বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দুরের মেঘ

"রোমাঞ্চকর গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X একটা গল্পের গ্রুপে ওর সাথে পরিচয় । পরিচয় বলতে কমেন্ট বিনিময় . . . এই যা । "দূরের মেঘ" . . . কেমন যেন একটা সম্মোহনী শক্তি ছিল ঐ নামটায় । প্রোফাইল পিকে শোভা পাচ্ছিল রোদ্রৌজ্জ্বল আকাশে একগুচ্ছ সাদা মেঘ . . . শরতের সাদা মেঘ । মেঘতো অনেক দেখেছি । কিন্তু এতটা শুভ্র , এতটা মোহনীয় আগে কখনোই লাগেনি । - - এমনিতে আমি খুবই চুপচাপ মানুষ । ফেবুতেও খুব একটা কথা হয় না কারো সাথে । নিজের মত করে এক কোনায় পড়ে থাকি বিশাল এই নীল-সাদার জগতে । বিভিন্ন পেজ/গ্রুপ ঘুরে ঘুরে গল্প পড়ি । আর গল্প খুব ভাল হলে মাঝেমাঝে কমেন্ট করি এই যা . . । আমার একটা সমস্যা হল , নিজ থেকে কাউকে রিকু দিই না । কারন এক্সেপ্ট না করলে নিজেকে খুব ছোট মনেহয় । আর তাই ফেবুতে আমার বন্ধু সংখ্যাও হাতে গোনা কয়েকজন , অবশ্য বাস্তবেও তাই । আমি খুবই সল্পভাষী । সবসময় নিজের মধ্যে ডুবে থাকি । কে চাইবে এ ধরনের মানুষের বন্ধু হতে ? যদিও আগে এমনটা ছিলাম না । যাই হোক . . . সেটা ভিন্ন গল্প । - - গ্রুপে পরিচয়ের কয়েক দিন পর অপ্রত্যাশিত ভাবে সে আমাকে রিকু দেয় । সাথে ছোট্ট করে একটা ম্যাসেজ । সাত-পাঁচ না ভেবে রিকুটা গ্রহন করে ফেললাম । "থ্যাংকস , রিকুটা গ্রহন করার জন্য ।" "ওয়েলকাম । আপনার নামটা কিন্তু খুব সুন্দর , "দূরের মেঘ" । আর প্রোফাইল পিকটাও । " "হুম , কিন্তু আপনার প্রোফাইল পিকটা মোটেই ভাল না । " "কেন ? সমস্যা কি ?" "চাঁদনী রাতে খোলা প্রান্তরে একা একটা মানুষ দাঁড়িয়ে আছে । কেমন যেন মন খারাপ হয়ে যায় ছবিটা দেখলে ।" "আমিতো একাই । আর চাঁদনী রাত আমার খুব ভাল লাগে ।" এভাবেই শুরুটা হয়েছিল আমাদের । ধীরে ধীরে আমরা নিজেদের সম্পর্কে অনেক কিছু জানলাম । পারসোনাল বিষয়গুলো শেয়ার করা শুরু করলাম । অল্প ক'দিনেই একটা আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি হয়ে গেল আমাদের মাঝে । বিশ্বাসের সম্পর্ক বলছি , কারন ওর সাথে কথা বলে মনে হয়েছিল ওকে সত্যিই বিশ্বাস করা যায় । প্রতিদিন কি করছি , কি খাচ্ছি , কোথায় যাচ্ছি . . . সবকিছু ওর সাথে শেয়ার করতাম । - - মানুষ চিরকালই ভালবাসার কাঙাল । আমিইবা কি করে তার ব্যাতিক্রম হই ? ওর কেয়ারিং-শেয়ারিং এমন একটা পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছল . . . আমি পুরোপুরো ওর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লাম । কখন ঘুম থেকে উঠতে হবে , কখন খেতে হবে , কি করা যাবে , কি করা যাবে না . . . সব "ও"ই ঠিক করে দিত । মাত্র কয়েক মাসের ব্যাবধানে আমি কেমন যেন আমূল বদলে গেলাম । অতীতের কিছু দুঃস্মৃতি ভুলে গিয়ে আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখা শুরু করলাম । অবশেষে এল সেই কাংখিত মুহুর্ত . . . যেদিন ওকে আমি প্রপোজ করলাম । কিন্তু . . . - - অনেকদিন হয়ে গেল ওর আইডি ডিএক্টিভ । ঐ দিনের পর থেকে সে আর একটি বারের জন্যও ফেসবুকে আসেনি । ফোনটাও অফ থাকতো সারাক্ষন । কি যে কঠিন সময়ের ভিতর দিয়ে দিনগুলো যাচ্ছিল । কারো সাথে কিছু শেয়ারও করতে পারছিলাম না । কার সাথে শেয়ার করবো ? যার সাথে সব কিছু শেয়ার করতাম সে ই তো আমাকে ভুলে গেছে । অবশেষে ঠিক এগারো দিনের মাথায় "ও" আবার ফেবুতে আসলো । মেজাজ প্রচন্ড খারাপ ছিল । মুখে যা আসলো তাই বললাম । "সরি" "কিসের সরি ? গত এগারোটা দিন আমি কিভাবে পার করেছি সেটা তুমি জানো ? এভাবে যোগাযোগ অফ করে দেয়ার কোন প্রয়োজন ছিল না । আমাকে তোমার ভাল লাগে না . . . কথাটা সরাসরি বলে দিলেই হত ।" "তোমাকে কিছু কথা বলা দরকার । তাতে আমাদের দু'জনেরই মঙ্গল ।" তারপর ওর মুখ থেকে যা শুনলাম , সেটা আমার কল্পনারও অতীত ছিল । এতদিন পর্যন্ত সে আমাকে যা যা বলেছে সব মিথ্যে . . . সব । ওর স্বামী আছে , সংসার আছে । অথচ "ও" কিনা . . । মানুষ এতটা জঘন্য হয় কি করে ? ওর স্বামী ওকে অবহেলা করে , এটা কি আমার দোষ ? ওর স্বামী ওর ইমোশনের মূল্য দেয় না , এটা কি আমার দোষ ? আমার সাথে কেন এমনটা করলো ? মিলির সাথে খুব খারাপ ব্যাবহার করেছিলাম সেদিন । "ও" ফোনে অনেক কান্না-কাটি করেছিল । বারবার শুধু সরি সরি বলছিল । কিন্তু মিলি জানে না সে আমার কত বড় ক্ষতি করেছে । মানুষের বিশ্বাস যখন ভাঙে তখন কেবল বিশ্বাসই ভাঙে না , সাথে সাথে মনটাও টুকরো-টুকরো হয়ে যায় । - - চার বছর আগে টুসি নামের মেয়েটার কারনে মেয়েদের প্রতি যে ঘৃনা জন্মে ছিল বুকের ভিতর , ভেবেছিলাম মিলি হয়ত সেটা ধীরে ধীরে মুছে দেবে । কিন্তু হায় ! মিলি বরং তা বাড়িয়ে দিয়ে গেল কয়েক গুন । এখন আমি আর কোন মেয়েকেই বিশ্বাস করতে পারি না । সবাইকে প্রতারক মনে হয় । প্রত্যেককেই মনে হয় মিলি কিংবা টুসি ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মেঘ রোদ্দুরের গল্প..

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now