বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

হোপ্রিম-০২ (শেষ)

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ২. আমার ঠিক সমনে চেয়ারে হাত পা বাঁধা অবস্থায় ইরিনা বসে আছে। নমনীয় সিলঝিনিয়ামের তন্তু দ্বারা তৈরী ব্যন্ড দিয়ে বাঁধা হয়েছে তাকে,গরিলাও ছিঁড়তে পারবে না এটা।যদিও ইরিনা কোনো চেষ্টা করছে না বাঁধন খোলার। আমি একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি ইরিনার দিকে।কি মায়াময় একটা মুখ।কি গভীর নীল দুটি চোখ।সে কিনা একজন হোপ্রিম? আমি এত দিন একটা হোপ্রিমের সাথে মন দেয়া নেয়া করলাম? পুরোটাই ছিল ভান,কারণ হোপ্রিমরা ভালবাসতে জানে না... "ভূল,রাফি" আমি চমকে উঠলাম।"কি ভূল ইরিনা?" আমি অবাক হয়ে প্রশ্ন করলাম। "আমাদের ভিতরে সকল মানবিক অনুভুতি আছে,রাফি।প্রথম সত্তুরটি ব্যাচের হোপ্রিমদের ছিলনা।কিন্তু এরপর আমরা জৈবিক ভাবে জনসংখ্যা বাড়তে থাকলে মানবিক বোধ অপসারণ ব্যায় বহুল হয়ে পড়ে।কিন্তু আমাদের কঠিন অনুশাসনে বড় করা হয় বলে আমরা ভূল করি না। আমিই প্রথম হোপ্রিম যে কোনো মানুষের প্রেমে পড়েছে।আমি চর,এটা সত্যি,কিন্তু আমি সত্যিই তোমাকে ভালবাসি,রাফি।জানি আমাকে তুমি আর কখনই বিশ্বাস করবে না,কিন্তু তোমার কাছে আমার আর কোন স্বার্থ ছিল না,এটা তুমি জান।" আমি বুঝলাম সেলুলয়েডের টুপিটা খোলার পর সে আমার মনের কথা বুঝতে পারছে।সে নিশ্চয়ই জানে যে আমি তকে কতটা ভালবাসি।কিন্তু মাথার ভেতর একজন চিতকার করে বলছে সব মিথ্যা,এ কুহুকিনী।এর কোন কথা বিশ্বাস করনা। ইরিনার দিকে তাকিয়ে দেখলাম সে মাথা নিচু করে বসে আছে। নিরাপত্তা বাহিনী সহ ক্লিহানের পৌঁছুতে এখনও ১০ মিনিটের মত বাকি।ইরিনা আমাদের অনুমিত সময়ের বেশ আগেই চলে আসায় হাতে বেশ কিছুটা সময় পেয়েছি তার সাথে একান্তে কথা বলার। হোপ্রিমদের অন্যান্য বিষাক্ত কেমিকেলে দুর্বলতা না থাকলেও একমাত্র রিলিবিক্সিন গোত্রের যৌগ গুলোতে তারা অচল,মানুষের উপর এটার কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। আমার অ্যাপার্টমেন্টের একটা নির্দিষ্ট কোনায় তাকে নিয়ে যেতেই সে অচল হয়ে পড়ে। তারপর তাকে বেঁধে ফেলি চেয়ারে। ইরিনা মাথা তুলে আমার চোখের দিকে তাকালে দেখি পানি চিক চিক করছে। আমার বুকের ভেতর হঠাত কি জানি ঘটে গেল।আমি ছুটে গিয়ে তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে বললাম,"হও তুমি হোপ্রিম,হোক তোমার ৪৭টা ক্রোমজম,আমি তোমাকে ভালবাসি,ইরিনা।" ইরিনা ঝরঝরিয়ে কেঁদে ফেলল। আমি তার চোখের পানি মুছে তার ঠোঁটে আলতো করে চুমু খেলাম। "মাফ করে দিও আমাকে রাফি।তুমি ভূল মানুষ কে ভালবেসেছিলে।'' কান্না থামাতে কষ্ট হচ্ছে তার। আমি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি আরো ৭ মিনিট আছে।"আচ্ছা,তোমার নিজস্ব সেফ হাউজ আছে?" ইরিনা অবাক হয়ে বললো," হ্যাঁ,পলেনেশিয়ায়।" "আচ্ছা তোমাকে যদি এখন ছেড়ে দেই তুমি কি পালাতে পারবে?" প্রথমে কিছুক্ষণ অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলো সে তারপর বললো,"আমি একজন হোপ্রিম।আমার অসাধ্য খুব বেশি কিছু নেই।কিন্তু তুমি কেন তা করবে?" "কারণ আমি জানি তোমাকে নিরাপত্তা বাহিনীরা নিয়ে কি করবে।কিভাবে তোমাকে ইন্টারোগেট করবে।আমি এটা সহ্য করতে পারবো না।" "কিন্তু ওরা তো তোমাকেও ছাড়বে না!" আমি হেসে বললাম,"একজন হোপ্রিম আমাকে বোকা বানিয়ে পালিয়ে গেছে এটা অবিশ্বাস্য কিছু নয়"। "রাফি,তুমি যাবে আমার সাথে?পলিনেশিয়ায়? আমার বিরাট দ্বীপ...শক্তি বলয় দিয়ে ঘেরা...খোলা সাগরের পাশে আমার কাঠের বাংলো..." আমি তার মুখে হাত দিয়ে বল্লাম,"আমাকে আর লোভ দেখিও না।আমি যাবো..." ইরিনা আমার দিকে তার বাঁধা হাত বাড়িয়ে দিল।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now