বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অস্তমিত ভালবাসা

"রোমাঞ্চকর গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X - কালকে দেখা হচ্ছে তাহলে অরি - হ্যাঁ ৷ - তাহলে স্টার কাবাবে বিকাল ৫টায় আমি অপেক্ষায় থাকবো ৷ - আচ্ছা কিন্তু তোমাকে চিনব কিভাবে? - আমি তোমাকে চিনে নেব - আচ্ছা ৷ গুড নাইট - গুড নাইট অর্নব আর রিসার পরিচয় ২০১০ সালে ফেবুর মাধ্যমে ৷ পরিচয় থেকেই ভাললাগা আর ভালবাসা ৷ অর্নব বর্তমানে আহসানউল্লাহতে আর্কিটেকচার প্রথম বর্ষে আর রিসা ক্যামব্রিয়ানে উচ্চমাধ্যমিক প্রথম বর্ষে আছে ৷ একজন আরেকজনকে ভালবাসলেও এখনো কেউ কাউকে দেখেনি ৷ আগামীকালই তাদের প্রথম দেখা হবে ৷ অর্নব রিসাকে অরি বলে ডাকে ৷ অর্নবের অ আর রিসার রি মিলে অরি ৷ উত্তেজনায় সারারাত ঘুমুতে পারে না অর্নব ৷ পরদিন স্বপ্নের পরীর সাথে দেখা ৷ কিভাবে কি বলবে এসব ভাবতে ভাবতেই কখন যে সকাল হয়ে যায় তা সে বুঝতে পারে না ৷ অপরদিকে রিসা তার স্বপ্নের রাজকুমারে বিভোর হয়ে কাটিয়ে দেয় সমস্ত রাত ৷ পরদিন বিকাল ৫টা, স্টার কাবাব, অর্নব আগেই চলে এসেছে ৷ একটা ছোট্ট লাল গোলাপ নিয়ে এসেছে রিসাকে দেওয়ার জন্য ৷ রিসা নিশ্চয় অনেক খুশি হবে এই ভেবে ৷ ৫টা ০৩ আকাশী রঙের জামা পড়া এক পরীর প্রবেশ ৷ হ্যাঁ রিসা ৷ রিসার দিকে তাকিয়ে যেন শ্বাস নিতে ভুলে যায় অর্নব কিন্তু রিসা তখনো অর্নবকে দেখতে পায়নি ৷ রিসাকে এদিক-ওদিক তাকাতে দেখে অর্নব ডাকে, অরি! চমকে উঠে ঘুরে পেছনে তাকায় রিসা ৷ কর্ণারের টেবিলে ছিমছাম হুইলচেয়ারে বসা ছেলেটাই তাহলে অর্নব, ভাবে রিসা ৷ রিসাকে নিজের দিকে তাকাতে দেখেই গোলাপটা লুকিয়ে ফেলে অর্নব ৷ চেয়ার টেনে অর্নবের টেবিলে বসে রিসা ৷ কিছুটা অপ্রস্তুত ভাবে বলে, - কেমন আছো অর্নব? - এইতো ভালো ৷ - তুমি? - ভালো ৷ অর্নবকে হুইলচেয়ারে দেখে ঠিক মানতে পারে না রিসা ৷ অর্নব হাটতে পারে না ৷ একথা সে রিসাকে আগেই জানিয়েছে ৷ রিসাও সবকিছু জেনেই অর্নবকে ভালবেসেছিল ৷ কিন্তু সামনাসামনি দেখে তার মন পরিবর্তন হয়ে যায় ৷ তার স্বপ্নের রাজকুমারের হুইলচেয়ারে বসে থাকাটা ওর স্বপ্নের সাথে মিলে না ৷ - ওহহো অর্নব আমার জরুরি একটা কাজ আছে ৷ ভুলেই গেছিলাম ৷ আমরা আরেকদিন দেখা করি? - কিন্তু মাত্রই না এলে? এতো তাড়াতাড়ি . . . - সত্যিই সরি ৷ আরেকদিন দেখা করবো ৷ এই বলে কোনোরকমে বেড়িয়ে যায় রিসা ৷ কি হলো কিছুই বুঝতে পারে না অর্নব ৷ ফুলটা তখনও হাতেই রয়েছে ৷ ৫টা ৩৪ অর্নব বেড়িয়ে যায় ৷ বাসায় পৌছানোর কিছুক্ষন পর একটা এস এম এস আসে মোবাইলে ৷ ''Ami r relation continue korte parbo na Arnob. I'm sorry. Amr shathe r contact korar try koro na.'' মাথায় যেনো আকাশ ভেঙ্গে পড়ে অর্নবের ৷ সাথে সাথেই কল দেয় রিসাকে কিন্তু অপর পাশ থেকে যান্ত্রিক কন্ঠে ভেসে আসে আপনার কাঙ্খিত নাম্বারে এই মূহুর্তে. . . দিগ্বিদিক শূণ্য হয়ে একটানা কল দিয়েই যায় অর্নব ৷ একসময় চার্জ শেষ হয়ে মোবাইলটা বন্ধ হয়ে যায় ৷ ক্লান্ত হয়ে মোবাইলটা ছুড়ে মারে মাটিতে ৷ রাত ১টা বাড়ান্দায় খুব শান্তভাবেই বসে আছে অর্নব ৷ কিছুক্ষন আগে মোবাইলটা চার্জে দিয়ে চালু করেছে ৷ কিছুক্ষন পর হুইলচেয়ারটা ঘুড়িয়ে রুমে যায় আর কল করে রায়হানকে ৷ - হ্যাঁলো দোস্ত - কিরে এতো রাত্রে? কোনো সমস্যা হইল না তো? - দোস্ত কালকে সকালে একটা কাজ করে দিবি? - কি কাজ বল? - রিসাকে আমার একটা চিঠি পৌছো দিবি? - সেটাতো তুই নিজেই দিতে পারিস ৷ কিছু হইছে তোদের মাঝে? - কালকে আমি একটু দূরে যাবো তো তাই তোকে বললাম ৷ - অহ আচ্ছা তাহলে ক্যাম্পাসে দেখা কর সকালে আর চিঠিটাও নিয়ে আয় ৷ - দোস্ত তুই সকালে আমার বাসায় চলে আসিস প্লিজ ৷ - তোর মতিগতি ভাই আমি বুঝলাম না ৷ আচ্ছা সকালে আসতেছি ৷ বাই - বাই ফোনটা রেখেই স্মিত একটু হেসে একটা ডায়রি আর কলম নিয়ে নিয়ে বসে, "অরি, চিঠিটা যখন তুমি পড়ছ আমি ততক্ষণে আকাশের তারা হয়ে গেছি ৷ ভেবেছিলাম তোমাকে নিয়ে জীবনের সকল অপূর্ণতা দূর করবো যার স্বপ্ন আমি দেখেছি তোমায় নিয়ে ৷ কিন্তু সব স্বপ্ন কি আর পূরণ হয় বল? আমি হয়তো তোমার স্বপ্নের রাজপুত্র হতে পারিনি তবে তুমিই ছিলে আমার স্বপ্নের রাজকন্যা আর এখনও আছো ৷ বলেছিলাম তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না ৷ যদি বাঁচতে হয় তাহলে তোমার সাথেই ৷ আজ নিজের কথা নিজেই কি করে ভাঙ্গি বলো? তাই আস্তে আস্তে মরার চেয়ে একবারে মরে যাওয়াটাই বেছে নিলাম ৷ ভালোবেসেছিলাম তোমায় অরি ৷ আজও ঠিক ততটুকুই ভালোবাসি আর আকাশের তারা হয়েও ভালোবেসে যাবো ৷ নিজের স্বপ্নের রাজপুত্রকে খুঁজে নিও? ভালো থেকো ইতি 12911" চিঠিটা আর বিকালের কেনা গোলাপটা একটা নীল খামে ঢুকিয়ে টেবিলেই রেখে দেয় অর্নব ৷ হাসতে হাসতে ড্রয়ার থেকে ব্লেড বের করে বাম হাতের কব্জিতে সজোরে চালিয়ে দেয় ৷ ফিনকি দিয়ে বেড়োতে থাকে রক্ত তবু মুখ দিয়ে একটু শব্দ আসে না ৷ কিছুক্ষন পর গলা কাটা মুরগীর মতো ছটফট করতে করতে হুইলচেয়ার থেকে পড়ে যায় অর্নব ৷ আরো কিছুক্ষণ ছটফটের পর নিথর হয়ে যায় দেহটা ৷ রক্তে ভেসে যায় মেঝে ৷ অস্তমিত হয় আরেকটি ভালবাসার সূর্য ৷ শুধু পেছনে রেখে যায় কিছু স্বপ্ন ভাঙা কাচের টুকরো. . .


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now