বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
তার হাতে একটা কুকুর ছানা । ছানাটার গায়ে কাপড় জড়ান । শুধু মুখ বের হয়ে আছে । কুকুর ছানা আরামে কুইকুই করছে ।
আমি বললাম,কি হচ্ছে রে নান্টু?
নান্টু দাত বের করে হাসল । অন্য একজন বলল,নান্টু কুকুরকে কম্বল পরিয়েছে । শীত লাগে তো এই জন্যে । দলের বাকি সবাই হো হো করে হেসে উঠল । ছেলেগুলির বয়স দশ থেকে এগারোর মধ্যে । এই বয়সের বালকরা সব সময় খুব আনন্দে থাকে । নানা জায়গা থেকে আনন্দের উপকরণ সংগ্রহ করে । কুকুরকে কাপড় দিয়ে মোড়া হয়েছে এতেই তাদের আনন্দের সীমা নেই ।
মানুষের সাধারণ প্রবৃত্তি হচ্ছে আনন্দের অংশগ্রহণ করা । আমি ওদের দিকে এগিয়ে গেলাম । অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম আমার এগিয়ে যাওয়াটা কেউ তেমন পছন্দ করছে না । মুখ চাওয়া চাওয়ি করছে । হয়ত তারা চায় না ছোটদের খেলায় বড়রা অংশগ্রহণ করুক । নান্টুকে খুবই বিরক্ত মনে হল । ওদের কাছে গিয়ে দাড়াণ মাএ কেরোসিনের গন্ধ পেলাম । হয়ত বাসা থেকে কেরোসিন এনে কেরোসিন ঢেলে আগুন করেছে । বালকরা কায়দা কানুন করতে খুব ভালবাসে ।
আমি বললাম,কেরোসিন দিয়েছিস না কি?
কেউ জবাব দিল না । নান্টুর মুখ কঠিন হয়ে গেল । আমি ব্যাপারটা কিছুই বুঝতে পারছি না । নান্টু বলল,আপনি চলে যান । তার গলা কঠিন । চোখের দৃষ্টি তীক্ষ্ম । তাকিয়ে দেখি নান্টুর কোলের কুকুরছানা ভিজে চুপচুপ করছে । বুকটা ধকবক করে উঠল । এরা কুকুরছানাটার গায়ের কাপড় কেরোসিন দিয়ে চুবিয়েছে না কি ? নতুন খেলা ? একে আগুনে ছেড়ে দেবে না তো ? শিশুরা মাঝে মাঝে নিষ্ঠুর খেলায় মেতে ওঠে । আমি কড়া গলায় বললাম,এই নান্টু,তুই কুকুরটার গায়ে কেরোসিন ঢেলেছিস?
নান্টু কঠিন মুখে বলল,তাতে আপনার কি?
কেন কেরোসিন ঢাললি?
নান্টু কিছু বলল না । অন্য একজন বলল,কুকুরটা আগুনের মধ্যে ছাড়বে । এর গলায় ঘুংঘুর বাধাঁ আছে । আগুনে ছাড়লে এর গায়ে আগুন লাগবে আর সে দৌড়াবে । ঘুংঘুর বাজবে । যত তাড়াতাড়ি দৌড়াবে তত তাড়াতাড়ি ঘুংঘুর বাজবে । এটাই মজা ।
আমি হতভম্ব । এরা বলে কি? ছেলেটার কথা শেষ হবার আগেই নান্টু কুকুর ছানাটাকে দৌড়াল না । এক জায়গায় দাড়িয়ে রইল । হয়তবা মানুষের নিষ্ঠুরতায় হতভম্ব হয়ে গিয়েছিল ।
আমি আগুনের উপর লাফিয়ে পড়লাম ।
আমার শার্টে আগুন ধরে গেল । প্যান্টে আগুন ধরে গেল । এইসব কিছুই গ্রাহ্য করলাম না । আমার একমাএ চিন্তা বাচ্চাটাকে আগুন থেকে বের করতে হবে ।
আলিমুজ্জামান সাহব থামলেন ।
আমি বললাম,বের করতে পেরেছিলেন?
হ্যা ।
বাচ্চাটা বেঁচেছিল?
না বাচেনি । বাচার কথাও না । আমার গায়ে থার্ড ডিগ্রি বার্ন হয়ে গেল । কুমিল্লা মেডিকেলে কিছুদিন থাকলাম । তারপর আমাকে পাঠান হল ঢাকা মেডিকেল কলেজে । দু'মাসের উপর হাসপাতালে থাকতে হল । এক পর্যায়ে ডাক্তাররা আমাকে বাচানোর আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন । সেই সময় বার্ন এর চিকিৎসার তেমন ব্যবস্থা ছিল না । স্কিন গ্রাফটিং হত না । অল্পতেই শরীরে ইনফেকশন হয়ে যেত ।
যাই হোক,বেচে গেলাম তবে সেই বছর পরীক্ষা দিতে পারলাম না ।
আলিমুজ্জামান সাহেব নিঃশ্বাস নেবার জন্যে থামামাএ আমি বললাম,আপনি একজন অসাধারণ মানুষ!
মোটেই না । আমাকে বোকা বলতে পারেন । সামান্য একটা কুকুরছানার জন্যে নিজের জীবন যেতে বসছিল । তখন সবাই আমার বোকামির কথাটা আলোচনা করত । আমার নিজের মাঝে মাঝে মনে হয়েছে হয়ত বোকামিই করেছি । একজন মানুষের জীবন কুকুরের জীবনের চেয়ে অবশ্যই মূল্যবান ।
আপনার গল্প শুনে মুগ্ধ হয়েছি ।
এটা কিন্তু গল্প না । এটা গল্পের ভুমিকা-মূল এখন বলব ।
ঢাকা থেকে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছি । শরীর তখনো খুব দুর্বল ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now