বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

♥হৃদকম্পন♥

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ♥হৃদকম্পন♥ -আমিনুল ইসলাম মারুফ ---------- কি খুব শীত লাগছে নাকি? -না সামান্য।(আমি) -সামান্য শীত লাগলে ফায়ার ক্যাম্প করে,সোয়েটার পরে, তার উপর আরো তিনটা কম্বল নিয়ে এমন গুটিসুটি মেরে ঘরের বাইরে রোমান্টিক ছেলের মত বসে আছ কেন? কি হয়ছে তোমার। -আরে তেমন কিছু না। -সত্য করে বলতো কি হয়ছে। -বললাম তো কিছু না। মামি চলে গেল। মামি আমার বন্ধুর মত সব কিছু শেয়ার করি। কিন্তু মামিকে কি করে বলব যে আমি একটা মেয়ের জন্য ডোবায় পড়ে গিয়েছি। জানলে নিশ্চয় আমাকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা করবে। সত্যি খুব ঠান্ডা লাগছে। ডোবা গুলোর পানি কেমন এন্টার্কটিকের পানি হয়ে গেছে। ----- -মারুফ শুন আমরা তোর নানার বাড়ি যাচ্ছি। আজ তোর অদিতি আপু গায়ে হলুদ। তুই সন্ধ্যায় তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরবি।ফ্রেশ হয়ে নানার বাড়ি চলে আসবি।(আম্মু) -ঠিক আছে আম্মু।(আম্মুও বের হয়ে গেল আমিও নাস্তা করে অফিসে চলে গেলাম) ----- অফিস থেকে সন্ধ্যা ৬ টায় বাড়ি ফিরলাম।ফ্রেশ হয়ে ঘর থেকে বের হব। ঠিক সে সময় আম্মুর ফোন। -কয় তুই? -বের হচ্ছি। -তুই গাড়ি নিয়ে আসবি নাকি? -হ্যাঁ। -তাইলে আসার সময় তোর তাসফি আপুর বাড়ি থেকে ইফফাতকে নিয়ে আসিস। -কেন!!! ও ছোট মেয়ে নাকি যে ওকে আমাকে গিয়ে নিয়ে আনতে হবে।ও নিজে আসতে পারে না!!! -মেয়ে মানুষ একলা আসবে নাকি? তোর তাসফি আপু বলল তাই তোকে আনতে বললাম। -না আমি পারব না। -কি??? -না মানে আমি আসার সময় ওকে নিয়ে আসব বললাস আর কি। (আম্মু এমনিতে খুব ভাল মেজাজ খারাপ হলে কারো নিস্তার নেই। তাই রাজি হয়ে গেলাম।) ----- গাড়ি চালাচ্ছি আর ভাবছি কি করে ওকে ডাকব। কারণ ওর প্রতি আমার দূর্বলতা আছে। ----- কারণ যখন ক্লাস এইটে পড়তাম তখনও সেভেন এ পড়ে। ওআমার প্রথম ও শেষ পছন্দ কারণ। আমার জীবন একটা নিয়মের উপর চলে। “একটা জীবন, একটা পছন্দ, একটা ভালবাসা ও একটাই মরণ”। একটা জীবন যা মরণ পর্যন্ত। একটা পছন্দ ঐ মেয়েটি, একটা ভালবাসা আমার বিয়ের পর আমার সহধর্মীনি। আর একটায় মরণ যার অপেক্ষায় প্রতিটি মূহূর্ত। মেয়েটি আমার প্রথম ও শেষ পছন্দ। আমি এইটে থাকতে ওকে বন্ধু হতে বলেছিলাম তবে ও এমন রিএক্ট করল যে আমি ওকে ওর হৃদয় দিতে বলেছি। তারপর থেকে ওর সাথে তেমন কথা হতো না। তবে আমার জীবনের নিয়মটি বরাবর সঠিক রেখেছি। ----- তাসফি আপুর বাসার সামনে এসে হর্ণ দিলাম। দু মিনিট, পাচঁ মিনিট, দশ মিনিট থেমে থেমে হর্ণ দিয়ে যাচ্ছি। মহারাণির কোন দেখা নেই। গাড়ি থেকে বের হয়ে গাড়িতে হেলাম দিয়ে দাড়াঁলাম। গাড়ির ভেতরে হিটারের কারণে গরম তবে বাইরে সেই লেভেলের ঠান্ডা। জ্যাকেট গায়ে দিলাম। আরো দশ মিনিট দাড়ালাম। বিরক্ত হয়ে যাচ্ছি এখনো বের হচ্ছে না। মরল নাকি কে জানে। হর্ণ বাঝারে প্রেস করে রাখলাম। টানা দুমিনিট। দেখলাম এক অপ্সরী দরজা খুলল। নীল রঙের শাড়ি মাথায় নীল হিজাব। দেখতে অন্য রকম লাগছে। নাকি আমি অনেকদিন পর দেখছি তাই লাগছে কে জানে। আমি ওর সৌন্দর্যে মুগ্ধ। তখনই শুরু হল ঝারি। -সমস্যা কি আপনার। এটা ভদ্র মানুষের বাড়ি। যেভাবে হর্ণ দিচ্ছেন লাগছে বরযাত্রী যাচ্ছেন। আপনার সমস্যা কি? -(পুরাই ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম। আপনি বলতেছে আমাকে। মাঝেমাঝে কথা হলে তুমি বলত আজকে সরাসরি আপনি!!!) আমি তোমাকে নিতে আসছি। -আপনি কি ড্রাইভার??? যে হর্ণ দিচ্ছেন। ড্রাইভাররাই তো যাত্রী নিতে গেলে হর্ণ দেয়। -(এত বড় অপমান! আমি ড্রাইভার!!! নিজেকে কন্ট্রোল করে বললাম) আমি ড্রাইভার হব কেন? -তাইলে হর্ণ দিচ্ছেন কেন? বাসায় এসে নক করতে পারেন নাই? -(কথাটা আসলে ঠিক বলছে। আমি তো ড্রাইভার না, ওর আত্মীয়।নিজের দোষ কিছু করার নেই) আচ্ছা সরি। ভুল হয়ে গেছে। এবার তো আসুন। -আমি ঘরে যাচ্ছি আপনি এসে নক করবেন। ----- অভিনয় সব অভিনয়। এত অভিনয় কেমনে পারে!!! কেউ ওকে অস্কার দাও। ----- ঢিং ঢং। -আস আমাদের যেতে হবে।(আমি) -কোথায়? -(ন্যাকামো) অদিতি আপুর গায়ে মরিচ এ -আমি মরিচে যায় না। -সরি গায়ে হলুদে। -ঠিক আছে। চলো। ----- আল্লাহ এই অভিনয় যদি সিনেমায় করতাম সুপার স্টার হয়ে যেতাম। রাত ৮:৪০। গাড়ি চালাচ্ছি। কিন্তু কপাল আমার, গাড়ি আর সামনে আগোচ্ছে না, সাথে সাথে হিটারও বন্ধ হয়ে গেল। গাড়ি থেকে নেমে অনেক গুতাগুতি করলাম তবে পারলাম না। এমন জায়গায় গাড়ি নষ্ট হয়ছে যে ঐ রাস্তার আশে পাশে কোন গ্যারাজ নেই, নেই কোন ঘরবাড়ি। অন্য গাড়িতে করে যেতে পারতাম তবে এমন জায়গায় গাড়ি দাড়াঁল যে রেখে গেলে চুরের সুবিধায় বেশি হবে। ফোন করলাম পরিচিত গ্যারাজ এ লোক আসতে ঘন্টা খানেক লাগবে। এতক্ষণ এই ঠান্ডায় কেমনে থাকব? নানারবাড়ি চট্টগ্রামের গ্রাম সাইটে হওয়াতে শীত শহরের চেয়ে সামান্য বেশি। গাড়িতে আমার পাশের মেয়েটা একটা কথাও বলেনি। দেখলাম গাড়ি থেকে নেমে আমার পাশে দাড়িঁয়ে জিজ্ঞাস করল কি হয়ছে। বললাম ১ ঘন্টা পর লোক এসে ঠিক করে দিবে। ১০ মিনিট দুইজন গাড়ির বাইরে দাড়িঁয়ে ছিলাম কোন কথা বলি নাই। গাড়িতে বসতে যাব তখন মাথা খারাপ হয়ে গেল। মেয়েটা যে বের হল দরজাটা কে বন্ধ করবে। ভেতরটা তো এতক্ষণে ঠান্ডা হয়ে গেছে। মেজাজ খারাপ হয়ে গেছে তাই। একটু রাগান্বিত হয়ে বললাম, হয়ছে কি তোমার দরজাটা বন্ধ করনাই কেন? গাড়ির ভেতর পুরোটাই ঠান্ডা হয়ে গেছে। সমস্যা কি তোমার? তোমাকে নিতে আশাটায় আমার ভুল হয়ছে। --- অনেক কিছু বলে চলে আসলাম। ঠান্ডাও পড়ছে অন্যদিনের চেয়ে বেশি।মেকানিক আসতে আরো ৩৫-৪০ মিনিট মত বাকি। একটু মায়া হল তাই পাশে গেলাম। ঠান্ডাও বেশি তাই আমার মোটা জ্যাকেট টা ওর ঘায়ে জড়িয়ে দিলাম। কিন্তু কিসের শব্দ শুনলাম।ওমা, এতো দেখি ফোপানোর শব্দ। ফোফিয়ে কান্না করতেছিল তাইলে এতক্ষণ। আমি আবার মেয়ে মানুষের কান্না খুব পছন্দ করি। তাই মোবাইলের রেকর্ডার অন করে ওর গালের সামনে ধরলাম। সাথে সাথে ডোবার দিকে হাঁটা শুরু করল। রাস্তার পাশেই ডোবা। আমি গাড়িতে এসে বসলাম। প্রায় ১০ মিনিট মেয়ে টার কোন দেখা নেই। কোন বিপদ হল নাতো? চিন্তা হচ্ছিল, কারণ ওকে পৌছে দেয়ার দায়িত্ব আমার। ডুবার দিকে হাঁটা শুরু করলাম। দেখি আমার জ্যাকেট গেয়ে ঠিকই আছে। কিন্তু অদ্ভুদ সুন্দর করে ডোবার পাড়ের মাছ ধরার সিটটাতে বসে আছে। ডোবার পানির উপর কুয়াশার মেঘ। তার মধ্যে সামান্য আবছা আলো। সেই আলোতে নতুন করে যেন এক শীতপরিকে খুঁজে পেলাম। অপূর্ব। কিন্তু খেয়াল করি নাই যে ডোবার ঘাস গুলো কুয়াশায় পিচ্ছিল। খেলাম এক আছার গিয়ে পরলাম এন্টার্কটিকের পানিতে। ভাগ্যিস সাঁতার জানি, কোন মতে পাশের ঘাটলায় উঠলাম। বসা মেয়েটিও দেখলাম আসল। আমাকে শার্ট খুলতে বলল। লজ্জা লাগছিল। তবে ঠান্ডার কাছে লজ্জা কিছু না। শার্ট, গেন্ঞ্জি খুললাম। কিছুক্ষণ আগে আমি হিরোগিরি দেখিয়ে যে জ্যাকেট দিয়েছি ওটা আমাকে পড়িয়ে দিল। ওর গায়ে ছিল তাই গরম ছিল।। -একটু দেখে হাঁটতে পারনা? -খেয়াল করি নি। (আমি) -ঠান্ডা লাগছে? -না খুব গরম লাগছে। (সিম্পিথি দিতে আসছে আমাকে) -ওওও, ভাল। গায়ে হলুদে যাবে নাকি? -(কি করতে ইচ্ছে করছে নিজেও জানি না, যতসব ন্যাকামো) হমম, যাব তো। ভেজা প্যান্ট নিয়ে গায়ে হলুদে যাওয়ার মজায় আলাদা। ------ ওকে ওর আম্মু ফোন করল। আমার কথা জিজ্ঞাস করছে মনে হয়, আমি ইশারা করলাম যেন আমি পড়ে গেছি ওটা না বলে। ও তাই করল। ----- অবশেষে মেকানিক আসল।ব্যাটারির সমস্যা ছিল। ঠিক করে দিয়েছে। ভেজা প্যান্ট নিয়ে গাড়ি চালিয়ে ওকে নামিয়ে দিয়ে বাসায় চলে আসলাম। ----- মামা আলাদা থাকে আমাদের পাশের বাড়ি হল মামার বাড়ি। তাই আম্মু কোথাও গেলে মামি আমার দেখাশুনা করে। গায়ে হলুদ থেকে চলে আসছি দেখে ১০:৪০ শে ভাত রান্না করে ভাত দিল। মামি মামাতো বোনের পরিক্ষার জন্য যায় নি। মামি খাওয়ার সময় আবার জিজ্ঞাস করল। কি হয়ছে। তখন সব খুলে বললাম। মামিও সুযোগ ছাড়ল না।বলেই বসল, -ইফফাত যেমন লক্ষি, তেমন সুন্দর। দুজনকে মানাবে ভাল। (মামি) -আর আমি বদের হাড্ডি। তাই না?(আমি) -তুমিও অনেক ভাল। আমার যদি বড় কোন মেয়ে থাকত তোমাকে বিয়ে দিয়ে দিতাম। -সখ কত! -সত্যি বলছি। ইফফাত আসলেই খুব ভাল। খেয়ে নিজের বাসায় চলে আসলাম। ----- এই প্রথম দূর্বলতাটা আবেগিয় মানসিকতায় পাল্টে গেল।আসলে আমি সত্যি জানি না ইফফাত আমার সম্পর্কে কি ভাবে। ----- একটু জ্বর আছে বটে, সাথে সর্দিও। কোন মতে বিয়েতে গেলাম।যে কোন এক ভাগ্যক্রমে ও নিজে আমার পাশে আসল। কেমন আছি, ঐ রাতে ভাত কোথায় খাইছি, জ্বর আসছে কিনা ইত্যাদি। এতদিন ওর কথাগুলো কেমন জানি ন্যাকামো লাগত। তবে আজকে অমৃত লাগছে। পছন্দ করে ফেলছি নাকি ওকে??? আল্লাহ ভাল জানে। ----- সামান্য সামান্য কথা হতো। এভাবে মাস ছয়েক গেল। একদিন আমার মোবাইলে মামি ফোন করল। তখন আমি অফিসে। -ইফফাতের নাকি বিয়ের প্রস্তাব আসছে জানো?(মামি) -হমমম। শুনছি। -তাইলে এখন কি করবে? -বিয়ের দাওযাত দিলে খেতে যাব! -দুষ্টামি করিও না।সত্যি করে বল তুমি কি ওকে পছন্দ কর না? -করি। তবে কোন দিন বলি নি। -আমি বলে দিব? -আরে না না। মার খাওয়াবে নাকি আমাকে? -প্রস্তাব আসছে ওর জন্য একটু সিরিয়াস হও। - প্রস্তাবই তো আসছে বিয়ে তো আর ঠিক হয়নি। -হমমম। তা ঠিক। -তাইলে টেনশন কিসের। ----- সপ্তাহখানেক পর মামি আমাদের বাসায় এসে আমাকে বলল, পাত্র পক্ষের পছন্দ হয়ছে। জানো? -(জানতাম না তবুও বললাম)হমম। জানি তো।(আমি) -জানার পরও এত নিশ্চিন্ত কেমনে? - কারণ আমি জানি না। -আমার কিছু সুবিধার লাগছে না। পালানোর ধান্দায় নাইতো? ----- আম্মুর হঠাৎ আগমন খেয়াল করি নাই। -কে, কাকে নিয়ে পালাবে? (আম্মু) -আরে একটা সিনেমার কথা বলতেছি।(আমি) -মারুফ মিথ্যা বলতেছে। (মামি) -কি মিথ্যা বলতেছে।(আম্মু) মামি সুযোগের সৎ ব্যবহার করে নিল। আম্মুকে সব বলে দিল। আম্মু আমাকে পালানোর চিন্তা বাদ দিতে বলল। ইফফাতের সাথে দেখা করতেও নিষেধ করল। সব স্বপ্ন জলে গেল। মামি আর কিছু না বলে ওনার বাসায় চলে গেল। ----- একদিকে পরিবার অন্যদিকে ইফফাত। কাউকে ছাড়তে ইচ্ছে করছে না। আমি একদিন অফিসে না গিয়ে প্রকৃতির সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে সি আর বি গেলাম। যেন একটু শান্তনা খুঁজে পাই। আর আজই আমাকে আমার মনের কথা ইফফাতকে খুলে বলল বলে প্রতিজ্ঞা করলাম।ওর ফোন নাম্বার ছিল না আমার কাছে। তাই মামিকে বললাম নাম্বারটা জোগাড় করে দিতে। নাম্বার পাওয়ার পর ফোন করলাম। -হ্যালো। (আমি) -কে বলছেন? (ইফফাত) -মারুফ বলছি। -(কোন শব্দ নেই) -শুনতে পাচ্ছ? -(আবার কোন শব্দ নেই) ফোনের লাইন কেটে আবার কলব্যাক করলাম। ফোন রিসিভও করল না। বার বার চেষ্টা করছি ধরছে না।সাহস বোধ হয় ওর “কে বলছেন” শব্দের সাথে অনেক বেড়ে গেছে। ওদের বাসার সামনে এসে অন্য নাম্বার থেকে ফোন করলাম। সাথে বললাম। বারান্দায় আস। ও যখন দুতলার বারান্দায় দাঁড়ালো আমি পেছন থেকে ফুলের আটিঁ বের করে হাটুঁ ঘেরে বসে চিৎকার করে বললাম, তুমি আমার হৃদয়ের কম্পনের সাথে মিশে আছ। তাই আমি তোমাকে আমার আম্মুর বৌমা করতে চাই। পেছন থেকে আওয়াজ আসল। -তুই কে রে? আমার ভাগ্নিকে তোর আম্মুর বৌমা করার তুই কে। জানছ না ওর বিয়ে ঠিক হয়ছে। এই বলে আমার কলার ধরে মাটিতে ফেলে দিল। দেখলাম ইফফাত দৌঁড়ে এসে আমাকে বাচাঁনোর জন্য ওর মামার কাছে হাত জোড় করে বলছে, আমার বিয়ে সম্পর্কেও কিছুই জানে না। তাই এমন করছে। মামা প্লিজ ওকে ছেড়ে দাও। -যা ছেড়ে দিলাম। (ওর মামা চলে গেল) ---- -(কান্না ভরা অভিমান নিয়ে বলল) তুমি কি পাগল? কি করছ এই সব? আমার বিয়ে ঠিক হয়ছে নিশ্চয় জানো। এখন এসব কেন বলতে আসছ? -যা সত্য তাই তো বললাম। -(ও নিজের কান্না লুকিয়ে অন্যদিকে ফিরে বলল) আমি তোমাকে ভালবাসি না। পছন্দও করি না। -আমার দিকে তাকিয়ে বল। -কেন বুঝতেছ না। -আমার দিকে তাকিয়ে আরেকবার বল আমাকে ভালবাস না, পছন্দ কর না। -ঠিক আছে,(চোখে চোখ রেখে) আমি তোমাকে….. -আমাকে কি? -আমি তোমাকে ভালবাসি। (বলে কেদেঁ দিল) সেই ক্লাস এইট থেকে। তোমার বুঝতে এত বছর লেগে গেল। তুমি জানো না মেয়েরা প্রথমে নিজের ভালবাসার কথা বলে না।বুক ফাটেঁ তো মুখ ফাটেঁ না। শুধু ভালবাসি শুনার অপেক্ষায় থাকে। - পালাবে আমার সাথে? -(কান্নার মধ্যেই বলল)না। আব্বু আম্মুকে কষ্ট দিয়ে সুখি হওয়া যায় না। -তাইলে কি করবে। -জানি না। ----- -ঐ তুই এখনো যাস নাই? (ভিলেন মামা) -মামাও এখন চলে যাবে।(ইফফাত) -ঐ জাফর, আক্কাস তোরা এই কয়, এই পোলাডারে বাধঁ। -মামাও চলে যাবে। চলে যাবে। প্লিজ মামা।(কোন মতে ওআমাকে জোর করে পাঠিয়ে দিল।) ----- এখন আমি জানি ইফফাত আমাকে অনেক বেশি ভালবাসে। বাসায় এসে মামিকে সব বললাম। মামি আম্মুকে। আম্মু আমার গালে কষিয়ে দিল এক থাপ্পর। -এই শিখায়ছি তোরে। বিয়ে ঠিক হওয়ার পর প্রপোজ করতে যাস। তুই আমার ছেলে কেমনে হইলি। কেমনে বিয়ে করবি কখন? (আম্মু আমাকে সাপোর্ট দিচ্ছে দেখে ভাল লাগল) ----- আম্মু পরেরদিন আব্বু কে সহ নিয়ে ইফফাতদের বাড়িতে গেল। আমাদের সব কথা খুলে বলল। ইফফাতের আব্বু আম্মু ইফফাতকে ডেকে সত্যতা যাছাই করল। তবে ওর আব্বু বলল, -আত্মীয়েরর মধ্যে সম্পর্ক করলে আত্মীয় সম্পর্ক আরো গভীর হয়। আমাদের পরিবারকে সবাই ভাল বলে জানে। কথা দিয়ে কখনো খেলাপ হয়না। আমরা আরেকজনকে বিয়ের কথা দিয়ে রেখেছি তাই আপনার প্রস্তাবটা রাখতে পারলাম না। ------ আব্বু আম্মু চলে আসল। দুই জন মানুষ যে যার যার ঘরের কোণে নিরবে অশ্রু বিসর্জন করছি। কারণ একে অপরকে ছাড়া থাকা অসম্ভব। নেই সঠিক খাওয়ার টাইম। নাই অফিসের খবর। সবাই জানে আমি অসুস্থ। খাওয়া দাওযা ছাড়া দুজনই প্রায় অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি। ----- এক সকালে বাড়ির ল্যান্ডলাইনে ফোন আসল। আব্বু ফোন ধরল।কে ফোন করল কিছুই জানি না। আব্বু দুপুরে বলল, আজকে বিকেলে সবাই একসাথে ঘুররতে যাবে। আমাকে জোর করে আনল। পার্কের এক কোণে বসে ছিলাম আর ভাবছি সবই কি শেষ? তখন পেছন থেকে বলল, আজ ১২ দিন হল। তুমি আমার একটা খবরও নিলে না। তুমি কেমন হবু বর শুনি।(ইফফাত) -(বেঞ্জ থেকে ওঠে দাঁড়ালাম) কোন কিছু না ভেবে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম। -আরে কি করছ। ছাড় সবাই দেখছে। -মানে? -পেছনে দেখ। ওর পরিবার আমার পরিবার এক সাথে পেছন থেকে আমাদের দেখছে। আমি ওকে ছেড়ে দূরত্ব বজায় রাখলাম। মামি বলল, অসুবিধা নেই কিছু দিন পর ইচ্ছে মত জড়িয়ে ধরিও এখন একটু সবুর কর। ওর আব্বু বলল, আমি আমার পরিবারকে সবাই ভাল জানে। কিন্তু নিজের মেয়েকে কষ্টে রেখে সে সুনামের কোন মূল্য নেই। আসছে শীতেই তোমাদের বিয়ে। আমার আম্মুও আমাকে চোখের ইশারায় সব বুঝিয়ে দিল। সত্যি কোন কিছু ভেঙ্গে ফেলা অনেক সহজ কিন্তু জোড়া লাগানোটা বড্ড কঠিন।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now