বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

একলা যাপন -২

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X আজ অনিকের ২২ তম জন্মদিন। তবে জন্মদিনের কথা সে নিজেই ভুলে গিয়েছিলো, গত রাতে স্বপ্নের সেই মহিলাটি অনিককে খুব আবেগ দিয়ে বলছিলো, “তুই আমার সন্তানের মতো, ঠিক ২২ বছর বয়সে আমার ছেলেটিও আত্মাদের আঘাতে মারা গেছে, সেই সাথে মারা গিয়েছিলো পরিবারের সবাই, আজ তোর ও ২২তম জন্মদিন, চেয়ে দেখতো গুনে গুনে, তোর পরিবারের সব্বাইকে খুঁজে পাচ্ছিস কি না!“ স্বপ্নের মাঝে অনিক আচমকা দেখতে পায়, তার চারিপাশ ঘিরে পরিবারের সব সদস্যরা দাঁড়িয়ে আছে। সবাই অদ্ভুত রকম ধবল সাদা, বাবা..... মা... সবার কপালেই মহিলাটির মতো একটি করে পাথর সেটে আছে । চোখ গুলো একেবারেই ঝিম কালো। এই প্রথম অনিক স্বপ্নের মাঝে দৌড়ে পাললনা। হয়তো তার সমুখে সব আপন জনরাই ছিলো বলে। অনিকের মা অনিককে বলল “বাবা.. আমরাতো এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাচ্ছি তবে তুই এই পৃথিবীতেই থাকবি”। একথা শুনতেই অনিকের ঘুম ভেঙে যায় । ঘড়িতে তখন ভোর ৬টা বাজে। গা’টা মোচর দিতেই পুরো শরীরটা যেন গোঁড়া থেকে উঠে এলো। বিছানায় ডুবে থাকার এতো বছরের জড়তা আজ আর একটুও টের পেলনা অনিক। প্রতিদিনের মতো নিয়ম করে পাঁজরে নতুন কোন চিহ্ন এসেছে কিনা দেখতে গেল। অবিশ্বাস্য ! নতুন এমনকি পুরনো আঁচর গুলিও কোথাও যেন লুকিয়ে গেছে । তবুও সে অবাক হয় না, অনেক বছর পর টলমল সকাল দরজায় দাঁড়িয়ে। আনন্দে হয়তো তার সকল স্বাভাবিক প্রশ্ন গুলো, ভোর বেলা উকি দেয়া হলুদ পাখির মতো হয়ে গেল । বাসার কাউকে ডাকাডাকি না করেই তড়িঘড়ি করে বাইরে চলে যায় হাঁটবে বলে। সেই পুরনো অভ্যাস তবে আজ সময়টা সকাল, আশ্চর্য রকম ভালোলাগা । আজ যেন তার আশ্চর্য হওয়ারই দিন। পথে বেরুতেই দেখতে পেলো তার বয়সী অনেক ছেলে হাটাহাটি করছে । অনিকের উপস্থিতি পেয়েই সবাই কেমন যেন বন্ধু সুলভ। সবাই কাছে ডাকছে । কথা বলতে চাইছে । অনিক বাকরুদ্ধ ছাড়া কিছু্ই হতে পারছে না, অনিকতো এদের কাউকেই চিনেনা । তবুও এতো দিনের যে অদ্ভুত আবেগ যেখানে নিজ থেকেই পুরোন হতে যাচ্ছে , কথা বলতে ক্ষতি কি। কী অদ্ভুত! আজ অনিকের কথা বলাতে একটুও জড়তা নেই, নিজেকে খুব সাহসী এবং সর্বসুখি মনে হচ্ছে । এই প্রথম অনিকের এমন আড্ডাবাজি, আড্ডায় আড্ডায় সকাল থেকে কখন যে দুপুর গড়িয়ে এলো অনিকের সেই উপলব্ধিই ছিলো না । অবশেষে বাসায় ফিরলো। বাসায় ফিরে দেখতে পেলো অনেক লোকের সমাগম । পুলিশ, র্যাব, সি আইডি সহ মিডিয়ারও উপস্থিতি; সেই সাথে প্রতিবেশী প্রায় সবাই । অনিক অবাক হয়ে ভীরের সবাইকে প্রশ্ন করতে লাগল ”কী হয়েছে ? কী হয়েছে ?” তবে কেউ কোন উত্তরই দিচ্ছে না। এতো ভীর তাই চোখ বুজেই ভীরের মাঝে গা ভাসিয়ে আরেকটু ভেতরে গেলো। যেতেই দেখতে পেলো তার পায়ের কাছে পরিবারের সব সদস্যরাই লাশ হয়ে পরে আছে। বুকের পাঁজরে এলোমেলো ক্ষত চিহ্ন, রক্তের মাখামাখি । অনিক চিৎকার দিয়ে বসে পড়লো। তবুও তাকে সামলাতে বা সান্ত্বনা দিতে কেউই এগিয়ে এলোনা। পুলিশকে একজন জিজ্ঞেস করলো “সব্বাই মারা গেছে ? কেউ বেচে নেই ?” পুলিশটি শুধু দীর্ঘশ্বাসে মাথাটি নিচুই করল । অনিক চিৎকার করে বলতে লাগল, ”আমি.. আ..আ. আমি বেচে আছি, এসব কিভাবে হলো, কে করলো ? ” অথচ অনিকের পানে কেউই দৃষ্টিও দিলো না । অনিকের চিৎকার যেন আকাশ অব্দি পৌছাতে লাগলো, মেঘেদের গায়ে আঘাত আঘাতে ঝুম করে বৃষ্টি নেমে এলো। তবুও উপস্থিত কেউই যেন শুনতে পেলোনা অনিকের চিৎকার । আর কখনই শুনল না কেউ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ একলা যাপন -১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now