বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
¤¤¤ বহুরূপী-২ ¤¤¤
(পর্ব-৬)
লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা
শেরিফ রবার্তো বরিস। তিন সন্তানের বাপ। বড় ছেলেটা সদ্য হাই স্কুল পাশ করেছে। মেঝোটা হাই স্কুলের শেষ বছরে পদার্পণ করেছে আর ছোট মেয়েটা এখনো ও লেভেলেই পড়ে। বড় ছেলেটা একজন সৌখিন রাগবী খেলোয়াড়, মেঝো ছেলেটা বাস্কেটবল প্লেয়ার, আর ছোট মেয়েটা একজন সুন্দরী ও বুদ্ধিমান চিয়ার লিডার। ওদের মা মিস সুসান বরিস পেশায় একজন সেলস ওম্যান। এই নিয়েই রবার্তোর সাজানো গোছানো পরিপাটি সংসার। রাতে বাড়ি ফিরার পথে মোবাইল থেকে নিজ পরিবারের সদস্যদের গুগল+ আক্যাউন্ট ঘেটে এই তথ্যগুলি জোগাড় করছিলো রবার্তো। হঠাত করে গাড়ির পেছনে ভেঁপু বেজে উঠলো। পরিবারের কথা চিন্তা করতে করতে এতটাই আবেগপ্রবণ হয়ে উঠেছিলো যে খেয়ালই করেনি কখন চৌরাস্তার মোড়ের লাল বাতি বদলে সবুজ বাতি জ্বলে উঠেছে। অগত্যা ফের বাড়ির পথ ধরলো সে। সেরাতে রবার্তোকে কেমন জানি অন্যমনষ্ক দেখাচ্ছিলো। খাবার টেবিলে বসেই ও সাধারণত পরিবারের সবার খোঁজ খবর নেওয়া শুরু করে। জিজ্ঞেস করে ডিনার কেমন লেগেছে, কিংবা কার দিনটা কেমন করে কাটলো। কিন্তু আজ একদম নিশ্চুপ। একমনে দুমুঠো গিলেই উঠে পড়লো। বাবার এসব আচরণের সাথে ওর বাচ্চারা দিনেদিনে অভ্যস্থ হয়ে গেছে। কোন জটিল কেইস হাতে পাওয়ার পর সম্পূর্ণ কাজে ডুবে যায় সে। তখন বাচ্চাদের সাথে কথা বলারও ফুসরত পায় না। হয়তো এই মুহুর্তে এমনই কোন জটিল কেইস বাবার হাতে এসে পড়েছে। রবার্তো খাওয়া শেষে উঠে যেতেই ওর ছোট মেয়ে টিম্পনি কেটে বললো, "ইদানিং মনে হয় আম্মুর রান্নাবান্না তেমন একটা পছন্দ হয়না তোমার। বাহিরে থাকে অন্য কোন মহিলার হাতে রাঁধা খাবার খেয়ে আসো নাকি?" রবার্তো নিরুত্তর, কোন উচ্চবাচ্চ ছাড়াই নিরবে নিজের রুমে চলে গেলো সে। বড় ছেলেটার কাছে ব্যাপারটা মোটেও ভালো ঠেকলো না। সেই টেবিল চাপড়ে বললো, "আজ হলো কি বুড়োটার? শরীর টরীর খারাপ নাকি?" ওদের মা সহানুভূতির সুরে ওদের বুঝালো, "আর বলিস না। গেলো দুটো সপ্তাহ ধরে একটা রাতও ঘুমায়নি তোদের বাবা। কি এক জটিল কেইস নিয়ে খুব ব্যাস্ত সময় কাটাচ্ছে। মনে হয় এখন খুবই চাপের মধ্যে আছে ও। তাই এই মুহুর্তে ওকে নিজের মতো থাকতে দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।" মেঝো ছেলেটা এবার হতাশ কন্ঠে বললো, "উফ। কোন দুঃখে যে পুলিশের ঘরে জন্মেছিলাম। সারাদিন বাপের সাথে দেখা নেই, রাতের দুটো কথা বলবো তারও মোড নেই। এভাবে চলতে থাকলে একদিন আমি নিজের বাপের নামটাই ভুলে যাবো হয়তো।" ওর কৌতুক শুনে ওরা সবাই সশব্দে হেসে উঠে। কিন্তু যার উদাসিনতা নিয়ে এত্ত বাকবিতন্ডা সেই রবার্তো তার রুমের দরজার ছোট্ট কি হোল দিয়ে নিজে পরিবারের সদস্যদের উপর সতর্ক নজরদারী চালিয়ে যাচ্ছে। ওর চোখে মুখে উদাসীনতার ছিটেফোঁটাও নেই।
এক সপ্তাহ পর,,,,, মালকাওয়ালারুশের চাঞ্চল্যকর সান্টিনা মারিয়া হত্যা মামলার রায় হয়েছে আজ। রায়ে মারিয়ার মা মিস জ্যানেট জোন্সকে দোষি সাব্যস্ত করে ইলেক্ট্রিক চেয়ারে বসিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সমগ্র পোল্যান্ডবাসি এই মহিলার কৃতকর্মের জন্যে লজ্জিত। মা হয়ে কি করে সে পারলো নিজের নাড়ি ছেড়া ধনকে গলা চিপে মেরে ফেলতে! অধিকাংশ চাঞ্চল্যকর মামলার মতোই এই মামলার চার্জশীটও দাখিল করেছেন পুলিশ বিভাগের ক্যাপ্টেন ক্যারিশমা রবার্তো বরিস। তার ক্যারিয়ারের সর্ণমন্ডিত রাজ মুকুটে এটা আরেকটা সোনার পালক। কোর্ট থেকে হাস্যউজ্জল মুখে রবার্তো বেরিয়া আসা মাত্র সাংবাদিকরা তাকে ছেঁকে ধরলো। এমন একটা অকল্পনীয় কেইস মীমাংসা করার পর তার একটা সাক্ষাতকার নেওয়ার জন্যে চ্যানেলওয়ালারা উদগ্রীব হয়ে আছে। কিন্তু এত্তগুলি ক্যামেরার সামনে সে খানিকটা ভড়কে গেছে। এর আগেও রবার্তো ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে সাক্ষাতকার দিয়েছে কিন্তু কক্ষনো এতটা নার্ভাস হয়নি। কপাল দিয়ে ঘামের নহর বইছে, দুপায়ের হাঁটু কাপঁছে, আর চোখ দেখলে মনে হয় যেনো যেকোন মুহুর্তে মাথা ঘুরে পড়ে যাবে সে। মাইক্রফোনের সামনে তোতলাতে তোতলাতে কোনমতে একটা বাক্যই বলতে পারলো সে, "আই জাস্ট ব্রট আ টেরোরিস্ট টু জাস্টিস, দেটস হোয়াট আই ডু ফর লিভিংস। থ্যাংক ইউ।"
আদালত থেকে বেরিয়ে সোজা ডাক্তারের বাড়ির দিকে গাড়ি ছোটালো রবার্তো। আজ একটা বড্ড বড় ভুল করে ফেলেছে ও। এত্তগুলি ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে চেহারা দেখানো তার মোটেও উচিত হয়নি। বস্তুত চেহারা লুকাতে পারে বলেই এখনো বেঁচে আছে সে। কিন্তু আজ সে তার চেহারা সবার সামনে উন্মুক্ত করে দিয়েছে। পোল্যান্ড জুড়ে লক্ষলক্ষ মানুষ তার চেহারার গঠন দেখে নিয়েছে। এই মুহুর্তে যদি ডাক্তারের বাড়ি থেকে আসল রবার্তোর গলাকাটা লাশটা উদ্ধার হয় তাহলে মুহুর্তেই তার সত্যিকার পরিচয় ফাঁস হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে আর কোন কিছুই তার নরকে যাওয়াকে ঠেকাতে পারবে না। যা কিছু করার দ্রুত করতে হবে। অনতিবিলম্বে ওই বাড়িতে যেয়ে অভি এবং রবার্তোর লাশ দুটোকে গুম করার ব্যাবস্থা করতে হবে। এই কাজের উপরেই তার বাঁচা মরা নির্ভর করছে।
(চলবে...)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now