বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ডাক্তার বলে দিয়েছে প্রচুর রেস্ট নিতে । শুয়ে বসেই দিন কাটছে । আমার ঘর দোতলায় । মাথার কাছে বিরাট জানালা । জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে শুয়ে থাকে থাকতে খুব খারাপ লাগে না ।
এক রাতের কথা । হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেছে । জানালা দিয়ে বাইরে তাকালাম । ফকফকে জ্যোৎস্না । এই জ্যোৎস্নায় অদ্ভুত একটা দৃশ্য চোখে পড়ল । রাজ্যের কুকুর এসে জড় হয়েছে বাসার সামনে । কেউ কোন সাড়াশব্দ করছে না বা ছোটাছুটি করছে না । সব কটা মূর্তির মত বসে আছে ।
আমার গায়ে কাটা দিয়ে উঠল । ব্যাপারটা কি?
একসঙ্গে এতগুলি কুকুর আমি এর আগে কখনো দেখিনি । এদের এই জাতীয় আচরনের কথাও শুনিনি । আমাকে তাকাতে দেখে এরা সবাই মুখ ফিরিয়ে আমার দিকে তাকাল ।
অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি-দেখি,হঠাৎ তাদের মধ্যে এক ধরনের চান্চল্য দেখা গেল । এরা একে একে চলে গেল । যেন ওদের কোন গোপন অনুষ্ঠান ছিল,অনুষ্ঠান শেষ হয়েছে-এখন চলে যাচ্ছে ।
এই ব্যাপার মাঝে মাঝে ঘটতে লাগল । নির্দিষ্ট কোন সময় না । মাসে একবার কিংবা দুমাসে একবার এরকম হয় ।
এ রকম একটা ঘটনা চাপা থাকার কথা নয় । সবাই জেনে গেল । অনেকেই দুপুর রাতে কুকুরের দল দেখতে আসত । খবরের কাগজেও ঘটনাটা ওঠেছিল । দৈনিক আজাদে । ক্যাপশন ছিল-কুকুরের কান্ড ।
আমার ছোট বোন আমাকে খুব ক্ষেপাত । সে বলত কুকুরের জন্যে তুমি জীবন দিতে যাচ্ছিলে । কাজেই তারা তোমাকে তাদের রাজা বানিয়েছে । তুমি হচ্ছ "কুকুর রাজা" । আমার বাবা পরের বছর পাবনা চলে গেলেন বদলি হয়ে । আমিও বাবার সাথে গেলাম । সেখানেও একই কান্ড । এক মাস দুমাস পরপর হঠাৎ রাজ্যের কুকুর বাসার সামনে এসে জড় হয় । মূর্তির মত চুপচাপ বসে থাকে । একবার আমার চোখ পড়ামাএ মাথা নিচু করে চলে যায় ।
যেখানে গিয়েছি এই কান্ড ঘটেছে । যেন কোন এক অদ্ভূত উপায়ে কুকুররা আমার খবর পৌছে দিয়েছে । শুধু তাই না,আমার মনে হয় কুকুরটা আমাকে পাহারা দেয় । আমি যখন রাস্তায় হাটি,একটা দুটা কুকুর সবসময় আমার সঙ্গে থাকে ।
আজ আমার বয়স সাতষট্টি । আজো এই ব্যাপার ঘটছে ।
আমি আশ্চর্য হয়ে বললাম,বলেন কি?
যা বলছি তার মধ্যে এক বর্ণ মিথ্যা নেই । তবে কুকুরের সভা আগের মত ঘনঘন হয় না । ছ'মাসে একবার হয় । তবে হয় । কুকুরের ভাষা আমি জানি না । জানলে জিজ্ঞেস করতাম-তোমরা কি চাও?এইসব কেন তোমরা কর?
ব্যাপারটা কি আপনার পছন্দ হয় না?
না,পছন্দ হয় না । একদিন দুদিনের ব্যাপার হলে হয়ত পছন্দ হত ।
একদিন দুদিনের ব্যাপার তো নয় । দিনের পর দিন ঘটছে ।
ভবিষ্যতে আবারো হবে বলে কি আপনার ধারণা?
হ্যা হবে । আজ রাতেও হতে পারে । আপনি কি দেখতে চান?
বলতে বলতে আলিমুজ্জামান সাহেবের চোখ মুখ বিকৃত হয়ে গেল ।
যেন তিনি প্রচন্ড রাগ করছেন । যেন এই মুহুর্তে চেচিয়ে উঠবেন । আমি বললাম,আপনি মনে হয় পুরো ব্যাপারটায় খুব আপসেট । এতে আপসেট হবার কিছু নেই ।
পশুরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে-এতে রাগ হবার কি আছে । কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অধিকার নিশ্চয় পশুদেরও আছে ।
এটা কৃতজ্ঞতা প্রকাশের কোন ব্যাপার নয় । এটা একটা ভৌতিক ব্যাপার । সুপার ন্যাচারাল ব্যাপার ।
এর মধ্যে সুপার ন্যাচারালের অংশটি কোনটি?
পুরো ব্যাপারটাই সুপার ন্যাচারাল । এই অংশটি আপনাকে বলিনি বলে আপনি বুঝতে পারছেন না ।
বলুন শুনি ।
যে কুকুর ছানাটিকে আমি বাচাতে চেয়েছিলাম সেই কুকুরছানাটি দলটির মধ্যে সব সময় থাকে ।
পুড়ে কয়লা হয়ে যাওয়া একটা কুকুর । গলায় ঘুংঘুর বাধা । কুকুরছানাটি মাথা দুলায় আর ঘুংঘুরের শব্দ হয় ।
আপনি ছাড়া অন্যরাও কি এই কুকুরছানাটা দেখে?
না,আর কেউ দেখতে পায় না । শুধু আমি দেখতে পাই । দেখুন ভাই,আমি বিজ্ঞানের ছাএ না । আমার বিষয় ইতিহাস । তবু অবৈজ্ঞানিক কোন কিছুই আমি আমার জীবনে গ্রহণ করিনি । ভূত-প্রেত,ঝাড়-ফুক,পীরফকির কিছুই না । অথচ সেই আমাকেই কিনা সারা জীবন একটি অতিপ্রাকৃত বিষয় হজম করে যতে হচ্ছে ।
আমি বললাম,আবার কখনো এরকম কিছু হলে আপনি দয়া করে আমাকে খবর দেবেন । তিনি জবাব দিলেন না ।
আমি বিদায় নিয়ে চলে এলাম । তার পাচ মাস পর রাত দুটোয় টেলিফোন বেজে উঠল । আলিমুজ্জামান ফোনে বলল,ওরা এসেছে । আপনি কি আসবেন?
শ্রাবণ মাসের রাত। বাইরে ঝুম বৃষ্টি । বাড়ির বাইরে পা দিলেই এক হাটু পানি । এমন দুর্যোগের রাতে কোথাও যাবার প্রশ্নই ওঠে না । আমি টেলিফোন নামিয়ে বিছানায় চাদর নিয়ে ঢুকে পড়লাম ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now