বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পিশাচের রাত-০৭

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X "পিশাচের রাত" লেখক : অনীশ দেব ------------------ পর্ব ৭ আজ জনতা কেবিনের সামনে চিকু প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে দেখা করবে। ওকে বলবে, টেলিফোনে স্যারের সাথে ওর কি ধরনের কথাবার্তা হয়েছে। তাহলে স্যারকে টেলিফোন করার ব্যাপারে প্রিয়াঙ্কার কিছুটা সুবিধে হবে। সাইকেল নিয়ে স্কুলে যাওয়ার পথে দেশপ্রিয় সুইটসের কাছে রোহণদাকে দেখতে পেল চিকু। সঙ্গে ওর বন্ধুবান্ধবরাও দাঁড়িয়ে আছে। চিকু সাইকেল নিয়ে রোহণের কাছে এসে থামল। " রোহণদা, তোমার সাথে আমার জরুরী কথা আছে।" উত্তরে রোহণ পকেট মটরদানার মতো সেই রুদ্রাক্ষের বিচি বের করে দেখিয়ে বলল, " এই ব্যাপারে?" মাথা নাড়ল চিকু, " হ্যাঁ।" " এখন বলতে পারবি?" " না, এখন স্কুলের দেরী হয়ে যাবে। সন্ধ্যেবেলা তোমার সঙ্গে আলাদা কথা বলব।" সাইকেল চালিয়ে চিকু রওনা দিল স্কুলের উদ্দেশ্যে। সন্ধ্যেবেলা চিকুর কাছ থেকে সব শোনার পর রোহণ তো একেবারে তাজ্জব হয়ে গেল। আপনমনেই বলল, " এ কথা তো কেউ বিশ্বাস করতে চাইবে না!" " হ্যাঁ",চিকু বলল, " প্রিয়াঙ্কাও তাই বলছিল। বলছিল সবাই প্রমাণ চাইবে।" দেশপ্রিয় সুইটসের কাছে একটা শিরিষ গাছের পাশে দাঁড়িয়ে রোহণ আর চিকু কথা বলছিল। বিকেলের দিকে একটা কালবৈশাখী হয়ে দু পশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে। তাই রাস্তায় এখন কাদা আর জল। রাস্তা দিয়ে বাইক বা গাড়ি গেলে কাদা-জল ছিটকে আসছে। পথচারীরা তাই রাস্তার পাশ ঘেঁষে হাঁটছে। রাস্তার দিকে তাকিয়ে রোহণ চিন্তা করতে করতে বলল, " হুঁ, প্রমাণ দরকার। রুদ্রাক্ষের মালা আর মুখের পোড়া দাগ তো ঠিক প্রমাণ নয়!" " সেজন্যেই তো আমি আর প্রিয়াঙ্কা উড়ো ফোন করে স্যারকে কনফেস করতে বলছি।" " তাতে কি লাভ? ধর, হরিহরবাবু ফোনে সবকিছু স্বীকার করলেন। কিন্তু তাতে তো আর ওঁকে এরেস্ট করা যাচ্ছে না। তাছাড়া যুক্তিবুদ্ধির বাইরে এরকম আজগুবি কথা কে বিশ্বাস করবে?" " কেন? লাস্ট পূর্ণিমায় ঐ হিংস্র অমানুষটার গর্জন তো অনেকেই শুনেছিল।" " শোনা এক জিনিস....আর দেখা আর এক জিনিস।" রোহণ আনমনা ভাবে বলল। রোহণের এই কথাটা চিকুর মনে বারবার প্রতিধ্বনি তুলল: " শোনা এক জিনিস.... আর দেখা আর এক জিনিস......!" কিছুক্ষণ পর চিকু বলল, " দেখি টেলিফোনে কাজটা কদিন চালিয়ে যাই। তারপর দেখি মাথায় কোনও নতুন আইডিয়া আসে কিনা। তবে রোহণদা, তুমিও ব্যাপারটা একটু ভেবে দ্যাখো। এখনই কাউকে কিছু জানিও না। " " মাথা খারাপ। তুই তোর অপারেশন চালিয়ে যা। মাথায় কোনও নতুন আইডিয়া এলেই আমায় জানাবি।" রোহণের কথায় ঘাড় নেড়ে বাড়ির পথ ধরল চিকু। প্রমাণ চাই। প্রমাণ। রাতে বিছানায় শুয়ে ছটফট করছিল চিকু। কিছুতেই ওর ঘুম আসছিল না। ওর কেবল ভয় হচ্ছিল, ঘুমিয়ে পড়লেই হয়ত হরিহরবাবুকে স্বপ্নে দেখতে পাবে। দেখবে সৌম্যকান্তি মানুষটা কিভাবে ধীরেধীরে বদলে যাচ্ছেন অমানুষে। তারপর এগিয়ে আসছে চিকুর দিকে। দুটো লোমশ হাত সামনে বাড়ানো। সেই দু হাতের দশ আঙুলে লম্বা লম্বা বাঁকান নখ। ও টের পেল প্রিয়াঙ্কা ওকে হাত ধরে টানছে আর বলছে, " পালাও চিকু, পালাও।" চিকুর ঘুম ভেঙে গেল। নানা কথা ভাবতে ভাবতে কখন ওর চোখে তন্দ্রা নেমে এসেছিল কে জানে! প্রিয়াঙ্কার কথা মনে পড়ল চিকুর। রাত আটটা নাগাদ ও প্রিয়াঙ্কাকে ফোন করেছিল। তখনিই প্রিয়াঙ্কা স্যারকে উড়ো ফোন করার কথা চিকুকে জানিয়েছিল। সেই কথাগুলোই চিকুর মনের মধ্যে ভেসে উঠল আবার। ও প্রান্তে ফোন বেজে উঠতেই হরিহরবাবুর স্ত্রী ফোন ধরেছেন। " হ্যালো" বলতেই প্রিয়াঙ্কা স্বাভাবিক গলায় জিজ্ঞেস করেছে, " স্যার আছেন?" " ধরো দেখছি।" একটু পরে হরিহরবাবু ফোন ধরতেই প্রিয়াঙ্কা চিকুর পরামর্শ মতো বলে ওঠে, " অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে/তব ঘৃণা যেন তারে তৃণ সম দহে।" " কে? কে কথা বলছ?", হতচকিত হয়ে হরিহরবাবু জিজ্ঞেস করলেন। ফিসফিস করে প্রিয়াঙ্কা বলল, " সামনের পূর্ণিমায় তুমি একদম বাড়ি ছেড়ে বেরোবে না। বেরোলেই তোমায় খতম করে দেওয়া হবে।" " আমি....আমার কোনও দোষ নেই। এটা আমার একটা অসুখ। অসুখের ওপর আমার কোনও হাত নেই।" " তুমি শিক্ষকদের কলঙ্ক....জাঙ্গিকুলের কলঙ্ক।" " না....না। আমার কোনও দোষ নেই। আমি কোনও পাপ করিনি। আমার আত্মা পবিত্র। " " তোমার আত্মা বলে কিছু নেই। তুমি প্রেতাত্মা। " হরিহরবাবু ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে বললেন, " বিশ্বাস কর, আমার কোনও দোষ নেই। প্রত্যেক পূর্ণিমায় একটা শয়তান আমায় দিয়ে কিসব খারাপ কাজ করিয়ে নেয়। আমার তখন জ্ঞান থাকে না।" " অন্য কাউকে খুন করার চেয়ে নিজেকে খুন করা অনেক সহজ। তোমার সুইসাইড করা উচিত.....তোমার সুইসাইড করা উচিত......" " তুমি কে?" আচমকা প্রশ্ন করলেন হরিহরবাবু। গলার স্বর দিব্যি স্পষ্ট। কান্নার ছোঁয়াও সেখানে নেই। ' তাহলে কি স্যার এতক্ষণ অভিনয় করছিলেন? ' প্রিয়াঙ্কা ভাবল। " তুমি কে? চিকুর বন্ধু"?, কিছুক্ষণ ওপ্রান্ত চুপচাপ। তারপর আবার: " তুমি কি প্রিয়াঙ্কা? " সঙ্গে সঙ্গে প্রিয়াঙ্কা ভয় পেয়ে রিসিভার নামিয়ে রেখেছে। ওর হাত থরথর করে কাঁপছিল। ' সত্যিই কি এটা স্যারের অসুখ?' চিকু নিজেকেই যেন প্রশ্ন করল, ' সত্যিই কি স্যারের এতে কোনও হাত নেই? সত্যিই কি কোনও শয়তান প্রত্যেক পূর্ণিমায় তাঁকে দিয়ে জঘন্য কাজ করিয়ে নেয়?' এইসব ভাবতে ভাবতে চিকু একসময় ঘুমিয়ে পড়ল। পরদিন সকালে ঘুম ভাঙতেই আবার চিন্তাগুলো চিকুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। একইসঙ্গে ওর মনে পড়ে গেল, স্যারকে আজ আবার ফোন করতে হবে। হরিহরবাবুর কাছ থেকে ওদের কাছে নেমন্তন্নটা এল একেবারে অপ্রত্যাশিতভাবে। এরকম ভয়ঙ্কর নেমন্তন্ন চিকু জীবনে কখনো পায়নি। পূর্ণিমার রাতে স্যার ওকে নিজের বাড়িতে নেমন্তন্ন করেছেন। সঙ্গে প্রিয়াঙ্কাকেও নিয়ে আসতে বলেছেন। উড়ো ফোনের ব্যাপারটা তিন চারদিন চলার পর আচমকা নেমন্তন্নটা পেল চিকু। রোজকার মতো সেদিনও চিকু হরিহরবাবুকে ফোন করল। রিং বেজে ওঠামাত্র স্যার নিজেই ফোন ধরলেন। "হ্যালো, চিকু!" হরিহরবাবু বললেন ওপ্রান্ত থেকে। চিকুর মনে হল, স্যার যেন ওর ফোনের জন্যই অপেক্ষা করছিলেন। চিকু ফিসফিস করে বলল, " সামনের পূর্ণিমায় যেন আর কেউ খুন না হয়"... " না, না, আর কেউ খুন হবে না, আর কেউ খুন হবে না। চিকু শোন...." " কিন্তু একটা সুইসাইড যেন হয়"! " সুইসাইড! " " হ্যাঁ। একটা নরপিশাচ যেন সুইসাইড করে।" টেলিফোনের ওপ্রান্তে ডুকরে কেঁদে উঠলেন হরিহরবাবু, " না, নিজেকে আমি খুন করতে পারব না। তাহলে তোদের কাকিমাকে কে দেখবে? ওকেও তাহলে হয়ত আমার সঙ্গে সহমরণে যেতে হবে। সেটা তো সম্ভব নয়। এটা যে কি কষ্ট তা তুই বুঝবি না। এ অসুখের জ্বালা আমায় পুড়িয়ে মারছে......" চিকু স্যারের কান্নায় নরম হল না। কোথা থেকে যেন এক দুর্জ্জয় সাহস ওর ভেতর তৈরি হয়ে যাচ্ছিল। ও বলল, " যাদের তুমি খুন করেছ, তাদের আত্মীয় স্বজন তোমার চেয়েও অনেক বেশী কষ্ট পাচ্ছে। তোমার আত্মহত্যাই করা উচিত।" " চিকু, শোন, শোন, সামনের পূর্ণিমায় তুই আমার বাড়ি আয়। তোকে সব খুলে বলব। তাহলে তুই আমার এই ব্যাপারটা বুঝতে পারবি।" আগামী পূর্ণিমায় স্যার ওঁর বাড়িতে যেতে বলছেন! চিকু বেশ অবাক হল। তাহলে কি পরের পূর্নিমায় সত্যিই আর কারোর খুন হবার ভয় নেই! " সন্ধ্যের পর আসিস ", হরিহরবাবু তখনো কথা বলে যাচ্ছেন, " আর...আর প্রিয়াঙ্কাকেও সঙ্গে নিয়ে আসিস। " কেন! প্রিয়াঙ্কা কেন! প্রিয়াঙ্কার নাম শুনেই চিকু যেন ইলেকট্রিক শক খেল। স্যার কি ওদের দুজনের গলাই ধরে ফেলেছেন? তাই চিকু এবার স্বাভাবিক গলায় প্রশ্ন করল, " কেন? প্রিয়াঙ্কাকে নিয়ে আসব কেন?" স্যার এবার হেসে বললেন, " সেদিন সন্ধ্যেবেলা তুই যখন আমার সঙ্গে তুমুল তর্ক জুড়ে দিয়েছিলি, তখন তো প্রিয়াঙ্কাও তোর সঙ্গে ছিল। ওর মনেও হয়ত নানারকম কৌতূহল হচ্ছে। হয়ত তোরই মতো ও-ও আমায় শয়তান, পিশাচ, অমানুষ ভাবছে। আর তোরা তো জানিস, তোরা দুজনে আমার সবচেয়ে প্রিয় স্টুডেন্ট। তাই তোদের মনে আমি কোনও ব্যথা দিতে চাই না। " চিকু কেমন যেন দোটানার মধ্যে পড়ে গেল। ওর চিন্তাভাবনাগুলো তালগোল পাকিয়ে যেতে লাগল। হরিহরবাবু একটানা কথা বলে যাচ্ছিলেন। ওঁর কথায় সাপ খেলান বাঁশির সুর। চেতনাকে অবশ করে দিতে চাইছে। চিকুর মাথা ঝিমঝিম করছিল। " চোখের সামনে যদি সবকিছু দেখিস তো পুরো ব্যাপারটা বুঝতে পারবি। বুঝতে পারবি, আমার কোনও দোষ নেই। সবই নিয়তি।" শেষপর্যন্ত চিকু রাজি হল। কারণ জলজ্যান্ত প্রমাণ চাইলে এ ছাড়া অন্য কোনও উপায় নেই। তবে ও ঠিক করল, রোহণকে সঙ্গে নিয়ে যাবে। যদি ও স্যারের বাড়িতে গিয়ে কোনও বিপদে পড়ে তাহলে রোহণদা ওকে বাঁচাবে। সুতরাং রোহণদাকে ও নেমন্তন্নের ব্যাপারটা জানাল। " কি করি বল তো রোহণদা? যাব?" " নিশ্চয়ই যাবি। না হলে কেস প্রমাণ হবে কি করে?" " কিন্তু স্যারের বাড়িতে সেরকম সাঙ্ঘাতিক কোনও বিপদের মুখে পড়ি?" উত্তরে রোহণ খদ্দেরের পাঞ্জাবির তলায় হাত ঢোকাল। বের করে আনল একটা দোনলা শটগান। বলল, " এই দ্যাখ, নলকাটা দোনলা বন্দুক। দেশী, তবে কাজে বিদেশীকে টেক্কা দেবে। কিছুদিন ধরে শুনছিস না, পাশের নলডাঙায় ডাকাতি হচ্ছে। তাই গত মাসে এটা কিনেছি। এটা কাছ থেকে ফায়ার করলে বডি ফুটো করে একজোড়া গুলি বেরিয়ে যাবে। " এই বলে রোহণ চিকুর কাঁধে হাত রাখল। বলল, " তুই, প্রিয়াঙ্কা, তোরা পড়াশোনায় এ ক্লাস। দেশের ফিউচার। আর আমার কাজ কি জানিস? যে শয়তানের বাচ্চারা তোদের মতো ব্রাইট ছেলেমেয়েদের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে, তাদের খতম করা। হয় জানে নয় মানে খতম করে দেব।" শটগানটা উঁচিয়ে ধরল রোহণ। তাকাল পূর্ণিমার চাঁদের দিকে। বলল, " তোর কোনও ভয় নেই। চাঁদটা পুরোপুরি গোল হতে দে। তারপর দেখবি, জাঙ্গিকুলের সব গোলমাল থামিয়ে দেব।" চিকু অবাক হয়ে দেখছিল রোহণকে। বিশুদার দোকানের বালবের আলোয় রোহণের চোখ চকচক করছিল। পূর্ণিমার দিন ওরা কখন, কিভাবে হরিহরবাবুর বাড়ি যাবে, সব প্ল্যান কষে নিল। প্রিয়াঙ্কার সঙ্গেও এ ব্যাপারে কথা বলে নিল চিকু। তারপর ওরা পূর্ণিমার জন্য ওয়েট করতে লাগল। পূর্ণিমা আসতে তখনও ষোল দিন বাকি। ওরা দিন গুনতে লাগল ওরা, ষোল....পনের....চৌদ্দ....। পূর্ণিমা আসার দু চারদিন আগেই বর্ষা এসে উঁকিঝুঁকি মারতে লাগল জাঙ্গিকুলে। জলাপুকুরের জল বেড়ে উঠল, ঝোপ ঝাড়, আগাছাগুলো প্রকৃতির আস্কারা পেয়ে মাথাচাড়া দিতে লাগল। পথেঘাটে খানাখন্দে ঘোলা জল জমতে লাগল। বর্ষার সময় সবুজ গাছপালা থেকে এক অদ্ভুত গন্ধ পায় চিকু। সেই গন্ধে আকাশ বাতাস ছেয়ে গেল। বাঁশপাতি, কাঠঠোকরা, মাছরাঙা পাখিগুলো ঝকঝকে রঙ নিয়ে এখানে সেখানে উড়ে বেড়াতে লাগল। পূর্নিমার দিন সন্ধ্যে সাতটা নাগাদ চিকু আর প্রিয়াঙ্কা সাইকেল নিয়ে যখন হরিহরবাবুর বাড়ি এসে পৌঁছল, তখন বৃষ্টি বেশ জোরে পড়ছে। আশ পাশ থেকে ব্যাঙের কোরাস কান ঝালাপালা করে দিচ্ছে। গ্রিলের দরজার পাশে সাইকেল দুটো দাঁড় করিয়ে চিকু আর প্রিয়াঙ্কা ছাতা মাথায় দিয়ে বাড়ির দরজায় এসে দাঁড়াল। তারপর পেছন ফিরে রাস্তার দিকে তাকাল। একে বৃষ্টি, তায় রাস্তার আলোগুলো টিমটিম করে জ্বলছে। তা স্বত্তেও ওরা রোহণ আর ছোটকুকে দেখতে পেল। একটা জামগাছের আড়াল থেকে বেরিয়ে এসে ওদের দিকে হাত নাড়ল। তারপর তাড়াতাড়ি পা চালিয়ে ওরা হরিহরবাবুর বাড়ির কাছে চলে এল। রোহণ পলিথিনের একটা বর্ষাতি গায়ে দিয়ে এসেছে আর ছোটকুর মাথায় নীল রঙের পলিথিনের শিটের ঘোমটা। বৃষ্টির জল পড়ে চড়বড় চড়বড় শব্দ হচ্ছে। রোহণের ঈশারায় ছোটকু সুপুরিগাছের নীচে গিয়ে দাঁড়াল। রোহণ চাপা গলায় চিকু আর প্রিয়াঙ্কাকে বলল, " তোরা ভেতরে যা। আমি আর ছোটকু বাইরেই আছি। কান পেতে সব শোনার চেষ্টা করছি। কেস ডেঞ্জারাস হয়ে উঠলেই আমাদের ডাকবি। আমরা বাইরেই আছি। ভয় নেই।" রোহণ আর ছোটকু আড়ালে গিয়ে দাঁড়াল। চিকু কলিং বেল বাজাল। কাকিমা এসে দরজা খুলে দিলেন। ওদের দেখে স্নেহের সুরে বললেন, " ইস, অনেকটা ভিজে গেছ দেখছি। এসো ভেতরে, তোয়ালে দিয়ে গা হাত পা মুছে নেবে চলো।" কাকিমার পেছন পেছন ওরা পড়ার ঘরে এসে ঢুকল আর ঢুকতেই ভয়ে পাথর হয়ে গেল। হরিহরবাবু মেঝেতে আয়েশ করে বসে আছেন। পান চিবোচ্ছেন। দু চোখে শান্ত, নিশ্চল দৃষ্টি। যেন শিকার একেবারে আয়ত্তের মধ্যে চলে এসেছে। স্যারকে দেখেই প্রিয়াঙ্কা আর চিকুর সব সাহস উবে গেল। সাঙ্ঘাতিক ভাবে মনে পড়ে গেল আজ পূর্ণিমা। ( ক্রমশ) -----------------


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now