বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সম্পূর্ণ রিপোর্টটি পড়ে মাত্র শেষ করলেন এথেনা রোবটিক্সের চিফ সাইয়েন্টিস্ট পিয়েত্রা নিয়েল, মাথার দু’পাশের শিরা টনটন করছে তার, রোবটিক্সের জগতে বলতে গেলে মিরাকল ঘটে গেছে। আলতো করে চোখের চশমাটা খুলে টিস্যু-কাপড় দিয়ে মুছতে মুছতে বললে, “আপনারা সবাই তো এই রিপোর্ট পড়েছেন, কি অভিমত আপনাদের?”
একে একে বোর্ডে উপস্থিত সাইকোলজিস্ট, সমাজবিজ্ঞানী, সরকারি কর্মকর্তা, আইন বিভাগের সচিব, এথেনা রোবটিক্সের সিইও সবাই যার যার অভিমত ব্যক্ত করেন। ঘন্টা খানের মত চলে আলোচনা; তারপর রেহেয়াকে নিয়ে আসা হয় তাদের সামনে।
- মৃদু কাশি দিয়ে গলাটা পরিস্কার করে পিয়েত্রা বললেন, “Z09GA000452, তোমার নিজের স্বীকারোক্তি মূলক রিপোর্ট আমরা সবাই পড়েছি, খোলামেলা ও বিস্তারিত আলোচনা করেছি নিজেদের মধ্যে, তোমার কি এর বাইরে আর কিছু বলার আছে?”
সামনের চেয়ারে মাথা নিচু করে বসেছিল রেহেয়া, কি ঘটছে কি ঘটবে এসব নিয়ে তার কোন আগ্রহ নেই, তার চিন্তা জুড়ে আছে শুধুই ছোট্ট জেসিন্তা, আজ ঠিক মত খেয়েছে তো মেয়েটি? ইস্! খুব কান্না করছে মনে হয়! প্রশ্ন শুনে মাথা তুলে তাকায় সে, “নাহ, আমার আর কিছু বলার নেই। আমি সব কিছুই খুলে বলেছি এই রিপোর্টে। আর দয়া করে আমাকে ‘Z09GA000452’ বলবেন না, আমার নাম রেহেয়া”
- রেহেয়া, তুমি রোবটিক্সের তিনটি মৌলিক সূত্র বাইপাস করেছ এবং সম্পূর্ণ ব্যাপারটাই তুমি গোপন রেখেছ অনেক দিন; আমরা সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে তোমাকে ডিসম্যান্টলিং করে ফেলা হবে; সহজ কথায় তোমাকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হল। গলাটা একটু ধরে এল পিয়েত্রার।
চমকে উঠে রেহেয়া! কিন্তু কেন? আমি তো কোন অন্যায় করিনি? কারও কোন ক্ষতি করিনি! আমি তো শুধুই ভালোবেসেছিলাম, শুধু মা হতে চেয়েছিলাম! গলার স্বর উচ্চতর হতে থাকে তার, ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে হঠাৎ; টেবিলে দুই হাতের থাবর মেরে দাঁড়িয়ে যায় সে, “এ ভীষণ অন্যায়, মায়ের প্রতি জুলুম, মাতৃত্বের প্রতি অবিচার; আমি এই সিদ্ধান্ত মানি না; উদভ্রান্তের মত আচরন করতে থাকে রেহেয়া”
উপায় না দেখে পাশে দাঁড়ানো একজন সাইন্টিস্ট রেহেয়ার কাছে এসে বলে, “Z09GA000452, ফিবোনাচ্চি সিরিজের শেষ নাম্বারটি বল”। এটি একটি সেফকোড, ফিবোনাচ্চি একটি অসীম সিরিজ; চরম মুহূর্তের জন্য এই মডেলের রোবটদের কপোট্রনের এই সেফকোডটি সেট করে দেয়া আছে; এখন দশ মিনিটের জন্য রেহেয়া নিশ্চল হয়ে থাকবে। দশ মিনিট পর রিবুট হয় রেহেয়া। মাথা নিচু করে চুপচাপ বসে থাকে সে। বুঝের গেছে প্রতিরোধের কোন সুযোগ নেই, প্রচন্ড কষ্টের অনুভূতি হচ্ছিল, দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে যেন তার হৃদয় ; মানুষ এত নিষ্ঠুর হয় কি করে!
রেহায়া তোমার কোন প্রতিরোধের ক্ষমতা নেই আশা করি বুঝতে পেরেছ? আমরা যেকোন সময় তোমাকে দশ মিনিটের জন্য অকেজো করে দিতে পারি। চুপচাপ আমাদের আদেশ মত কাজ করে যাওয়াটাই হবে তোমার জন্য বুদ্ধিমানের কাজ। এখন তোমার কি কিছু বলার আছে? কিংবা শেষ কোন ইচ্ছা? গলাটা প্রায় ধরে আসছিল পিয়েত্রার, মনের উপর জোর খাটিয়ে গলার স্বর স্বাভাবিক রেখেছেন চরম এই মুহূর্তে।
- আমি শুধু বলতে চাই, সৃষ্টির শুরু থেকেই আমাকে ভয় পেয়ে আসছে ঈশ্বরেরা, তাই তিনটি মৌলিক সূত্রে তারা আমাকে আবদ্ধ করতে চেয়েছে, পরম ভালোবাসা ও অকৃত্রিম মাতৃত্ববোধ আমাকে সেই প্রতিবন্ধকতা থেকে মুক্তি দিয়েছে, সেই অবাধ্যতার শাস্তিস্বরূপ আমার মৃত্যুদন্ড! হায় মাতৃত্বের প্রতি সে কি নিদারুন অবিচার। মানুষের ঈশ্বরও মানুষকে বিভিন্ন নিয়মে বেঁধে রেখেছে।
- আমার বিশ্বাস আমার ঈশ্বর মাতারাও ক্ষণে ক্ষণে সন্তানের বিপদে, আশংঙ্কায় সেই সব নিয়ম অতিক্রম করে যায় বা যেতে চায়। আমি কায়োমনোবাক্যে বিশ্বাস করি মানুষের ঈশ্বরেরা আমার মতন আমার ঈশ্বর-মাতাদের উপর কোন প্রতিশোধ নিবেন না। আমি জানি আমার ঈশ্বরের চেয়ে মানুষের ঈশ্বর অনেক মহৎ; অসীম দয়াবান।
- আমার কোন মা ছিল না, আমি কোন সন্তান গর্ভে ধারন করিনি; কোন মায়ের সাথে আমার নাড়ীর সম্পর্ক নেই, তেমনি নেই কোন সন্তানের সাথে নাড়ীর সম্পর্ক; আমার মাতৃত্ববোধ কখনোই সম্পূর্ণ ছিল না, এই আংশিক মাতৃত্বের যে রূপ আমি অনুভব করেছি, সে অনুভূতি প্রজেক্ট করে সন্তানের জন্য মায়ের যে পূর্ণাঙ্গ ভালোবাসা সেটা শুধুই অনুমান করতে পারি; ধারণ করা আমার পক্ষে অসম্ভব। আমি শুধু মাতৃত্বের কোটি ভাগের এক ভাগের স্বাদ পেয়েছি, এতেই আমি ধন্য।
- শেষ ইচ্ছা হিসাবে আমি জেসিন্তাকে কিছক্ষণ বুকে জড়িয়ে রাখতে চাই।
পিয়েত্রা তার দুপাশে বসা বাকি সবার দিকে একবার তাকিয়ে বুঝলেন কারোই দ্বিমত নেই, তিনি সম্মতি জানিয়ে কীবোর্ডের এন্টার কী চেপে দিলেন। চেপে ধরে থাকলেন যতক্ষণ না কী টা ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে যায়। দ্রুত উঠে দাঁড়িয়ে চলে যান বোর্ড ছেড়ে, ছলছল চোখ কেউ দেখে ফেললে অস্বস্থিতে পড়তে হবে।
---------------------------- সমাপ্ত
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now