বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এবাড়িতে এখন দুজন প্রাণী। বিষ্ণু নিজে আর ছোড়দি, কাকার একমাত্র মেয়ে তুষু। কলেজ পাশ করে কি একটা অফিসে ছোটখাটো কাজ পেয়েছিল, এখন সেটা মাঝারি হয়েছে, তাই নিয়েই থাকে। বিয়ে করেনি, বিয়ে দেবার কেউ ছিলও না।
অভিশপ্ত বাড়ির মেয়েকে কে বিয়ে করবে! বিষ্ণু বাড়িটা বেচে দেবার চেষ্টা যে করেনি তা নয়, কিন্তু লোকমুখে তাদের বাড়ির ইতিহাস জেনে খরিদ করার মত লোকের অভাব কম। বিষ্ণুও তত উদ্যোগী নয়, তাদেরও তো একটা থাকার জায়গা দরকার। এতদিন একভাবে থেকে এখন অন্যভাবে থাকাও মুশকিল। তাছাড়া সেও তো একা নয়, তুষুর দিকটাও তো ভাবতে হবে!
সারাটা দিন একা একা ভুতের মত মস্ত বাড়িটায় ঘুরে বেড়ায় বিষ্ণু। সে যে একটাও চাকরি পায়নি তা নয়, তুষু তাকে যেতে দেবে না বাড়ির বাইরে। তার ভয়, ভাই যদি বাইরে গিয়ে আর না ফেরে! ভাই যদি বাইরে গিয়ে কোন এক্সিডেন্ট করে বসে, তাকে যদি কেউ খুন করে, কেউ ভুলিয়ে নিয়ে চলে যায়!
বিকেলটা তাই বিষ্ণু একটা ঘর ছেলেগুলোকে ছেড়ে দিয়েছে। ওরা এলে তবু একরকম কেটে যায়। তুষু অফিস থেকে ফিরলে দুজনে চা খায়, টুকরো গল্পগাছা করে। তারপর সন্ধ্যে হলে নেশাগ্রস্তের মত দুজনে ছাদে যায়, পাশাপাশি দুটো চেয়ারে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে, যেন আকাশের তারা দেখতেই এখানে আসা, যেন সেই ছেলেবেলার মতো এখনও তারা চাঁদ দেখে।
তুষু দেখে চাঁদের আলো, তার অপরিসীম সৌন্দর্য্য, তার মায়া। এবাড়ির প্রতি এখনও তুষুর বড় মায়া, মমতা। ছোটভাই এর প্রতি ভালবাসা। তার জীবনের অনেককিছু গেছে, তবুও কিছু আছে। যা আছে, তাই বা কম কি!
বিষ্ণু দেখে চাঁদের গায়ে কত দাগ, কত কলঙ্ক। সুন্দর নিটোল সে নয়, তবু আমরা তাকে বলি সুন্দর। ঠিক এই বাড়িটার মত, বাড়ির মানুষগুলোর মত। দাগধরা একটা বাড়ি, দাগধরা একটা পরিবার, তার নিজের জীবন। তবুও এই পরিবার, এই দাগধরা জীবন নিয়েই তাকে থাকতে হবে, তার নিজের জন্য না হোক, ছোড়দির জন্য তো বটেই। ভেবে লাভ কি!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now