বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বান্ধবী-০১

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X বান্ধবী মুনতাসির মারুফ হৃদি ঘন ঘন হাতঘড়ির দিকে তাকায়। এক একটা মিনিট ওর কাছে এক একটা যুগের মতো দীর্ঘ মনে হয়। ওরা স্টেশনে এসে পৌঁছেছে দশ মিনিটও হয়নি। কিন্তু মনে হচ্ছে, অনন্তকাল ধরে যেন ওরা অপেক্ষা করেই যাচ্ছে। সেতুর উপর খুব রাগ হয়। ওর কি আরো আগে আসা উচিত ছিল না? স্টেশনের কিছুই চেনে না হৃদি। প্রায় প্রতিবছরই ট্রেনে করে দিনাজপুরে দাদাবাড়ি যায় সে, কিন্তু তা-তো বাবা-মা আর বোনের সাথে। বাসা থেকে বেরিয়ে প্রাইভেট কারে চড়ে স্টেশন- কার থেকে নেমে মায়ের-বোনের হাত ধরে সোজা ট্রেনের কামরায়। স্টেশনের কোথায় কি আছে, হয়তো চোখে পড়ে, কিন্তু মনোযোগ দিয়ে কখনো লক্ষ্য করার প্রয়োজনও হয়নি, ইচ্ছেও করেনি। অপরিচিত কারো চোখে চোখ পড়ে গেলে তার খুব ভয় লাগে কেন যেন। তাই স্টেশনের ভীড়ের মাঝে সে কখনো কোনদিকে মুখ তুলে তাকায় না। আজও সে মুখ নিচু করেই দাঁড়িয়ে থাকে। তবু দু’একবার চোখ চলে যায় রাস্তার দিকে। তখন টের পায়, আশপাশের লোকগুলো কেমন করে যেন তাকাচ্ছে। ইরার বাহু শক্ত করে ধরে থাকে সে। ইরাকে হিংসা হয় তার। কি নির্বিকার ড্যাম কেয়ার ভাব নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ইরা। এতক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে বিরক্ত কিছুটা, কিন্তু উদ্বেগ বা ভয়ের কোন চিহ্নই নেই চোখে-মুখে। নিজের মুখটা না দেখতে পেলেও হৃদি জানে, সেখানে ভীতির ছাপ স্পষ্ট। বার বার ঢোক গেলে সে, গলা শুকিয়ে আসে। ইরাটাই যা একটু ভরসা। ও সেতুর সাথে কয়েকবার এসেছিল এই স্টেশনে। ওরা দুজনে ট্রেনে করে ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ঘুরেও এসেছে - গর্বিত কন্ঠে জানিয়েছিল ইরাই। স্কুল থেকে কমলাপুরের রাস্তাটা ও ভাল চেনে বলেই আসতে পেরেছে। নইলে হৃদি একা কখনোই এই সাহস করতে পারতো না। সেতু অবশ্য চেয়েছিল স্কুল থেকেই ওদেরকে নিয়ে আসতে। সেতু ইরার বয়ফ্রেন্ড। ইরা-হৃদির চেয়ে ছয় বছরের বড়। এক মাথা ঝাকড়া চুল, পেটানো শরীর। স্কিন টাইট জিন্স আর টি শার্ট, চোখে সানগ্লাস পরে স্কুল ছুটির সময় মটর সাইকেল নিয়ে প্রায়ই সে ইরার জন্য অপেক্ষা করে স্কুল গেটের বাইরে। ছুটির পর ঐ মটর সাইকেলে চেপে বান্ধবীদের ঈর্ষাকাতর চোখের সামনে দিয়ে ইরা ঘুরতে যায় সেতুর সাথে। ওদের ক্লাসের অনেক মেয়েই সেতুকে চেনে। তাই হৃদি-ইরা কোন ঝুঁকি নিতে চায়নি। ইরাই বলেছে, সে হৃদিকে নিয়ে খুব পারবে স্টেশনে পৌঁছে যেতে। ঠিক তিনটায় যেন সেতু স্টেশনে পৌঁছে যায়। প্ল্যানটা হুট করেই করা। মাত্র চারদিন আগে ইরা বলে প্ল্যানের কথা। শুনেই মনটা লাফিয়ে ওঠে হৃদির। তবু ভাবার জন্য এক রাত সময় নেয় সে। পরদিনই জানিয়ে দেয় - সে রাজী। ইরার সেতু আছে। সব ব্যবস্থা সে-ই করবে। হৃদি ভাবে, ইরা আসলেই খুব সাহসী মেয়ে। আর সাহসী না হলে কি প্রেম করা যায়? প্রেম! কোন ছেলের সাথে বন্ধুত্ব করার কথাই তো ভাবতে পারে না হৃদি - প্রেম তো বহুদূর। বাবা-মা জানলে কি তুলকালাম কান্ডটাই না ঘটবে! কোন ছেলের সাথে একা দেখলে নিশ্চয়ই খুনই করে ফেলবে তাকে। হৃদির বাবা উচ্চ পদস্থ সরকারী কর্মকর্তা। সরকারী চাকুরীর কারণে কয়েক বছর পর পর বদলী। এ কারণে হৃদিরও স্কুল পাল্টেছে ঘন ঘন। ক্লাস এইট পর্যন্ত উঠতেই চারটা স্কুলে পড়েছে সে। ক্লাস নাইনে বাবার ঢাকায় বদলীর পর এসে ভর্তি হয়েছে সিদ্ধেশ্বরীর বর্তমান এই স্কুলে। এখানে এসেই ইরার সাথে পরিচয়। ইরাকে খুবই ভাল লাগে তার। কি স্বাধীনচেতা! কি চটপটে, ফূর্তিবাজ মেয়ে! সে-ই বাড্ডা থেকে সিদ্ধেশ্বরী একা একাই যাওয়া-আসা করে। কখনো বাসে, কখনো অবশ্য সেতুর সাথে মোটর সাইকেলে। আর হৃদি! মগবাজারের বাসা থেকে এটুকুও একা আসতে পারে না। সে স্কুলে যাওয়া-আসা করে মা-র সাথে। যদিও গাড়ি থাকে। তবু মা গাড়িতেও একা ছাড়তে চান না ওকে। ইরা অবশ্য পড়াশোনায় একদম পেছনের সারির। প্রতিবারই ফেল করতে করতে বেঁচে যাওয়া দলের সদস্য। ক্লাস এইট থেকে নাইনে ওঠার সময় একবার ফেলও করেছিল। তাই দু’বছর পড়েছে ক্লাস এইটে। শিক্ষাগত এই পশ্চাৎপদতা হৃদির ইরাকে ভাল লাগার অন্যতম কারণও বটে। হৃদি নিজেও পেছনের সারির ছাত্রী। কোন ক্লাসে দু’বার পড়তে না হলেও প্রতি বছর ঠেলেঠুলে পাস করে সে। পড়াশোনায় খারাপ বলে ছোটবেলা থেকেই বাবা-মার বকাঝকা শুনে আসতে হচ্ছে তাকে। উঠতে-বসতে বড় বোনের সাথে তুলনা। হৃদির বড় বোন প্রাপ্তি এবার ঢাকা মেডিক্যালে চান্স পেয়েছে। এই নিয়ে বাসার সবার কি আনন্দ! বড় আপুটার কি প্রশংসা করে সবাই। প্রাপ্তিকে এজন্য মনে মনে হিংসেই করে হৃদি। যখন আদর করে কথা বলতে আসে প্রাপ্তি, মনে হয় তাকে যেন করুণা করছে - অসহ্য লাগে। পারিবারিক বা বাবার অফিসিয়াল কোন অনুষ্ঠান বা পিকনিকে গেলে প্রাপ্তির কাছে নিজেকে ম্লান লাগে তার, সবাই কেমন প্রাপ্তিকে ঘিরে থাকে - শংসা বাক্যে ভরিয়ে দেয় তাকে। আর হৃদিকে গায়ে পড়ে উপদেশ দেয় - দেখো, বড় বোন কত ভাল রেজাল্ট করছে, তোমাকেও অমন হতে হবে। ভাল করে পড়। এক মায়ের পেটের বোন, অথচ ব্রেইনে কি পার্থক্য! ওর সামনেই এসব কথা বলেন আন্টি-আংকেলরা। এজন্য আজকাল আর কোন অনুষ্ঠানে যেতেও ভাল লাগে না হৃদির। এ নিয়ে প্রতিবারই ঝামেলা বাধে। কোন অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে বাবা-মার বকাঝকা নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। হৃদি যেতে চায় না, আর বাবা-মা তাকে নেবেনই। শেষ পর্যন্ত মন খারাপ করে যেতে বাধ্য হয় সে। আড়চোখে চারপাশে তাকিয়ে ভয় ভয় লাগে হৃদির। তারা দুজন দাঁড়িয়ে আছে একটা থামের পাশে। ওদের উল্টোদিকেই প্রথম শ্রেণীর টিকিট কাউন্টার। কাউন্টারগুলোর সামনে বেশ ভীড়। কাছেই তিনটা লোক দাঁড়িয়ে। ওদের দিকে তাকিয়ে কি যেন ফিসফাস করছে। বদখত চেহারা লোকগুলোর। তাকিয়েও আছে কেমন বিশ্রী ভঙ্গিতে। স্কুল ড্রেস পরে থাকার কারণে আরও অস্বস্তি লাগছে হৃদির। ড্রেসটা পাল্টাতে পারলে ভালো হতো। ইরার দিকে তাকায় হৃদি। ইরার চোখেমুখে অস্থিরতা। কিন্তু ভয়ের কোন ছাপ সেখানে নেই। ওর দিকে তাকিয়ে নিজের মনের ভয় তাড়াতে চেষ্টা করে হৃদি। যেন অনন্তকাল পর সেতুর আগমন ঘটে। ইরাই প্রথম দেখে। ইরার মুখে- ‘আসছে এতক্ষণে নবাবজাদা’ শুনে সামনের দিকে তাকিয়ে হৃদি দেখতে পায় সেতুকে। ওকে দেখে অনেকটা স্বস্তি পায়। স্কুল গেটে প্রায়ই দেখতে পেলেও সেতুর সাথে এর আগে দু-তিনবার মাত্র কথা হয়েছে হৃদির। ইরার মুখ থেকেই সেতু সম্পর্কে জেনেছে সে। ইরা বলেছে, সেতু এইচএসসি পাস করার পর আর পড়েনি। ছাত্র হিসেবে তেমন একটা ভাল ছিল না। বাবা মারা গেছেন সেতুর ছোটবেলাতেই। চট্টগ্রামে বাবা একটা বাড়ি করে গিয়েছিলেন। সেখানেই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে থাকতেন মা। সেই মা-ও গত হয়েছেন বছর খানেক আগে। এখন আপন বলতে শুধু বড় বোন। বিবাহিতা। থাকে চট্টগ্রামেই। মা মারা যাওয়ার পর এক আত্মীয়ের সুবাদে সেতু ঢাকাতে আসে। ঐ আত্মীয়ের বাসা বাড্ডাতেই। ইরার বাসা থেকে খুব একটা দূরে নয়। এলাকাতেই আত্মীয়ের ফোন-ফ্যাক্স-কম্পিউটারের দোকান দেখাশোনা করতো সে। একদিন রাস্তায় ইরাকে দেখে পিছু নেয়। প্রথমে তো ইরা ওকে একদমই পাত্তা দেয়নি। আঠার মতো পেছনে লেগে থেকে ওকে পটায় সেতু। তারপর ছয় মাস ধরে ওদের প্রেম। খুব শীগগিরই ওরা বিয়ে করে ফেলবে। কিন্তু বিয়ের আগেই দুজনে যা যা করেছে, ইরার কাছ থেকে তার বর্ণনা শুনতে শুনতে কান-গাল লাল হয়ে গিয়েছিল হৃদির। সেতুর হাতে একটা বড় ব্যাগ। ওটাতে সেতু আর ইরার কাপড়-চোপড়। ইরা আগের দিনই বাসা থেকে কাপড় আর প্রয়োজনীয় টুকটাক জিনিসপত্র নিয়ে সেতুর কাছে দিয়েছিল। ইরার হাতে শুধু ওর স্কুল ব্যাগটা। হৃদির হাতে হৃদির স্কুল ব্যাগ। ওর ভেতরে দু’সেট কাপড়, তোয়ালে আর টুথব্রাশ, চিরুনি, আয়না- এইসব টুকিটকি। বাড়তি কোন ব্যাগ আনা তো সম্ভবই ছিল না, বাবার সাথে গাড়িতে করে স্কুলে এসেছে সে। গাড়ির ভেতর পুরোটা সময় ভয়ে ভয়ে ছিল - যদি বাবা কোন কারণে ব্যাগটা দেখতে চান! ইরা অনুযোগ করে - ‘এত দেরী?’ সেতু উত্তর দেয় না। জরুরী কন্ঠে তাগাদা দেয় - ‘তাড়াতাড়ি করো। যাও, আগে ড্রেস পাল্টায়া আসো।’ ও-ই চিনিয়ে দেয় মহিলাদের ওয়েটিং রুম। ট্রেনের অপেক্ষায় বসে থাকা মহিলাদের বিস্মিত দৃষ্টি উপেক্ষা করে ইরা টয়লেটে ঢোকে। হৃদির বুকের ভেতর ধুকপুকানি বেড়ে যায়। সবাই ওর দিকে তাকিয়ে আছে বুঝতে পারে। মনে হতে থাকে, সবাই বুঝে ফেলেছে যে ওরা বাসা থেকে পালিয়েছে। ভয় হতে থাকে, কেউ বোধহয় চিনে ফেলেছে ওকে, হয়তো এক্ষুণি ওর বাবা-মাকে খবর দিয়ে দিচ্ছে। পালানোর আগেই ধরা পড়ে গেলে কি অবস্থা হবে ভেবে মনে মনে শিউরে ওঠে হৃদি। ইরার জন্য অপেক্ষার ক্ষণ দীর্ঘ মনে হতে থাকে। কাপড় পাল্টে ইরা বের হলে হাঁফ ছাড়ে হৃদি। দ্রুত ভেতরে ঢুকে সে-ও স্কুল ড্রেস খুলে রেখে অন্য কাপড় পড়ে নেয়। অনেক দিন থেকেই ভাবনাটা ঘুর ঘুর করছিল হৃদির মনে - ঐ বাড়ি ছেড়ে, বাবা-মা-বোনকে ছেড়ে দূরে কোথাও চলে যাবে। যেখানে সে স্বাধীনভাবে চলতে ফিরতে পারবে। যেখানে পড়াশোনার কোন ঝামেলা থাকবে না। সর্বক্ষণ এটা করো, ওটা করো না- এসব বলার কেউ থাকবে না। কিন্তু ঐ ভাবনা পর্যন্তই। কোথায় যাবে, কিভাবে যাবে - তা তো হৃদি জানে না। বাসা, স্কুল আর কয়েক আত্মীয়ের বাড়ি - এই তো তার দুনিয়া। তা-ও সব জায়গায় মা-বাবা বা বোন সাথে। একা কোন কিছু করার উপায়-ই নেই। এমনকি বান্ধবীদের সাথে কখনো বেইলী রোডে খেতেও যেতে পারেনি সে। বাবা-মার এইসব কড়াকড়ি আর বাড়াবাড়িতে মাঝে-মধ্যে যেন দম বন্ধ হয়ে আসে হৃদির। মুক্তির পথ খোঁজে মন। এমন সময়ে সাক্ষাৎ মুক্তির দূত হয়েই যেন তার কাছে আসে ইরা। ইরার বাবা-মাও হৃদির বাবা-মার মতো পড়াশোনার ব্যাপারে খুবই কড়া। পড়াশোনা নিয়ে ইরাকে কত্তবার যে বাবা-মার কাছে মার খেতে হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। সব-ই হৃদিকে বলেছে ইরা। ক্লাস এইটে ফেল করার পর বাবা তাকে বেত দিয়ে এমন বেদম পিটিয়েছে যে তিনদিন জ্বরের ঘোরে পড়েছিল সে। এবার ক্লাস নাইনের প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় ইরা ইংরেজী আর অংকে ফেল করেছে। রেজাল্ট কার্ড কয়েকদিন লুকিয়ে রেখেছিল ইরা। পরে একই এলাকার ইরার ক্লাসের এক মেয়ের কাছ থেকে মা জেনে যান রেজাল্টের খবর। রেজাল্ট কার্ড দেখাতে বাধ্য হয় ইরা। দেখেই মা তার দু’গালে কষে চড় বসিয়েছেন। হৃদির বাসায় অবস্থা অতটা খারাপ না হলেও কম কিছু নয়। অংক আর ইংরেজীতে ফেল করেছে সে-ও। এমন না যে ও পড়াশোনা করে না। অংক আর ইংরেজীর জন্য আলাদা আলাদা টিউটর আছে তার। প্রত্যেকে সপ্তাহে তিন দিন করে বাসায় এসে পড়িয়ে যায় তাকে। কিন্তু অংক-ইংরেজীটা কেন যেন ওর মাথায় ঢোকে না। প্রাপ্তি পড়া বুঝিয়ে দিতে এলেও ওর অসহ্য লাগে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ (হরর ফ্যান্টাসী) বান্ধবী-০১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now