্ছে করছে।
ভাইয়ার কাছে টাকা থাকে না। রহিমার মায়ের কাছে ধার চেয়ে দেখতে পারি। মাঝে মাঝে সে আমাকে টাকা ধার দেয়।
রহিমার মায়ের কাছ থেকে টাকা ধার করতে হবে না। চলুন, পার্কে যাই। আপনার ভাই যেমন আশ্চর্য মানুষ, আপনিও আশ্চর্য মানুষ।
আমরা রমনা পার্কে ঢুকে গেছি। সেখানে বাজারের চেয়েও ভিড় বেশি। মোটামুটি নিরিবিলি একটা জায়গা পাওয়া গেল। কেয়াগাছের ঝাড়। সামনে ডাস্টবিন। ডাস্টবিন থেকে বিকট গন্ধ আসছে। এই কারণেই বোধহয় লোকজন এদিকে আসে না।
পদ্ম, কী বলবে বলো।
পদ্ম বলল, আপনার সম্বন্ধে আমার মায়ের কী ধারণা, জানতে চান?
আমি যে জানতে চাই, তা না, তুমি বলতে চাইলে বলো।
পদ্ম বলল, আমার মায়ের ধারণা, আপনি চালবাজ বেকুব।
এটাই কি তোমার জরুরি কথা?
পদ্ম বলল, না। জরুরি কথাটা হচ্ছে, ট্রাক ড্রাইভার সালামতের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়েছে। তার সঙ্গে ছয় দিন একসঙ্গে ছিলাম। আমি তার কাছে ফিরে যেতে চাই। আপনি ব্যবস্থা করে দিন।
কথা শেষ করে পদ্ম ফিক করে হাসল। তাকে আনন্দিত ও উৎফুল্ল মনে হলো।
আমি বললাম, পদ্ম! কোনো ট্রাক ড্রাইভারের সঙ্গে তোমার বিয়ে হয়নি। এই গল্পটা তুমি বানিয়ে বলছ। তোমার মায়ের ধারণা হয়েছে, এ রকম একটা গল্প শুনলে আমি আর তোমার ধারেকাছে ঘেঁষব না। তুমি আমার কাছ থেকে নিরাপদ থাকবে। গল্পটা তোমার মা তোমাকে শিখিয়ে দিয়েছেন।
পদ্ম হাসিমুখে বলল, তাই বুঝি?
আমি বললাম, উনি তোমাকে একা ছাড়ার মহিলা না, আমাকে তোমার সঙ্গে দিয়ে দিয়েছেন, যাতে তুমি গল্পটা বলতে পারো।
পদ্ম বলল, কোন জায়গায় আপনি নিয়ে এসেছেন? বিশ্রী গন্ধ! চলুন, ভালো কোনো জায়গায় বসি। আইসক্রিম খাব। আইসক্রিমের টাকা আমি দেব। আমার কাছে টাকা আছে। সালামত সাহেব আমাকে প্রতি মাসে পনেরো শ টাকা হাতখরচ দেন। এ মাসেরটা অবশ্যি পাইনি।
পদ্মকে নিয়ে বাসায় ফিরছি। দুজন একই রিকশায়। পদ্মর হাতে কোন আইসক্রিম। সে আগ্রহ নিয়ে আইসক্রিম খাচ্ছে। পদ্ম বলল, আমি এই পর্যন্ত রিকশার সিট থেকে কতবার পড়েছি জানেন?
আমি বললাম, জানি না।
জানতে চান?
না। জেনে আমার লাভ কী?
লাভ আছে। আমাকে নিয়ে যখন রিকশায় উঠবেন তখন সাবধান থাকবেন। আমাকে ধরে রাখবেন। অন্যের রূপবতী স্ত্রীর হাত ধরে থাকার মধ্যে আনন্দ আছে।
তুমি রিকশার হুড শক্ত করে ধরে বসে থাকো। তাহলেই হয়।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now