বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ওর শরীরে নাড়াচাড়া দিয়ে বুঝলাম অজ্ঞান হয়ে গেছে। তখনো বুঝে উঠতে পারিনি চড়ের শব্দটার সাথে ঝুনুর মাটিতে পড়ে থাকার কোনো সম্পর্ক রয়েছে। ঝুনুর মুখের দিকে চোখ পড়তেই চমকে উঠলাম। ওর ডান গালে চড়ের দাগ। লাল হয়ে আছে জায়গাটা। পাঁচটা আঙ্গুল বসে গেছে গালে। দেখে বুক কেঁপে উঠে আমারও জ্ঞান হারানোর অবস্থা। এরমধ্যে আমার চিৎকার শুনে খালা দৌড়ে এলেন। আমরা দুজন ঝুনুকে ধরে-টরে ঘরে নিয়ে গেলাম।
রাস্তা দিয়ে একজন লোক যেতে দেখে খালুকে খবর দিতে বললেন খালা।
খালু এলেন। এক গ্রাম্যডাক্তারকে আনা হলো।
ঝুনুর জ্ঞান ফিরল, কিন্তু থেকে থেকে চিৎকার করে উঠছে ও। কাউকে দেখলেই ভয় পাওয়ার মতো কুঁকড়ে যায়।
ঝুনুর এমন অবস্থা দেখে যতটা না অবাক হচ্ছি, ততটা ঘটনাটার কথা ভেবে শিউরে উঠছি। মুহূর্তে কী যে ঘটে গেল বোঝা গেল না!
ঝুনুর গালে থাপ্পড়ের দাগ দিনকে দিন আরো গাঢ় হচ্ছে। ক্ষতের মতো হয়ে উঠেছে। দুচার দিনে সেই ক্ষতের কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় ঝুনুকে নিয়ে ঢাকায় ফিরলাম আমরা।
বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে নেয়া হলো। পরীক্ষা-নিরীক্ষা হলো। ডাক্তার ওষুধ দিলেন। বললেন অল্প কদিনের মধ্যে ভালো হয়ে উঠবে।
ডাক্তারের কথায় সবাই কিছুটা সাহস ফিরে পেল। কিন্তু আমার মনের ভেতরে নানা কথা ঘুরপাক খেতে থাকল। সেদিন বাগানে হাঁটতে হাঁটতে ঝুনুকে পেছনে ফেলে একটু এগিয়ে না গেলে হয়তো অমন অবস্থায় পড়তে হতো না ওকে! কিন্তু চোখের পলকে এত বড় একটা ঘটনা কেমন করে ঘটে গেল? একটা থাপ্পড়ে অমন অদ্ভুত ক্ষতইবা সৃষ্টি হবে কেন? ভেবে কূলকিনারা পাই না।
এদিকে ঝুনুর অবস্থার কোনো পরিবর্তন নেই। ওর গালের ক্ষত অদ্ভুত রূপ ধারণ করছে। গালে যে আঙুলের ছাপ বসে গেছে, প্রথম দিকে সেগুলোতে দগদগে ঘা সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকায় এনে ডাক্তার দেখানোর পর ওষুধে ঘা কিছুটা শুকালেও সেরে উঠছে না পুরোপুরি। ক্ষতের জায়গায় আঙুলের ছাপ বসে যাওয়া জায়গাগুলো কখনো কুচকুচে কালো, কখনো তামাটে, কখনো টকটকে লাল, কখনো হলদেটে রং ধারণ করছে।
ওকে বেশ ভয় লাগত। রাতে আমি শুতাম ওর সঙ্গে। কখনো কখনো ঘুম ভেঙে যেত আমার। অথচ ঘুম ভাঙার কোনো কারণ খুঁজে পেতাম না। না কোনো দুঃস্বপ্ন দেখে ঘুম ভাঙত না। ঝুনুর নড়াচড়ার কারণে আলগোছে ঘুম ভেঙে যেত। একদিন এমন করে ঘুম ভেঙে গেল। চোখ মেলে অন্ধকার ঘরের এদিক-ওদিক দৃষ্টি ঘুরিয়ে পাশে শোয়া ঝুনুর দিকে তাকালাম। তাকিয়ে বুকের ভেতর ছ্যাৎ করে উঠল। ঝুনুর চোখ দুটো অন্ধকারে বেড়ালের চোখের মতো জ্বলছে, নিভছে।
যখন থেকে এমনটা শুরু করল, তখন থেকে ঝুনুর গালের ক্ষতের ওই পরিবর্তন দেখা গেল না আর। কালো, তামাটে, লাল আর হলদেটে রং ধারণ করল না।
তারপর থেকে আমার ঘুম আসতে চাইত না। ঝুনুর চোখ দুটো বেড়ালের চোখের মতো কখন জ্বলে উঠবে, তা দেখার অপেক্ষায় থাকতাম। তবে ওই জ্বলে ওঠা পর্যন্তই। একটুক্ষণ জ্বলে-নিভে আবার ঠিক হয়ে যেত। কিন্তু এসব কাউকে বলতে পারিনি আমি। কাউকে বলার কথা মনে হলেই কেন যেন ভীষণ ভয় জড়িয়ে ধরত আমাকে!
ঝুনুর গালের ক্ষতের অবস্থা আগের মতো পরিবর্তন হচ্ছিল না দেখে সবাই ভেবেছিল ও বোধ হয় সেরে উঠবে। কিন্তু তা হলো না। আবার ডাক্তারের কাছে নেয়া হলো ওকে। ডাক্তার আবার ওষুধ দিলেন। সেই একই অবস্থা, কিছুতে কিছু হলো না।
তারপর একদিন ঝুনুকে খুঁজে পাওয়া গেল না। ঘর থেকে শুরু করে সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজা হলো। পাওয়া গেল না। সবার অস্থির অবস্থা। কান্নাকাটি পড়ে গেল। বাবা থানাপুলিশ করার প্রস্তুতি নিলেন।
তিন দিনের মাথায় খালু খবর পাঠালেন- ঝুনু তাদের বাড়িতে।
সবাই অবাক।
অবাক খালুও। ঢাকা থেকে পথ চিনে ঝুনু একা কেমন করে তাদের বাড়ি গিয়ে পৌঁছল এই ভেবে। ঝুনুর গালের ক্ষতটাও আর দেখা গেল না!
সেই আগের ঝুনুকেই ফিরে পেলাম আমরা। মাঝের অঘটনগুলো যেন রূপকথার গল্প! সে যাই হোক, সুস্থ-স্বাভাবিক ঝুনুকে ফিরে পেয়ে পেছনের ওসব অঘটনের কথা আর কে ভাবতে চায়?
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now