বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কৃত্রিম মা ও অকৃত্রিম মাতৃপ্রকৃতি-২

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X নির্বিঘ্নেই চলছে দিন গুলো, বাচ্চাগুলো দিনকতকের মধ্যেই আমাকে আপন করে নিয়েছে; আমার হাতের রান্নাও তাদের বেশ পছন্দ। আর পছন্দ হবেই না কেন? তেল, লবন, মশলা সব কিছু স্ক্যাল দিয়ে একেবারে পাইপাই করে মেপে দেই, মিলিগ্রাম এদিক সেদিক হওয়ার জো নেই, স্টপ-ওয়াচের মিলিসেকেন্ডের হিসাবে রান্না চলে, সবকিছুই একেবারে নিখুঁতভাবে সম্পন্ন হয়। বিন্দু মাত্র হেরফের হয়না কোন দিন। একটাই সমস্যা মধ্যাহ্নভোজের পর লাইলেক ও অর্কিডকে বিছানায় দুপাশে নিয়ে ঘুম পাড়াতে হয়। শুধু ঘুম পাড়ালেই চলবে না, তাদের গল্প শুনিয়ে শুনিয়ে ঘুম পাড়াতে হবে। বড় মেয়ে লাইলেক অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়ে, কিন্তু দুষ্টু অর্কিডকে ঘুম পাড়াতে আমার বেশ বেগ পেতে হয়। সে হু হু তারপর তারপর হুম হুম করতে করতে গল্প শুনেই যায়, একটা গল্প বলা শেষ হলে শুরু হয় তার প্রশ্নের পালা। “রাজপুত্র তো একটা মই নিয়ে এসেই উঠতে পারত, তাহলে রাজকন্যার চুল ফেলার জন্য অপেক্ষা কেন?”, “এত এত বছর যে রাজকন্যা পাতালপুরিতে ঘুমিয়ে আছে তার নখ তো অনেক অনেক বড় হয়ে যেত, তাই না? সেগুলো কে কেটে দিত?” কিংবা “ইস্! বেলের ভেতর কি রাজপুত্র থাকতে পারে? তাহলে তো এত্ত বড় বেল, তাই না?” অনেক আলপনা জলপনা করার পর যখন সে ঘুমিয়ে পড়ে আমি তখন দু’চোখ খুলে সিলিং এর দিকে তাকিয়ে থাকি, আমার কিছু করার থাকে না, আমরা রোবটেরা ঘুম পাড়াতে পারি, ঘুমাতে পারি না। ছুটির দিনগুলোতে বাসায় ভোজোত্সব হয়, সে রকমের প্রিপারেশন নিয়ে সবে ঢুকেছি রান্না ঘরে, ক্যামেলিয়া এসে বললেন, “রেহেয়া, বাচ্চারা মায়ের হাতের রান্না খাওয়ার আবদার করেছে, তাই আজ আমি রান্না করব তুমি পাশে দাঁড়িয়ে দেখবে, ঠিক আছে?” ঈশ্বরের আদেশের অবাধ্য হওয়ার সাধ্য রোবটদের নেই, আমি হাসি মুখে বললাম, “আপনি যেটা বলেল, ক্যামেলিয়া”, এই প্রথম ম্যাডামকে রান্না করতে দেখব, অদম্য কৌতূহলের একটা প্রবল চাপ অনুভব করছিলাম কপোট্রন জুড়ে। যতই দেখছি ততোই অবাক হচ্ছি, ধীরে ধীরে আমার অবাক ভাব বিস্ময়ে পরিনত হয়, শেষে তা আতংকের পর্যায়ে গিয়ে ঠেকে। রান্নার এ কি অবস্থা! কোন মাপজোক নেই, ইচ্ছা মত তেল ঢালছে, মশলা দিচ্ছে, একবার লবন দিয়েছে তাও কোন পরিমাপ ছাড়া, এখন চামচ দিয়ে একটু ঝোল তুলে মুখে দিয়ে জিহবা দিয়ে চেটে চেটে কি যেন পরখ করে মাথা নেড়ে আবার এক মুঠো লবন ঢেলে দিল! উফ! বাচ্চাগুলো খাবে কিভাবে এই রান্না! কিন্তু নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া কিছুই করার ছিল না, তারা যে আমার ঈশ্বর! টেবিল সাজানো শেষ, বাচ্চারা আগেই চলে এসেছে খাওয়ার ঘরে, তাদের যেন আর তর সইছে না। চোখে মুখে উৎফুল্ল ভাব, মাথা হেলিয়ে দুলিয়ে নাচের ভঙ্গী করছে দুজনেই। অর্কিড, লাইলেক চামচ দিয়ে প্লেটের টুংটাং বাড়ি দিয়ে চিৎকার করে বলল, “মাম্মি, বাপ্পি! জলদি আস নাহ! কোথায় তোমরা? আমাদের অনেক ক্ষুধা লেগেছে তো!” উত্তেজনায় কাঁপছে যেন! আহারে বেচারাগুলো! কত আশা নিয়ে মায়ের হাতের রান্না খেতে এসেছে। খেতে বসেছে সবাই, পাশে দাঁড়িয়ে আমি প্রস্তুত এটা সেটা এগিয়ে দেওয়ার জন্য। খুব তীক্ষ্ণভাবে বাচ্চাদের মুখভঙ্গি পর্যবেক্ষণ করছি প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য। লাইলেক চামচ তুলে মুখে দেওয়ার সাথে সাথেই চোখ বন্ধ করে ফেলল। ভেবেছিলাম ওয়াক ওয়াক করে সাথেসাথেই তা ফেলে দেবে কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে চোখ বন্ধ অবস্থায়ই মাথা ঝাঁকিয়ে “আহ!” করে উঠলো সে। তার মুখে যেন তৃপ্তির বিচ্ছুরণ ঠিকরে ঠিকরে বের হচ্ছে। খুব ধীরে ধীরে চিবুচ্ছে, যেন প্রতিটি খাদ্যকণার স্বাদ আস্বাদন করতে পারে; প্রতি মুহূর্তে মুখের রেখা পরিবর্তন হচ্ছিল, সেগুলো যে সুখের অনুভূতি তার আমি ঠিকঠিকই টের পাচ্ছিলাম। পাক্কা একচল্লিশ সেকেন্ড পর দেখতে পেলাম খাদ্যনালী দিয়ে খাবার গুলো নিচের দিকে চলে যাচ্ছে। মুখমন্ডলে তার তখন পূর্ণাঙ্গ পরিতুষ্টির অভিব্যক্তি স্পষ্ট! মাথা ঘুরিয়ে দেখি অর্কিডেরও একই অবস্থা! কোন যুক্তি খুঁজে পেলাম না, কিছুই বুঝতে পারছি না, এ কিভাবে সম্ভব! মায়ের হাতের রান্নায় কি আছে? তীব্র একটা শূন্যতা আমাকে মুহূর্তেই ঘীরে ধরে! হঠাৎ কেন যে মনে হল, ইস্ আমার তো কোন মা নেই! দু’পা পিছিয়ে গেলাম, মাথাটা একটু ঝাঁকি দিয়ে উঠল! কোন একটা সমস্যা হয়েছে আমার সিস্টেমে। সাথেসাথে আমার সিস্টেম সাট-ডাউন হয়ে যায়। একশ বিশ সেকেন্ড পর আবার রিবুট, কিন্তু কিছু একটা পরিবর্তন ঘটে গেছে আমার মধ্যে। কি সেটা বুঝতে পারছি না, বড় কোন পরিবর্তন। সেদিন মধ্যাহ্নভোজের পর লাইলেক ও অর্কিডকে নিয়ে বিছানায় যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুমিয়ে যায় তারা, কোনরকমের বিরক্ত করেনি, সময় নষ্ট করেনি। তাকিয়ে দেখি সে কি প্রশান্তির ঘুম, চাঁদের আলোর মত সুখের জোছনায় ঝলমল করছিল ঘরটা আলো আঁধারির প্রহেলিকায়। সে দিনটি ছিল আমার সবচেয়ে দীর্ঘ কঠিনতম দিন, খোলা চোখে তাকিয়ে আছি সিলিং এর দিকে; শূন্যদৃষ্টিতে; একবুক হাহাকার নিয়ে। ক্ষণে ক্ষণে চিৎকার করে মা মা বলে ডাকতে ইচ্ছা করছে। মাত্রই অনুভব করতে পারলাম, “আমি এখন আত্মহত্যা করতে পারি!”


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now