বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভোরের শেষ আলো

"রোমাঞ্চকর গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X আমি কি করছি বুঝতে পারছি না । ভার্সিটিতে আজকাল সবাই কেমন যেন জটলা পাকাচ্ছে । ছোট্ট রুমটাতেও বসে বসে কেমন যেন একঘেয়ে জীবন হয়ে যাচ্ছে । বন্ধুরাও আজকাল তেমন একটা আসে না ।লেখালেখি শুরু করার পর থেকে খাওয়া দাওয়া ঠিক মত করতে পারিনা । কারন কি করছি আমি নিজেই জানিনা । তবে আমি ভাল টেকনিসিয়ান কাজ করতে পারি । আর একটু সময় পেলে মাঝে মাঝে টুকটাক অখাদ্য গল্প কবিতা লিখি । সেই সুবাদেই ভার্সিটিতে মুটামুটি সবাই একটু চেনে । আগে মাঝে মাঝে বাড়িতে যেতাম । কিন্তু এখন তেমন একটা যাই না । অনেক দিন হয় মাকে দেখি না । মা প্রতি সপ্তাহে একটি চিঠি দেয় বাড়ি যাওয়ার জন্য । কিন্তু সময় করে উঠতে পারি না । কেউ এসে দরজায় করা নাড়ছে । আবির দড়জাটা তাড়াতাড়ি খুলো ... জরুরি কথা আছে । আমিঃ কি হয়েছে রাহাত ? রাহাতঃ চারদিকে মিলিটারি বাহিনী নেমে গেছে । ওরা সামনে যাকে পাচ্ছে তাকে মারছে । আমাদের এখনি বের হতে হবে । আরমান ,রাকিব ,রিয়াদ , জয়নাল ভাই সবাই অপেক্ষা করছে । আমিঃ তো আমি কি করবো ? রাহাতঃ চলো যুদ্ধে যেত হবে । কোন কিছু না ভেবেই বেরিয়ে পড়লাম ।নিচে নামতেই অনেক দিন পড় সবাইকে দেখে মনটা ভরে গেল । কিন্তু সবাই কেমন যেন চিন্তিত মনে হচ্ছে । বলা নেই কওয়া নেই বললেই হল যুদ্ধ (মনে মনে) ভার্সিটির পেছনের জঙ্গল পথ ধরে এগিয়ে চলছি সবাই । কার মুখে কোন কথা নেই।পেছনের দিকে কেমন যেন শব্দ পাওয়া যাচ্ছে । শব্দটা কেমন যেন পরিচিত । কিরে রাহাত শব্দটা কিসের রে । জয়নাল ভাইঃ আরে বলদ ওটা গুলির শব্দ । আমিঃ ও তাই ! রাকিব ভাইঃ না ওইটা আমার বিয়ের আতসবাজি ফোটানোর শব্দ । আমিঃ আমিতো ভাবছিলাম কি না কি ? আরমান ভাইঃ তুই আর কবে চালাক হবি রে ? আমিঃ আমার সাথে এশারে বিয়া দিয়া দেন । জঙ্গল পেরিয়ে রাস্তায় উঠতেই একটা গাড়ি এগিয়ে আসতে দেখা গেলোচল সবাই । গাড়িতে উঠে এটা ভাঙ্গা বাড়িতে এসে উঠলাম । সবাই গোল হয়ে বসে মিটিং শুরু হল । রিয়াদ ভাই এটা বড় কাগজ মেঝেতে রেখে আমাকে বলল ছক বিছানো শুরু কর । আমরা এখন ভুতের গলির শেষ প্রান্তে এই বাড়িটায় আছি । কাল ডাক্তার চাচার বাড়িতে যেতে হবে । আমিঃ ডাক্তার চাচা টা কেডা রাকিব ভাই । রাকিব ভাইঃ আরে গাধা ওটা আমাদের ক্লাসের পিউলির বাবা । আমিঃ ও আচ্ছা লোকটার নাম শুননা গলাডা শুকায়ে গেছে গা। আমিঃ জয়নাল ভাল ১০টেহা দেন । জয়নাল ভাইঃ কি করবি ? আমিঃ সিগারেট খামু । ফাজলামো করস ভাত ।ডাল , খাওয়ার টেহা নাই সিগারেট খাবি । আমিঃ সিগারেট খাওয়া কি অপরাধ নাকি বাবা । সিগারেট ই তো আরতো কিছু খাবার চাই নাই । রাকিব ভাইঃ নে খা তাও তুপ থাক শয়তান । রিয়াদ ভাইঃ কাল রাকিব , রাহাত, বাপ্পি যাবি ডাক্তার চাচার বাড়িতে ঐখানে রিফাত কিছু ইনডিয়ান মেশিন গান দিয়া আইছে ঐ গুলা নিয়া আসবি আর হাবলা শয়তান টারে কিছু মেডিসিন (বোম বানিনোর সরঞ্জাম) সহ রাখয়া আইবা । আমিঃ ভাই আমি যামু না মোর ভয় করতাছে । আরমান ভাইঃ তোর আবার ভয় করে এই প্রথম শুনলাম। সবাই আমাকে পাগল ভাবে তাতে আমার কি ... জয়নাল ভাই বলল তাই যাইতাছি আর কেউ বলল মাথা ফাটিয়ে দিতাম । সকালেই পিউলি দের বাড়িতে আসলাম । একটু আগে বাপ্পি ,রাহত ওদের বিদায় করলাম। পিউলি এসে আমাকে একটি রুমে নিয়ে বলল আপনি আপনার কাজ করতে পারেন । আপনাকে কেউ দিস্টাব করবেনা । আমিও হাবলুর মত কোন কথা না বলে ব্যাগ থেকে জিনিসপত্র বের করে কাজ শুরু করলাম । দুপুরে রুম থেকে উঠে খাবার টেবিলে গেলাম । ডাক্তার চাচা পিউলি আর ১৩-১৪ বছর এর একটি মেয়ে । মেয়েটিকে দেখে কেমন যেন মনে হয় । রান্নাটা খুব ভাল হয়েছে । গ্রামে গেলে আমার মা ও এই রকম রান্না করে আমাকে খাওয়াতো । ডাক্তার চাচা বলল বাবা এখানে তোমার কোন অসুবিধা হচ্ছে নাতো । আমিঃ জ্বী না । ডাক্তার চাচা কোন হেল্প লাগলে বলবে কিন্তু কেমন । যদি কোন কাজে আসতে পারি । লোকটাকে যা মনে করেছিলাম ঠিক তা না অনেক ভাল । হাতটা ধুয়ে রুমে এলাম । আমি শুনতে পাচ্ছি । পিচ্চি মেয়েটা বলছে আব্বু দেখ লোকটাকে কেমন পাগলের মত লাগছে । বলে কি মাইয়া আমি কিনা পাগল । ভার্সিটির কত মাইয়া আমার জন্য পাগলী হইয়া গেল । ডাক্তার চাচা বলছে নওশীন পচা কথা বলে না মামনি। ও মেয়েটার নাম তাহলে নওশীন । ও পাশ থেকে নওশীন এর আম্মু বলছে জানা নেই শুনা নেই এরকম একটা ছেলেকে বাড়িতে থাকতে দিলা । ঘরে দুইটা মেয়ে । আর কিছু শুনতে পেলাম না । রাকিব ভাই এর দেওয়া গুল্লিপ এর পেকেট থেকে একটা জ্বালিয়ে আবার ও কাজে মন দিলাম । কতক্ষন যে চলে গেছে বলতে পাব না । রুমে অনাকাঙ্খিত একজনের প্রবেশ এ কাজে দিক থেকে মনটা উঠে গেল । ছি আপনি সিগারেট খান । হুম । আপনি তো পচা । আমিঃ তোমার নাম নওশীন তাইনা ? নওশীনঃ আপনি কি করে জানেন । এগুলো কি করেন আপনি । আমিঃ তোমার আপুর কাছ থেকে শুনেছি আর কাজ করছি । নওশীনঃ আপনার নাম কি আবির ? আপনি অনেক ভাল লিখেন । আমিঃ হুম । তুমি কি করে জানলে । নওশীনঃ পিউলী আপুর কাছে থেকে । আমি আপনার অনেক লিখা পড়েছি । আমিঃ এখন যাও আমি কাজ করছি । বিকালে বাপ্পি আর রিফাত এসে দুটো জিনিস (বোম) নিয়ে গেল । রাতের খাবার খেয়ে ঘরে বসে আছি । নওশীন এর আম্মি এক গ্লাস দুধ টেবিলে রেখে অনেক খন গল্প করলো । যা মনে করেছিলাম ঠিক তা না এ বাড়ির মানুষ গুলো অনেক ভাল । আজ কয়েক মাস কেটে গেল বাইরের আবহাওয়া দেখতে পাইনা জানিনা । মাঝে মাঝে খুব টেনশন হয় বাড়িতে মায়ের জন্য । কেমন আছে কে জানে ? হয়তো বেঁচে আছে । আর একটু ভাবতেই চোখ এ পানি চলে এলো । রাহাত, রিফাত, বাপ্পি মাঝে মাঝে আসে কিন্তু অল্প সময়ের জন্য । আরমান , জয়নাল , রাকিব ,রিয়াদ ভাই আর বাকি সবাই একটা গেরিলা বাহিনী তৈরি করেছে । শুনেছি পাকিস্তানী দের নাকে দম করে রেখেছে । নওশীন মেয়েটা আজকাল একটু বেশি দুষ্টামি করে । যদিও পিউলি আর ওর মা আমার কাছে আসতে বারন করেছে । কয়েক দিনের ভিতর এই অপরিচিত লোক গুলো আপন অনেক হয়ে গেছে । বাড়ি থেকে মায়ের একটা চিঠি পেয়েছিলাম কাজের জন্য এখন ও পড়া হয়নি টেবিলে উপরে রেখে দিয়েছি । আজকাল পিউলীর মাকে দেখলে মায়ের কথা মনে পড়লে । তখন নিরবে একা একা কাঁদি । চারদিকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ছড়িয়ে পড়েছে । আমাদের বড় বড় বুদ্ধিজিবি আর মুক্তিবাহিনী কে রাজকার দের সাহায্যে হত্যা করছে। আমার ভাঙ্গা রেডিও দিয়ে মাঝে মাঝে জয় বাংলার গান শুনি । নওশীন আজ মুখ গুমরা করে আমার চেয়ারটার পাশে বসল । আমিঃ কি হয়েছে নওশীন ? নওশীনঃ অনেক দিন হয়ে গেল স্কুলে যেতে পাচ্ছি না। আচ্ছা আমি কি আর স্কুলে যেতে পারবোনা ? আমিঃ আরে পাগলী মেয়ে আর মাত্র কয়েক দিন তাহলেই যেতে পারবে। আমরা দু এক দিনের মধ্যেই বাংলাদেশ স্বাধীন করবো । নওশীনঃ সত্যি বলছেন ! আমার না ভয় করে যদি ওরা আমাদের কে মেরে ফেলে ? আমিঃ আরে কোন ভয় নেই আমি আছি না । নওশীনঃ তাহলে যে দিন দেশ স্বাধীন হবে সেদিন আমি আপনার হাত ধরে মুক্ত রাস্তাই বহু পথ হাঠবো । আমিঃ ঠিক আছে পাকনা বুড়ি। রাতে ডাক্তার চাচা খাবার সময় বলল পাকিস্তানী দের মেন পয়েন্টের কিছু সমস্যা হয়েছে । ওদের একজন টেকনিসিয়ান লাগাবে । আমি দেরি না করে ডাক্তার চাচার সাইকেলটায় চড়ে রাহাত এর দেওয়া ঠিকানায় বেড়িয়ে পড়লাম । ইসতিয়াকের চায়ের দোকানের পেছনের দিকে আরমান , রাকিব আর জয়নাল ভাই কে পেয়ে গেলাম । তিনজনের চোখ ই লাল হাতে সিগারেট । জয়নাল ভাইঃ এই হতছাড়া তুই এখানে কি করছিস । আমিঃ মন চাইলো তাই তোমাদের সাথে সিগারেট খেতে চলে এলাম । রিয়াদ ভাই কোথাই ? রাকিব ভাইঃ রিয়াদ , রাহত আর বাকি সবাইকে নিয়ে একটা ক্যাম্প ধ্বংশ করতে গেছে । এখন কাজের কথা বল । খুলে বললাম সব। অবশেষে আমরা তিনজনেই পাকিস্তানী দের মেন পয়েন্ট এ গেলাম । আমার টেকনিসিয়ান কার্ড দেখিয়ে খুব সহজেই ভিতরে ঢুকলাম । জয়নাল আর রাকিব ভাইকে নিচে রেখে আমি আর আরমান ভাই একজন গার্ড সাথে উপরে বিলডিং এ চলে গেলাম । ওরে বাবা এখানে দেখি অনেক গুলা বারুদ । কি করবো ভেবে পাচ্ছি না। বিলডিং এর চারপাশে ভাল করে দেখে নিলাম । নিচে একটা পুকুর আছে । আরমান ভাই রুম থেকে বের হয়ে নিচে জয়নাল আর রাকিব ভাইকে ইশারায় কেটে পড়তে বলল । আবার ও রুমে ঢুকে পকেটের থেকে FIRE BOX টা বের করে একটা কাঠি জ্বালিয়ে ছুড়ে দিলাম ধ্বংশত্তক বস্তুর দিকে । সাথে সাথে আমিও কাচের জানালা ভেঙ্গে পুকুর ঝাপ দিলাম । ধ্বংশ হয়ে গেল পাকিস্তানীদের মেন পয়েন্ট । হাহাহাহাহা অনেক আনন্দ হচ্ছে । একি কি ! হানাদার বাহিনী পুকুরের দিক আসছে । পুকুর থেকে উঠে দৌড়ানো শুরু করলাম । হঠাৎ কি যেন আমার বুকের ভিতর প্রবেশ করলো । তারপর আর মনে নেই । মাঝরাতের দিকে জ্ঞান ফিরতেই নিজেকে আবিষ্কার করলাম নওশীনদের বাসায় । আমার চারপাশে সবাই বসে আছে নওশীন আর পিউলী কাঁদছে । আন্টির ও চোখ গুলো ফোলা ফোলা লাগছে । বুকে ব্যন্ডেজ । কথা বলতে পাচ্ছি না । ডাক্তার চাচা আমার মুখের কাছে কান নিয়ে বলল কিছু বলবা বাবা ? আমিঃ আমি এখানে কিভাবে ? ডাক্তার চাচাঃ আড়মাণ , জয়নাল আর রাকিব এখানে দিয়ে গেছে । আন্টিঃ তোমার এখন কেমন লাগছে বাবা ? আমিঃ আস্তে করে বললাম ভাল । কে যেন দরজা করা নাড়ছে । আঙ্কেল রুম থেকে বের হয়ে মেন দড়জা টা খুলে দিলেন । রাহাত এসেছে । কেমন আছেন আবির ভাই ? পিউলী বলল কিছুটা ভাল । রাহাতঃ সুখবর আবির ভাই আমরা জয়ী হয়েছি । আমাদের এতো দিনের কষ্ট সার্থক হয়েছে । সকাল থেকে আমরা একটি স্বাধীন দেশে বসবাস করবো । আমিঃ রাহাতের কথা গুলো বিশ্বাস করতে পারছিলাম না । তবুও বিশ্বাস করতে হলো । রাহাতঃ কিন্তু ... আবির ভাই একটা খারাপ খবর আছে । জয়নাল ভাই আর রাকিব ভাই ধরা পড়েছে । বেচে আছে কিনা জানিনা । আরমান ভাই গুরুতর আহত । আমিঃ আমার শরীরের রক্ত গরম হয়ে গেল । উঠতে গেলাম কিন্তু বুকে অনেক ব্যথা উঠতে পারলাম না । ঠিক মত নিঃশ্বাস নিতে পারছিনা । বুকে প্রচন্ড ব্যথা শুরু হয়। ফজরে আজান দিল চোখ গুলো ঘুমে ঢুলু ঢুলু করছে । কেন যেন মার কথা ভিষন মনে পড়ছে । জোরেই বলে উলাম । মা আমি আসছি । আবার ও কান্নার রোল পড়ে গেল ।সবাই কাঁদছে কিন্তু নওশীন কাঁদছে না । আমি চোখটা একটু খোলা রাখার চেষ্টা করলাম । নওশীন আমার হাতটা ধরে বলল প্লিজ একটু চোখটা খুলুন । স্বাধীন দেশের ভোরের মিষ্টি আলো কি আপনি একটু ছুয়ে দেখবেন । আপনিকে না বলেছিলাম আমরা আজ অনেক পথ হাটবো বলে নওশীন কেদে উঠলো । আর কিছু শুনতে পাচ্ছি না আমার খুব ইচ্ছে করছে একটু মায়ের কোলে ঘুমাবো ।মায়ের দেওয়া চিঠিও এখন পড়তে পারিনি । মা আমি আসছি .... (সমাপ্ত)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now