বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বাবুকে কোলে নিয়ে হাঁটতে তার কষ্ট হচ্ছে। একবার বললেন—বাবু, আমার হাত ধরে হেঁটে হেঁটে চলো। বাবু শক্ত করে তাঁর গলা চেপে ধরলো। তার মানে সে কিছুতেই নামবে না। রেহানা আশা করেছিলেন সাব্বির বললে—আমার কোলে দিন। আমি নিয়ে যাব। কিন্তু সাব্বির সে সব কিছুই বললো না। লম্বা লম্বা পা ফেলে হাঁটতে লাগলো। মেয়েদের সঙ্গে এত দ্রুত হাঁটা যায় না। এই সাধারণ ভদ্রতাজ্ঞানও কি ওর নেই? রেহানা মনে মনে বেশ বিরক্ত হলেন।
স্টেশনের কাছে এসে তিনি দিলু এবং জামিলকে দেখলেন। নোংরা একটি বেঞ্চিতে বসে চা খাচ্ছে। তাদেরকে ঘিরে চার-পাঁচ জন গ্রামের মানুষ বসে আছে মাটিতে। দিলু স্কার্ট পরে থাকায় তার ফর্সা পা অনেকখানি দেখা যাচ্ছে। দৃশ্যটি তার ভালো লাগলো না। গ্রামের মানুষগুলি বোধ করি বসে আছে ফর্সা পা দেখার জন্য। তিনি একবার ভাবলেন দিলুকে ডাকবেন। কিন্তু সেটা বোধ হয় ঠিক হবে না। দিলুর জামা-কাপড় কি কি এনেছেন সেটা ভাবতে চেষ্টা করলেন। মনে পড়লো না। জামা-কাপড় সব গুছিয়েছে নিশাত, তাকে জিজ্ঞেস করতে হবে।
দিলু তাদের দেখেই ডাকলো—মা, কোথায় ছিলে তোমরা? তারপর ছুটে এলো তাদের দিকে।
আমরা ভাবলাম তোমরা বোধ হয় হারিয়েই গেছো।
হারিয়ে যাবো কেন? নে বাবুকে কোলে নে।
দিলু বাবুকে কোলে নিয়েই বললো—সাব্বির ভাই, আমাদের একটা ছবি তুলে দিনতো। এই বাবু, উনার দিকে তাকিয়ে হাসতো লক্ষ্মী ছেলের মত। সাব্বির ক্যামেরা ঠিকঠাক করতে লাগলো। এবং ছবি তুললো বেশ কয়েকটি। রেহানার মনে হলো এই একটি ব্যাপারে ছেলেটির আগ্রহ আছে। ছবি তোলায় তার কোন ক্লান্তি নেই।
ওসমান সাহেব ভেবে রেখেছিলেন রেহানার উপর খুব রাগ করবেন। সেটা সম্ভব হলো না। সাব্বির রয়েছে। তার সামনে সিন ক্রিয়েট করার প্রশ্নই ওঠে না। তবুও বিরক্ত স্বরে বললেন—তোমরা ছিলে কোথায়?
কাছেই। তোমার জীপ তো এখনো আসেনি। এত তাড়া কিসের?
জীপ আসবে না। নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। গরুর গাড়ী নিয়ে এসেছে।
গরুর গাড়ী?
দু’টা গরুর গাড়ী একটা মহিষের গাড়ী। তাড়াতাড়ি রওনা হওয়া দরকার। পৌঁছতে পৌঁছতে সন্ধ্যা হবে।
রেহানা অবাক হয়ে বললেন—তিনটা গাড়ী কেন?
পাগল-ছাগলের কাণ্ড। যতগুলি পেয়েছে, নিয়ে এসেছে।
তোমার পুলিশের লোকজন কেউ আসেনি?
না।
ওসমান সাহেবের মনে হলো রেহানা মুখ টিপে হাসছে। কেউ নিতে আসেনি ব্যাপারটা দুঃখজনক। এ নিয়ে হাসবে কেন? রেহানা বললেন—তোমার খবর বোধ হয় পায়নি। পেলে আসত।
ওয়ারলেস ম্যাসেজ দিয়েছি। পাবে না মানে?
তোমাদের নীলগঞ্জ থানায় হয়তো ওয়ারলেস নেই।
প্রতিটি থানায় ওয়ারলেস সেটা আছে। কি বলছ এসব?
দিলু বললো—বাবা, আমি কিন্তু মহিষের গাড়িতে করে যাব।
ওসমান সাহেব একটা ধমক দিতে গিয়ে নিজেকে সামলে নিলেন। তিনি প্রতিজ্ঞা করে বের হয়েছেন ছুটির সময়টায় কোন রাগারাগি করলেন না।
কিন্তু মেজাজ ঠিক রাখা যাচ্ছে না। কেন কেউ নিতে আসবে না? থানাওয়ালাদের এত বড় স্পর্ধা থাকা ঠিক নয়।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now