বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সুগন্ধি কামনা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X সুগন্ধি কামনা -ইয়াগনিন সুলতানা আলো আর সহ্য হচ্ছেনা। চোখে পানি ছলছল করছে। চোখটা নামিয়ে নিলেই পারি কিন্তু তারপরও বাঁকা চোখে তাকিয়ে আছি মাকড়সাটার দিকে। মশাই হবে হয়তো ওটা, মশাটাকে সেই কখন থেকে তিন -চারটা পা দিয়ে নেড়েচেড়ে উল্টিয়ে পাল্টিয়ে দেখছে কিন্তু খাচ্ছেনা। মাকড়সারা নাকি দেয়ালের কোণার দিকটা করে বেশি জাল বুনে। কিন্তু এটা মনে হয় বেশ বুদ্ধিমান, তাই লাইটের ঠিক উপরে জাল বুনেছে যেন পোকা বেশি আটকায় ওর জালে। কিন্তু বুদ্ধি থাকলেই কি হয়, কপাল বলেও তো একটা জিনিস আছে! তাইতো শুধু ঐ একটা মশাই আটকেছে জালে। হয়তো অনেকদিন পরে একটা খাদ্য পেয়ে মাকড়সাটাও দেখে নিশ্চিত হতে চাচ্ছে সত্যি সত্যিই খাবার শিকার করতে পেরেছে নাকি হ্যালূসিনেশন হচ্ছে তার! মরুভুমিতে যখন পিপাসার্ত কেউ রাস্তা হারিয়ে ফেলে তখন মরীচিকা দেখে সবসময় মিথ্যে আশা বেঁধে ছুটে যায় মরীচিকার দিকে সত্যিই হয়তো পানি পেয়েছে ভেবে। মাকড়সাটা কি হ্যালূসিনেশনের জন্য খাচ্ছেনা নাকি ওর একাকিত্ব জালে ধরে রাখতে চাচ্ছে একটা সঙ্গী কে? বেশ রাত হয়েছে, ঘড়ির না দেখেও বলতে পারবো রাত আড়াই টার আশেপাশেই ঘুরছে হয়তো ঘড়ির কাঁটা। রাতের সাথে আমার সখ্যতা অনেকদিনের।ও যেমন আমার নীরব উপস্থিতি বুঝতে পেরে ঝিঁঝিপোকা গুলোকে আমার কাছে পাঠিয়ে দেয় ঠিক তেমনি রাতের জৌলুস দেখে আমি বলে দিতে পারি ও আর কতক্ষণ আছে আমাকে সঙ্গ দিতে। উঠে গিয়ে লাইট টা বন্ধ করলাম ঘরের। আর কয়েক মিনিট পরেই নাইট গার্ডের বাঁশি বেজে উঠবে আমাদের গলিটাতে। এক, দুই, তিন করে গুণতে থাকলাম। বাইরে রাস্তায় শুকনা নিমপাতা ভাঙার শব্দ পেলাম।নিঃশব্দে বারান্দার দরজা টা খুলে ভিড়িয়ে দিয়ে বারান্দায় মেঝেতে চুপ করে বসে পরে এয়ার ফ্রেশনারের স্প্রের মুখটা চেপে ধরে থাকলাম রাস্তা বরাবর। পাতা ভাঙার শব্দটা আরো নৈকট্যে। এবার আমি দেয়ালের চতুষ্কোণ করা ফুটোগুলোর একটাতে চোখ লাগিয়ে নিচে তাকিয়ে থাকলাম। আঠারো, উনিশ,বিশ....বিশ্রী ঝাঁঝালো একটা শব্দে বাঁশিটা বেজে উঠলো। ঘুঙুর টা হাতে নিয়ে একটু ঝাঁকুনি দিলাম। ঘুম পাড়ানী একটা ঠান্ডা বাতাস বইছে। এটাকে সবাই দক্ষিণের বাতাস বলে। দক্ষিণের বাতাসগুলো নাকি মন ভুলানো স্বর্গীয় হয়। কিন্তু আমার কাছে এটাকে আমার দীর্ঘশ্বাস গুলো বারংবার বুকের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসার যুদ্ধ সময় ই মনে হয়। নাইট গার্ডের বয়স আনুমানিক ষাটোর্দ্ধ। ঘরে একটা আট বছরের নাতনী আর তালাকপ্রাপ্তা মেয়ে। বৌকে টানের অসুখে খেয়েছে।সিটি কর্পোরেশনে আয়ার কাজ করতো বউ আর ইনি ময়লার গাড়ি টানতেন। ময়লা টানা শেষে রাতের বেলা করে রিকশা নিয়ে বের হতেন। বয়স হয়েছে, সাথে রাতজাগা আর তাঁড়ি টানার অভ্যাস। রিকশা চালানোর শক্তি টুকু বৌ যেন তার টানের অসুখের সাথেই নিয়ে গেছে। কিন্তু পেটের ক্ষুধা আর একা বিছানাটা রেখে গেছে বাকি জীবনটুকুর জন্য। আনসার আলী নাম উনার। তাকে যখনই দেখি একটা খাকি রঙের শার্ট আর প্যান্টে। আমার ধারণা ছিল তার শরীর থেকে হয়তো বিদখুদে বিশ্রী একটা গন্ধ করে। কিন্তু যেদিন তারসঙ্গে প্রথম কথা বলেছিলাম তার শরীর থেকে মিষ্টি একটা গন্ধ আমার নাকে এসে লেগেছিলো। সেটা কোন সুগন্ধির সেটা আমি খুঁজার জন্য ছেলেদের মোটামুটি সব বডি স্প্রে কিনে ফেলেছি, কিন্তু উনার শরীর থেকে আসা গন্ধের সাথে একটাও মেলেনি। গন্ধ টা আমাকে টানে, মাতালের মতো টানে আমাকে। আনসার আলী দাঁড়িয়ে এদিকে ওদিকে তাকাচ্ছে। ভয় হয়তো পেয়েছে কিংবা পায়নি। তিনি আজ সাড়ে চার বছর ধরে প্রতিরাতে এই গলিতে এইসময়ে গলির শেষমাথার সাদা দোতলা বাড়িটার সামনে আসলেই একটা মিষ্টি গন্ধ আর সাথে ঘুঙুরের আওয়াজ পান। মোট তিনবার খুব মৃদুভাবে হয় শব্দটা। কিন্তু আজ অব্দি কাউকে দেখেনি। প্রথম দিকে ভয় পেতো এই গন্ধ আর শব্দটাকে, আর এখন না পেলে ভয় পায়। ভালোবেসে ফেলেছে এই শব্দ আর গন্ধটাকে আনসার আলী। নেশাটা আরো মাথা চাড়িয়ে ওঠে গন্ধ টা পাওয়ার পরে। যৌবন ফিরে পান এই কয়েক মিনিটে যেন। নিপুণ হাতে পকেট থেকে একটা মাথা মুড়ানো শেখ সিগারেট বের করে ঠোঁটে লাগিয়ে দিয়াশিলাইয়ে ঘষা দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে সিগারেটের মুড়ানো অংশে আগুনের কুন্ডলী ধরিয়ে বড় একটা টান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে বিদায়ের শব্দ বাঁশিতে তুলে শুকনো পাতাগুলো মাড়িয়ে চলে যায়। মেঝেতেই গা এলিয়ে দিয়ে শুয়ে রইলাম। ঠান্ডা একটা বাতাসের সাথে মিশে আমার শরীর ছুঁয়ে নাসারন্ধ্রে আনসার আলীর শরীরের গন্ধটা ম ম করতে লাগলো। দূর থেকে তখনো থেমে থেমে ভেসে আসছে আনসার আলীর বাঁশিতে তোলা গগন ছুঁতে চাওয়া বিশ্রী শব্দটা।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now