বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শেষ বিকেলের পাওয়া

"রোমাঞ্চকর গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X বিকেলের সূর্যটা পশ্চিম আকাশের গায়ে হেলান দিয়ে আছে । সূর্যের আলোটা তাই ক্ষিণ আভা চড়িয়ে নিঃশেষ হওয়ার পথে । শীতের বিকেল হওয়ায় মানব-মানবীদের আড্ডাটা জমে ওঠে কলেজের ঐই প্রিয় মাঠ টার এক কোনে অবস্থিত শহীদ মিনারটার প্রাঙ্গণে । প্রতিদিন কিছু যান্ত্রিক মানুষের ব্যস্ততা সেড়ে এই স্তানটা হয়ে উঠে শহরের সবচেয়ে ব্যস্ত ভালবাসার বিনিময় কেন্দ্র । প্রতিদিন শত শত কাব্য রচনাও হয় প্রেমিক- প্রেমিকা যোগলের কথোপকথনে । তাই এর আর একটা নাম আছে "প্রেম চত্বর" ! কিছু ব্যস্ত যান্ত্রিক মানুষের ভীড়ে কিছু কর্মহীন নাগরিকের উপস্তিতিও লক্ষ্যণীয় । তাদের মধ্যেই একজন কর্মহীন যুবক "শুভ" । তার কাব্য রচনা হয় "তন্দ্রা"র সাথে । পড়ালেখা শেষ করে প্রতিদিন রাতে একটা কিছু করার স্বপ্ন দেখে যার ঘুম হয়, সকালটা হয় একবুক আশা নিয়ে । আবার দিনশেষে স্বপ্ন ভঙ্গের কষ্ট নিয়ে ঘরে ফেরা ।রাতে আবার সেই ভাঙ্গাটা মিলাতে না মিলাতেই সকালটা আসে । টিউশনির সামান্য অর্থ দিয়ে তার বেকার জীবনটা চলতে থাকলেও ভবিষত্ নিয়ে তার অনেক দুশ্চিন্তায় সে । তাই বিভিন্ন ইন্টারভিউ বোর্ডে তাকে প্রায়ই দেখা যায় । ছেলেটা পড়ালেখায় ভাল ছিল কিন্তু আজকাল মামার জোর না থাকার কারণে প্রতিটা বাইভা বোর্ড থেকে তাকে বিদায়ী বাক্যটাই শুনতে হয় । এই পর্যন্ত কতটা বোর্ডে যে সাক্ষাতকার দেওয়া হয়েছে সে সংখ্যাটাই ভূলেই গেছে । আজও একটা বাইভা বোর্ড থেকে উঠে এসেছে সে ! শহীদ মিনারটার পশ্চিম কিনারায় বসে চিন্তারত শুভ ! একটু পরে তার রেজাল্ট দিবে । মোবাইলটা বেজে উঠলো তন্দ্রার ফোন । রিসিভ করলো ! -কোথায় আছ ? ~প্রেম চত্তরে । -তোমার সাথে কিছু জরুরী কথা আছে ! তুমি থাকো আমি আসছি । এই বলে ফোনটা কেটে দেয় তন্দ্রা । শহরের একটা শিক্ষিত পরিবারের মেয়ে তন্দ্রা । একই ক্লাসে পড়ার সুবাধে তাদের পরিচয়টা অনেক দিনের । কিন্তু প্রেম করার সময়টা বেশী দিন হয়নি । তাদের সম্পর্ক মাত্র ছ'মাস পেরোল । প্রথম দিনের পরিচয়েই তন্দ্রাকে শুভর অনেক ভাল লেগে যায় । বেচারা তার জন্য হৃদয়ে একটা ভালবাসার পাহাড় গড়ে তোলে । কিন্তু মুখফোঁটে কোনদিন বলতে পারতোনা । তন্দ্রাকে দেখলেই কেমন নার্ভাস ফিল করত শুভ । অনেকদিন যাবত্ শুভর এরুপ আচরণে তন্দ্রাও বুঝে যায় যে শুভ তাকে ভালবাসার কথা । তখন থেকে তন্দ্রা শুভকে অনেক সুযোগ দিত ভাললাগার কথাটা বলে দেওয়ার জন্য । কিন্তু শুভ কোনদিন বলতে পারেনি । একদিন তন্দ্রা শুভকে একা ডাকল ! -এই শুভ তুমি কি কারো প্রেমে পড়েছ ? শুভর মুখটা তখন লজ্জায় লাল হয়ে যায় । বেচারা উত্তর দেয় ! ~তোমার প্রেমে পড়েছি ! তন্দ্রা শুভর লজ্জাটা ভাঙ্গানোর জন্য সহজ ভাবেই কথাগুলো বলতে থাকল । - তো এতদিন বলনি কেন ? ~জানিনা । শুভ একটা অভ্যাস ছিল সে মেয়েদের সামনে কোন কথা বলতে পারতোনা । আবার ফোনে সে অনেক গুছিয়ে কথা বলতে পারে । সেই মুহুর্তে আর কথা হয়নি । রাতে ফোনে তাদের ভাললাগার অনেক কথাবার্তা হয় । সেদিন থেকে চলতে থাকে শুভ আর তন্দ্রা যোগলের প্রেমকাব্য রচনা । -কি তোমার মুখটা এমন শুকনো দেখাচ্ছে কেন ? ~বাসা থেকে খুব চাপ দিচ্ছে বিয়ের জন্য ! কিছুটা নিচুস্বরে উত্তর দেয় তন্দ্রা । আজ না একটা ইন্টারভিউ ছিল কেমন দিলে ? -হুম ভালোই দিয়েছি ! প্রত্যেক বারই তো ভাল দিই কিন্তু কখনো রেজাল্ট তো ভাল হয়না । ~ওকে এবার হয়ে যাবে । একটা চিন্তা উতপেতে আছে তন্দ্রার চোঁখে মুখে । কিন্তু শুভ কষ্ট পাবে ভেবে তন্দ্রা কোনদিন মুখফোঁটে বলেনি । -খুব বেশী চাপ দিচ্ছে ? তাহলে বিয়েতে রাজী হয়ে যাও । ~ছিঃ শুভ তুমি আমাকে এইরকম ভাবলে । তুমি কষ্ট পাবে বলে আমি তোমাকে চাপ দেয়নি । প্রতিদিন আমাকে বিয়ের জন্য এনেক কথা শুনতে হয় ।অনেক অভিমানে কথাগুলো বলে কাঁদতে লাগল তন্দ্রা । শুভ মুখটা নিচু করে নিরব হয়ে থাকল । কিছুই বুজে উঠতে পারছেনা কি করবে ? আর মিছে আশা দিয়েই কি লাভ ? কোন দিন ঘোষ ছাড়াও তো চাকরি টা হবেনা । তন্দ্রা অনেক অভিমানে ব্যগটা নিয়ে চলে যেতে লাগল । শুভ শুধু চোঁখ মেলে থাকিয়ে আছে তন্দ্রার চলে যাওয়ার পথ পানে । একটা কথাও বলল না । চোঁখ দিয়ে অনরবত অশ্রু ঝরতে লাগল । সেই সময় ফোনটা বেজে উঠলো ! অনিচ্ছা সত্ত্বেও ফোনটা রিসিভ করলো । -হ্যালো ! ~শুভ সাহেব বলছেন ? -জ্বি বলুন ! ~কনগ্রেচুলেশন আপনি সিনিয়র অফিসার পদে নির্বাচিত হয়েছেন । আপনি আগামীকাল আমাদের অফিসে এসে জয়েনিং লেটারটা নিয়ে যাবেন । ~ওকে থ্যাংকস এলট । চোঁখে-মুখে রাজ্য জয়ের আনন্দে আত্নহারা হয়ে দৌড় দেয় তন্দ্রার পিছনে । হাঁপাতে হাঁপাতে তন্দ্রার পথটা আটকে দেয় । কোথায় যাচ্ছ ? তোমাকে আমি যেতে দেবনা এসো .. ! তখনো অভিমানটা ভাঙ্গেনি তন্দ্রার । আমি চাকরিটা পেয়ে গেছি ! শুভর কথা শুনে তন্দ্রা খুশীতে জড়িয়ে ধরে শুভকে । চল প্রেম চত্তরে ।এখনতো আর বাধা নেই প্রেম করতে ! একটা হাসিমাখা মুখ নিয়ে বলে শুভ । মনে একটা আনন্দ নিরবে মাথা ঝাকাতে লাগল তন্দ্রা । আর শুভ খুশীতে গাইতে থাকে "চাকরীটা আমি পেয়ে গেছি তন্দ্রা সত্যি ; এখন আর কেউ আটকাতে পারবেনা । সম্মন্ধটা এইবার তুমি বেচতে দিতে পারো , মাকে বলে দাও বিয়ে তুমি করছোনা" । শেষ বিকেলের আলোটার সেদিন এর চেয়ে বেশী পাওয়ার আর কিছুই ছিলনা তাদের ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now