বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অভিশপ্ত ডায়েরী-০৪

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X “অভিশপ্ত ডায়েরী” (পর্ব-৪) By : সামিয়া আহমেদ । আরও বেশী ভয় পেলাম বেসমেন্ট এর চারদিক রক্ত দেখে।তাই আমি অনেক ভয় পেয়ে গেলাম।কিন্তু পরক্ষণে ভয় কাটিয়ে ভাবলাম, সেদিন যেমন আমার সাথে লেকে ঘটনা ঘটেছিল তেমন কেউ বিপদে পরল নাকি? তাই আমি দ্রুত বেসমেন্টের নিচে গেলাম।যেয়ে যা দেখলাম তাতে আমি স্তম্ভিত হয়ে পরলাম।দেখলাম একটি বিরাট অগ্নিকান্ড আর তার সামনে দাড়িয়ে মন্ত্র পড়ছে আর তাতে অনেক গুলো চোখ সেই আগুনে পুড়ছে আর যে এসব করছে সে আর কেউ না স্বয়ং আমার মা।আমি এসব দেখে ভয়ে পাথর হয়ে গেছি।আর আমার আম্মুর চোখ বন্ধ করে ছিল তাই সে আমাকে দেখতে পাচ্ছিল না। একটু পরই দেখলাম আমার আম্মুর সামনে সেই নীল ডায়েরীটি।আর সে ড়ায়েরীটা শূন্যে ভাসছে।এবং সে তারপর সে নিজের হাতে একটি বুচার নাইফ নিল এবং হাত কেটে ফেলল এবং রক্ত সেই ডায়েরীতে পরতে লাগল।এই দৃশ্য সহ্য করতে না পেরে আমি চিৎকার করলাম।আর তার নিকট দৌড়ে গেলাম।আর আমার আম্মু আমাকে দেখতে পেয়ে তার হাতে থাকা বুচার নাইফটি দিয়ে আঘাত করতে চেষ্টা করল কিন্তু আমি সময়মত সরে গিয়ে নিজেকে বাচিঁয়ে ফেললাম।কিন্তু সে থামল না আমাকে আঘাত করার জন্য আমার পিছে আসতে লাগল আর আমি প্রাণপ্রণে দৌড়াতে লাগলাম আর বলতে লাগলাম,“আম্মু আমি তোমার ইমিলিয়া,তুমি কেন আমাকে মারতে চাচ্ছো?”আম্মু বলল,“আমি তোর আম্মু না,আমি মিয়া,বুঝেছিস?আজ কেই তোর জীবনের শেষ দিন।”এই বলে সে আমাকে ধরে ফেলল। আমি চিৎকার করে বলতে লাগলাম,“আমি ইমিলিয়া,আম্মু,আমি তোমার মেয়ে।” আম্মু আবার বলল,“আমি মিয়া,তোর আম্মু না।তুই আমার ডায়েরীটা এনে আমাকে সাহায্যে করেছিস।তাই তোকে আমি পুরস্কারস্বরুপ কম যন্ত্রনাময় মৃত্যু দেব।”এই বলে আম্মু বুচার নাইফটি ফেলে আমার গলা দুই হাত দিয়ে চেপে ধরল।কিছুক্ষণ এর মধ্যে আমার শরীরে অক্সিজেনের অভাবে আমার প্রায় দম বন্ধ হয়ে আসতে চায়। আমি তার দুই হাত ছাড়ানোর প্রচুর চেষ্টা করি।কিন্তু আমি ব্যর্থ হই।তাই আমি বললাম,“ঈশ্ব-শশর তুম-মি আমার আম্মু-কে রক্ষা কর।”ঠিক তখনি আমার আম্মু আমার গলা থেকে হাত নামিয়ে ফেলল। আর বলতে লাগল,“আমাকে মাফ করো।এই বলতে বলতে আম্মু অজ্ঞান হয়ে পড়ল।আমি কাদঁতে লাগলাম,দেখলাম আম্মুর হাত থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে।তাই আমি দ্রুত ফার্স্ট এইড বক্স এনে আম্মুর হাত ব্যান্ডেজ করে দিলাম।তারপর বেসমেন্ট থেকে দৌড়ে যেয়ে আব্বুকে কল করে বললাম,”আব্বু দ্রুত বাসায় এসো আম্মু অসুস্থ।”আব্বু দ্রুত বাসায় আসল। আমাকে প্রশ্ন করল চিন্তিত কণ্ঠে,“তোমার আম্মু কোথায়?”আমি বললাম,“আম্মু বেসমেন্টে।আব্বু বলল,“কিসের বেসমেন্ট? কোথায়?দেখ ইমিলিয়া এটা যদি তোমার দুষ্টুমি হয়,আই এম নট গোয়িং টু ফরগিব ইউ।”আমি কেঁদে ফেললাম আর বললাম,“আমি সত্য বলছি,আসো আমি তোমাকে বেসমেন্টে নিয়ে যাই।”আমি কিচেনের দিকে গেলাম আমার আব্বুও আমার সাথে আসতে লাগল।আব্বু বেসমেন্ট দেখে অবাক হয়ে গেল।আমি আব্বুকে নিচে আম্মুর কাছে নিয়ে গেলাম।আব্বু নিচে চারপাশে অগ্নিকুন্ড আর রক্ত দেখে বিস্মিত হয়ে গেল। আমি আর আব্বু দুজন মিলে আম্মুকে বেডরুমে নিয়ে গেলাম।আব্বু কল করে একজন ডাক্তার ডেকে আনল।ডাক্তার এসে বলল আম্মুর প্রচুর রক্তক্ষয় হয়েছে।তাই তাকে শীঘ্রই হসপিটালে এডমিট করতে হবে।আব্বু আম্মুকে হসপিটালে নিয়ে গেল,সাথে আমিও গেলাম।ডাক্তাররা যখন আম্মুকে পরীক্ষা করছিল আব্বু আমার কাছে আসল।আব্বু আমাকে প্রশ্ন করল,“কি হয়েছিল,ইমিলিয়া?তোমার গলায় এই দাগ কিসের?আমি যা দেখলাম বেসমেন্টে সেসব কি ছিল?”আমাকে সব খুলে বল?”আমি আব্বুকে লেকের ঘটনা,ডায়েরীর ব্যাপারে আর বেসমেন্টে যা যা ঘটল সবই খুলে বললাম।আব্বু আমাকে কিছু বলতে যাচ্ছিল ঠিক তখনই নার্স এসে ভয়ভীত কণ্ঠে বলল,“আপনাদের রোগী!!! জলদি আসুন।”আমি আর আব্বু দৌড়ে গেলাম যেয়ে দেখলাম আম্মু বলছে,“কাউকেও ছাড়বো না,সবাই মরবে।”আমাকে বলল,“তুইও মরবি।”আম্মু আমার নিকট আসার চেষ্টা করল কিন্তু তার হাত পা বাধা ছিল তাই পারল না।আব্বু আম্মুর এই অবস্হা দেখে সহ্য করতে পারল না।এই প্রথম আমি আব্বুর চোখে পানি দেখলাম।আব্বু বলল,“ইমিলিয়া সেই ডায়েরীটা কোথায় যা তুমি পেয়েছিলে হয়ত তা কোন কাজে আসতে পারে।” আমি বললাম,“বেসমেন্ট ে আছে।”আব্বু বলল,“চল আমরা বাসায় যাই।”আমি আর আব্বু বাসায় যেয়ে ডায়েরীটা খুঁজে বের করলাম।আমি আর আব্বু ডায়েরীটা খুললাম পড়ার জন্য কিন্তু আমরা পড়তে পারলাম না কারন ডায়েরীতে লেখা ভাষাটি অপরিচিত ছিল।আমার আম্মু নানারকম ভাষা জানতো তাই সে পরতে পেরেছিলেন। এখন আমি বুঝলাম যে কেন সেই অশরীরীটি ডায়েরীটা আম্মুর কাছে নিয়ে গেল আমার কাছে না।আমি হতাশ হয়ে আব্বুকে বললাম,“আম্মুকি কখনো ঠিক হবে না?”আব্বু বলল,”যখন কোন পথ দেখা যায় না,তখন সর্বদাই একটি পথ খোলা থাকে,ঈশ্বরের পথ।চল আমরা গীর্জায় যাই,প্রার্থনা করতে।”আমি আর আব্বু গীর্জায় গেলাম আর সাথে ডায়েরীও নিয়ে গেলাম।আব্বু গীর্জার ফাদারকে সব খুলে বলল এবং ডায়েরীটাও দেখাল। তিনি বললেন:"খুব অশুভ কিছু ঘটতে চলেছে, তোমাদের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা সমূহ সবেই শুরুমাত্র.....সবেই শুরু!!! " (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now