বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
৬.
ঘরে ভারী পর্দা টানা। দুই সপ্তাহে ঘরের চেহারা বদলেছে খানিকটা। খাটের স্ট্যান্ডে শেষ হয়ে যাওয়া স্যালাইনের বোতল ঝুলছে। কম্পিউটার টেবিলের উপর জমে আছে ওষুধের বোতল। পিরিচে রাখা কেকের উপর অনেকক্ষণ ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছে একটা কৌতুহলী মাছি। আরিফ শুয়ে থেকে তাকিয়ে আছে ছাদের দিকে। ঘরের ছাদটা সাদা রঙ করা। মাছিটা এবার কেকের উপর থেকে আরিফের মুখের উপরে উড়ে আসে। ওর চোখের খুব কাছে দিয়ে দু’বার পাক খায় মাছিটা, যেন বোঝার চেষ্টা করছে, এর কলারের উপর পড়ে থাকা কেকের ছোট্ট দানাটাকে তুলতে গেলে এই লোকটা থাবা মারবে কিনা। আরিফের চোখ খোলা। মাছিটা খুব সাবধানী ভঙ্গিতে নেমে আসে ওর কলারের উপর। কিছুক্ষণ চেষ্টা করে শেষ পর্যন্ত দানাটাকে পায়ে ধরে মাছিটা উড়ে চলে যায় জানালার দিকে। কিন্তু, পর্দায় লেগে কেকের দানাটা নিচে পড়ে যায়। মাছিটাকে আর দেখা যায় না। একটু কাত হয়ে মাথার পাশ থেকে মোবাইলটা হাতে নেয় আরিফ। কন্টাক্ট থেকে তৃণার নাম্বারটা বের করে বামহাতে ভর দিয়ে ধীরে ধীরে উঠে বসে বিছানায়। তৃণার নাম্বারটা পেতে বেশ কষ্ট করতে হয়েছে ওকে। তারপরও জোগাড় করেছে নাম্বারটা। রিং হচ্ছে... কেউ ফোন ধরছে না। আবারো ফোন দেয়। এবারও কেউ ধরলো না। ওর চোয়াল শক্ত হয়ে আসে। ফোন দিতেই থাকে ও। ছয়বারের বেলায় একটা ঘুমজড়ানো কণ্ঠ বলে,
“হ্যালো...”
“ঘুমাচ্ছ তৃণা? দুপুরবেলায় ঘুমানো কিন্তু স্বাস্থ্যের জন্য ভালো না। মোটা হয়ে যাবে।”
“কে আপনি? ...হ্যালো?”
“আমি আরিফ।”
“কোন আরিফ?”
“আমাকে চিনতে পারছো না?”
“আপনার যদি জরুরী কিছু বলার থাকে তো বলুন, না হলে আমি ফোন রেখে দিচ্ছি।”
আরিফ হেসে ওঠে।
“জরুরী? জরুরী কথা বলার জন্য তোমাকে কতদিন থেকে খুজছি! মনে নেই, সেদিনও তো তোমাকে জরুরী কথা বলতে গিয়েছিলাম। আচ্ছা, সেদিন তোমার ভাইয়ারা আমাকে ভালো করে মেরেছে কিনা, জিজ্ঞেস করেছিলে? ওদের ভালো করে খাইয়ে দিয়ো কিন্তু। খুব ভালো মারে ওরা! চমকে ওঠে তৃণা।
“আপনি... মানে, আমি...”
নার্ভাস হয়ে ফোন কেটে দেয় তৃণা। ঝিম ধরে বসে থাকে কিছুক্ষণ। একটু পর ওর মোবাইল বেজে ওঠে। মেসেজ এসেছে। কাঁপা হাতে মোবাইলটা তুলে নেয় ও। মেসেজটা ওপেন করতেই একটা M.M.S. দেখতে পায়। সাথে লেখাঃ
“Khub chotto ekta upohar pathalam tomar jonne. Dekho. Valo lagbe.”
M.M.S. টা প্লে করতেই ওর সমস্ত শরীর ঝিম ঝিম করতে থাকে। Oh God! এটা কি?
ওর গা কেমন গুলিয়ে উঠছে। কোনমতে খাটের একটা পাশ ধরে কিছুক্ষণ বসে থাকে তৃণা। মোবাইলটা হাতে নিয়ে কল করে।
“হ্যালো?”
“আ-আপনি কি চান?”
“তোমার কি শরীর খারাপ লাগছে তৃণা? তোমার voice এরকম শোনাচ্ছে কেন?"
ফুঁপিয়ে কেদে ফেলে তৃণা।
“প্লিজ! আপনি কেন এরকম করছেন? কি চান আপনি?”
অপ্রকৃতস্থের মতো হেসে ওঠে আরিফ।
“আমি শুধু তোমাকে জানাতে চাই, যেটা তুমি দেখলে, সেটার চল্লিশ মিনিটের ভিডিওটা আমার কাছে আছে। তুমি চাইলে তোমাকে দিতে পারি... না চাইলে অন্য কাউকে দিতেও আপত্তি নেই।”
“মানে? আপনি কি বলছেন এসব? কে আপনি?”
তৃণার গলা ভেঙে আসছে।
“জিজ্ঞেস করলে না কোত্থেকে পেলাম ওটা? না থাক। তোমার বয়ফ্রেন্ডকে জিজ্ঞেস কোরো। ও ভালো বলতে পারবে।”
“আপনি কেন এরকম করছেন আমার সাথে? আমি কি ক্ষতি করেছি আপনার?”
“নাহ! কিছুই করনি। শুধু তোমার “ভাইয়াদের” ডেকে এনেছিলে! আমি সেদিন তোমাকে বলতে এসেছিলাম, তোমার বয়ফ্রেন্ড তোমাকে use করছে। তোমার ভিডিও সবাইকে দেখিয়ে বেড়াচ্ছে। দু’দিন পর তোমার ভিডিও দোকানে ভাড়া পাওয়া যেতো...”
হঠাৎ চিৎকার করে ওঠে আরিফ,
“শুধু আমি চাইনি বলে তোমার ওই নোংরা ভিডিও এখনও লোকে ঘরে বসে দেখছে না! তুমি বুঝতে পারছ? বুঝতে পারছ তুমি?”
হাউমাউ করে কাঁদছে তৃণা।
“তুমি আমার কোন ক্ষতি করনি! শুধু ওই রাস্তার কুত্তাগুলোকে দিয়ে আমাকে মার খাইয়েছ। শুধু ফুটপাতের উপর আমাকে ফেলে রেখেছিলে একটা রাত। নাহ! কোন ক্ষতি করনি তুমি আমার!”
“আমি ভুল করেছি। প্লিজ, আমাকে মাফ করে দেন... প্লিজ...”
“আহ! এই দুই সপ্তাহে আমি কতবার চিন্তা করছি, তোমাকে কি বলব, তুমি আমাকে কি বলবা! তুমি যে এতো মিষ্টি ব্যবহার করতে পারো, জানতাম না তৃণা। কি যে ভালো লাগছে!”
“আপনি আমাকে যা বলবেন, আমি তাই করবো, শুধু ওগুলা আমাকে দিয়ে দেন। প্লিজ... আমাকে মাফ করে দেন...”
“সত্যি? যা বলব, তাই করবা? ঠিক আছে। আমার সাথে দেখা করতে আসো। ঘণ্টাখানেক থাকো। সিডিটা আমি তোমাকে দিয়ে দিব। হোটেলের নামটা বলবো?”
“আপনি... আপনি... এইসব কি বলতেছেন?”
“কেন? ভালো লাগতেছেনা? তোমার বয়ফ্রেন্ডের চেয়ে আমি খারাপ হবনা। এসেই দেখ!”
“প্লিজ, আমার এরকম সর্বনাশ করবেন না... প্লিজ... আমি তখন বুঝতে পারিনি... আমাকে মাফ করে দেন... প্লিজ...”
“sorry তৃণা। তুমি একটু দেরী করে ফেলেছ। শোন-”
“প্লিজ, আপনি একটু-”
ধমকে ওঠে আরিফ,
“চুপ! শোনো, হোটেলের নাম "মুক্তা আবাসিক"; ফার্মগেটে U.C.C. -র উল্টাপাশে। দুইতলায়। কাল বিকাল ৪.৩০ এ আসবা। যদি আসো, আমাকে কাল সকালের মধ্যে জানাবা। না আসলেও কোন সমস্যা নাই। তখন শুধু তোমাকে তোমার ভিডিওটা দোকান থেকে নিতে হবে।”
ফোন কেটে দিল আরিফ। রাগে ওর গা থর থর করে কাঁপছে। কি করবে বুঝতে পারছে না। পুরো পৃথিবীটা টুকরো টুকরো করে ফেলতে ইচ্ছে করছে। ফোনটা তুলে দেয়ালে আছাড় মারল ও। চোখদুটো রক্তজবার মতো লাল।
তৃণার পুরো পৃথিবী যেন দুলছে চোখের সামনে। চারপাশটা এমন চেপে আসছে কেন? কোথায় আছে, কি হচ্ছে, কিছুই মনে পড়ছে না ওর। হঠাৎ ওর ফোন বেজে উঠলো। ঘোরের মধ্যে ও ফোন তুলে নিল।
“হ্যালো, জান্, কেমন আছ তুমি?”
তৃণা কিছুই বুঝতে পারছেনা। ও শুধু বলল,
“হুম...”
“জান্, প্লিজ রাগ করোনা। সকালে খুব busy ছিলাম, তাই ফোন ধরতে পারিনি। শোনো, কাল, আমাদের বাসায় কেউ থাকছেনা। শফিক সকালেই টাঙ্গাইল যাবে। তুমি প্লিজ আসোনা!”
তৃণার হাত থেকে ফোনটা পড়ে যায়। ওর চোখের সামনে সব অন্ধকার হয়ে আসছে। মুখ ভর্তি করে বমি করে তৃণা।
৭.
ঘরের ভেতর খুব বেশি আলো নেই। বিছানায় একটা ধোয়া চাদর পাতা, সামনের সোফার উপরে পড়া ধূলোর আস্তরণ জানালা দিয়ে আসা আলোতে খুব আবছাভাবে দেখা যাচ্ছে। বাইরে আকাশ অন্ধকার করে বৃষ্টি নেমেছে, যেন পণ করেছে আজ সবকিছু ধুয়ে মুছে নিয়ে যাবে। বৃষ্টির শব্দে ফার্মগেটের ব্যস্ত ট্র্যাফিকের শব্দ ঢাকা পড়ে গেছে। বিছানার পাশে সাইড টেবিলে একজগ পানি আর পিরিচ দিয়ে ঢাকা একটা ঝকঝকে গ্লাস। তৃণার খুব পানি পিপাসা পেয়েছে। দরজায় কে যেন টোকা দিচ্ছে। ঠক ঠক! ঠক ঠক! তৃণা দরজার দিকে তাকিয়ে আছে একদৃষ্টিতে। সেই চোখে ভয়, কষ্ট, নাকি প্রগাঢ় নির্লিপ্ততা? বোঝা যাচ্ছেনা এত অল্প আলোয়।
------------[সমাপ্ত]-------------
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now