বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বই-০২

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ৩. লাবন্য হারানোর পর প্রায় মাসখানেক পর হয়ে গেল। বাসা থেকে সমস্ত আনন্দ উধাও। কামাল অফিস থেকে বাসায় ফেরে অনেক দেরি করে। তেমন কিছুই করা হয় না এখন। এর মধ্যেই এক ছুটির দিনে দুপুরে শুয়ে আছে এমন সময় দুলাভাই ঘরে এলেন। হাতে একটা বই। এসে বিছানার কোনায় চুপচাপ বসে থাকলেন কিছুক্ষণ। দেখে কামাল উঠে বসল। তারপর বইটা বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, - তোমার বই বোধহয়। লাবন্যের ঘরে পেলাম। বলে ফুপিয়ে কেঁদে উঠলেন। কামাল গিয়ে জড়িয়ে ধরল।দুলাভাই ফুপিয়ে বলতে লাগলেন, - বই পড়ার জন্য ওকে কত বকেছি। আর বকব না, ও যত ইচ্ছে বই পড়বে। আমি নিজে ওকে গল্পের বই কিনে দেব। ওকে ফিরে আসতে বল.......................... কামাল নিজেও কখন কাদতে শুরু করেছে, তা জানে না। কিই বা বলার আছে! কামাল অবশ্য এখন বই পড়া ছেড়ে দিয়েছে। বইগুলোর দিকে তাকাতেই লাবন্যর কথা মনে পড়ে। কতবার কল্পনা করেছে যে, কেউ যেন দরজায় উকি দিয়ে বলছে, - মামা একটা বই নেই। ও সব বই এগিয়ে দিয়ে বলছে, “একটা কেন সব বই তোর।” - স-অ-ব - হুম, শুধু আর হারিয়ে যাবি না, বল? লাবন্য জবাব দেয় না, আগের মতই বই নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কল্পনাটা আর সত্যি হয় না। দুলাভাই চলে যেতে দেখা গেল যে, সেই বইটা, “বই”। এটাই বোধহয় লাবন্যর পড়া শেষ বই। বইটা দেখে মনে হচ্ছে আগের চেয়ে নতুন হয়ে গেছে। প্রচ্ছদেও নামটা আগে ক্ষয় হওয়া ছিল। এখন বেশ ঝকঝকে। ভিতরে পাতা মনে হল যেন আগের মত নরম নেই। পাতা উল্টে দেখি মোট পাতা ৬৩৫। মনে হল যেন আগের বার আরও কম ছিল। এসব দেখেই বইটার প্রতি আবার আগ্রহ বোধ করল কামাল। অনেক দিন পর আবার বই পড়া শুরু করল সে। প্রথম গল্পটা বেশ ভয়ানক কিন্ত বেশ আকর্ষনীয়। বহু আগের এক শয়তান প্রেতাত্মার কাহিনী এটা। প্রেতাত্মার কাজ ছিল অন্য কোন মানুষের দেহশুদ্ধ দখল করে ফেলা। এভাবে সে বহু মানুষের দেহ দখল করে ফেলেছিল এবং তাদের আত্মাকে কাজে লাগিয়ে নানা কুকর্মের মাধ্যমে ভয়ানক শক্তিশালী হয়ে গিয়েছিল। তৎকালীন এক সাধক তাকে ঠেকানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু তাকে পুরো ধ্বংস করে ফেললেও তার দখল করা আরেক শরীরে , আরেক আত্মার মধ্য দিয়ে সে আত্মপ্রকাশ করত। শেষ পযর্ন্ত তাকে পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব নয় বুঝতে পেরে, তাকে বন্দী করে রাখা হয়। কিন্তু সে চ্যালেঞ্জ করে যে, এই অবস্থাতেও সে তার শয়তানী চালিয়ে যাবে। এখানে সমস্যা হলো শয়তান টাকে কিসে আর কিভাবে বন্দী করল সেই পাতাটা ফাঁকা। এক বারেই ফাকা। লোখাগুলো যেন ইরেজার দিয়ে মুছে দিয়েছে । যাই হোক শয়তানটাকে আটকাতে পারাতেই ভালো লাগল। দ্বিতীয় গল্পটা এক মহিলার লাইব্রেরীর। মহিলা কোন সম্ভ্রান্ত বংশীয়ই হবে। তবে তিনি প্রেতচর্চা করতেন। তার বাড়িতে একবার আগুন লাগে। লেগে বাড়ির একাংশ পুড়ে যায়। পরে এখানে এক লাইব্রেরী আবিষ্কৃত হয়। সেখানে মহিলা একটা বই খুজে পান যা তার খুব কাজে লাগে। বইতে বর্ণিত অদ্ভুত উপায়ে তিনি প্রেতচর্চা করার চেষ্টা করেন। তাতে তিনি সফল হন কিনা জানা যায় না। কারণ আগেরটার মত এই গল্পটার ও শেষ পাতা ফাকা। গল্পের বর্ণনা নিখুত ছিল। শেষটা না থাকায় কিছুটা বিরক্ত হল কামাল। গল্পটা যে-ই লিখুক খুব সুন্দর লিখেছিল। পরের গল্পটা এক বাচ্চা মেয়ের। মেয়েটা রুপকথার গল্প পড়তে খুব পছন্দ করত। তার জন্মদিন তার নানীর কাছ থেকে একটা খুব সুন্দও ছবি আঁকা একটা রুপকথার বই উপহার পায়। বইটার গল্পগুলো অসাধারন ছিল। মেয়েটা প্রতিদিন বইটা পড়ত আর নিজেকে গল্পগুলোর নায়িকা হিসাবে কল্পনা করত। একটা ছেলের সাথে তার ভাব ছিল। কামাল ভেবেছিল হয়তো তার সাথে মিল দিয়েই গল্পটা শেষ হবে। কিন্তু এত সুন্দর গল্পটারও শেষটা নেই। এবারও ভয়ানক মেজাজ খারাপ হল কামালের । বিরক্ত হয়ে বইটা রেখে দিল সে। এত চমৎকার তিনটি গল্প অথচ তার শেষ পড়তে পারল না। ছোটগল্প হিসাবে ধরে নিয়ে নিজের মত করে গল্পগুলো শেষ করে মনকে সান্তনা দিল কামাল। বিকেলে ঘুমিয়ে উঠে আবার বইটা হাতে তুলে নিল সে। বইয়ের গল্পগুলোর লেখনী সত্যিই অসাধারণ। পরের গল্পটা এক ভ্রমনকারীর। সে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ায়। গল্পটায় প্রাচীন ফ্রান্সের খুব চমৎকার এক বর্ণনা পাওয়া গেলো। লোকটা একটা বইতে ভারতবর্ষের বর্ণনা পড়ে খুব আগ্রহী হয় আসার জন্য। সে আসার জন্য ভারতে এসে জাহাজ থেকে নামার সাথে সাথেই গল্পটা শেষ। এত চমৎকার এক ভ্রমনবৃত্তান্ত আরো থাকলে ভালো লাগত। পরের গল্পটা আরো চমৎকার। এক উঠতি নাট্যকারের জীবন সংগ্রামের গল্প। যে কিনা শুরুতে খুব কষ্টে জীবন যাপন করত। তার কষ্টে দাড় করানো নাটক দর্শকরা দেখতে চাইত না। কারণ ওই এলাকার মানুসের রুচি নিম্ন পর্‍যায়ের ছিল। শুদ্ধ নাটকের চেয়ে যাত্রা পালার দিকেই তাদের আগ্রহ বেশী ছিল। নাট্যকার একটা নাটকের বই একদিন খুজে পায়। খুব চমৎকার একটি নাটক। জীবনের সবর্স্ব খরচ করে সে নাটকটি মঞ্চায়ন করে। প্রচুর দর্শক আসে এবার। কিন্তু আবার সেই শেষ দুই পাতা নেই। নাট্যকার কি আনন্দের আতিশয্যে হার্টফেলই করেছিল কিনা কে জানে! পরের গল্পটা বেশ মজার। এক রাধুনীর গল্প। সে নিত্য নতুন রান্না করে মানুষকে খাওয়াতে পছন্দ করে। যদিও সেসব রান্না বিশেষ জাতের হয় না। সে এক রান্নার বই খুজে পায়। যাতে নিত্য নতুন বেশ কয়েকটা রান্নার রেসিপি দেয়া ছিল। সে ওগুলো রান্না করে এবং এবার তার রান্না বেশ খ্যাতি লাভ করে। দু’তিনটা অদ্ভুত রান্নার রেসিপি গল্পেও ছিল। ভাবলাম বাসার রান্নার ট্রাই করতে হবে। মহিলার ইচ্ছা ছিল শেষ পযর্ন্ত একটা খাবারের দোকান দেবেন। কিন্তু দিতে পারলেন কিনা কে জানে। কারণ শেষ পাতা নেই। কি আর করা, এভাবে হয়তো বইটা পড়ে শেষ করতে হবে। তবে এখানে একটা ব্যাপার লক্ষনীয় যে, প্রতিটি গল্পই উত্তম পুরুষে বর্ণিত এবং কোন না কোন বইকে নিয়ে। এ জন্যই হয়তো বইটার নাম বই। এর পরের গল্প গুলোও ভালো। এক গণিতবিদের গল্প আছে, একটা বইয়ের অংক সমাধান করে যে নাম করেছিল। এক যাদু ওয়ালার গল্প আছে, শুরুতে যার শো না জমলেও একটা বই থেকে নির্দেশনা পেয়ে যে বেশ খ্যাতি অর্জন করে, এক রাজনীতিবিদ, খেলোয়াড়, হস্তরেখাবিশারদ, বৈজ্ঞানিক এমনকি এক কাজের বুয়ার কাহিনীও আছে। যার কাজ ছিল তার মনিবের ছেলেকে গল্পের বই পড়ে শোনানো। এদের প্রত্যেকের জীবনেই একটা বইয়ের বিশেষ ভূমিকা আছে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now