বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ম্যাকবেথের তরোয়াল—০৩

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X "ম্যাকবেথের তরোয়াল" -------------------- ( ৩ য় পর্ব) ( লেখক : মানবেন্দ্র পাল) --------------------- * * * সাহেবের আবির্ভাব * * * সমুদ্রগড় রেলবাজারে এক পাগলা সাহেবের আবির্ভাব হয়েছে। কোথা থেকে এসে জুটেছে কে জানে। কখনো গাছের তলায় কখনো পুকুরপাড়ে বসে থাকে। কি তার উদ্দেশ্য কেউ তা জানে না। খাঁটি সাহেব এ অঞ্চলের লোক সিনেমা টি.ভি.তে ছাড়া এর আগে চোখের সামনে দেখেনি। তাই তাদের কৌতূহলের শেষ নেই। অভিজিৎ ক'দিন এখানে ছিল না। কলকাতায় গিয়েছিল। তার কানেও সাহেবের কথা গেল। ভাবল দেখাই যাক কিরকম সাহেব। তেমন হলে সাহেবকে নিয়ে তাদের কাগজে সচিত্র ফিচার লিখবে। তাই ক্যামেরাটাও সঙ্গে নিল। সমুদ্রগড় রেলবাজারটা গোয়ালপাড়ার কাছেই। ঘুরতে ঘুরতে সাহেবের দেখা পেল নসরৎপুরে একটা ভাঙাবাড়ির কাছে। সাহেব সেই ভাঙা বাড়ির চাতালের ওপর খবরের কাগজ পেতে আপন মনে কি লিখছে। অভিজিৎ দেখে অবাক হল সাহেব যে কলম দিয়ে লিখছে তা ফাউন্টেন বা ডট পেন নয়, সে কলম মান্ধাতা আমলের বড়ো পালকের কলম। বহুকাল আগে যখন ডট পেন তো নয়ই, এমনকি কালিভরা ফাউন্টেন, কাঠের হ্যান্ডেলে সরু নিবগোঁজা কলমেরও চল হয়নি, তখন লোকে লিখত শরের কিংবা পাখির পালক চেঁছে কলম তৈরি করে। এ যুগের একজন সাহেব কেন ঐরকম কলম দিয়ে লিখছে কে জানে! সাহেব ঝুঁকে পড়ে লিখছিল। পাশেই একটা মস্ত বড়ো পোঁটলা। এখন তো কতরকম বড় বড় কিটব্যাগ, বিগশপার, বাজারে চল হয়েছে.....তার জায়গায় পোঁটলা! এই ধরনের পোঁটলা করে আগে ধোপারা বাড়ি বাড়ি থেকে কাপড় কাচতে নিয়ে যেত। ফেরিওয়ালা মেয়েদের শাড়ি, ব্লাউজ, সায়া এমনিকরে পোঁটলা বেঁধে নিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরত। ট্রেনে গেরস্তরা যেন বাক্স-প্যাঁটরার সঙ্গে পোঁটলা নিয়ে। আশ্চর্য! মান্ধাতার আমলের সেই পোঁটলা আজ সাহেবের কাছে। অভিজিতের খুব ইন্টারেস্টিং লাগল। সে সাহেবের সামনে গিয়ে বলল, " গুড মর্নিং। " সাহেব একবার চোখ তুলে তাকাল। হেসে বলল, " ভেরি গুড মর্নিং। বোসো।" তারপরেই ইতস্তত করে ভাঙা ভাঙা বাংলায় বলল, " কিন্তু তোমায় কোথায় বসতে দেব? এ তো ডানকানের রাজপ্রাসাদ নয়।" অভিজিৎ অবাক হয়ে বলল, " ডানকান কে?" " মাই গড!" সাহেব যেন আকাশ থেকে পড়ল, " স্কটল্যান্ডের রাজা ডানকানের নাম নেই? সেই যাকে অকৃতজ্ঞ সেনাপতি ম্যাকবেথ নিজে হাতে খুন করেছিল?" " কি সব বলছে সাহেব! " অভিজিৎ থতমত খেয়ে গেল। একটু সামলে নিয়ে বলল, " কি লিখছ?" সাহেব হেসে বলল, " হিস্ট্রি.....নয় া হিস্ট্রি।" " যাহ্ বাবা! ইতিহাস লিখছে! এ তো আচ্ছা পাগল! তা এখানে বসে লিখছ কেন?" সাহেব নিরুপায় গলায় বলল, " কি করব? কোথায় থাকব? আমায় কেউ জায়গা দেয় না"। "ক'দিনের জন্য এসেছ এখানে?" " ফর আ ফিউ ডেজ", সাহেব বলল, " কয়েকদিনের জন্য। আমি ট্যুরিস্ট। বেশীদিন কোথাও থাকা হয় না।" " হোটেলে থাকতে পারো। টাকাপয়সা নেই?" সাহেব একটু হাসল। তারপর তার লম্বা কোটের বাঁ পকেট থেকে বের করল একটা বড় থলি। থলিটা মেঝের ওপর উপুড় করতেই ঝনঝন করে পড়ল একগাদা কুইন ভিক্টোরিয়ার মুখওয়ালা খাঁটি রূপোর টাকা। তার মধ্যে আবার অনেকগুলো সোনার গিনি। অভিজিতের তো চোখ ট্যারা। এত টাকা পকেটে নিয়ে ঘুরছে! অভিজিৎ এবার বলল, " কিন্তু সাহেব, এসব তো পুরনো আমলের টাকা। এ তো এখন চলবে না।" এবার সাহেব তার ঢিলে প্যান্টের ভেতরের গোপন পকেট থেকে বের করল গোছ গোছ অশোকস্তম্ভ মার্কা নোট। " এ তো অনেক টাকা। তাহলে হোটেলে থাকছ না কেন?" অভিজিৎ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল। সাহেব বলল, " আমি বিদেশি বলে সবাই এমনকি বয়-বাবুর্চিরাও খুব বিরক্ত করে। কেবল আমার ঘরে উঁকিঝুঁকি মারে। হাসবে দাঁত বের করে।" অভিজিৎ বুঝল বিদেশী বলেই নয়, আসলে পাগলাটে বলেই ওদের এত কৌতূহল। অভিজিৎ এবার জিজ্ঞেস করল, " তুমি আসছ কোথা থেকে?" সাহেব গম্ভীর ভাবে বলল, " আমি তো বলেছি আমি ট্যুরিস্ট। আমার আসা-যাওয়ার ঠিক নেই। তবে একটা বিশেষ জায়গা খুঁজে বেড়াচ্ছি"......বলতে বলতে সাহেব কেমন যেন অন্যমনস্ক হয়ে গেল। অভিজিৎ আর ঘাঁটাল না। তবে ওর বেশ পছন্দ হলো সাহেবকে। খুব ইন্টারেস্টিং। একে নিয়ে কাগজে লেখা চলে। আরও ভাল হয় যদি ওকে কয়েকদিনের জন্য তাদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া যায়। তাদের বাড়ির দরজা সকলের জন্য খোলা। সাতদিন....দশদিন যে কেউ স্বচ্ছন্দে থেকে যেতে পারে। বাড়ি নিয়ে যাবার প্রস্তাব করতেই সাহেব কিছুক্ষণ অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর বলল, " তোমাদের বাড়ি আমায় নিয়ে যেতে চাও? হোয়াই? আমায় নিয়ে গিয়ে তোমার লাভ?" অভিজিৎ বলল, " তোমাকে আমার ভালো লেগেছে। বাবা-মায়েরও নিশ্চয় ভালো লাগবে। আর আমার একজন খুব সুইট বোন আছে। পড়াশোনা করছে। বিলেত যাবার ইচ্ছে। তোমাকে কাছে পেলে খুব খুশী হবে।" সাহেব বললে, " বেশ, তবে চলো।" এই বলে প্রৌঢ় সাহেব অত বড়ো পোঁটলাটা কাঁধে তুলে নিয়ে মেরুদণ্ড সোজা করে অভিজিতের সঙ্গে হাঁটতে লাগল। এদিকে ঠাকুরমশাই কেবলই জুলির মাকে চাপ দিচ্ছেন, "এ বাড়িতে প্রেতাত্মা আছে। একটা যজ্ঞ করে দিই।" ঠাকুরমশাই দেখেছেন, বাড়ির মধ্যে একমাত্র এই মহিলাটিই তাঁর কথা শুনতে চান। তিনিও যেন মনে করেন এ বাড়িতে কেউ থাকে। কিন্তু ছেলে-মেয়ে দুজনেই ভূত তাড়াবার নাম করলেই ক্ষেপে ওঠে। ভূতের সঙ্গে নিত্য বাস করতে ভালোবাসে। আর একদিন যজ্ঞের কথা বলতেই জুলি তেড়েফুঁড়ে উঠল। গুরুদেবের ছেলের মান-সন্মান না রেখেই বলল, " আপনি বার বার ঐ এক কথা কেন বলেন বলুন তো? যজ্ঞটজ্ঞ করে বাবার ঘাড় মুচড়ে দু'পয়সা বাগাতে চান?" ঠাকুরমশাই তো হাঁ। এ বাড়ির মেয়ের মুখে এমন কথা শুনতে হবে কখনো কল্পনাও করেননি। তোতলাতে তোতলাতে আমতা আমতা করে বললেন, " না....না, তোমাদের ভালোর জন্যই বলি।" জুলি ফুঁসে উঠে বলল, " ভূত থাকে থাক। এ নিয়ে আপনাকে মাথা ঘামাতে হবে না, আপনি যেমন খাচ্ছেন -দাচ্ছেন, ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তেমনি বেড়ান। আপনি গুরুদেবের ছেলে বলেই কেউ আপনাকে যেতেও বলবে না। তবে সবকিছুর একটা সীমা থাকা দরকার।" বলে জুলি কাঁধে একটা ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে গেল। এত অপমান সত্ত্বেও কিন্তু ঠাকুরমশাই বাড়ি থেকে নড়লেন না। তিনি এখন তীর্থদর্শন সেরে এ-বাড়ি ও-বাড়ি পুজো করে বেড়াচ্ছেন। জুলির মা একদিন বিরক্ত হয়ে সুধীনবাবুকে বললেন, " ঠাকুরমশাই তো যাবার নাম করেন না। কি উদ্দেশ্য বুঝতে পারছি না। পাকাপাকিভাবে থেকে গেলেন নাকি?" সুধীনবাবু দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে বললেন, " কি করব? মুখের ওপর 'যাও' তো বলতে পারি না।" ঢিলে প্যান্ট, লম্বা কোট, মাথায় হ্যাট। কাঁধে মস্ত পোঁটলা, অস্বাভাবিক মোটা মোটা আঙুল, ঝোলা ঠোঁট, মাথাটা নারকেলের মতো এই মানুষটাকে দেখে ভ্রু কোঁচকান ঠাকুরমশাই। মনে মনে বললেন, 'এ আপদ আবার কোথা থেকে এসে জুটল!' কিন্তু আর কেউ বিরক্ত হলো না। এ বাড়ির এই একটা গুণ.....যে কেউই অতিথি হয়ে আসতে পারে। থাকতে দেবার জায়গার অভাব নেই, খেতে দেবারও ক্ষমতা আছে। এ তো আবার সাহেব। আমাদের এখনও সাহেব-মেমদের প্রতি সমীহভাবটা যায়নি। জুলি যখন শুনল লোকটার কেউ কোথাও নেই, ট্যুরিস্ট মানুষ.....সুদূর স্কটল্যান্ড থেকে ভারতে এসেছে। তারপর দিল্লি, কানপুর, বেনারস, পাটনা হয়ে কলকাতা। তারপর একেবারে এই সমুদ্রগড়ে। তখন দাদার মতোই খুশি হলো। অভিজিৎ -এর উদ্দেশ্য সাহেবকে নিয়ে কাগজে কিছু লেখে। আর জুলি ভাবল লোকটা যদি দু-চারদিন এখানে থাকে তাহলে তার দেশের কথা, বাড়ির কথা.....ট্যুরিস্ট জীবনের কথা শোনে। সাহেব খুশি মনেই থাকল। তার জন্যেও একটা বাথরুমওয়ালা ঘরের ব্যবস্থা করতে হলো। কিন্তু কি খাবে? একজন খাস স্কচ সাহেব তো আর ভাত, ডাল, সুক্তো, মাছের ঝোল খেতে পারবে না। তাহলে? সাহেবই তাদের বাঁচিয়ে দিল। বলল, " আমার খাবার জন্যে তোমাদের ভাবতে হবে না। বাইরে ইচ্ছেমত খেয়ে নেব। তোমরা যে দু'দিনের জন্য থাকতে দিয়েছ এর জন্য ধন্যবাদ। " শুধু খাওয়াই নয়, সাহেব আলাদা ঘর পেয়ে নিজেই চা বা কফি করে নেয়। ঐ বিরাট পোঁটলার মধ্যে যেমনি একগাদা পুরনো বই আছে, কাগজ আছে, কালি-কলম আছে তেমনি আছে একটা ছোট্ট বিলিতি স্টোভ, চা, চিনি, গুঁড়ো দুধ, আর আরও কত কি কে জানে। একটু সময় পেলেই সে একটা খাতায় কি লেখে! অভিজিৎ বলে, " ও ইতিহাস লেখে।" জুলি নিজেই সাহেবের সাথে ভাব জমাতে লাগল। কোথা থেকে আসছে, কোথায় যাবে, কেন দেশ-দেশান্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছে, নিজের লোক কেউ আছে কিনা, তার যথেষ্ট টাকা আছে তবু কেন এইরকম লক্ষ্মীছাড়া পোশাক, হাত-পায়ের নখগুলো অত বড়ো বড়ো রেখেছ কেন ইত্যাদি। সাহেব কিন্তু খুব সংক্ষেপে উত্তর দিয়েছে। সে বলেছে তার দেশ স্কটল্যান্ডে। দেশভ্রমণ করাই তার উদ্দেশ্য। তার নিজের লোক বলতে তেমন কেউ নেই। দেশভ্রমণের মধ্যেও একটা বিশেষ উদ্দেশ্য আছে.....এ দেশে খুব পুরনো, পরিত্যক্ত বাড়ির সংখ্যা আর সেগুলোর ইতিহাস সংগ্রহ করা। জুলি জিজ্ঞেস করল, " এত দেশ থাকতে বর্ধমান জেলার সামান্য এই জায়গা সমুদ্রগড় কেন?" সাহেব বলেছে, তার লক্ষ্যই হচ্ছে গ্রামের পুরনো বাড়ির খোঁজ করা। ইচ্ছে করে সে সমুদ্রগড়ে আসেনি। হাওড়া থেকে নিউ জলপাইগুড়ি এক্সপ্রেসে উঠেছিল নর্থ বেঙ্গলে যাবার জন্য। কিন্তু সমুদ্রগড়ে এসে ইঞ্জিন খারাপ হয়ে যাওয়ায় সে সমুদ্রগড় স্টেশনে নেমে পড়ে। জায়গাটা ভালো লাগায় এখানেই দুদিন থেকে যাবে ভেবেছিল। এটাও তো বেশ পুরনো জায়গা। সাহেব যা-ই উত্তর দিক, জুলির কিন্তু মনে হয়েছে বাইরে সরল হলেও সাহেব খুব চালাক, অনেক কিছু চেপে গেছে। জুলি আর ঘাঁটাতে চায়নি। মরুক গে। হয়তো দিন দুই থাকবে তারপর আবার পোঁটলা কাঁধে নিয়ে বেরিয়ে পড়বে। সাহেবের এই বাড়িতে থাকার দ্বিতীয় দিন রাতে সামান্য একটা ঘটনা ঘটল। রাত তখন প্রায় এগারোটা। শহরের মানুষের কাছে রাত এগারোটা এমন কিছু নয়। টি.ভি. দেখতে দেখতেই বারোটা বাজে। কিন্তু গোয়ালপাড়ার মতো জায়গায় রাত এগারোটায় চারিদিক নিঝুম হয়ে যায়। জুলি দিব্যি ঘুমোচ্ছিল, হঠাৎ যেন চাপা চিৎকার কানে এল। কেউ যেন হঠাৎ কিছু দেখে ভয়ে আঁৎকে উঠল, " বাপরে"! বলে। ঐ একবারই। তারপর সব নিস্তব্ধ। ঘুমের ঘোরে শোনা। কিছু ভাববার আগেই জুলি আবার ঘুমিয়ে পড়েছিল। পরের দিন সকালে ঠাকুরমশাই বোঁচকাবুচকি, বড়ো টিনের সুটকেসটা নিয়ে চলে যাবার জন্য প্রস্তুত। সুধীনবাবু অবাক হয়ে বললেন, " একি ঠাকুরমশাই, চলে যাচ্ছেন নাকি?" ঠাকুরমশাই গম্ভীর ভাবে শুধু একটি কথাই বললেন, " হ্যাঁ।" " সে কি! হঠাৎ?" " তা আমি বলতে পারব না। বললে তো আমার কথা কেউ বিশ্বাস করবে না। কি দরকার মিছিমিছি অপমানিত হওয়ার।" এতদিন এখানে থেকে ঠাকুরমশাই হঠাৎ যে এমনিভাবে সত্যি সত্যিই চলে যাবেন কেউ ভাবতে পারেনি। আর যাবার আগে কিছুতেই বলে গেলেন না কারণটা কি। শুধু জুলি লক্ষ্য করেছিল, এক রাত্তিরে ঠাকুরমশাইয়ের দু'চোখ বসে গিয়েছে, মুখে যেন রক্তের আভাষ নেই। হঠাৎই জুলির মনে হলো কাল রাতে ঘুমের মধ্যে মনে হয়েছিল কেউ যেন ভয় পেয়ে চেঁচিয়ে উঠেছে। সত্যিই তেমন কিছু শুনেছিল কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারল না। ঠাকুরমশাই কি ভয় পেয়ে অমন চিৎকার করেছিলেন? বেলা তখন দশটা। অন্যদিনের মতো জুলি বাড়ির কম্পাউন্ডের মধ্যে অলসভাবে ঘুরছিল। ঘুরতে ঘুরতে এসে পড়ল বাড়ির পেছন দিকে। এদিকেই এক পাশে সাহেবের ঘর। অন্য পাশে ঠাকুরমশায়ের। মনে পড়ল ঠাকুরমশাই আজই সকালবেলা হঠাৎ নাটকীয়ভাবে চলে গিয়েছেন। ঠাকুরমশাইকে সে মোটেও দেখতে পারত না। কিন্তু লোকটা ঘর শূন্য করে দিয়ে চলে গেছে মনে হতেই জুলি কেমন বিমর্ষ হয়ে গেল। কি উদ্দেশ্যে বলা নেই কওয়া নেই বাংলাদেশ থেকে এসে দিব্যি এখানে থেকে গেলেন তা যেমন জানা গেল না, তেমনি জানা গেল না হঠাৎ এমন কি ঘটল যে বলা-কওয়া নেই চলে গেলেন। এখানে আসার উদ্দেশ্য একটা হতে পারে.....বাংলাদেশে হয়তো খাওয়া পরার কষ্ট হচ্ছিল, তাই এপারে এসে গুরুপুত্রের দোহাই দিয়ে কিছুকাল নিশ্চিন্তে থেকে যাওয়া। কিন্তু এমন করে কেন চলে গেলেন তার কোনও সদুত্তর জুলি খুঁজে পেল না। এইসব কথা নিজের মনে ভাবতে ভাবতে সে যখন ঘুরছিল তখন হঠাৎ চোখে পড়ল সাহেবের ঘরের জানলা খোলা। আর সেখান দিয়ে দু তিনটে কাক ঢুকে কি যেন মুখে করে আনছে। তাড়া দিতেই একটা কাকের মুখ থেকে যেটা পড়ে গেল সেটা দেখে জুলি বেশ অবাক হয়ে গেল। এক টুকরো বড়ো কাঁচা মাংস। মাংসের গায়ে রক্ত লেগে রয়েছে। জুলি প্রথমে ভাবল, সাহেব বোধহয় রেঁধে খাবে বলে মাংস কিনে এনে রেখেছিল। কিন্তু পরক্ষনেই মনে হলো এ দু'দিন তো সাহেবকে রাঁধতে দেখা যায়নি। একটা ছোট স্টোভ আছে বটে তাতে চা করা যায় কিন্তু মাংস রাঁধা যায় না। তাছাড়া, সাহেবের কাছে ডেকচি, কড়াই, হাঁড়ি এসব আছে বলেও তো মনে হয় না। তাহলে? কাঁচা মাংস আনার কারণ কি? ভাবতে ভাবতেই জুলি বাড়ি এসে ঢুকল। আর ঐ চিন্তাটা মাথা থেকে চলে গেল। ( চলবে) ----------------


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now