বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অমন মানুষ হয়

"রোমাঞ্চকর গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X ঝাল দিয়ে দু প্লেট ফুচকার অর্ডার করে ছোট্র টুলটায় বসে আছে তিথী । ও বোধহয় আমার অপেক্ষাই করছে । প্রায় দশ মিনিট আগে বলেছিলাম , __ ‘আমি বের হয়েছি তুমি ওখানটাতেই থাকো’ । যদিও তখন আমি ওর থেকে তিন মিনিটের হাটা পথের দূরত্বে দাড়িয়ে ছিলাম । ও জানে আজকেও আমি আগের মতো সামনে নাও যেতে পারি । আজকেও ওকে আরো কিছুক্ষন বসে থেকে চলে যেতে হতে পারে । তবে ও জানেনা আমি ওর পিছনের উল্টোপাশের ঝাউ ঝোপের কাছের বেঞ্চিটায় বসে আছি । তিথি ভাবলেশহীন ভাবে ওখানেই বসে আছে । ওর মধ্য উঠবার কিংবা কিছু করার লক্ষন দেখা যাচ্ছেনা মোটেও । আমি এবারেও তিথীর সামনে যাবোনা । উঠে দাড়িয়ে পাঞ্জাবীর পকেটে হাত দিয়ে হাটা দিলাম । পাঞ্জাবীটার দুটো পকেটের একটা ছেড়া । কীভাবে ছিড়েছে মনে নেই । ছেড়া ছিলো কিনা তাও মনে পড়ছেনা । ছেড়া স্থানটা দিয়ে হাতে দিব্যি বাতাস লাগছে । আমি মকেটে হাত রেখেই হাত দুলিয়ে দুলিয়ে হাটছি । আমি জানি তিথী কিছুক্ষন পর ছলছল চোখে উঠে দাড়াবে । তারপর বাসায় যেয়ে কানে হেডফোন গুজে দিয়ে শুয়ে থাকবে । ওর চোখ তখনো ছলছল করবে । চোখের কোন বেয়ে এক-দু ফোটা জল গড়িয়েও পড়বে । তিথী ওটা মুছে সংকল্প করবে এরপর আর আমার সামনে না আসার । কিন্তু কিছুক্ষন পরেই যদি আমি আবার বলি নীলক্ষেত মোড়ে চলে এসো , তাহলে ও কিছুক্ষন আগের কথা বেমালুম ভুলে যাবে । ছুটে আসবে মোড়ে । ওখানেও আমি থাকবোনা । কিছুক্ষন থেকে বিষন্ন হয়ে ফিরে যাবে । এবারে ওর চোখ ছলছল করবে না । কারন বারবার এক কাজ করতে হয়না । তিথী ওটা জানে । তবে আমি জানিনা । কারণ আমি বারবার ওকে আসতে বলেও আমি যাইনা । আমার তিথীর ছলছল চোখের কথা ভাবতে খুব ভালো লাগে । তবে সামনে দাড়িয়ে দেখার সাহস করিনি কখনো । আমার আপাতত কোথাও যেতে ইচ্ছে হচ্ছে । পকেটে আছে মাত্র সাত টাকা । পকেটে সাত টাকা রাখার কারণ আছে । সাত হচ্ছে লাকী নাম্বার । লাকী সেভেন । আমি পকেটে সাত টাকা নিয়ে এ কারণেই ঘুরি । অবশ্য পেছনে একটা কারণ ও আছে । একবার আমি ভার্সিটি থেকে বাসায় ফিরছিলাম । আমার পকেটে ছিলো সাত টাকা । কারণ পকেটে থাকা একটা দশ টাকার নোট থেকে তিন টাকা আমি তিনটা লজেন্সের পেছনে ব্যায় করেছিলাম । তিনটা ছেলে এসে লজেন্স খেতে চেয়েছিলো । আমি বাকী সাত টাকা পকেটে রেখে কিছুদূর যেতে না যেতেই এক-গাদা ছেলে মেয়ে এসে ঘিরে ধরলো লজেন্স পাবার আশায় । আমি মহা ফ্যাসাদের ভেতর পড়ে গেলাম । পকেটে আছে মাত্র সাত টাকা । অথছো ছেলে মেয়ে সব মিলিয়ে আছে চৌদ্দজন । উদ্ধার করলো মেয়েটা । মেয়েটা হন্তদন্ত হয়ে ছুটে যাচ্ছিলো কোথাও । আমি হুট করে ডাক দিয়ে থামিয়ে দিলাম । “আপনার কাছে সাতটা টাকা হবে ?” মেয়েটা চোখ গোল করে আমার দিকে তাকিয়ে রইলো । “না , আমার কাছে সাত টাকা ভাঙতি নেই” মেয়েটা মিনমিনে গলায় জবাব দিলো । আমি বললাম “ভাঙতি আমি দিচ্ছি” মেয়েটা বললো “ভাঙতি দিতে হবেনা , এই নিন” বলে ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে দশ টাকার নোটটা একরকম গুজে দিয়ে কিছু বলার সুজোগ না দিয়ে দৌড়ে একরকম ছুটেই পালাল । আমি লজেন্স কিনে বিলিয়ে দিয়ে বাকী তিন টাকা ফিরিয়ে দিতে মেয়েটাকে খুঁজতে থাকলাম । পেয়েও গেলাম কিছুক্ষন পর । রাস্তার ধারের বেঞ্চিতে বসে পা দিয়ে মাটি খোঁচাচ্ছে । “এই নিন আপনার বাকী তিন টাকা” আমি হাতের টাকাটা সামনে বাড়িয়ে দিলাম । মেয়েটা এবারেও চোখ গোল করে তাকিয়ে রইলো । “আপনি এসেছেন তিনটাকা ফেরত দিতে !” মেয়েটার চোয়ালের মধ্যকার ফাক বৃদ্ধি হয় । “জ্বী । আমার সাত টাকার প্রয়োজন ছিলো” আমি সাদামাটা জবাব দিলাম । “সাত টাকারই কেনো দরকার হলো ? কম বেশী হলে আপত্তি হলোনা কেনো !” “কারণ আমার কাছে সাত টাকা ছিলো আর টাকা লাগতো চৌদ্দ টাকা” “আপনি কি সবসময় সাত টাকা নিয়ে ঘোরেন ?” ভ্রু কুচকে জানতে চাইলো মেয়েটা । “জ্বী না । আজকেই সাতটাকা হয়ে গিয়েছে । নইলে আমার পকেটে জীবনেও চৌদ্দটাকার প্রয়োজনে সাত টাকা ছিলো কিনা মনে নেই । আর চৌদ্দ টাকার প্রয়োজনও কখনো পড়েছে কিনা ঠিক মনে করতে পারছিনা” আমি নিরাসক্ত ভঙ্গীতে জবাব দিলাম । মেয়েটা কিছুক্ষন আমার দিকে তাকিয়ে রইলো তারপর ফিক করে হেসে দিলো । আমি এবারে মেয়েটার দিকে তাকালাম । মানুষ অমনো হয় ! * “আজকে আমার ভালো লাগায় নেই মানা ভালোবাশার দ্বারেতে আজ মনচায় দিই হানা” চিরকুটটা দলা পাকিয়ে ফেলে দিলাম । অহেতুক চীজ পকেটে রাখার মানে হয়না । আমি হাত উল্টে আঙুলের ডগা দিয়ে নাকের ঘাম মুছে নিলাম । এখন পরিবেশটা খুব একটা ঠান্ডা না হলেও শুধু-শুধু গাছের ছায়ার তলায় বসে থেকে ঘাম আসার মতো মোটেও না । তাও আমি ঘামছি । চিরকুটটা আমাকে শঙ্কার ভেতর ফেলে দিয়েছে । মেয়েটা চিরকুট কেনো দেবে ! আমি ঝিম মেরে বসে রইলাম । কাছে- পিঠে কোথাও দোকান নেই । ধোয়ার তৃষ্ঞা জেগেছে খুব । আমি যদিও ধূম্রখোর নই তাও আমার আপাতত ধোয়ার পিপাসা পাচ্ছে । বোধহয় ভেতর থেকে উড়ন্ত ধোয়াটাকেও এটার সাথে মিশিয়ে দিয়ে এটার ধোয়া বলে চালিয়ে দেবার ছলটুকু করার জন্যই । পকেটে সাত টাকা আছে । সাতাশ টাকা ছিলো । বিশ টাকা একটা টোকাইকে পেয়ে দিয়ে দিয়েছি । মোটামুটি খিদের টের পাচ্ছি । যখন সাতাশ টাকা ছিলো তখন ক্ষিধে ছিলোনা । এখন টাকা নেই , তাই ক্ষিধে পাচ্ছে । এখন তিথীর কাছে ফোন দেয়া চলে । ফোনটা বের করে ফোন দিলাম । তিথী ধরলোনা । কারণ ওর কাছে ফোনটা যায়নি , আর না যাবার কারণ হচ্ছে ফোনে টাকা নেই । একটা যান্ত্রিক কন্ঠ কিছুক্ষন শুদ্ধ ভাষায় কথা বললো । আমি আবারো ফোন দিলাম । শুদ্ধ ভাষাটা পছন্দ হয়েছে । আবারো ফোন দিলাম , ‘এই কলটি সম্পূর্ণ করার জন্য যথেস্ট পরিমান টাকা আপনার একাউন্টে নেই’ বলার পর এবারে কেটে দিলাম । এখানে একাউন্ট আসবে কোথেকে ! বেশ বড় রকমের ভুল । তিথী সাথে থাকলে বলা যেতো , তিথী অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকতো । আর নয়তো এই ব্যাপারে আমার মাথা ব্যাথা দেখে কিছুক্ষন চুপ করে বসে থাকতো , তারপর ফিক করে হেসে দিতো । আর আমি দেখতাম । লুকিয়ে একরাশ মায়া নিয়ে দেখতাম । ধরাও হয়তো খেতাম । কে জানে ! ধরা কি খেতাম ? আচ্ছা , আমি মেয়েটার দিকে তাকিয়ে থাকি কেনো ! আমার কি কিছু হয়েছে ? মেয়েটা কি আমার কেউ ? তবে আমি বোধহয় মেয়েটার কেউ । হতাশায় কুকড়ে এলাম । এই বাউন্ডুলে জীবনে ওর মতো একজন কেনো যে এলো ! আমার কিছু একটা করতে হবে । অন্তত কিছু না করেও কিছু করতে হবে । * এ সময়টাতে তিথীর বারান্দায় আসার কথা না । তাও তিথী এসেছে । কারণ আমি বলেছি আমি আসবো । তিথী সাফ মানা করে দিয়েছে । বলেছে আমাকে বাড়ীর ত্রি-সীমানায় যেনো না দেখে । আমি হু-হা করে কলটা কেটে দিয়েছি । তিথী ভেজা চুলে দাড়িয়ে আছে । আমি নিচে দাড়িয়ে আছি । ঝোপটা না থাকলে তিথী আমাকে দেখতে পেতো । পেলে ছুটে নিচে নেমে আসতো । আসার সময় হয়তো হোচট খেয়ে নখ উল্টাতো । আর ওখান থেকে চুইয়ে রক্ত গড়াতো , তিথীর সেদিকে কোন ভ্রুক্ষেপ থাকতোনা । তিথী আমাকে না দেখলেও আমি ওকে দেখেছি । এক গাছি চুল ওর চোখে-মুখে এসে পড়ছে , আর ও আলতো হাতে সারিয়ে দিচ্ছে । কাজ নেই , তাও বারান্দায় বসে থাকবে । জানে আমি আসবোনা , তাও বসে থাকবে । একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে আমার , নাহ্ .. এই মেয়েটার থেকে দূরে থাকতে হবে আমার । যতোটা দূরে থাকলে মেয়েটা আমার মুখটা কল্পনাও করতে পারবেনা । আমি আবার তিথীর দিকে তাকালাম । মেয়েটা দূরে দৃষ্টি মেলে দিয়েছে , আকাশ পানে । পাতার ফাক দিয়ে আলোরা তিথীর মুখে এসে পড়ে খেলছে । তিথী বিষন্ন হয়ে আকাশ দেখছে । আর আমি তিথীকে । মানুষ অমনও হয় ! * বারো টাকার বাস ভাড়া দশ টাকা দিয়েছি বলে বাসের হেল্পার ব্যাটা খুব ত্যাক্ত করছে । পকেটে আর টাকা নেই । পকেটে পনেরো টাকায় কেনা একটা গোলাপ । আমি কিনিনি । রুমমেট কিনে দিয়েছে । কিনে এনে জোড় করে হাতে দিয়ে পাঠিয়েছে । তিথীর কাছে পাঠিয়েছে । আমি গোলাপটা বাসের হেল্পারের হাতে দিয়ে দিলাম । হেল্পার ব্যাটা হা করে আমার দিকে তাকিয়ে রইলো । তারপর তার মনে কি আসলো কে জানে , বাকী দশ টাকাও ফিরিয়ে দিলো । সাথে দশ টাকার নোটটাও , ‘ভাইজান আপনের পয়সা দেওন লাগবোনা’ । আমি হাতে টাকা আর ফুল নিয়ে বসে রইলাম । নামার সময় হেল্পারের হাতে ফুলটা গুজে দিয়ে এলাম , ‘এটা আপনার কাছেই থাকুক ভাই’ । হেল্পার অবাক চোখে আমার দিকে তাকিয়ে থাকলো । বোধহয় পড়তে চাইছে কিছু একটা । আমার চোখ পড়তে চাইছে । আমি সরে এলাম । তিথী জানেনা আমি এখন ওর বাড়ীর সামনে যাবো । কারণ আজ বলিনি আমি আসছি । আমি যেয়ে দাড়িয়ে থাকলাম । তিথী বারান্দায় এলোনা । কিছুক্ষন পর সোজা নিচে নেমে এলো । এসে নিরাসক্ত ভাবে দাড়িয়ে রইলো । আমার মনে হলো কিছু একটা বলা দরকার । আমি উল্টো ঘুরে হাটা দিলাম । আমার আসলে কিছুই বলার নেই । হেটে অনেকটা দূর গেলাম । তারপর আবার ফিরে এলাম । মেয়েটা ওখানেই ঠায় দাড়িয়ে আছে । গালে জলের দাগ লেগেছে । গরম নোনা জল কিনা ! খুব দ্রুতই শুকিয়ে গিয়েছে । আমি মেয়েটার চোখের দিকে তাকালাম । একরাশ ক্রোধ ছাপিয়ে কিছু একটা প্রকাশিত হয়ে যাচ্ছে । মেয়েটা আমার দিকে তাকিয়ে কাঁদছে । আমি দেখছি । মানুষ অমনও হয় !


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now