বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আত্নশুদ্ধি

"রোমাঞ্চকর গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X জিয়াত মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে।বাবা সামান্য বেতনে চাকুরি করে।কিন্তু জিয়াতের চালচলন বড়লোক বাপের বকে যাওয়া ছেলেদের মত।সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরোয়।কিন্তু তাকে প্রতিদিন মোবাইলে রিচার্জ করে দিতেই হবে।না দিলে রাগারাগি,চিল্লাফাল্লা,খাওয়ার না খাওয়া এগুলো চলতেই থাকে।একসময় সে বখাটেদের দলে যোগ দেয়।রাস্তায় মেয়ে দেখলেই টিজ করে।এভাবেই চলছিল।একদিন এক মেয়েকে দেখে ভালো লেগে যায় জিয়াতের।খোজখবর নিয়ে দেখে ওর নাম তানিমা।অনেক বড়লোকের মেয়ে।এরপর একদিন ওর সাথে কথা হয়।জিয়াত তানিমাকে ওর পরিবার সম্বন্ধে কিছু বলে নাই। বাহ্যিক চালচলন দেখেই ধীরে ধীরে ওদের মধ্যে সম্পর্কটা সৃষ্টি হয়ে গেলো।ভালোই কাটছিলো দিনগুলো।প্রতিদিন ফোনে কথা হত।তবে তানিমা কখনো জিয়াতের পরিবার সম্বন্ধে কিছু জানতে চাইনি। এদিকে জিয়াতের তানিমার সাথে রিলেশন থাকলে কি হবে,সে আগের মতই আছে একটুও বদলায়নি।বখাটে বন্ধুদের সাথে রাস্তায় মেয়েদের এখনো টিজ করে।একদিন সন্ধ্যাবেলা একটা মেয়েকে একা পেয়ে জিয়াত আর তার বন্ধুদের মধ্যে পশুবৃত্তি জেগে উঠে। ওরা মেয়েটা্র পেছন পেছন যায়।এক সময় ওরা মেয়েটাকে ঘিরে ধরে। মেয়েটা আকুতি-মিনতি করতে থাকে তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্যে।কিন্তু মেয়েটাকে দেখে ওদের হিংস্র চোখগুলো আরো বেশি জ্বলজ্বল করে উঠে।যেন ক্ষুধার্ত বাঘ একটা সহজ শিকার পেয়েছে।মেয়েটার কন্ঠস্বর জিয়াতের পরিচিত মনে হয়। হঠাৎ জিয়াত খেয়াল করে মেয়েটা তার প্রেমিকা তানিমা।জিয়াত সবাই কে চলে যেতে বলে। তারপর তানিমাকে বলে- -সরি তানিমা ! আমি বুঝতে পারিনাই ওটা তুমি। মাফ করে দাও। প্লিজ ! -ওটা আমি না হয়ে অন্য কোন মেয়ে হলে কি করতে? অসভ্য! আমি এতদিন তোমার মত মানুষের পাল্লায় পড়ে ছিলাম। জিয়াত কিছু বলে না।চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে। তানিমা আবার বলে- - আমার জায়গায় যদি তোমার বোন থাকতো তাহলে কি হত? এই বলে তানিমা চলে যায়। জিয়াত এবার ভাবে- তারও তো ১টা বোন আছে।সেও তো এসবের শিকার হতে পারে।জিয়াত যাদের এতদিন টিজ করেছে তারাও তো কারো বোন।তার নিজের বোনের সাথে এমন ঘটলে কি হত? ভাবতে ভাবতে জিয়াতের মনে অনুশোচনাবোধ জন্মে।নিজেকে পাপী পাপী মনে হতে থাকে। সে একা একা রাস্তায় হাটছে।আজ ওর নিজের প্রতি খুব ঘৃণা হচ্ছে খুব।হঠাৎ দেখে রাস্তায় তার বাবা। হেটে হেটে তিনি চাকুরী থেকে বাসায় ফিরছেন।তার বাবা্র অফিস অনেক দূরে।বাবা ৫ টাকা বাস ভাড়া বাচানোর জন্যে হেটে হেটে আসছেন। এরপর জিয়াত আর চোখের পানি ধরে রাখতে পারে না। গিয়ে বাবাকে বুকে জড়িয়ে ধরে হাউ মাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বলে - আব্বু ! আমাকে মাফ করে দাও। আমি অনেক ভুল করেছি। -বোকা ছেলে! কাঁদো কেন?তোমার উপর কি আমরা রাগ করতে পারি! তুমি শুধু পড়াশুনাটা ভালো করে কর।এই নাও তোমার জন্যে মোবাইল কার্ড আনছি। -না আব্বু! আমার কিছু লাগবেনা। এরপর বাবা ছেলে দুজন মিলে বাসায় যায়।একসাথে বসে খাওয়ার খায় অনেকদিন পরে। পরদিন থেকে জিয়াত সবকিছু বাদ দিয়ে পড়াশোনা শুরু করল।কিছু বন্ধুর সহযোগিতায় ১টা টিউশান নিল।তাতেই ওর হাতখরচ চলে যেত। এইচএসসি তে জিপিএ-৫ পেয়ে জিয়াত এখন চুয়েটে চান্স পেয়েছে। তবে তানিমার সাথে আর কখনো দেখা হয়নি!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now