বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বহুরূপী-২ — পর্ব ৪

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ¤¤¤ বহুরূপী-২ ¤¤¤ (পর্ব - ৪) লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা কেইসটার সুষ্টু তদন্তের স্বার্থে রবার্তোকে দুটো মিথ্যার সমাধান করতে হবে , ১- সেদিন প্রফেসর ঠিক কি কারনে গোরুস্থানে গিয়েছিলেন। ২- হত্যাকান্ডের সময় মিস জোন্স ঠিক কি করছিলেন। রবার্তোর হাতে সময় খুবই কম। আগামী সপ্তাহেই এই কেইসটা আদালতে উঠবে। এমন সহজ কেইস আদালতে খুব কম সময়ের জন্যেই টিকবে। সম্ভবত প্রথম দিনের শুনানি শেষেই সামগ্রিক যুক্তি প্রমাণের উপর ভিত্তি করে জজ সাহেব তার রায় দিয়ে বসবেন। সেক্ষেত্রে ন্যায় বিচার উপেক্ষিত হওয়ার একটা সমুহ সম্ভাবনা রয়েছে। পরের সপ্তাহ, রবার্তো সেই মিথ্যা দুটোর জট খুলতে পেরেছে। তার চার বছরের গোয়েন্দাগিরির অভিজ্ঞতা এবং কার্যকর ছদ্দবেশ তার এই কাজটা একদম পানির মতো সহজ করে দিয়েছে। ১- ইতিহাসের প্রফেসর আলেক্স ব্যাক্তিজীবনে একজন উগ্র প্রেত সাধক। হ্যালুউনের রাতে তিনি কবরস্থানে গিয়েছিলেন বজ্রাঘাতে মারা পড়া একজন কৃষ্ণাঙ মহিলার লাশ চুরি করার জন্যে। ২- হ্যালুউনের রাতে মিস জোন্স তার স্বামির অবর্তমানে এক প্রতিবেশীর সাথে প্রণয়ে লিপ্ত হয়েছিলেন যা তিনি সঙ্গত কারণেই গোপন রাখতে চাচ্ছেন। কিন্তু এই দুটো মিথ্যার জাল ছিন্ন করার পরেও রবার্তো এখনো আধারেই রয়ে গেছে। সে এখনো জানেনা মারিয়ার প্রকৃত খুনি কে। তবে সে এইটুকু নিশ্চিত এটা মিস জোন্স নন। অগত্যা রবার্তো সিধান্ত নিলো কবরস্থানের আশেপাশে যত্ত বসত বাড়ি আছে সবগুলিতে ঢু মেরে জিজ্ঞেস করবে, কেউ কি মারিয়া বা মিস জোন্সকে হ্যালুউনের রাতে এই দিক দিয়ে ঘুরাঘুরি করতে দেখেছে কি না। ওদিকে কেইস টা আদালতে উঠতেও আর বেশী দেরি নেই। খুব সম্ভবত দুদিন পরেই ওটার রায় ঘোষণা হয়ে যাবে। মিস জোন্সের জন্যে খুবই খারাপ লাগছে রবার্তোর। একে তো মেয়েটাকে হারিয়েছেন তার উপর নিজ মেয়েকে হত্যার অভিযোগে দোষি সাব্যস্ত হতে চলেছেন। এত্ত শোক এই মহিলাটা সইবে কি করে। অগত্যা উঠে পড়ে রোবার্তো। যা করার ওকে এখনই করতে হবে নয়তো খুব বেশী দেরি হয়ে যাবে। দ্রুত পুলিশের ইউনিফর্ম গায়ে চাপিয়ে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ে ও। রোবার্তোর অনুমান সঠিক ছিলো। গোরুস্থান সংলগ্ন প্রথম দুটো বাড়ির বাসিন্দারা সেই রাতে মিস জোন্স বা মারিয়া কাউকেই দেখেনি। ইনফ্যাক্ট তারা সবাই হ্যালুউনের পার্টি করতে ঘরের বাহিরে গিয়েছিলো। কিন্তু তৃত্বীয় বাড়ির বুড়িটা রোবার্তোকে একটা ইম্পর্ট্যান্ট ক্লু দিলো। সে নাকি একটা পিচ্চি মেয়েকে দেখেছে, এক অদ্ভুত সাজে চতুর্থ বাড়ির দরজার সামনে একটা বালতি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে। কিন্তু সে নিশ্চিত নয় মেয়েটা মারিয়া নাকি অন্য কেউ। রবার্তো ধরেই নিয়েছে ওটা মারিয়া। মিস জোন্সের ভাষ্য মতে মারিয়া সেরাতে জম্বি কস্টিউম পড়ে এক বালতি ভর্তি প্লাস্টিকের নাঁড়িভুঁড়ি নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছিলো। তাই বালতিওয়ালি মেয়েটা মারিয়া না হয়ে যায় না। এবার চতুর্থ বাড়িটাকে লক্ষ বানিয়ে রবার্তো কাজে লেগে পড়ে। ইন্টার্নেট ঘেটে ও জানতে পারে এই আলিসান বাড়িটা জৈনিক বাংলাদেশী বংশউদ্ভুত ডাক্তারের, নাম অভি। বাংলাদেশের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে ও বুঝতে পারে এটা তৃতীয় বিশ্বের একটা হত দরিদ্র দেশ যেখানে রাজনৈতিক সংঘাত সারাক্ষণ লেগেই থাকে। এমন দেশের লোকগুলি যে কি করে এই সুন্দর সাজানো ছবির মতো দেশটাতে এসে ঢুকে ভেবে পায়না সে। খানিকের জন্যে রবার্তো ভাবে সে যদি পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট হতো তাহলে এসব বিদেশী খরকুঁটোকে ঝেঁটিয়ে দেশ থেকে বিদায় করতো। সে বেমালুম ভুলে যায় যে তার বাবাও কোন এককালে এর চেয়েও নিকৃষ্ট খড়কুঁটো ছিলো, যে পূতপবিত্র পোল্যান্ডে কলঙ্কিত করেছে। উল্টাপাল্টা ভাবতে ভাবতে সেই বাড়িটার চারপাশে একদফা চক্কর লাগায় রবার্তো। মাথায় ছাঁইপাশ ভাবনা চললেও চোখ দুটোতে তার একটুও ছাঁপ পড়ে নি। তিক্ষ্ণ শকুনি দৃষ্টি বাড়ির চারপাশে সতর্ক নজরদারী চালায় সামান্যতম অসংগতি ধরে ফেলার আসায়। সুক্ষাতিসুক্ষ সুত্রটুকু বাদ পড়ে না। অতপর আলগোছে পেছনের দেয়াল ডিঙ্গিয়ে চুপিসারে ভেতরে ঢুকে পড়ে সে। সামনের দিক দিয়ে বাড়িতে ঢুকার চেয়ে চোরের মতো পেছনের দিক দিয়ে ঢুকাই শ্রেয়। তদন্তের স্বার্থে ক্ষেত্রবিশেষে তাকে একজন পেশাদার অপরাধীর মতোই ভাবনা চিন্তা করতে হয়। এই উদ্ভট ব্যাপারটার সাথে বেশ মানিয়ে নিয়েছে ও। এবং এটা ওর জন্যে প্রায়শ কল্পনাতীত সাফল্য বয়ে নিয়ে আসে। পেছনের দিক দিয়ে বাড়িতে ঢুকার পরই তার ক্রিমিনাল মাইন্ড তাকে বারংবার ব্যাক ইয়ার্ডের ডাস্টবীনটা ঘেঁটে দেখতে বলে। সমগ্র বাড়িতে যত সুত্র থাকতে পারে তার চেয়ে বেশী সুত্র থাকার সম্ভাবনা আছে এই ছোট্ট ডাস্টবীনের ভেতরে। একটা ভালো সুত্রের আশায় নোংরা ডাস্টবীন ঘাটতে তার একটুও বাঁধে না। এবং এভাবেই সে জ্যাকপটে হিট করে। পুরো ডাস্টবীন ভর্তি হয়ে আছে টমাটো সস মাখা প্লাস্টিকের নাড়িঁভুড়ীঁ দিয়ে। তাছাড়া একটা ছোট্ট প্লাস্টিকের বালতিও আছে সেখানে। এখন ও শত ভাগ নিশ্চিত মারিয়া তার মৃত্যুর আগে ঠিক এই ঘরটাতেই এসেছিলো। সম্ভবত অভিই হলো মেয়েটার প্রকৃত খুনি, মিস জোন্স নন। হা, খুনি হিসেবে অভিকেই বেশী যুক্তিযুক্ত মনে হচ্ছে। নিশ্চিত হয়ে নেওয়ার পর সে ওয়াকিটকিতে তার দুজন সহকর্মিকে জুরুরী ভিত্তিতে এই বাড়িটায় আসতে বললো। কিন্তু তাদের পৌছাঁনোর অপেক্ষায় বাড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকার পাত্র সে ছিলো না। রবার্তো জানতো এই বাড়িটা খুব একটা সুবিধার না। ভেতরে অবস্থানরত ডাক্তার অভি একজন ছদ্দবেশী খুনি হয়ে থাকতে পারে। এই খুনিটা প্রয়োজন বেঁধে তাকেও খুন করতেও পিছপা হবেনা। কিন্তু তার চরম কৌতুহল তাকে এই মৃত্যুফাঁদের দিকে পরিচালিত করে। বাড়ির বা পাশের খোলা জানালা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে রবার্তো। (চলবে...)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বহুরূপী-২— পর্ব ১৫ (শেষ)
→ বহুরূপী-২— পর্ব ১৪
→ বহুরূপী-২— পর্ব ১৩
→ বহুরূপী-২— পর্ব ১২
→ বহুরূপী-২— পর্ব ১১
→ বহুরূপী-২— পর্ব ১০
→ বহুরূপী-২— পর্ব ১০
→ বহুরূপী-২— পর্ব ৯
→ বহুরূপী-২— পর্ব ৮
→ বহুরূপী-২— পর্ব ২
→ বহুরূপী-২— পর্ব ১
→ বহুরূপী-২ — পর্ব ৭
→ বহুরূপী-২ — পর্ব ৬
→ বহুরূপী-২ — পর্ব ৫

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now