বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বান্ধবী-০২

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X প্রথম সাময়িক পরীক্ষার রেজাল্ট কার্ড হাতে পেয়ে সে খুব অসহায় বোধ করে। কি করবে বুঝে উঠতে পারে না। এর জের যে কতদিন চলবে কে জানে! মা জানতো, ওদিন তার রেজাল্ট হবে। স্কুল ছুটির পর বাইরে বেরিয়েই হৃদি দেখে মা গেটের কাছে দাঁড়িয়ে। মা তার চেহারা দেখেই যা বোঝার বুঝে নেয়। গাড়িতে একটা কথাও বলেনি। বাড়ি পৌঁছে মা নিজেই হৃদির ব্যাগ খুলে কার্ডটা বের করে। দেখেই ছুঁড়ে ফেলে মাটিতে। ‘আমার লজ্জা হয় এমন মেয়ে পেটে ধরেছিলাম’, ‘ আমার বড় মেয়েটা কি লক্ষ্মী আর এটা হয়েছে গন্ডমূর্খ’, ‘অংক আর ইংরেজীতে আলাদা টিচার দিলাম, তার পরও এই অবস্থা, মাথাভর্তি খালি গোবর’, ‘কি দিইনি, কিসের অভাব তোর, খাওয়া-দাওয়ার চিন্তা নাই, জামাকাপড়ের অভাব নাই, শুধু পড়াশোনা করবে, তা-ও তাকে দিয়ে হবে না’, ‘সারা জীবন বাবা-মাই খাওয়াবে, নিজের ভবিষ্যতের কোন চিন্তা নাই, অশিক্ষিত মেয়েকে কেউ বিয়ে করবে?’,‘পড়াশোনার আর দরকার নাই এই মেয়ের, একটা কামলা ধরে এনে বিয়ে করিয়ে দেই’, ‘ভাবীদের কাছে আমার মান সম্মান আর থাকলো না’ - একা একাই গজ গজ করতে থাকে মা, হৃদিকে শুনিয়ে, জোরে জোরে। অকারণেই কাজের মেয়েকে বকাঝকা করে। হৃদি বালিশে মুখ গুঁজে কাঁদে। রাতে বাবা অফিস থেকে ফিরলে মা আরেক প্রস্থ গজর গজর করে। এমনিতে গম্ভীর প্রকৃতির বাবা তেমন কিছু বলে না কখনো, যদি কখনো কিছু বলে, তা মায়ের কথার চেয়েও ধারালো হয়। এদিন কিছু বলে না বাবা। তবে রাতে কেউ তাকে খাবার টেবিলে ডাকেও না। কাজের মেয়েকে দিয়ে তার রুমে খাবার পাঠিয়ে দেয়া হয়। হৃদির গলার কাছে কি যেন দলা পাকিয়ে ওঠে। মুখে দিতে ইচ্ছে করে না খাবার। আবার ‘খাবে না’ বলারও সাহস পায় না। কাজের মেয়ে রুম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর জানালা দিয়ে খাবারটুকু নিচে ফেলে দেয় । রাতে প্রাপ্তি সান্ত্বনা দিতে এলে আরও অসহ্য লাগে। পরদিন বাবা স্কুলে পৌঁছে দেবার সময় গাড়িতে কোন কথা বলে না। বাবা-মার এরকম ব্যবহারের কথা ইরাকে বলার সময় ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদে হৃদি। ইরা সান্ত্বনা দেয়। ক’দিন পর ইরা জানায় ওর মা’র হাতে মার খাওয়ার কথা। তার পরদিনই টিফিন আওয়ারে ইরা ফিস ফিস করে বলে - ‘পালাবি?’ প্রথমে কথাটা বুঝতে পারে না হৃদি - ‘কি?’ ‘আমি বাসা থেকে চলে যাবো। আর ফিরবো না। ওদের সাথে থাকবো না আর। পড়াশোনা করা হবে না আমাকে দিয়ে। তুই চাইলে আমার সাথে আসতে পারিস।’ ‘কোথায় যাবি?’ - বিস্মিত হৃদি। ‘সেতু সব ব্যবস্থা করবে। ওর মিডিয়ার লাইনে অনেক জানাশোনা আছে। চাইলেই আমি মডেলিং করতে পারব। বা নাটক সিনেমায় অভিনয়। পালিয়ে গিয়ে আমরা বিয়ে করে ফেলবো। তারপর মডেলিং বা অভিনয়। অথবা অন্য কিছু। সেটা পরের চিন্তা। কিন্তু বাবা-মার ধার ধারতে আমি আর রাজী না।’ বড় বড় চোখ করে ইরার কথা শোনে হৃদি। কি সাহস মেয়ের! - ‘তোর তো সেতু আছে। আমি কোথায় যাব?’ ‘তোর কথাও আমি বলেছি সেতুকে। সেতু বলেছে, কোন সমস্যা নেই। তোরও ব্যবস্থা করা যাবে। আফটার অল, তুই আমার বান্ধবী, সবচেয়ে ক্লোজ ফ্রেন্ড। আপাতত তুই আমার সাথেই থাকবি। যতদিন ইচ্ছা। এরপর তোর ডিসিশন। হৃদয়ের কথাটা ভেবে দেখতে পারিস।’ পরের পুরোটা ক্লাস ঐ চিন্তাই ঘুরপাক খায় হৃদির মনে। হৃদয় সেতুর বন্ধু। সেতুর সাথে মাঝে-মধ্যে সে-ও আসে ওদের স্কুলে। মাঝে মাঝে যখন হৃদির গাড়ি দেরী করে আসে অথবা শেষ ক্লাসটা না হওয়ায় আগেই বেরিয়ে আসতে পারে তারা, সেরকম সময়ে কয়েকবার দেখেছে সে হৃদয়কে। কথা হয়নি। কিন্তু তাকে দেখেই পছন্দ করেছে হদয়। ইরার মাধ্যমে তাকে একটা চিঠিও দিয়েছে। সে চিঠি পড়ে তো হৃদির মাথা ঘুরে যাবার যোগাড়। পড়েই ছিঁড়ে স্কুলের বাথরুমে ফেলে দিয়েছে সে। ইরাকে সাফ বলে দিয়েছে - এইসব প্রেম ট্রেমের মধ্যে সে নেই। বাবা-মা জানতে পারলে তাকে খুন-ই করে ফেলবে। এরপর আর ইরাও এ নিয়ে তাকে কোন কথা বলেনি। তবে হৃদয়কে এর পরও মুগ্ধ চোখে তার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখেছে হৃদি, কয়েকবার চোখাচোখিও হয়েছে। ছেলেটার চেহারা সুন্দর। দুজনের নামের মিলটাও হৃদিকে শিহরিত করে। মনের মাঝে অন্যরকম বাদ্য বাজার আওয়াজ পেয়েছে মাঝে-সাঝেই। তবে, নিজের মনকে শাসন করেছে সে। ইরার মতো সাহসী সে কখনোই হতে পারবে না। কিন্তু এখন মনে হয়, আরেকটু সাহসী হতে পারলেই তার জীবনটা অন্য রকম হয়ে যেতে পারে। হৃদয়কে নিয়ে অনেক কিছু কল্পনা করে সে। পরের ক্লাস- তার পরের ক্লাস - ফেরার সময় গাড়িতে- বাসায়- একই চিন্তা ঘুরপাক খায় মনে। কি করবে সে এখন? কি করা উচিত তার? অংকের টিউটর আসে পড়াতে। কোন অংকই মাথায় ঢোকে না। ঢোকে না টিউটরের কোন কথাও। একই কথা কয়েকবার করে বলতে গিয়ে বিরক্ত হয় টিউটর। যাবার সময় মাকে বলে যায় মেয়ের অন্যমনস্কতার কথা। টিউটর চলে যাওয়ার পর মা যেন ঝাঁপিয়ে পড়েন কথার ছুরি নিয়ে- ‘ভাবুক হইছে! ধ্যান করে! পড়াশোনায় মন নাই কোনো। খালি ফাঁকিবাজি। এইবার যে ফেল করছে, সেটা নিয়েও লজ্জা নাই কোনো। পরের বারও ফেল করবে। শুধু শুধু একগাদা টাকা দিয়ে টিউটর পালতেছি। আগামী মাস থেকে এই মেয়ের পিছনে টাকা পয়সা খরচ করা বন্ধ। গ্রাম থেকে অশিক্ষিত একটা চাষার ছেলে ধরে এনে এখনি বিয়ে করিয়ে দিব এর।’ প্রাপ্তি মাকে মৃদু শাসন করে- ‘আহ মা, কি শুরু করলে, থামো তো।’ থামে না মা। ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত দফায় দফায় ছুটতে থাকে কথার তুবড়ি। সারা রাত ঘুম হয় না হৃদির। পরদিনই ইরাকে জানিয়ে দেয়, সে রাজী। তবে হৃদয়ের ব্যাপারে এখনি কোন সিদ্ধান্ত নয়। ইরার সাথে থাকবে আপাতত সে। দু’জনে মিলে পরে সিদ্ধান্ত নেবে কি করা যায়। এরপর তিন দিন ধরে চলে প্রস্তুতি। সিনিয়র এক শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে আজ যে টিফিনের পর আর ক্লাস হবে না, তা জানিয়ে দেয়া হয়েছিল তিনদিন আগেই। সেজন্য এই দিনটাকেই টার্গেট করে ওরা। বাসায় জানায় না যে, এদিন ছুটি হয়ে যাবে আগেই। সেতু ট্রেনের টিকিট যোগাড় করে রাখে তিনজনের। ‘.... আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি, অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাদের যাত্রা শুরু হবে। অনুগ্রহ করে আপনাদের নির্ধারিত আসন গ্রহণ করুন.....’ - ইথারে ভেসে আসা নারী কন্ঠের ঘোষণা বিগত কয়েক দিনের ভাবনা থেকে বর্তমানে টেনে আনে হৃদিকে। ট্রেনের কামরার ভেতরটায় চোখ বুলায় সে। ঢাকা-চট্টগ্রামগামী ট্রেনের প্রথম শ্রেণীর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরা। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের কারণে দরজা-জানালা বন্ধ। পাশাপাশি দুই সীটে বসেছে সে আর ইরা। হৃদি বসেছে জানালার ধারের সীটটায়। উল্টো দিকের দুটো সীটের ভেতরের দিকটায় সেতু। ঝাঁকি দিয়ে ট্রেন চলতে শুরু করে। ইরা বড় করে একটা শ্বাস ফেলে - ‘অবশেষে আমরা রওনা দিলাম।’ হ্যাঁ - অবশেষে। কিন্তু এখনও ব্যাপারটা কেমন অবিশ্বাস্য লাগছে হৃদির কাছে। আসলেই সে ঐ বাসা থেকে পালিয়ে যেতে পারছে দূরে। বদ্ধ খাঁচা থেকে পাখিকে বের করে আকাশে ছেড়ে দিলে তার যেমন আনন্দ হয়, তেমন আনন্দই কি অনুভব করা উচিত তার? বুক ভরে শ্বাস নিতে চায় হৃদি। হঠাৎ কাঁটার মতো কি যেন খচ করে বেঁধে মনের ভেতর। যে মা-বাবার কথা বিষের মতো মনে হতো এতদিন, যে বোনকে অসহ্য লাগতো, তাদের মুখগুলি বার বার ভেসে উঠতে থাকে মনের পর্দায়। কি করছে এখন ওরা? বাবা অফিসে। প্রাপ্তি হয়তো এতক্ষণে বাড়ি ফিরেছে। অথবা মেডিক্যালের ক্লাস শেষে সে যদি রিডিং রুমে পড়ে কিছুক্ষণ, তাহলে দেরী হবে। সেক্ষেত্রে প্রাইভেট কার প্রাপ্তিকে নিয়ে সোজা আসবে হৃদির স্কুলে। তাহলে হয়তো গাড়িতে মা থাকবে না, প্রাপ্তি থাকবে। হৃদির জন্য গাড়ি অপেক্ষা করবে স্কুল গেটে। প্রাপ্তি না থাকলে মা থাকবে গাড়ির ভেতর। কতক্ষণ অপেক্ষা করবে? দশ মিনিট ? পনের? যখন দেখবে, স্কুলের ভেতর থেকে কোন মেয়েই বেরিয়ে আসছে না, মা বা প্রাপ্তি গাড়ি থেকে বের হয়ে দারোয়ানের সাথে কথা বলবে। দারোয়ান জানাবে, স্কুল ছুটি হয়েছে আজ আগেভাগেই। মা বা প্রাপ্তি কি করবে তখন? ছুটে যাবে স্কুলের ভেতর। টিচারদের সাথে কথা বলবে। জানতে পারবে, আসলেই টিফিন পিরিয়ডের পর থেকে ছুটি আজ। কিন্তু হৃদি তো বাসায় পৌঁছেনি! প্রাপ্তি ফোন করবে মাকে, মা ফোন করবে বাবাকে। মা ওদের ক্লাসের নাহার, লাবণী, পাপিয়াকে চেনে, ওদের ফোন নম্বর জানে। ওদের কাছে খোঁজ নেবে মা। ওরা কি বলবে? ওরা তো জানে না কিছু। তবে, ছুটির সময় ইরার সাথে ওকে দেখেছে, একথা নিশ্চয়ই মনে করতে পারবে ওরা। মা কি কিছু মেলাতে চেষ্টা করবে? ভাববে, ইরার সাথেই আছে সে? ইরার সাথে যে ওর ঘনিষ্ঠতা - তা মা জানে না। মা সব সময়ই চেয়েছে, ক্লাসের ফার্ষ্ট বেঞ্চের ছাত্রীদের সাথে ওর সখ্যতা থাকুক। কিন্তু নাহার, লাবণী বা পাপিয়া তো বলে দেবে ওদের ঘনিষ্ঠতার কথা। মা কি ইরার ফোন নম্বর যোগাড় করবে? ফোন করবে ইরার বাসায়? করুক। ততক্ষণে ওদের ট্রেন ঢাকার গন্ডি ছাড়িয়ে চলে যাবে অনেক দূর। ‘মুখ ভার কেন? ভয় লাগছে?’ ইরা আশ্বস্ত করার ভঙ্গিতে ওর কানে কানে বলে- ‘কোন ভয় নেই। আমরা আছি না?’ শুকনো মুখে হাসির রেখা ফোটাতে চেষ্টা করে হৃদি। ইরা কানে কানেই বলে - ‘ওরকম প্যাঁচার মতো মুখ করে রাখলে লোকজন সন্দেহ করবে। স্বাভাবিক হ।’ সেতু ইরার দিকে ঝুঁকে ফিস ফিস করে কি যেন বলে উঠে কামরার বাইরে যায়, হৃদি শুনতে পায় না কথা। যখন ফেরে, সেতুর হাতে কেক, চিপস আর ম্যাংগো জুস। হৃদির তেমন খিদে নেই। টিফিন পিরিয়ডে খাওয়ার জন্য আনা নাস্তা ওয়েটিং রুমে বসেই খেয়ে নিয়েছে হৃদি-ইরা। তাই কেক-চিপসের প্যাকেট তখনি খোলে না ওরা। জুসের বোতলে চুমুক দিতে দিতে আবারো মন খারাপ হয় হৃদির। এ কাদের সাথে যাচ্ছে সে? চিরচেনা জগৎ ছেড়ে কোন অজানার উদ্দেশ্যে? হঠাৎ করে ইরাকে খুব অচেনা লাগে তার। কত দিনের পরিচয়? মাত্র চার মাসের। ইরাকে কখনো বাসায় নিয়ে যায়নি হৃদি। ইরার বাসাও সে চেনে না। সেতু তো আরো অচেনা। মনে পড়ে, ক্লাস ওয়ানে পড়ার সময় একবার বাবা-মা আর প্রাপ্তির সাথে বইমেলায় গিয়েছিল সে। হঠাৎ করে মায়ের হাত থেকে ওর হাত ছুটে যায়। কিছুক্ষণ পর এক দঙ্গল অচেনা মানুষের মাঝে নিজেকে আবিষ্কার করে সে। প্রথমে বিস্মিত হয়ে লোকগুলোর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে সে। তার পাশ ঘেঁষে চলে যাচ্ছে লোকগুলো, তার দিকে তাকালেও সেভাবে খেয়াল করছে না কেউ। চারদিকে তাকিয়ে পরিচিত কোন মুখ দেখতে না পেয়ে সেই বিস্ময় কান্নায় রূপ নেয়। পরে কান্নাভেজা হৃদিকে এক লোক নিয়ে যায় মাইকের কাছে। মাইকে তার নাম ঘোষণা করার পর বাবা-মা এসে তাকে নিয়ে যায় সেখান থেকে। তাকে খুঁজে পেয়ে জড়িয়ে ধরে মায়ের সে কি কান্না! আজ হঠাৎ কেন যেন সেদিনের মতো বিপন্ন বোধ করে হৃদি। বোধের দরজায় খিল আটকে ভাবনাটাকে অন্যদিকে ধাবিত করার চেষ্টা করে হৃদি। ইরার উপর ভরসা করা যায়। এই চার মাসেই ইরা তার নির্ভরতার স্থান, সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু। হোক না বয়সে দু বছরের বড়, পরিচয়ের দুদিন পর থেকেই তাদের সম্পর্ক তুমি থেকে তুইয়ে নেমে এসেছে। নোট নিয়ে ক্লাসে কয়েক মেয়ের সাথে হৃদির ঝামেলা বাধলে ওর পক্ষ নিয়ে ঐ মেয়েদের সাথে ঝগড়াও করেছে ইরা। মা যে টিফিন বানাতো, প্রতিদিনই তা ওরা দু’জন ভাগ করে খেত। ইরার বাসা থেকে সব সময় টিফিন বানিয়ে দিত না, অধিকাংশ দিন টিফিনের টাকা দিয়ে দিত ওর বাবা। কিন্তু মাঝে মাঝেই সেতুর কিনে দেয়া বার্গার, চিপস, স্যান্ডউইচ ক্লাসে এনে হৃদিকে খেতে দিত ইরা। দেখলে বুকে কাঁপন জাগে, নারী-পুরুষের এমন সব যুগল ছবি এনে দেখাত তাকে। কিছুদিন আগে একটা ম্যাগাজিন এনেছিল ক্লাসে, টিফিনের ফাঁকে গোপনে পড়েছে দুজনে মিলে, নারী-পুরুষের শারীরিক সম্পর্কের রগরগে বর্ণনা পাতায় পাতায়। এইতো সেদিন, ইরা ফ্রেন্ডশীপ ব্যান্ড বেঁধে দিয়েছে হৃদির হাতে। আগের স্কুলগুলোতেও কিছু বন্ধু জুটেছিল হৃদির। কিন্তু কাউকে এতটা ভাল লাগেনি তার। কারো উপর এতটা নির্ভরতা জন্মায়নি। ইরার দিকে আড়চোখে তাকায় হৃদি। কি নিশ্চিন্ত ভঙ্গিতে সেতুর সাথে গল্প করে যাচ্ছে। ওর দিকে তাকিয়ে ধীরে ধীরে মন খারাপ ভাবটা কেটে যেতে থাকে হৃদির। ওদের গল্পে একটু একটু করে ও-ও যোগ দিতে থাকে, নিচু স্বরে। অর্থীর ড্রেসের গল্প, তিথির দাঁতের গল্প, প্রিয়তির চুলের গল্প, রুহিনা ম্যাডামের সাথে শিহাব স্যারের সম্পর্কের গুঞ্জনের গল্প। ট্রেন ছুটে চলে ঝিক ঝিক ঝিক ঝিক। রাত সাড়ে দশটার দিকে ট্রেন পৌঁছে চট্টগ্রাম স্টেশনে। সেখান থেকে ট্যাক্সিতে করে ওরা তিনজন যায় হালিশহর, সেতুর বোনের বাসায়। দোতলা বাসা। সেতু জানায়, নীচতলা ভাড়া দেয়া, কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলের মতো। অবিবাহিতা বা পরিবার ছেড়ে দূরে চাকুরী করতে এসেছে, এরকম মহিলারা এখানে ভাড়া থাকেন। দোতলায় থাকে সেতুর বোন শিউলী, এক খালা আর খালাতো বোন সহ। শিউলী নিঃসন্তান। স্বামী থাকেন দুবাই।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ (হরর ফ্যান্টাসী) বান্ধবী-০২ <শেষ>

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now