বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
হ্যারি পটার ফ্যানফিকশন
বাকবিক
সালেহ আহমেদ মুবিন
৪র্থ পর্ব
'র্যাচেল দেখ লেকটা কি সুন্দর দেখাচ্ছে, তাই না? চাঁদের আলোয় সম্পূর্ণ লেকটাই কাল্পণিক আয়নার মত লাগছে।'
র্যাচেল তীব্র দৃষ্টিতে তাকাল সিরিয়াসের দিকে। দৃষ্টি দেখে বোঝা গেল র্যাচেল সিরিয়াসের মাথার নাট বল্টু নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছে সে। কিন্তু এই দৃষ্টি সিরিয়াসের একটা হার্টবিট মিস করিয়ে দিল। সে অনেক কষ্টে চোখ ফিরিয়ে আমতা আমতা করে বলল, 'এখান থেকে এখন মনে হয় চলে যাওয়া উচিৎ। আরও একটা কাজ বাকি এখনও।'
এবার র্যাচেলের ভ্রু কুঞ্চিত হল আরেকবার।
'এরপর কি করবে? হগওয়ার্টস ক্যাসেলটাই গুড়িয়ে দিবে নাকি? আর চলে যাবে মানে? কবরটা এভাবে ফেলে যাবে? তুমি করছটা কি, সিরিয়াস?'
সিরিয়াস বুঝতে পারল মেয়েটাকে এনে সত্যিই বড় ধরণের ঝুকি নিয়ে ফেলেছে। এভাবে ওকে নিয়ে আসা একদম উচিৎ হয়নি। সিরিয়াস আরেকটা মৃদু চেষ্টা করল। কবর থেকে র্যাচেলের দৃষ্টিটা অন্তত সরাতে হবে।
'দেখ ঐ যে একটা তারা', আকাশের দিকে দেখাল সে। 'দেখতে পাচ্ছ? তারার আলোয় তোমাকে কিন্তু সুন্দর দেখাচ্ছে। একদম অপরূপ। একদম চাঁদের মত।'
এবার বিস্মিত দৃষ্টিতে র্যাচেল তাকাল সিরিয়াসের দিকে। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে এবার সে নিশ্চিত যে সিরিয়াসের মাথার নাট বল্টু ঢিলে ঢালা হয়ে গেছে। তবে সিরিয়াস বুঝতে পারল কাজে দিয়েছে এই পদ্ধতি। আর কয়েক মুহুর্ত র্যাচেলকে ব্যাস্ত রাখতে পারলেই হয়ে যাবে। হঠাৎ পিছনে মৃদু একটা শব্দ শোনা গেল। সিরিয়াস কোন শব্দ আশা করেনি, কিন্তু বুঝতে পারল ঘটনা শুরু হয়ে গেছে। দুঃখের বিষয় হচ্ছে শব্দটা র্যাচেলের কানেও গেছে। সে আবার তার দৃষ্টি ফিরিয়ে নেয়া শুরু করল কবরের দিকে। সিরিয়াসের মনে আতঙ্ক জমে উঠল। র্যাচেলকে অন্তত এখন কিছুতেই দেখতে দেয়া চলবে না। তার মাথায় বয়ে গেল চিন্তার ঝড়। মরিয়া হয়ে সিরিয়াস তার জীবনে করা আরেকটি অদ্ভূত কাজ করে ফেলল। সে আচমকা ঝুকে র্যাচেলের ঠোঁটে ডুবিয়ে দিল নিজের ঠোট।
ভাল ব্যাপারটা হচ্ছে র্যাচেলের মনোযোগ এইবার সত্যিকার অর্থেই সরে গেল। সে তৃতীয়বারের মত হতভম্ব হয়ে গেল। কিন্তু নিজেকে ছাড়িয়ে নিল না। সিরিয়াস জানে না কয় মুহুর্ত পার হয়েছে। এক সেকেন্ডও হতে পারে, এক যুগও হতে পারে। যখন তার হুশ ফিরল দ্রুত ছাড়িয়ে নিল নিজেকে। কান পেতে দ্রুত শুনে নিল বিপদ কেটে গেছে কিনা। সবকিছু শুনশান। সে দ্রুত কৈফিয়তের ভঙ্গিতে বলল, 'আমি দুঃখিত। সত্যিই আমি খুবই দুঃখিত। আমি চাইনি এমনটা করতে। কিন্তু.....দুঃখিত।'
র্যাচেল কিছু বলল না। তার চোখেমুখে এখনও বিস্ময় দৃষ্টিটা লেগে আছে। খেয়াল করলে গালের রক্তিম আভাটাও চোখে পড়বে। র্যাচেলের দৃষ্টি আবার কবরটার দিকে চলে গেল। তার বিস্মিত মুখে আবার বিস্ময়ের ছাপ পড়ল। 'কিভাবে হল এটা?'
কবরটা এক মুহুর্ত আগেও ভাঙা ছিল। কিন্তু এখন সব ঠিকঠাক। ভাঙার কোন চিহ্নও নেই। সিরিয়াস হেসে বলল, 'ম্যাজিক!'
এরপর র্যাচেলের আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে হাত ধরে টেনে বলল, 'তোমাকে পরে সব বলছি। এখন চল। আসল কাজ এখনো বাকি।'
.
জেমসকে নিষিদ্ধ বনের দিকে যেতে দেখে একটু অবাকই হল র্যাচেল। তবে সে জানে এই ছেলের পক্ষে সবই সম্ভব। তবে ভয়াবহ ব্যাপারটা হচ্ছে র্যাচেল এতে কোন আতঙ্ক বোধ করছে না। সিরিয়াসের আশেপাশে থাকলে তার এমনিতেই নিরাপদ বোধ হয়। এবং সে এই অনুভূতিকে ঘৃণা করার চেষ্টা করে।
সিরিয়াস অবশ্য নিষিদ্ধ বনের ভিতর গেল না। হ্যাগ্রিডের কেবিনের সামনে এসেই থেমে গেল। এতক্ষণ কোন কথা হয়নি তাদের মধ্যে। সত্যি বলতে কিছুক্ষণ আগের ঘটনা নিয়ে উভয়ই লজ্জিত বোধ করছে। অদ্ভূত ব্যাপারটা হচ্ছে বিষয়টা র্যাচেলের কাছে একদমই খারাপ লাগেনি। র্যাচেল আবায নিজেকে মনে করিয়ে দিল তার এই অনুভূতিকে ঘৃণা করা উচিৎ।
সে যাই হোক জেমস সিরিয়াস শেষ পর্যন্ত তার দিকে তাকিয়ে হেসে বলল, "হ্যাগ্রিডের বাগানে স্বাগতম।"
এরপর সে এগিয়ে গেল বাকবিকের দিকে। র্যাচেল বাকবিকের জন্য দুঃখ বোধ করল। বেচারার গায়ের অনেক জায়গায় চামড়া দেখা যাচ্ছে। খসে পড়ছে সব পালক। তাকে দেখতে কেমন শীর্ণ আর অসহায় লাগছে। সিরিয়াস একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, "বেচারা বাকবিক অনেক কষ্ট সহ্য করেছে। এবার এর একটা হেস্তনেস্ত করা উচিৎ।"
"বাকবিক? ওর নাম উইদারউইংস না?"
"তুমি যা ডাকতে চাও তাই। বাকাবিক বা উইদারউইংস কোন ব্যাপার না।"
বাকবিককে মিনিস্ট্রির হাত থেকে রক্ষার জন্য হ্যাগ্রিড তাকে পুণরায় নামকরণ করেছিলেন। অন্যান্য সকলে তাকে সেই নতুন নামেই চেনে। র্যাচেলের দ্বিধাটা তাই অস্বাভাবিক কিছু নয়।
সিরিয়াস তাকাল তার হাতের এল্ডার ওয়ান্ডটার দিকে। এরপর লম্বা একটা নিঃশ্বাস নিয়ে হারমায়নির বইটা থেকে প্রাপ্ত ইল্যুশনমেন্ট স্পেলটা মনে মনে আওড়াল। তার মুখে আত্মবিশ্বাসের দৃঢ় আভা ফুটে উঠেছে। ডিসইল্যুশনমেন্ট চার্মের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দূর করতে ব্যবহৃত হবে ইল্যুশনমেন্ট চার্ম। সে ওয়ান্ডটা দুলিয়ে স্পেলটা উচ্চারণ করল। আচমকা জাদুদন্ড থেকে সোনালী রশ্মির স্রোত বেরিয়ে এসে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরল বাকবিককে। যখন রশ্মির শেষ চিহ্নটাও উধাও হয়ে গেল, দেখা গেল ঝরঝরে স্বাস্থ্যবান এক বাকবিক দাঁড়িয়ে আছে। বাকবিক অবাক হয়ে পালক নেড়েচেড়ে নিজেকে দেখার চেষ্টা করল। বেচারা ভেবে পাচ্ছে না হঠাৎ করেই তার সব পালক গজিয়ে গেল কিভাবে। কিংবা হঠাৎই সে শরীরে এত বল পাচ্ছে কেন। এরপর সিরিয়াসের দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়ল, যেন সব রহস্য বুঝে ফেলেছে। বো করার ভঙ্গিতে তার দিকে ঝুকে গেল বাকবিক। সিরিয়াস নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না। প্রাচীন এবং শক্তিশালী জাদুগুলো সবসময়ই ঝামেলা দেয়। কিন্তু এক্ষেত্রে সেটা চমৎকার কাজ করেছে। সিরিয়াস বাকবিকের মাথায় হাত বুলিয়ে দিল। ডানা ঝাপটে আনন্দ প্রকাশ করল হিপোগ্রিফটা। র্যাচেলের চোখ বড় বড় হয়ে গেছে। তবে সত্যি কথাটা হচ্ছে বাকবিককে সুস্থ্য দেখে তার বেশ ভাল লাগছে। হ্যাগ্রিডের বিমর্ষ মুখ দেখতে একদমই ভাল লাগে না তার। হঠাৎ হ্যাগ্রিডের কেবিনের মধ্য থেকে শব্দ শোনা গেল। বাগানের আওয়াজ সম্ভবত তার কানে চলে গেছে। সিরিয়াস চায় না এখন কেউ তাদেরকে দেখে ফেলুক। সে দ্রুত হাতে ইনভিসিবিলিটি ক্লোকটা ছড়িয়ে দিল নিজেদের গায়ের উপর। এরপর তাড়াতাড়ি ত্যাগ করল জায়গাটা। দ্রুত পায়ে ছুটে চলল ক্যাসেল অভিমুখে। পেছনে হ্যাগ্রিডের দরজা খোলার আওয়াজ পাওয়া গেল। কিছুক্ষণ পর ভেসে আসল হ্যাগ্রিডের বিকট গলার আনন্দধ্বনি। সিরিয়াসের মনে প্রশান্তি বয়ে গেল।
"জেমস, ব্যাপারটা সত্যিই খুব সাহসের ছিল। তোমার এত কিছু করার কারন একটা অবুঝ প্রাণীকে সাহায্য করা। সেই সাথে ফিরিয়ে আনা গুটিকয়েক মানুষের মুখের হাসি। আমি তোমার জন্য সত্যিই খুব গর্ব বোধ করছি। সব জাদুকরের এই গুণ থাকে না।"
"র্যাচেল, তুমি কি আমার প্রশংসা করছ? এই বিরল গুণটাও কিন্তু সব উইচের থাকে না। আমার মনে পড়ে না যে তুমি এর আগে জীবনে কখনো আমার বিষয়ে ভাল কথা বলেছ।"
চোখ পাকিয়ে তাকাল র্যাচেল। "এটা প্রশংসা ছিল না, জেমস। আমি আর যা-ই করি তোমার প্রশংসা করব না।"
সিরিয়াস হেসে ফেলল। সে খেয়াল করল ইনভিসিবিলিটি ক্লোকের মধ্যে র্যাচেলের এত কাছাকাছি থাকা স্বত্তেও তার অস্বস্তি লাগছে না। বরং বেশ স্বাচ্ছন্দ বোধ করছে। র্যাচেলের দিকে তাকাল সে। তার চোখে চোখ আটকে গেল মুহুর্তের জন্য। র্যাচেলকে এত সুন্দর আর কখনোই লাগেনি। তার হৃৎপিন্ডে একটা অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে।
"উমম....আমাদের ক্যাসেলের দিকে যাওয়া উচিৎ না?" হঠাৎ বলে উঠল র্যাচেল।
তারা ক্যাসেলের দিকে না গিয়ে যাচ্ছে লেকের দিকে। সিরিয়াস রহস্যময় ভঙ্গিতে হাসল। "কাজটা শেষ করে নিই আগে।"
র্যাচেলের ভ্রূ কুচকে গেল। "আমি ভেবেছিলাম তোমার কাজ বাকবিকের উপর জাদু করা পর্যন্তই।"
"তুমি ঠিকই ভেবেছ।"
র্যাচেল দ্বিধান্বিত বোধ করল।
লেকের কাছাকাছি এসে একটা গাছের আড়ালে থামল তারা। সিরিয়াস ইনভিসিবিলিটি ক্লোকটা ভাজ করে ফেলল। এখান থেকে ডাম্বলডোরের কবরটা স্পষ্ট দেখা যায়।
সিরিয়াস পকেট থেকে বড় একটা লকেট বের করল। অন্তত র্যাচেলের তা-ই মনে হল। তবে লকেটের মাথায় বাধা গোলাকার বস্তুটা আকারে খুব বড়। র্যাচেল হঠাৎ চিনতে পারল জিনিসটা। সে অবাকস্বরে বলল, "প্রফেসর ম্যাকগোনাগল নিশ্চয়ই তোমাকে টাইম টার্নারটা দেন নি। তোমার এটার কোন প্রয়োজনীয়তাই নেই।"
সিরিয়াস অদ্ভূত ভঙ্গিতে তাকাল তার দিকে। র্যাচেলের একটু আগে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো মনে পড়ে গেল। সেই সাথে মনে পড়ল এল্ডার ওয়ান্ডটার ভাগ্যে কি ঘটেছে। সে একঘেয়ে কন্ঠে শেষ করল কথাটা, "তার দেয়ার দরকারও নেই।"
সিরিয়াস মাথা ঝাকাল।
"শোন র্যাচেল, এখন টাইম টার্নারটা দিয়ে ঠিক পনের মিনিট পেছনে চলে যাব। সুতরাং একটু সাবধান হতে হবে। কোন আওয়াজ করা চলবে না।"
মাথা নাড়ল র্যাচেল। এরপর সিরিয়াস লকেটটা তাদের দুজনের গলায় গলিয়ে দিল। লকেটরূপী ঘড়িটা পিছিয়ে দিল ঠিক পনের মিনিট। র্যাচেল কোন পরিবর্তন টের পেল না। অবশ্য পনের মিনিটে কি-ই বা পরিবর্তন হবে। শুধু চাঁদের আলোয় গাছের ছায়াগুলো কিছুটা স্থান পরিবর্তন করেছে মাত্র।
সিরিয়াস আশপাশটা লক্ষ্য করে লকেটটা খুলে ফেলল। এরপর ছায়াময় ঝোপালো অংশটায় গাছের আড়ালে দাঁড়াল তারা। বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হল না। মুহুর্তকয়েক পরেই আরেক সিরিয়াস আর র্যাচেলকে দেখা গেল এদিকে আসতে। ঐ সিরিয়াসের হাতে ভাজ করা ইনভিসিবিলিটি ক্লোক। আর র্যাচেলের মুখে দ্বিধার একটা ছাপ।
র্যাচেল লম্বা একটা নিঃশ্বাস নিল। সে এই প্রথম নিজেকে বা নিজের একটা কপিকে সামনাসামনি দেখছে।
আগে যা ঘটেছিল তাই ঘটতে শুরু করল। সিরিয়াস ডাম্বলডোরের কবরটা ভেঙে ফেলল। হাত ঢুকিয়ে বের করে আনল এল্ডার ওয়ান্ডটা। অবশেষে র্যাচেল তর্ক করা শুরু করল সিরিয়াসের সাথে। ঝোপের পিছনে লুকিয়ে থাকা সিরিয়াস ফিসফিসিয়ে বলল, "সম্ভবত আমার এখনই যাওয়া উচিৎ। এমনটাই ঘটেছিল। এখানে অপেক্ষা কর, র্যাচেল।"
র্যাচেল সত্যি বলতে এখনো ঠিকঠাক বুঝে উঠতে পারছে না জেমসের উদ্দেশ্যটা কি। তাকে কিছু বলার আগেই সে মৃদু পায়ে ছায়াময় অংশ দিয়ে কবরটার দিকে চলে গেল। তার হাতে এল্ডার ওয়ান্ডটা ধরা। সে এখন তর্করত সিরিয়াস-র্যাচেলের একদম পিছনেই। দুইজন সিরিয়াসকে একসাথে দেখা নিঃসন্দেহে খুব অদ্ভূত লাগল র্যাচেলের কাছে।
সিরিয়াস খুব সাবধানে পা ফেলে ভাঙা কবরটার কাছে পৌছাল। সে যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন করছে। বিপদটা এলো র্যাচেলের কাছ থেকে। ঝোপের পিছনে বসে থাকা র্যাচেলের পায়ের নিচে হঠাৎ করে একটা ছোট ডাল ভাঙার 'মট' আওয়াজ শোনা গেল। অসাবধানতাবশত র্যাচেল ডালটার উপর বেশি চাপ দিয়ে ফেলেছিল। ঝোপের আড়ালে থাকলেও র্যাচেলের অবস্থান কবরটা পিছনদিকেই। ফলে কবরের সামনের র্যাচেলের মনোযোগ চলে আসল এদিকে। সে তাকাতে শুরু করল কবরটার দিকে। ঝোপের আড়ালে র্যাচেল নিঃশ্বাস আটকে ফেলল। সিরিয়াস জায়গায় জমে গেল যেন। কবরের সামনের র্যাচেল তাকে দেখে ফেলবে যে কোন সময়। র্যাচেল আতঙ্ক বোধ করল। সে হঠাৎ বুঝে গেল কেন আচমকা তাকে চুমুটা দিয়েছিল সিরিয়াস। এবং চোখের সামনে সেটা আরেকবারের মত ঘটতে দেখল। একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল সে। সিরিয়াস ওদিকে ধীরে ধীরে এল্ডার ওয়ান্ডটা কবরে জায়গামত ঢুকিয়ে রাখল। এরপর তার নিজের ওয়ান্ডটা বের করে দ্রুত বিড়বিড় করে বলল, "রিপেরো!"
ভাঙা টুকরাগুলো জোড়া লেগে আচমকা কবরটা ঠিক আগের মত হয়ে গেল। আদৌ এটা ভাঙা হয়েছে এমন কোন চিহ্নই আর নেই। সিরিয়াস হাপ ছেড়ে ফিরে আসল ঝোপের আড়ালে। কবরের ওখানে সিরিয়াস আর র্যাচেল এখনো চুমু থামায় নি। সিরিয়াস সেদিকে একবার তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল, "আমি ব্যাপারটার জন্য সত্যিই দুঃখিত। আমার হাতে আর কোন উপায় ছিল না।"
"ইটস ওকে। বুঝতে পেরেছি আমি। তুমি ভেবেছিলে কবরটার দিকে তাকালে আমি তোমাকেই দেখতাম। আর দুইজন সিরিয়াসকে দেখলে নিঃসন্দেহে বিকট চিৎকার দিতাম আমি। আর এই নিরব পরিবেশে সে আওয়াজ ক্যাসেল পর্যন্ত অনায়াসেই চলে যেত। আর ধরা পড়ে যেতাম আমরা, ঠিক না?"
খুশিতে সিরিয়াসের দাঁত বেরিয়ে পড়ল। "বোঝার জন্য থ্যাংকস।"
অবশেষে অতীতের সিরিয়াস র্যাচেল হ্যাগ্রিডের কেবিনের দিকে চলে গেল। বাকবিককেও দেখা গেল দ্বিতীয়বারের মত সুস্থ্য হয়ে উঠতে। এরপর নিজেদের সময়ে আবার ফিরে আসল তারা। ঝোপ থেকে বেরিয়ে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস নিল সিরিয়াস। "সব ঠিকঠাকমত শেষ হয়েছে। এই অ্যাডভেঞ্চারে তুমি আমার সঙ্গী হওয়ার সত্যিই ভাল লাগছে। আমি এতেই খুশি যে তুমি আমার উপর আর খেপে নেই। এবার চল ক্যাসেলে যাওয়া যাক।"
চোখ মটকে তাকাল র্যাচেল। "কে বলল খেপে নেই? এই ঠান্ডায় স্কুলের নিয়ম ভেঙে ঘোরাঘুরি করাটা রীতিমত ভয়ংকর ব্যাপার।"
হেসে ফেলল সিরিয়াস।
.
চাঁদ এখন একদম মাথার উপরে। জোছনায় ভেসে যাচ্ছে চারপাশ। হগওয়ার্টস ক্যাসেলে আলোছায়া মিশে অদ্ভূত নকশা সৃষ্টি করেছে। হঠাৎ দেখলে মনে হয় প্রাচীন কোন রাজ্য থেকে উঠিয়ে আনা কোন রাজপ্রাসাদ। সিরিয়াস আর র্যাচেল এই অসাধারণ পরিবেশে ক্যাসেলের দিকে হেঁটে যাচ্ছে। সিরিয়াসের এক হাতে ভাজ করা ইনভিসিবিলিটি ক্লোক, অন্য হাতে ওয়ান্ড। র্যাচেলকে মনে হচ্ছে কিছুটা আনমনা। যেন গভীর ভাবনায় ডুবে গেছে। আচমকা সে বলে উঠল, "তাহলে জেমস সবই তোমার প্ল্যান ছিল।"
সিরিয়াস দ্বিধান্বিত বোধ করল। র্যাচেল সেটা খেয়াল করে বলল, "মানে করিডরে তোমার বাবার সাথে ডুয়েল লড়া থেকে সম্পূর্ণটাই তোমার প্ল্যান ছিল, তাই না? এল্ডার ওয়ান্ডের প্রকৃত মালিক ছিলেন আঙ্কল পটার। সুতরাং সেটা তোমার হাতে সঠিকভাবে কাজ করত না। তোমার নির্দেশ মানত না পুরোপুরি। কিন্তু এক্ষেত্রে ওয়ান্ডের পূর্ণ বিশ্বস্ততা তোমার দরকার ছিল। ফলে তুমি করিডরে তোমার বাবাকে ডুয়েল লড়তে উৎসাহিত করলে। এবং শেষ পর্যন্ত তাকে হারিয়েছ তুমি।"
"হ্যাঁ জেতাটা খুবই আজব একটা ব্যাপার ছিল। আমি ভেবেছিলাম অন্তত দুই তিনবার চেষ্টা করতে হবে আমার। ভাগ্য সহায় ছিল হয়তো। প্রথমবারেই জিতে গেছি আমি।"
"তোমার প্ল্যানটা সিরিয়াসলি অদ্ভূত ছিল। টাইম টার্নারটা এ্যাড করে সেটাকে করে তুলেছিলে আরো ভয়ংকর। অতীতে গিয়ে এল্ডার ওয়ান্ডটা জায়গামত রেখে আসা। যেন ওয়ান্ডটা সরানোই হয়নি। অদ্ভুত।"
"এখানে অদ্ভুতের কি দেখলে?"
র্যাচেল এই প্রশ্নের জবাব দিল না। পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিল। "কিন্তু জেমস, এল্ডার ওয়ান্ডটা তো জায়গামত পরেও রাখতে পারতে। অতীতে যাবার কি দরকার ছিল?"
হাসল সিরিয়াস। "ঠিকই বলেছ। কিন্তু কবরটা ভাঙা অবস্থায় রেখে আসাটা একদম উচিৎ হত না। ব্যাপারটা খুব রিস্কি হয়ে যেত। ভিতরে ওয়ান্ডটা সহ কবরটা দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে চেয়েছিলাম আমি। বলা যায় না যে কেউ দেখে ফেলতে পারত। কে জানে হয়তো এখনও কেউ আমাদেরকে দেখছে।"
তারা ক্যাসেলের দরজার কাছে এসে গেছে। কথা বলতে ব্যস্ত থাকায় খেয়াল করেনি দরজাটার কাছে একটা লম্বা ছায়া দাঁড়িয়ে রয়েছে। র্যাচেল ব্যাপারটা প্রথমে খেয়াল করল। হাঁটা থামিয়ে দিল সে। ফিসফিসিয়ে বলল, "তুমি ঠিকই বলেছ, জেমস। কেউ সত্যিই আমাদেরকে দেখছে।"
সিরিয়াস হতভম্ব দৃষ্টিতে তাকাল সামনের দিকে। ইনভিসিবিলিটি ক্লোকটা গায়ে না চাপানোর জন্য নিজেকে মনে মনে আরেকবার গাল দিল। দরজাটার অন্ধকারে তাদের দিকে ভ্রূ কুচকে তাকিয়ে আছেন স্বয়ং প্রফেসর ম্যাকগোনাগল।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now