বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

লাল সবুজের পতাকা

"যুদ্ধের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X হাতির উপর বসে বাড়ি ফিরছি আমি । সাথে আছে জুলেখা বানু ,আমার সদ্য বিবাহিতা স্ত্রী ।।। লাল শাড়ীর সাথে লাল কুমকুম দিয়ে মুখটা রাঙানো । দুধে আলতা গাঁয়ের রঙের সাথে লাল শাড়ি , লাল কুমকুম ,লাল আলতা যেন আমাদের বাড়ির উঠোনের ডালিম গাছের পাকা ডালিম । ..বাড়ি ভর্তি মানুষ ,হৈ হুল্লোড় ।মার হাতে বানানো নারিকেলের ছাতু খাওয়াচ্ছে সবাইকে ।নারিকেলের ছাতু ।।চিড়া ,মুড়ির সাথে নারিকেল দিয়ে ঢেঁকিতে গুড়ো করে তৈরি একধরনের জনপ্রিয় খাবার... . দেশের পরিস্থিতি ভাল না । বাবা পাশের বাড়ির সুলেমান চাচার রেডিওতে শুনে এসেছে দেশে নাকি মিলিটিরিরা নেমেছে । যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছে... . রাত দশটা ।।। ঝি ঝি পোকারা অনবরত ঝি ঝি করা শুরু করেছে...জোনাকি পোকারা নাঁচছে । আর আমি বসে আছি আমার নববধূর পাশে... কিছুক্ষণ পর ,দূর থেকে একটা কাক কা কা করে ডেকে উঠলো ,সাথে সাথেই শুরু হল মর্টারের শব্দ । আর সেই সাথে মানুষের গগনবিদারী চিৎকার । বাতাসে ভেসে আসছে মিলিটারিদের বুটের দাপট... . ঘর থেকে বের হয়ে উত্তর পাড়ার নজরুল চাচার বাড়ির দিকে তাকিয়ে কাঁপছি আমরা । পুড়ছে ঘর । পুড়ছে খড়ের পুঞ্জ... . ২৬শে মার্চ ,১৯৭১... . ভোর ছয়টা ।রাতেই ঘর বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছিলাম আমরা সবাই । বাবা গিয়েছিল মসজিদে । তাই বাবাকে ছেড়েই পাশের গ্রামের মার নানার বাড়ি চলে গিয়েছিলাম আমরা । বাড়ি এসে দেখি সব কিছু ঠিকই আছে ।ঘরও আছে ।গোঁয়াল ঘর আছে । কিন্তু আমার টমটম নাই । টমটম ।। আমার গরু । টমটম যখন দৌড় দিত তখন ঘোড়ার মত টগবগ টগবগ শব্দ হত । ঘরের সামনে লাউ গাছে দুটো লাউ ঝুলছিল । লাউ দুটো হালকা মৃদু বাতাসে দুলছে... তবে লাউ গাছের নিচে পড়ে আছে একটি লাশ । সবুজ ঘাসের ওপর জমাট রক্ত... . বাবার লাশটি দেখে মা কিছু বলছে না । কাঁদছে না । শুধু অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আর বলছে ,"খোকা ,আমাকে একটু রক্ত দিবি !দিবি খোকা আমাকে একটু রক্ত... " . ১২ই মে ,১৯৭১... . আমি এখন এক পাহাড়ে । খোলা আকাশের নিচে বসে বুকভরে নিশ্বাস নিচ্ছি । একটু আগে অপারেশন শেষ করে আসলাম । অপারেশন । মিলিটারি খুন করার মিশন । দেশকে বাঁচানোর মিশন... . রেললাইনের পাশের মিলিটারি ক্যাম্পে এ্যাটাক করেছিলাম আমরা । ছিলাম ৩১ জন । এখন আছি ২৯ জন । সুবহান ভাই । বয়সে বাবার সমান । ছিলেন উকিল । কিন্তু তবুও তিনি আমাদের ভাই । এখানে আমরা সবাই ভাই ,ভাই । সবাই এক মায়ের সন্তান । মায়ের মুক্তির জন্য লড়ছি আমরা । আমাদের মা ,আমাদের দেশ ,বাংলাদেশকে মুক্ত করবোই করবো আমরা... . আমার পাশেই ছিল সুবহান ভাই । সুবহান ভাই এর বুকে যখন গুলি লাগলো এগিয়ে গেলাম তার কাছে । বুকে হাত দিয়ে দৃপ্ত কন্ঠে তিনি বললেন ,"রহমান ,তুমি গুলি করা থামিও না । শেষ করে দেও ওদের । ওরা যেন একটাও বেঁচে না ফিরতে পারে এখান থেকে । আমি মরছি না । আমি থাকবো রহমান , আমি তোমাদের হৃদয়ে ,লাল সবুজ পতাকায় থাকবো আমি । এগিয়ে যাও । দেশে যে জোয়ার বইছে সেই জোয়ারটা এগিয়ে নিয়ে চল..." . ক্যাম্প উড়িয়ে দিয়েছিলাম আমরা । সুবহান ভাই এর কথা না কিসের জন্য জানি না আমি একাই গুড়িয়ে দিয়েছি । এজন্য অবশ্য কমান্ডারের কাছে বকাও খেয়েছি । তবু আমার কষ্ট নেই । আমার মত লাখ লাখ মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হলেও কিছু হবে না । এ দেশ স্বাধীন হবেই... . সুবহান ভায়ের পকেটে একটা চিঠি ছিল । চিঠিটা খুলি নি । হয়তো ভাবিকে লেখা তার এই চিঠি ।।। পকেটে আরেকটা ছবি ছিল । তার মেয়ের ছবি । ছবিতে কি সুন্দর করে হাসছে মেয়েটা !! আচ্ছা , বাবার মৃত্যু সংবাদ শুনে মেয়েটি কি কাঁদবে ??? বাবার মৃত্যুতে তো আমি কাঁদি নি । বাবার রক্ত ছুঁয়ে শপথ নিয়েছিলাম এ দেশকে স্বাধীন করবো । তারপর গ্রামের এক বড় ভাই এর সাথে ইন্ডিয়া গিয়েছিলাম । যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিতে.. . মা কে অনেক দিন যাবৎ দেখি না । বউ এর সাথে কথাও বলি নি ঠিকমত । শুধু বলেছিলাম ,"আমি ফিরে আসবো জুলেখা । কপালে থাকবে লাল সবুজের পতাকা আর বগলে তোমার জন্য লাল সবুজ শাড়ি..." কমান্ডার স্যার ডাকছে । আজ এখানেই শেষ করছি । জানি না আবার লিখতে পারবো কি না তবে একটা কথা বলতে পারি এ দেশের স্বাধীনতা কেউ আটকিয়ে রাখতে পারবে না । দেশ স্বাধীন হবেই... . ২৯শে আগস্ট ,১৯৭১... . আজ ছদ্মবেশে রাতের আঁধারে গিয়েছিলাম বাড়িতে । মা শুয়ে আছে । আর বউ ঘুমোচ্ছে.. "এসেছিস বাবা ??"কপালে মুখে চুমো দিতে দিতে বলল "আমি জানতাম তুই আসবি খোকা । আয় ভাত বেড়ে দেই..." কতদিন পর বউকে দেখছি তবু জুলেখা কোন কথা বলছে না । খাওয়া শেষ করে জুলেখাকে ডাক দিলাম । কাঁদছে জুলেখা । কাঁদছে মা... . পরাণ বাবুর দোকানে ডাল কিনতে গিয়েছিল বউ আমার । এক রাজাকার তখন তাকে ধরে নিয়ে যায় কুলাঙ্গারদের আড্ডখানাতে । অমানুষের বাচ্চাগুলো রাতভর ধর্ষণ করে আমার বউটাকে ।রাতভর অত্যাচার , নির্যাতন করে । জুলেখার নরম মাংসগুলোকে ঐ অমানুষের বাচ্চাগুলো চিবিয়ে চিবিয়ে খায় । সকাল বেলা ছেড়ে দেয় জুলেখাকে । তবে চোখদুটিকে চিরতরে অন্ধ করে দেয়... . মানুষের মৃত্যু দেখতে দেখতে এখন আমি আর মৃত্যুকে ভয় পাই না । প্রথম প্রথম হিসাব করতাম কতগুলো আমাদের মধ্যে মারা গেল আর কতগুলোকে মারলাম আমরা । কিন্তু এখন এসব পরোয়া করি না আমি । মরলে মরবো । তবু এ দেশকে স্বাধীন করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ । আমার জুলেখার ইজ্জত নিয়েছে ,অন্ধ করে দিয়েছে ,আমার বাবাকে হত্যা করেছে তবু এতে আমার কষ্ট নেই । কারণ এখন আবেগ চলে গিয়েছে , বাড়ির লাউ গাছ গুলো যেমন শুকিয়ে গিয়েছে তেমনি আমার আবেগ গুলোও আজ রক্তশূন্য হয়ে গিয়েছে... . আজ আমাদের জেলার পাকিস্তানি হেড কোয়ার্টারে আক্রমণ করবো । হয়তো এটাই আমার শেষ লেখা । তবে আমি মরি আর বাঁচি এ দেশ একদিন স্বাধীন হবেই । বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে কেউ আটকিয়ে রাখতে পারবে না । ভরা বর্ষায় পদ্মার বাঁধ ভেঙ্গে গেলে গ্রাম কে গ্রাম ভেসে যায় বন্যার পানিতে । একবার বাঁধ ভেঙ্গে গেলে কোন শক্তিই একে আটকিয়ে রাখতে পারে না..." . ...ডায়েরিতে আর কিছু লেখা নেই । ডায়রির পাতা আছে কিন্তু লেখা নেই । এ দেশ আছে তবে নেই বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রহমান... . সামনেই মার্চ মাস । স্বাধীনতার মাস । এই স্বাধীনতার মাসে স্বাধীনতা নিয়ে পত্রিকার জন্য একটি প্রতিবেদন রচনা করতেই সাবিতের সাথে গিয়েছি একটি গ্রামে । একজন মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে । যিনি পঙ্গু । যুদ্ধে তিনি তার মহামূল্যবান পা টি হারিয়েছেন তবু তার কোন কষ্ট নেই । আছে হতাশা । দেশ স্বাধীন হয়েছে , কিন্তু যাদের বিনিময়ে এ দেশের স্বাধীনতা পেয়েছি তারা পায় নি যোগ্য সম্মান.... . জহির উদ্দীন । আবদুর রহমানের স্ত্রী জুলেখা বানুর বড় ভাই... . আমার আর সাবিতের মনে প্রশ্ন রহমান সাহেবের কি হয়েছিল । যুদ্ধে কি তিনি শহীদ হয়েছিলেন ? যুদ্ধে যদি শহীদই হতেন তাহলে এই ডায়েরিটা কিভাবে রহমান সাহেব পেলেন ! আর জহির উদ্দীনের বোন জুলেখারই বা কি হল... অথবা রহমানের সাহেবের মায়েরই বা কি অবস্থা । তিনি কি বেঁচে আছেন...! . সাংবাদিকদের পেশাই এটা । কোন জিনিস কে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে বড় করা । যাদের কাজ হচ্ছে সমাজের সকল প্রশ্নের উত্তর বের করা... . "আচ্ছা জহির নানা , তারপর কি হয়েছিল ?" "তবে বলছি শোনো..." . "১৯শে নভেম্বর ,১৯৭১ সালের কোন এক অপারেশনে পাক বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে রহমান । তারপর তার আর খোঁজ পাওয়া যায় নি । শুনেছি তাকে নাকি অত্যাচার করার পর হত্যা করেছে ।।। আর তার ডায়েরিটা দিয়েছে তার সহযোদ্ধা আমাদের গ্রামের করিম ভাই । দেশ যেদিন স্বাধীন হয় সেদিন সে ডায়েরি সমেত একটি লাল সবুজ শাড়ি আর একটা পতাকা দিয়ে যায় । রহমান নাকি জুলেখার জন্য শাড়িটি কিনে রেখে গিয়েছিল । বলেছিল আমি বাঁচি আর মরি দেশ যেদিন স্বাধীন হবে সেদিন যেন এটা কেউ পৌছে দেয়... " . "ও আচ্ছা ,আল্লাহ উনাকে বেহেশত নসীব করুক । তবে দাদা দুটি কথা জানতে ইচ্ছে হচ্ছে । এক. আপনার বোন এখন কোথায় ? বেঁচে আছে ? দুই . রহমান দাদার মা এর কি হয়েছিল ? " . " রহমানের মা মারা গিয়েছে ৭২ সালে আর আমার বোন..." "কি ? থামলেন কেন বলুন দাদা..." . জহির উদ্দীন দাদা স্ট্রেচারে ভর করে আমাদের একটি ঘরের সামনে নিয়ে গেলেন । টিনের ঘরটাতে দরজার বাইরে দিয়ে তালাবদ্ধ আর জানালা খোলা । জানালা দিয়ে দেখতে বললেন আমাদের... আমি আর সাবিত দেখলাম একজন মহিলা বসে আছেন খাঁটের ওপর । কপালে উনার লাল সবুজ পতাকা আর হাতে একটা লাল সবুজ শাড়ি... . "যে পাগল মহিলাটা দেখছো সেই আমার হতভাগী বোন । যে তার স্বামীকে একদিনের জন্যও পায় নি । দেশের জন্য হারাতে হয়েছে তার ইজ্জত । হারাতে হয়েছে তার চোখ । হারাতে হয়েছে তার স্বামীকে । দেশের জন্য সে তার ইচ্ছেটাকেও কোরবানি দিয়ে দিয়েছিল । এই যুগের কোন বউ দেয় না বিয়ের পর তার স্বামীকে দূরে যেতে । কিন্তু তখন আমার বোনের মত অনেকেই তাদের স্বামীকে দেশের জন্য বিলিয়ে দিয়েছে । এত কিছু করেও আমার বোন কি পেয়েছে জানো ? পেয়েছে একরাশ লাচ্ছনা ,বঞ্চনা আর শুনেছে নানা ধরনের কটু কথা ।।। যেদিন সে শুনেছে তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে সেদিনই পাগল হয়ে যায় । তারপর থেকে আমার বোন এই রুমেই আছে । এখনও লাল সবুজ পতাকা আর লাল সবুজ শাড়ি নিয়ে বসে আছে অপেক্ষায় যে তার স্বামী ফিরবে... . একটা কষ্ট কি জানো দাদা ভাই ? যারা বীরাঙ্গনা , যাদের ইজ্জতের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি এই স্বাধীনতা তাদের কেউই সম্মান পায় নি । দুই লাখ মা ,বোনের হৃদয়ের রক্ত আর শরীরে রক্তও আছে আমাদের পতাকায় তবে নেই তাদের কোন মূল্য । নেই কোন সম্মান... . আমিও যোদ্ধা আমাকে সরকার মুক্তিযোদ্ধা ভাতা দেয় কিন্তু এতে আমার বিন্দুমাত্র কোন সুখ নেই । যারা প্রকৃত যোদ্ধা তার কখনও অর্থ সম্পদ দাবি করতে পারে না । আমরা চাই যোগ্য সম্মান । চাই ভালবাসা । আর চাই এ দেশটার উন্নতি । কিন্তু কেউ আমাদের খবর নেয় না । মাস গেলে টাকা পাই । আরে ভাই , আমরা টাকার জন্য যুদ্ধ করি নি করেছি এ দেশের মানুষের শান্তির জন্য... " . কথাগুলো শুনে আমি আর সাবিত যেন মাটির সাথে মিশে যাচ্ছি । আমরা সাংবাদিক । আমরা নিজেদের দেশপ্রেমিক দাবি করি । আমাদের সামনে দশজন মিলে একজনকে মারলে আমরা দূর থেকে সেটার ছবি তুলি কিন্তু কখনও ফেরাতে চেষ্টা করি না ,জানের ভয়ে । হ্যা , তবুও আমরা দেশপ্রেমিক ! আমাদের কত সম্মান !!! . লাল সবুজের দেশ বাংলাদেশ । বিশ্বমানচিত্রে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র । আজ আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক । তবে এই স্বাধীনতা সহজভাবে আসে নি । ১৯৭১ সালে এক রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের ভেতর দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা এসেছে । মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ মানুষ শহীদ হন এবং দুই লক্ষ মা বোন নির্যাতিত হন । পৃথিবীর কোন জাতিই এত কম সময়ে স্বাধীনতা অর্জন করতে সক্ষম হয় নি । আমরা পেয়েছিলাম কারণ তখন ছিল আসল দেশপ্রেমিক । আর এখন নকল দেশপ্রেমিকে দেশ ছেয়ে গিয়েছে.... . আমরা দেশপ্রেমিক এটা বলতে বলতে আমাদের মুখের চারপাশ দিয়ে লালা ঝরে পড়ে তবে তাতে কি আমরা সত্যিই দেশ প্রেমিক !!! . সাবিত বাইক চালাচ্ছে আর আমি পিছনে চুপচাপ বসে আছি । কারও মুখে কোন কথা নেই..... হঠাৎ আমার ফোনটি বেজে উঠলো ,"টেউ টেউ টেউ ,টেউ টেউ ,টেউ...টেউ টেউ টেউ টেউ..." । ওমা চিনেন নি কোন গান ??? আরে হিন্দি সিনেমার সালমান খানের বডিগার্ড সিনেমার গান... আমরা আবার খুব দেশপ্রেমিক কি না তাই দেশি গান পকেটে নিয়ে ঘুরি না । মনে নিয়ে ঘুরে বেড়াই । মনের এতই গভীর রাখি যে মন থেকে মুখে আনতে আনতে পিঙ্ক লিপস গাইতে থাকি !!! . ফোনটা রিসিভ করলাম । যথারীতি আমার স্ত্রীর ফোন... . > এই , কই তুমি ? কখন থেকে বসে আছি খাবার নিয়ে...ক্ষুদা পেয়েছে তো... > এই তো আসছি... . জুলেখা বানু তার স্বামীকে দেশের জন্য বিলিয়ে দিয়েছিলেন কিন্তু আমার স্ত্রী আমাকে কত্ত ভালবাসে । একদম চোখের আড়াল হতে দেয় না... . দেশপ্রেম কি ? আমার ছেলের বই এ আছে দেশ কে ভালবাসা ,দেশের মানুষকে ভালবাসা হচ্ছে দেশপ্রেম । সেই সূত্র ধরে , আমার স্ত্রীও মস্ত বড় দেশপ্রেমিক... হ্যা ,আমরা সকলেই হাজী মাইক দিয়ে বলা কথা যত দূর পর্যন্ত শোনা যায় ততটা বড় বড় দেশপ্রেমিক..! . আর কিছু বলার নেই । ধিক্কার ,ধিক্কার শুধুই ধিক্কার । রাশি রাশি ধিক্কার , এক রাশ ধিক্কার...


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now