বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
তৎকালের প্রথা অনুযায়ী জমিদার বাবু রাম কমল সিংহ বাঈজী-রক্ষিতা কিংবা উপপত্নীর সাথে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন এবং তখনকার সময়ে তা-ই স্বাভাবিক ছিল। অথচ তারই গৃহে অসামান্য রূপসী স্ত্রী বিম্ববতী।
জানবাজারের তারই এক বাড়িতে রক্ষিতা কমলাসুন্দরীর আলিঙ্গনে আদি-রসে মজে থাকার সময় হঠাৎ ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েন বাবু রামকমল সিংহ। জানাজানি হওয়ার ভয়ে তারই অন্তরঙ্গ সুহৃদ বিধুশেখর মুখুজ্যেকে ডেকে পাঠায় কমলাসুন্দরী।
বিধুশেখরের কোলে মৃত্যুবরণ করার সময় রামকমল তার জোড়াসাঁকোর সিংহসদনে রেখে যান দত্তক পুত্র গঙ্গানারায়ণ সিংহ, সাধ্বী স্ত্রী বিম্ববতী এবং নাবালক পঞ্চমবর্ষীয় পুত্র নবীনকুমারকে। মৃত্যু-মুহূর্তেও নবীনকে নিজের ঔরসজাত সন্তান বলেই জানতেন রামকমল, কারণ বিধুশেখর তার মাথা স্পর্শ করে শপথ করে বলেছিল – নবীনকুমার তারই সন্তান।
রামকমলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং পরামর্শদাতা বিধুশেখরই মূলত তার স্থাবর-অস্থাবর সকল সম্পত্তির তত্ত্বাবধান করতেন। তার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টন করার সময় গঙ্গানারায়ণকে যৎসামান্য সম্পত্তি দেয়া হয় এবং বলতে গেলে প্রায় কিছুই দেয়া হয়নি।
সিংহভাগই বিম্ববতী ও নবীনকুমারের নামে যা রামকমল জীবদ্দশায় করে গেছেন বলে বিধুশেখর জানান। বিম্ববতীর অনুরোধে মার হয়ে সম্পত্তি দেখাশোনার ভার গঙ্গানারায়ণ নিলেও বিধুশেখর ব্যাপারটাকে ভালো নজরে দেখেননি।
তিনি চান গঙ্গানারায়ণকে সম্পূর্ণ টুকরো টুকরো করে ভেঙে নিঃস্ব ও সর্বস্বান্ত করে দিতে, আর চান নবীনকুমারকে জীবনে সম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠিত করে যেতে। সিংহপরিবারের বিশাল ঘটনাবহুল জীবনপ্রবাহের ছবি অনুপুঙ্খময় আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলেছেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এই উপন্যাসে।
কিন্তু শুধু পাপ আর কেচ্ছার কাহিনি শোনাতে তিনি লেখনী ধারণ করেননি। বস্তুত সিংহপরিবারের নাটকীয় ও চমকপ্রদ সে-সকল কাহিনি সেই বিশেষ সময়ের প্রেক্ষাপটে বর্ণিত যখন কলকাতার বাবু সমাজ সুরা, নারী ও বুলবুলি-বিলাসে মগ্ন,
যখন নব্য শিক্ষিত যুবকরা প্রাণপণে ইংরেজ অনুকরণে মত্ত, গ্রাম নিঃস্ব করে প্রজা শোষণের অর্থে চলছে সংস্কৃতি চর্চা, সমাজ ও ধর্ম সংস্কার, তরুণ বিদ্যাসাগর রাত্রি জেগে রেড়ির তেলের আলোয় রচনা করছেন বাংলা গদ্য ভাষা, জেগে উঠছে বাঙালি মধ্যবিত্ত শ্রেণি।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now