বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পোশাক

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান বাপ্পী (০ পয়েন্ট)

X ভুতুড়ে বিয়ের পোশাককে কেন্দ্র করে এখনও আনাগোনা করে মৃত পাত্রীর আত্মা ............................................................ ............ বিয়ের পোশাক ঢাকা কাঁচের বাক্সটা মাঝেমধ্যে কেঁপে উঠছে। কখনও বা নড়ে উঠছে আস্ত পোশাকটিই। কেউ কেউ আবার দাবি করেন, বেকার মিউজিয়মে সাজানো আয়নায় নাকি মাঝে মধ্যেই দেখা দেয় ছায়ামূর্তি। আপনি কি আত্মার মৃত্যু-পরবর্তী অস্তিত্বে বিশ্বাসী? ভালবাসেন আত্মার মৃত্যূত্তর অস্তিত্বের প্রমাণ খুঁজে বেড়াতে? তাহলে আমেরিকার পেনসিলভেনিয়ার বেকার ম্যানসনে একবার অবশ্যই ঘুরে আসা উচিৎ আপনার। কারণ এটি এমন এক প্রাসাদ, যেখানে নাকি এক মৃত মেয়ের আত্মার আনাগোনা ঘটে প্রায়শই। এবং তার সেই ফিরে ফিরে আসার কেন্দ্রে রয়েছে এক অভিশপ্ত বিয়ের পোশাক। বেকার ম্যানসন তবে এই পোশাকের কাহিনি অবশ্য নিছক ভূতের গল্প নয়। বরং এ এক ব্যর্থ প্রেমের আখ্যান। উনিশ শতকের মানুষ এলিয়া বেকার ছিলেন সেই সময়কার নাম করা অভিজাত। ১৮৪৯ সালে তিনি তৈরি করেন বেকার ম্যানসন। এলিয়ার মেয়ে ছিলেন আনা। বাবার খুবই আদরের মেয়ে। ছোটবেলা থেকেই বাবার স্বপ্ন ছিল ধুমধাম করে বিয়ে দেবেন মেয়ের। সেই মেয়েই যৌবনে পৌঁছে যখন জানালেন তিনি ভালবেসে ফেলেছেন এক পুরুষকে, প্রথমটায় খুশিই হয়েছিলেন এলিয়া। মেয়ে নিজেই খুঁজে নিয়েছে তার জীবনসঙ্গীকে— একথা জেনে এলিয়া ভেবেছিলেন, তাঁর কাঁধ থেকে মেয়ের পাত্র খোঁজার দায়িত্ব বুঝি নেমে গেল। কিন্তু তাঁর স্বপ্নজগৎ ভেঙে চুরমার হয়ে যায় যখন তিনি জানতে পারেন হবু জামাইয়ের সামাজিক পরিচয়। আনা জানালেন, তিনি যাকে ভালবেসেছেন, সে পেশায় একটি স্টিল কারখানার সামান্য শ্রমিক। এই শুনেই বেঁকে বসেন এলিয়া। সদম্ভে ঘোষণা করেন, সামাজিক মর্যাদায় তাঁদের সমকক্ষ নয়, এমন কোনও পুরুষের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে তিনি দেবেন না। কয়েকদিন প্রবল টানাপোড়েন চলে বাবাতে মেয়েতে। বেকার ম্যানসনের ভিতর থেকে ঝগড়াঝাঁটি আর কান্নাকাটির আওয়াজ শোনা যেতে থাকে আশেপাশের বাড়িগুলিতেও। শেষ পর্যন্ত বাবার জেদের কাছে হার মানেন আনা। কিন্তু পাল্টা জেদ ধরেন তিনি নিজেও। প্রতিজ্ঞা করে বসেন, ভালবাসার মানুষকে যখন বিয়ে করতে পারেননি, তখন সারাজীবন অবিবাহিতই থাকবেন। বাবা এলিয়া অনেক চেষ্টা করেছিলেন মেয়ের মানভঞ্জনের। কিন্তু মেয়েকে টলাতে পারেননি তাঁর প্রতিজ্ঞা থেকে। শেষ পর্যন্ত অবিবাহিত অবস্থাতেই ১৯১৪ সালে মারা যান আনা। এই পর্যন্ত কাহিনিতে করুণ রসের ছোঁয়া পাওয়া গেলেও ভৌতিক কিছু ঘটেনি। এই ভৌতিক মাত্রাটি যোগ হয় আনার মৃত্যুর কিছুকাল পর থেকে। ১৯২২ সালে বেকার ম্যানসনকে একটি মিউজিয়ামে রূপান্তরিত করা হয়। নানা দ্রষ্টব্য বস্তুর মধ্যে রাখা হয় আনার জন্য কেনা বিয়ের পোশাকটিও। এই পোশাকটি শখ করে কিনেছিলেন আনা নিজেই। তাঁর স্বপ্ন ছিল, মনের মানুষকে যখন বিয়ে করবেন তখন এই পোশাকটিই থাকবে তাঁর পরনে। সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি। শোনা যায়, নিজের বিয়ে ভাঙার পরে সাময়িকভাবে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিলেন আনা। তখন নাকি প্রায়শই রাত্রি বেলা বাড়ির বাগানে বিয়ের পোশাকটি পরে ঘুরে বেড়াতে দেখা যেত আনাকে। মনে করা হয়, মৃত্যুর পরেও সেই পোশাকের মায়া ছাড়তে পারেননি আনা। তাই মিউজিয়ামের কাঁচের বাক্সে ঢাকা বিয়ের পোশাকটির কাছে এখনও আনাগোনা করে আনার আত্মা। একথা বলেছেন বেকার মিউজিয়ম দেখতে আসা দর্শকরাই। কারণ তাঁরা স্বচক্ষে দেখেছেন, বিয়ের পোশাক ঢাকা কাঁচের বাক্সটা মাঝেমধ্যে কেঁপে উঠছে। কখনও বা নড়ে উঠছে আস্ত পোশাকটিই। কেউ কেউ আবার দাবি করেন, বেকার মিউজিয়মে সাজানো আয়নায় নাকি মাঝে মধ্যেই দেখা দেয় ছায়ামূর্তি। এমনকী, প্রতিবেশীরা দাবি করেন, পূর্ণিমা রাত্রে নাকি বেকারদের বাড়ির বাগানে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় কালো পোশাক পরিহিত এক তরুণীকে। কে সে? প্রতিবেশীদের ধারণা আনার প্রেতই ঘুরে বেড়ায় এভাবে। আর বেকার ম্যানসনের ডাইনিং রুমে নাকি নিয়মিত হানা দেন স্বয়ং এলিয়ার আত্মা। বেকার ম্যানসন সত্যিই অভিশপ্ত কি না সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সহজ নয়। তবে এ কথা সত্য যে, বেকারদের পরিবারে এবং এই বাড়িতে ঘটে গিয়েছে অনেকগুলি অদ্ভুত ঘটনা। আনার আশ্চর্য প্রতিজ্ঞা সেই ঘটনাবলির একটি মাত্র। ১৮৫২ সালে আনার ভাই ডেভিড মারা যান একটি স্টিমবোট দুর্ঘটনায়। তাঁর মৃতদেহ বাড়িতে এনে ভূগর্ভস্থ একটি কুঠুরিতে শুইয়ে রাখা হয় বরফের উপর। এই অবস্থায় আচমকাই সরে যায় বরফের স্তুপের তলার মাটি এবং ডেভিডের দেহটি মাটি চাপা পড়ে যায় সেই গহ্বরে। প্রাকৃতিক উপায়েই কবরস্থ হন তিনি। সব মিলিয়ে বেকাররা এই বাড়িতে থাকাকালীনই এই বাড়িকে কেন্দ্র গড়ে উঠেছিল নানা রহস্য। দিনে দিনে ভুতুড়ে মাত্রা সেই রহস্যকে ঘনীভূত হয়েছে মাত্র। # কালেক্টেড


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মেয়েদের সুন্নতী পোশাক সম্পর্কে
→ পোশাকের গুণ- শেখ সাদির গল্প
→ পোশাকে কারো পরিচয় মিলে না

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now