বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ম্যাকবেথের তরোয়াল—০২

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X "ম্যাকবেথের তরোয়াল" -------------------- ( ২ য় পর্ব) ( লেখক : মানবেন্দ্র পাল) --------------------- সারারাত ঘুম হলো না জুলির। ভোরবেলা একটু ঘুম এসেছিল, মায়ের ডাকে ঘুম ভেঙে গেল। অনেক বেলা হয়ে গেছে। ওঠ। চায়ের জল চড়িয়েছি। জুলি হাতমুখ ধুয়ে চা খেল। কিন্তু সারা রাত ঘুমোয়নি সে কথা প্রকাশ করল না। কাল রাতেও চঞ্চল এসেছিল তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু কেন? আবার কোন বিপদের জন্য সাবধান করতে চাইছে? আশ্চর্য! এ নিয়ে কেউ তেমন মাথা ঘামাচ্ছে না। জুলি তাড়াতাড়ি স্নান সেরে দরজা বন্ধ করে প্ল্যানচেট নিয়ে বসল। আবার লেখা ফুটে উঠল....." ওর কাছ থেকে সাবধান! "....ব্যস এইটুকু। কিন্তু এই 'ও'টা কে? কিছুই বোঝা গেল না। এ বাড়িতে তো কতজনই আসে। এই তো সেদিন কলকাতা থেকে তার দু'বন্ধু এল। নবদ্বীপ, শান্তিপুর, কৃষ্ণনগর, কালনা ঘুরে বেড়াল। একটা নতুন ঝি রাখা হয়েছে। সে তো দু'বেলা আসে। খুব গল্প করে মায়ের সাথে। এত গল্প কিসের? ওর কাছ থেকেই কি সাবধান হতে বলছে? জুলি আবার কয়েকদিনের জন্য কলকাতায় গিয়েছিল। ফিরে এসে দ্যাখে একজন অপরিচিত লোক বাইরের ঘরে সোফার ওপর দিব্যি পা তুলে বসে আছে। খালি গা, গলায় ধবধবে পৈতে, পরনে মোটা সুতোর ধূতি, কাঁধে গামছা। কুচকুচে কালো রঙ। নাকটা বসা। এমন একজন লোককে তাদের বাড়িতে দিব্যি বসে থাকতে দেখে জুলি তো অবাক। লোকটা উঁচু উঁচু দাঁত বের করে হেসে বললে, " কি খুকি, কলকাতা থেকে এলে? বড়ো হয়েছ, কোথায় শাড়ি পরবে, তা নয়, ওসব কি পরেছ? তা ছাড়া একা একা কলকাতায় যাওয়া আসা করা ঠিক নয়। তোমার মা-বাবা বারন করতে পারে না? যাও ভেতরে যাও।" লোকটার কথা শুনে জুলির রাগে সর্বাঙ্গ জ্বলে গেল। কোনও কথা না বলে গটগট করে সে ভেতরে চলে গেল। মাকে বিরক্ত হয়ে জিজ্ঞেস করল, " লোকটা কে?" মা জিভ কেটে বললেন, " ছিঃ, ওভাবে বলে না। উনি বাংলাদেশ থেকে এসেছেন। তোমার বাবার গুরুদেবের ছেলে।" " তা এখানে কেন?" " কাছাকাছি তীর্থস্থানগুলো ঘুরবেন। " " যেখানে যত খুশি ঘুরুন, কিন্তু আমাদের বাড়ি কেন?" মা শান্ত গলায় বললেন, " নবদ্বীপ, শান্তিপুর তো এখান থেকে কাছে। তাছাড়া তোমার বাবার গুরুদেব ছিলেন ওঁর বাবা। এখানে ছাড়া কোথায় উঠবেন?" " তা বলে ঐরকম একটা লোক আমাদের বাড়িতে?" " উপায় কি?" " ক'দিন থাকবে?" মা বললেন, " তা কিছু বলেননি। তবে জিনিসপত্রের বহর দেখে মনে হচ্ছে বেশ কিছুদিন থাকবেন।" জুলি হাতের ব্যাগটা বিছানায় ছুড়ে ফেলে দিয়ে বললে, " আমি তাহলে কালই কলকাতা ফিরে যাব।" কিন্তু জুলি শেষতক কলকাতায় গেল না। ভেবে দেখল, বাড়িতে ঐরকম একটা উটকো লোককে রেখে চলে যাওয়া উচিত হবে না।" লোকটা সত্যিই অদ্ভুত। পশ্চিম দিকের একটা ঘর ওঁকে দেওয়া হয়েছিল। সেই ঘরে উনি যত রাজ্যের ঠাকুর -দেবতার ছোট ছোট মূর্তি সাজিয়ে রেখেছেন। দেওয়ালে দেওয়ালে দূর্গা, কালী, জগদ্ধাত্রীর ছবি। রোজ অনেক দূরে গঙ্গায় স্নান করা চাই। সকালে উঠেই সারা বাড়িতে গঙ্গাজল ছেটান। তারপর ভালোরকম ভোজনপর্ব সেরে কাছেপিঠে মন্দির-টন্দির দেখতে বেরোন, ফেরেন সন্ধের পর। তারপর অনেক রাত পর্যন্ত ঘন্টা, শাঁখ বাজিয়ে চলবে তাঁর ঐ অতগুলো ঠাকুর দেবতার পূজো। সারাদিন ধুনোর ধোঁয়ায় ঘর অন্ধকার। রাতে ঘুমের দফারফা। লোকটার কোনও কাণ্ডজ্ঞান নেই। যেন ক'দিনেই বাড়িটাকে নিজের বাড়ি মনে করছেন। কিছু বলার উপায় নেই। হাজার হোক গুরুদেবের ছেলে। তারওপর ঠাকুর-দেবতার ব্যাপার। কাজেই মুখ বুজে সব সহ্য করতে হয়। অভিজিৎ তো লোকটাকে দুচক্ষে দেখতে পারে না, গুজগুজ করে বলে, ওকে আমি তাড়াবই। এরা ভাই-বোনে যে তাকে দেখতে পারে না, গুরুদেবের পুত্রটি তা ভালোই বোঝেন। একদিন জুলির মা'কে কথায় কথায় বললেন, " বৌমা, তোমরা আমায় খুব আদর যত্ন কর ঠিকই, কিন্তু তোমার ছেলেমেয়েরা আমায় দেখতে পারে না। ভক্তি শ্রদ্ধা একেবারে নেই।" জুলির মা সুলেখা দেবী তাড়াতাড়ি বলেন, " আসলে কি জানেন ঠাকুর-মশাই, এরা তো একালের ছেলেমেয়ে। এদের চালচলন, কথাবার্তা একটু অন্যরকম। " ঠাকুরমশাই বিরক্ত হয়ে বললেন, " ওরা তো আমার সঙ্গে কথাই বলে না, আমার ঘরের দিকে তাকায় না পর্যন্ত। এত অবজ্ঞা! এরকম হলে আমি থাকি কি করে?" ব্যস্ত হয়ে সুলেখা দেবী বলেন, " না, না, ওরা ছেলেমানুষ। ওদের ব্যবহারে কিছু মনে করবেন না। ক্ষমা করবেন।" এবার ঠাকুরমশাই একটু শান্ত হলেন। বললেন, " আমি যতদিন এ বাড়িতে আছি ততদিন তোমাদের কোনও ক্ষতি হতে দেব না। আমার এই এতগুলো দেবদেবীর পূজো নিষ্ফল নয় জেনো।" তারপরইই নিচু গলায় বললেন, " যদি চাও তো তোমার গুণধর ছেলেমেয়েদের সুমতির জন্য ছোটখাটো একটা যজ্ঞ করে দিই। বেশী খরচ পড়বে না।" শুনে তো সুলেখা দেবী চমকে উঠলেন। ছেলেমেয়েদের কানে গেলে আর রক্ষে থাকবে না। বললেন, " ওসব এখন থাক ঠাকুরমশাই। দরকার হলে বলব।" বলাই বাহুল্য, ঠাকুরমশাই মনে মনে চটে গেলেন। এরপর একদিন ঠাকুরমশাই সন্ধের পর বাড়ির সবাইকে ডাকলেন। বললেন, " খুব দরকারি কথা আছে।" জুলি তো যাবেই না। অভিজিতের ও যাবার ইচ্ছে নেই। মা-বাবা বারবার বলায় জুলিকে বললে, " লোকটা কি বলে, শোনাই যাক না।" ধুনোর ধোঁয়ায় ঘর অন্ধকার। ধোঁয়াটা একটু পাতলা হয়ে এলে সবাই ঘরে ঢুকল। ঠাকুরমশাই একটা কম্বলের ওপর আসন করে বসেছিলেন। সামনের মেঝেতে খড়ি দিয়ে আঁক-জোঁক কাটা। চার কোণে চারটে সুপুরি। মাঝখানে একটা ছোট কাপড়ের টুকরোয় কি সব বাঁধা। সবাই মেঝেতে বসলে ঠাকুরমশাই গম্ভীর ভাবে বললেন, " যে জন্য ডেকেছি শোনো। তোমাদের এই বাড়িতে প্রেতাত্মা আছে।" " মাগো"! জুলির মা আঁৎকে উঠলেন। ঠাকুরমশাই বলতে লাগলেন, " এ বাড়িতে এসে পর্যন্ত দেখছি বাতাস বেশ ভারী। এমনটা কেন হলো তা জানবার জন্য খড়ি পেতে দেখলাম, হ্যাঁ, ঠিক যা ভেবেছি। প্রেতাত্মা দিব্যি ডেরা গেড়ে বসে আছে।" অভিজিৎ বলে উঠল, " তা থাক না। ক্ষতি তো করছে না।" ঠাকুরমশাই বললেন, " বল কি বাবা! প্রেতাত্মা বাড়িতে পুষে রাখবে! এখনও পর্যন্ত ক্ষতি করেনি বলে ভবিষ্যতে করবে না জানছ কি করে?" অভিজিৎ যতই বিদ্রুপ করে বলুক, তার মায়ের মনটা ছাঁৎ করে উঠল। ঠাকুরমশাই তো একেবারে ভুল বলেননি। তাঁর চঞ্চলের কথা মনে পড়ল। যে তিনবার এসেছে সে যে এখানেই এখন বসে আছে কিনা কে জানে। ঠাকুরমশাই তখন বলছেন, " প্রেতাত্মা নিয়ে অবহেলা করা ঠিক নয়। ওদের মর্জি বোঝা ভার। আজ চুপচাপ আছে, কালই হয়ত অঘটন ঘটাতে পারে।" সুধীনবাবু বললেন, " তা আপনি কি করতে চান?" ঠাকুরমশাই বললেন, " ছোটখাটো একটা প্রেত তাড়ানো যজ্ঞ। কম খরচেই করে দেবো। আপনারা আমার কথা বিশ্বাস করছেন না, কিন্তু ভেবে দেখুন তো সত্যিই কি কোনওদিন ভৌতিক ঘটনা ঘটে নি?" হঠাৎ জুলি উঠে চলে গেল। অভিজিৎ হেসে বলল, " পাড়ার কার কাছ থেকে শুনেছেন বলুন তো?" ঠাকুরমশাই বললেন, " তোমাদের যদি একান্তই অবিশ্বাস হয় তাহলে এসব আলোচনা থাক। " বলে নিজেই খড়ির দাগ মুছে ফেললেন। জুলি পরে একসময় হাসতে হাসতে মাকে বলল, " বাবার গুরুদেবের ছেলেটি কিন্তু ব্যবসা ভালোই বোঝেন। প্রেতাত্মা নয়, তিনি নিজেই এ বাড়িতে দিব্যি ডেরা গেড়ে বসেছেন। নড়বার নাম নেই।" অভিজিৎ বলল, " বাবা নিতান্ত ভালোমানুষ আর গুরুদেবের ভক্ত তাই কিছু বলতে পারেন না। ঠাকুরমশাই সেই সুযোগটাই নিচ্ছেন। " কোনও যজ্ঞই হলো না। তবু ঠাকুরমশাই দিব্যি থেকে গেলেন। তবু জুলির মায়ের মনটা খচখচ করতে লাগল.....ঠাকুরমশাই তো ভুল কিছু বলেন নি। একটা যজ্ঞটজ্ঞ করলেই হতো। কিন্তুভাব ছেলে-মেয়ের ইচ্ছের বিরুদ্ধে কিছু বলতেও পারলেন না। জুলি শুধু ভাবল, চঞ্চলদা কি এই লোকটার কাছ থেকেই সাবধান হতে ইঙ্গিত করেছিল? ( চলবে) ---------------


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now