বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পেয়েও হারালাম
ধ্রুব খুব অবাক হয়ে মোবাইলের দিকে
তাকালো। প্রায় এক বছর পর তারার
নাম্বার থেকে কল। মোবাইলের
স্ক্রীনে খুব সুন্দর করে লেখা- STAR is
calling…
এক বছর আগে ধ্রুবর সাথে তারার ব্রেক
আপ হয়ে যায়। সব ঠিকঠাক, হঠাৎ এক
বৃহস্পতি বার রাতে তারা জানালো,
“আমি রিলেশনটা কনটিনিউ করতে
পারবো না। আমি সিরিয়াস।” ধ্রুব
আধো বিশ্বাস আধো অবিশ্বাসে
দুলতে দুলতে বললো, “কেনো? কী হইছে?
দুস্টামি বাদ দাও…”
তারা খুব নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে উত্তর
দিলো, “আমার আরো একজনকে ভাল
লেগেগিয়েছে, তার সাথে
রিলেশনও হয়েগিয়েছে। আমি সেটাই
কনটিনিউ করতে চাই। তুমি আমাকে
ক্ষমা করে দেও তোমার আমাকে
ভুলতে হবে।” বিশ্বাস করতে পারছিলো
না ধ্রুব। বললো, “আরে ধুর, ফাইজলামি
করো ক্যান!”
ফোন কেটে দেয় তারা। এরপর অনেক
চেষ্টা করেও আর যোগাযোগ করা সম্ভব
হয়নি তারার সাথে। সেদিন সারা
রাত দ্রুব তারার মোবাইলে কল করে
কিন্তু বার বার একই উত্তর আসে waiting…
waiting….। সকাল সাতটা পর্জন্ত! তারপর
সপ্তাহ দুয়েক পর দ্রুব খবর পেয়েছিলো,
তারা নতুন মানুষটিকে নিয়ে শুখেই
আছে। নিজেকে ধিরে ধিরে গুছিয়ে
নেয়। এ পর্যন্তই। তারা নামটা দ্রুবর
প্রতি রাতের চোখের জলে আর
ফোনবুকের ‘STAR’ নামের আড়ালেই রয়ে
গেলো।
এমন অদ্ভুত অপ্রত্যাশিত ব্রেক আপের পর
আজ আবার তারা কল। ধ্রুব বুঝে উঠতে
পারে না কী করবে। শেষমেষ কলটা
রিসিভ করলো।
-হ্যালো? (যতটা না অভিমান কিংবা
কষ্ট, তার চেয়েও বেশি কৌতুহল ভরা
কন্ঠে বললো।)
=কেমন আছো? (তারার কন্ঠটা আগের মত
আর বাচ্চা বাচ্চা নেই। নারীত্বের
ছাপ স্পষ্ট।)
-বেঁচে আছি। (রাগ আর কষ্ট নিয়ে উত্তর
দিল।)
=ধ্রুব আমি খুব সরি… (তারার কান্না
কান্না কন্ঠ!)
-বাদ দাও। তারপর কেমন আছো? খুব সুখেই
আছো নিশ্চয়? (তারার কথা শেষ না
হতেই ধ্রুব বলল।)
=আমি রিয়েলি অনেক সরি। প্লিজ..
(কেদে কেঁদে বলতে থাকল তারা!)
-বিএফ কেমন আছে? (রাগ আর কষ্ট নিয়ে
প্রস্ন করল।)
=ধ্রুব প্লিজ… আমাকে মাফ করে দাও…
(তারার হাহাকার করে কাননার শব্দ!)
-কেন আমার জীবন এভাবে ধ্বংস
করলে? কে দিয়েছিল এই অধিকার
তোমাকে? (ধ্রুব চিৎকার করে প্রস্ন করল!)
=স্টপ! স্টপ ইট! (ওপাশ থেকে চিৎকার
করে ওঠে তারা। সেই সাথে শোনা
গেলো কান্নার আওয়াজ…)
-“এমন করলা কেন আমার
সাথে?” (কান্নার শব্দ শুনে ধ্রুব শান্ত
হয়ে চুপ হয়ে গেল… শান্তভাবে বললো
ধ্রুব)
তারা কাঁদতে কাঁদতে অনেক কথা
বললো। কথাগুলোর সারমর্ম করলে যা
দাড়ায়, তা হচ্ছে- যে ছেলের সাথে
তারা রিলেশন করেছিল। সে
ছেলিটি তারা কে ছেরে অন্য
একজনের সাথে চলে গিয়েছে। কোন
কারন ছারাই নতুন করে নতুন মানুষের
সাথে ঘড় বাধছে। মাঝে তারার
সাথে বিয়েও হয়েছিল কিন্তু… আর
টিকেনি।
-“তুমি কোথায় এখন? দেখা করো
প্লিজ… এই মুহুর্তে…” (অভিমানী
প্রেমিকের সব দম্ভ নিমেষেই চুরমার
হয়ে গেল।)
দ্রুব কাঁদতে কাঁদতে বলতে শুরু করলঃ
আমি জানতাম আমি বাদে এ পৃথিবীর
কেউই তোমাকে বুঝবে না। তুমি কেন
আমাকে ছেঁড়ে চলে গেলে। বোকা
মেয়ে তুমি এত বোকা কেন? কান্না
থামাও আমি,… আমি আসছি এখনি তুমি
কোথায় আছ…। (দ্রুব আবার থেমে থেমে
বলল) এত কাঁদো কেন? অবশ্য ভালোই
হইছে। আমাদের সংসারে লবন কিনতে
হবে না। তোমার চোখের পানিতেই
রান্না হয়ে যাবে!
তারার কান্নার বেগ আরো বেড়ে
গেল। (চুপ করে সব শুনতে থাকল!)
-আমি আসছি এখনি তুমি কোথায় আছ…।
(ধ্রুব চিৎকার করে জানতে চাইল… )
কোন উত্তর ছাড়াই ফোনটি বিচ্ছিন্ন
হয়ে গেল। ধ্রুব চিৎকার করে কানতে শুরু
করল। মোবাইলে চার্জ শেষ। আরেকটা
মোবাইলে সিম ঢুকাতে ঢুকাতে ১০
মিনিট লেগে গেল। কিন্তু ঐ
নাম্বারে কল করে শুনতে পেল অন্য
একটি চির পরিচিত নারীর কন্ঠ… “the
number you have dialed, it is switch of” ।
দ্রুব এক রাত… এক দিন… এক সপ্তাহ… এক
মাস… এক বছর…. পর আজও ঐ নাম্বারে কল
করে কিন্তু আর খুজে পাইনি হারিয়ে
যাওয়া সেই তারাকে। প্রস্ন করে
হারিয়ে গিয়েছিলে আবার কেন
এলে? নিজেকে প্রতি মুহুর্তেই দোষ
দেয় মোবাইলের চার্জের কারনে আর
ভাবে তারা হয়ত বা ভুল বুঝেছে যে
আমি ওর ফোনে বিরক্ত হয়ে ফোনটা
কেটে দিয়েছিলাম। সুন্দর সাজানো
জীবনটা আবার অগোছালো হয়ে গেল।
এখন নিজের চোখের জলেও সে তারার
নোনা পানির স্বাদ পায়!
এই তো,… এই ছিল তারা আর ধ্রুবর গল্প…,
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now