বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সেদিনই সে খুন হয়

"ওয়েস্টার্ন গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান নাসরুল্লাহ (০ পয়েন্ট)

X সন্ধে যখন অনেকটাই নেমে গেছে, স্যাডলে চাপল ওরিন, কাফপেন বেয়ে নিচের ফসিল সিপ্রংসের দিকে নেমে গেল। পথ চলতে চলতে নিজের মোক্ষম চাল নিয়ে চিন্তাভাবনা করে সে। মার্শের হাতে গ্রেফতার হোক বা না হোক, সে এখন রাঞ্চেও নেই। এটাকে উপযুক্ত সময় ভেবে হামলা চালাতে পারে শত্রু। নানা বিচার-বিশ্লেষণ করে তাদের মনে হতে সে পালিয়েছে। বস্তুত, সে কার্টিসের রাঞ্চটা হাতিয়ে নেওয়ার মতলবেই এখানে এসেছিল, প্যালেন্স এমনটা ভেবেছে বলেই মনে হয়। অবশেষে ফসিল সিপ্রংসের ওপরে একটা ড্রয়ের কিনারে রাতের মতো বিছানা পাতল সে। ভীষণ ক্লান্ত হয়ে ছিল, গা এলিয়ে দেওয়ামাত্র ঘুমিয়ে পড়ল। চোখে সকালের রোদ নিয়ে জাগল সে। আকাশের বেশ অনেকটা উঁচুতে উঠে এসেছে সূর্য, উঁকি মারছে পাহাড়ের আড়াল থেকে। চট করে হাত-মুখ ধুয়ে নিল সে, কফি আর গরুর জার্কি দিয়ে হালকা নাস্তা সেরে স্যাডলে চাপল। যেখানেই যাক সে এখন, তাকে বৈরিতার মুখোমুখি হতে হবে। ইয়োলো জ্যাকেটে প্যালেন্সের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে তার ওপর সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে মানুষের। এতক্ষণে সবাই হয়তো এটাও জেনে গেছে, ইউএস মার্শাল তাকে খুঁজছে। অনেক চিন্তাভাবনার পর, পাহাড়-পর্বতের ভেতর দিয়ে নাগাড়ে পশ্চিমে এগোল সে, পরদিন রাত নাগাদ ছাউনি ফেলল টারেট বিউটের ভয়াল ছায়ায়। বছর কয়েক আগে ঠিক ওই জায়গাতেই রাতের আঁধারে পাহড়ের মাথায় উঠে অ্যাপাচিদের অতর্কিতে আক্রমণ করেন মেজর র্যান্ডাল, জয়ী হন যুদ্ধে। ধলপ্রহরে বিছানা ছাড়ল ওরিন, গোধূলির আলোয় জরিপ করল ইয়োলো জ্যাকেটের আশপাশ। শহরে কিছু প্রাণচাঞ্চল্য চোখে পড়ল ওর। দিনের এই সময়টার পক্ষে একটু বেশিই মনে হলো। হিচ রেইলগুলোয় একসারি ঘোড়া দাঁড়িয়ে, সবই জিন চাপানো। একটা খাঁজের মাথা থেকে দুরবিন লাগিয়ে ঘোড়াগুলো জরিপ করতে করতে ব্যাপারটা নিয়ে মাথা ঘামাল সে। মার্শাল রডনি মার্শ এত তাড়াতাড়ি ফিরতে পারার কথা না। এর অর্থ, এটা অন্য কোনো আয়োজন। এবং আয়োজটা যে সুসংগঠিত, সেটা এত দূর থেকেও পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে। দুরবিনের ভেতর দিয়ে আশেপাশের বাড়িঘর জরিপ করার সময়ে হঠাত্ একটা লোক তার নজরে এল। লোকটার পরনে একটা রঙ-জ্বলা লাল শার্ট। সালুনের নিকটবর্তী একটা বিল্ডিংয়ের পেছনের দরজা দিয়ে সন্তর্পণে বেরিয়ে রাস্তায় নামল সে, কাছেই আরেকটা দালানের পেছন দিকে লুকানো একটা ঘোড়ার কাছে গিয়ে স্যাডলে চাপল। এত দূর থেকে লোকটার পরিচয় বোঝার উপায় নেই। অদ্ভুত ভঙ্গিতে ঘোড়ায় চড়েছে লোকটা। দুরবিনের ভেতর দিয়ে ওরিন হঠাত্ বুঝতে পারল, কেন ঘোড়সওয়ারের ভঙ্গিটা আজব মনে হচ্ছে। পুবের লোকদের ধরনে ঘোড়ায় চড়েছে সে। এই ঘোড়সওয়ার পশ্চিমের কেউ না। কুঁজো হয়ে অলস ভঙ্গিতে বসেছে স্যাডলে, অশ্বারোহী সৈনিকদের মতো শিরদাঁড়া টানটান করে নয়। ঘোড়ার পিঠে কিছুটা সামনের দিকে চড়েছে লোকটা, মরুভূমি আর এবড়োখেবড়ো পাহাড়ি অঞ্চলের জন্য যা বিপজ্জনক হতে পারে। তবে লোকটার ঘোড়ায় চড়ার ঢঙের চেয়ে তার চোরের মতো পালিয়ে আসার ধরনটাই ওরিনের নজর কেড়েছে বেশি। কয়েক মিনিট পযর্বেক্ষণ করে সে বুঝল, লোকটা যে পথে শহর ছাড়ছে, তাতে অল্পক্ষণের মধ্যে সে যে খাঁজটার মাথায় রয়েছে, ঠিক তার নিচে চলে আসবে। নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে স্যাডল চাপানো ঘোড়াগুলোর ওপর থেকে নজর সরাল ওরিন, ধারণা করছে, আগুয়ান অচেনা ঘোড়সওয়ারের কাছে তার ধাঁধার জবাব মিলবে। পেট ঘষতে ঝোপের ভেতর অনেকটা নেমে গেল সে, উঠে খাড়া ঢাল ধরে নিচে নামল আরও কয়েক ধাপ, ট্রেইলের পাশে কতকগুলো বোল্ডারের পাশে আত্মগোপন করল। ভীষণ গরম ওখানে। হাওয়া নেই। অল্পতেই ঘাম ফুটল ওরিনের কপালে। তবে মিনিট খানেকের মধ্যে একটা ঘোড়া এগিয়ে আসার শব্দ পেল সে। চকিতে পিস্তল বের করল হোলস্টার থেকে, ট্রেইলের কিনারে নেমে গেল। এখন ঘোড়সওয়ারকে সপষ্ট দেখতে পাচ্ছে। পিয়ানোবাদক কিথ। বন্দুক উঁচিয়ে ওকে থামতে ইশারা করল ওরিন। ‘কোথায় যাচ্ছ, কিথ?’ প্রশ্ন করল শান্তস্বরে। ‘এত তাড়া কিসের?’ ‘আমি যাচ্ছি মার্শালের খোঁজে,’ কিথের গলায় আন্তরিকতা। ‘ময়নিহান আর প্যালেন্স মতলব করেছে, তোমাকে খোঁজার জন্য নিজেদের লোক পাঠাবে, আর সেই ছুতোয় দখল করে নেবে পিভটরক।’ ওপরে-নিচে মাথা ঝাঁকাল ওরিন। নিখুঁত ফন্দি, সন্দেহ নেই, তার আগেই অনুমান করা উচিত ছিল। ‘কিন্তু মার্শালের সঙ্গে রাস্তায়ই তো দেখা হওয়ার কথা ওদের?’ ‘না, অন্য ট্রেইল ধরে যাচ্ছে ওরা। জানে, মার্শাল কোন পথে এগোচ্ছে, কারণ তাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছে প্যালেন্স।’ ‘কিন্তু তোমার স্বার্থ কী এখানে? তুমি কেন এই বিপদে গলা বাড়াচ্ছ?’ ‘মোনা কার্টিসের জন্য,’ অকপটে বলল কিথ। ‘খুব ভালো মেয়ে ও। টনিও ভালো ছেলে ছিল। দুজনেই সব সময় ভালো ব্যবহার করত আমার সঙ্গে। টনির বাবাও করতেন। এটুকু যদি একজন বন্ধুর জন্য করতে না পারি, তাহলে আমি মানুষ কেন! তা ছাড়া, ওই শয়তান ময়নিহানের সব প্ল্যান আমার জানা।’ ‘আচ্ছা, ময়নিহানই তাহলে নাটের গুরু। প্যালেন্সের ভূমিকা কী এখানে?’ ‘ওই ব্যাটা একটা আস্ত উজবুক,’ অবজ্ঞার সুর ফুটল কিথের কণ্ঠে। ‘ময়নিহান ব্যবহার করছে ওকে, কিন্তু সেটা বোঝার মতো বুদ্ধি ওর ঘটে নেই। ও মনে করে, ওরা পার্টনার। কিন্তু কাজ ফুরালেই প্রিন্স ছেঁড়া জুতোর মতো ছুড়ে ফেলবে ওকে, যা সে সবার বেলাতেই করে থাকে। হার্ডিকেও ঝেড়ে ফেলবে।’ ‘আর রৌভকে?’ ‘হয়তো তাকেও। রৌভের একটা উপযোগিতা আছে, একটা পর্যায় অবধি।’ হ্যাটটা মাথার পেছনে ঠেলে দির ওরিন, হাতের পিঠে কপালের ঘাম মুছল। কোন পরিস্থিতিতে টনি কার্টিসকে হত্যা করে, সে তা ব্যাখ্যা করল পিয়ানোবাদককে, তারপর বলল, ‘কিথ, আমার ওপর তোমাকে বিশ্বাস রাখতে হবে। আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করছি মোনা কার্টিসকে সাহায্য করতে।’ দম নেওয়ার জন্য থামল ওরিন। ‘বিশ্বাস কর, আমি নিরুপায় ছিলাম তখন। জানই তো, বুলেট কখনো চেনা-অচেনা বাছবিচার করে না। যা-ই হোক, টনি বিশ্বাস করেছিল আমাকে। পাঁচ হাজার ডলার আমার হাতে দিয়ে অনুরোধ করেছিল, ওটা ওর স্ত্রীকে পৌঁছে দিতে।’ ‘পাঁচ হাজার?’ কিথ হতবুদ্ধি। ‘এত টাকা সে পেল কোথায়?’ ‘আমিও জানতে চাই সেটা,’ কবুল করল ওরিন। আরেকটা চিন্তা খেলল তার মাথায়। ‘কিথ, তুমি তো এই শহরে অনেক দিন; সব কিছুই বলতে গেলে জান। এই কোলাসো গ্র্যান্টের ব্যাপারে কিছু বলতে পার?’ একটু ইতস্তত করল কিথ, তারপর ধীরে ধীরে বলল, ‘ওরিন, এটা সমপর্কে আমি খুব সামান্যই জানি। একমাত্র প্রিন্স ময়নিহানই বলতে পারবে সব কিছু। আমার ধারণা, দুটো গ্র্যান্টের সব কাগজপত্র হস্তগত করেছে সে, যাতে কেউ কিছু প্রমাণ করতে না পারে।’ ‘তাহলে আমি ময়নিহানের কাছেই যাচ্ছি,’ কর্কশ কণ্ঠে জবাব দিল ওরিন। ‘এই রহস্যের জট আমি ছাড়াবই।’ ‘ময়নিহানের কাছে গেলে কিন্তু তুমি প্রাণে বেঁচে ফিরতে পারবে না। লোকটা অসম্ভব ধূর্ত। জাত র্যাটল স্নেক। মিষ্টি কথায় ভুলিয়ে ছোবল মারবে। তা ছাড়া রৌভ আছে।’ ‘জানি,’ স্বীকার করল ওরিন, ‘রৌভ আছে।’ পরিস্থিতি খতিয়ে বিচার করল সে, তারপর পলক তুলল। ‘মার্শালকে নিয়ে চিন্তা করবে না। তার ভার আমার ওপর ছেড়ে দাও। তার সঙ্গের সব লোক মোনা কার্টিসের শত্রু। ওরা তোমাকে কথা বলার সুযোগই দেবে না। তুমি অন্য রাস্তায় সোজা পিভটরকে চলে যাও। কেভিন পিটার্সনকে বলবে, কী ঘটছে। ময়নিহানের পসি দলটার কথা বলবে। আমি এখানকার কাজ সেরে, ফেরার পথ ধরব।’ কিথ চলে যাওয়ার পরও অনেকক্ষণ তার গমন-পথের দিকে তাকিয়ে থাকে ওরিন। সপষ্টতই প্যালেন্সের কোনো খবরের অপেক্ষায় রয়েছে পসি। ময়নিহাও কি যাবে ওদের সঙ্গে? খুব হুঁশিয়ার আদমি সে। ইয়োলো জ্যাকেটে অপেক্ষা করবে। একজন নিরীহ দর্শকের ভূমিকায় দেখা যাবে তাকে, বরাবরের মতো… মাইল কয়েক যাওয়ার পর, আচমকা রাশ টেনে কিথ থমকে দাঁড়াল। প্রিন্স ময়নিহানের গোপন পরিকল্পনা ওরিনকে জানাতে ভুলে গেছে সে। টমাস হার্ডিকে দোতলার কোনো জানালায় নয়তো ছাতে লুকিয়ে রাখবে ওরা, রৌভের সঙ্গে ডুয়েলের সময়ে ওরিনকে অ্যামবুশ করার জন্য। বেশ কিছুক্ষণ স্যাডলে ঠায় বসে থাকল কিথ, চোখে উদ্বেগ, কপালে কুঞ্চন। এখন ফিরে গেলে অনেক সময় নষ্ট হবে; তা ছাড়া, ওরিনকে এখনো আগের জায়গাতেই পাবে, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। ওরিন ওসমানকে তার নিজের ভাগ্য নিজেরই সামলাতে হবে। দুঃখ-ভারাক্রান্ত মনে সামনের ভাঙাচোরা পাহাড়ি এলাকার উদ্দেশে ঘোড়া ছোটাল কিথ… কার্ল রৌভ স্যালুনের পেছনের কামরায় আবিষ্কার করল ময়নিহানকে। দরজা খোলার শব্দে চকিতে পলক তুলল ময়নিহান। তারপর রৌভকে দেখে মাথা ঝাঁকাল। ‘তোমাকেই আশা করছিলাম, কার্ল। আমি চাই, তুমি কাছে-পিঠেই থাক। আমার ধারণা, আজ অথবা কাল এখানে মেহমানরা আসছেন।’ ‘মেহমানরা?’ ময়নিহানের মুখে সঙ্কেত খুঁজল রৌভ। ‘না, বরং বলা উচিত একজন মেহমান। ওরিন ওসমানকে প্রত্যাশা করছি আমি।’ সম্ভাবনাটা মনের মধ্যে নাড়াচাড়া করল কার্ল রৌভ। হ্যাঁ, প্রিন্সের অনুমানই ঠিক। ওসমান আত্মসমর্পণ করবে না। বরং শহরে এসে প্যালেন্সকে মোকাবেলা করাটাই ওর মতো মানুষের পক্ষে স্বাভাবিক। জনা তিন-চারেক লোক ছাড়া কেউ জানে না পিভটরক-জটিলতার সঙ্গে ময়নিহানের সমপর্কের কথা। প্যালেন্স এবং হার্ডি ওর ব-কলম হিসেবে কাজ করছে। হার্ডি, প্যালেন্স, রৌভ, এবং কিথ। কিথ লোকটা বুদ্ধিমান। মাতাল, গোবেচারা পিয়ানোবাদক হতে পারে, কিন্তু তার কাঁধের ওপর একটা মাথা আছে। সহসা মনে মনে চমকে উঠল রৌভ। আশেপাশে কোথাও কিথকে দেখা যাচ্ছে না। বেশ কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই প্রথম কিথকে সে বারে পায়নি। কিথ উধাও হয়েছে। কিন্তু কোথায় যেতে পারে? পসির ব্যাপারে মোনা কার্টিসকে সাবধান করতে গেছে? গেলই বা? মোনা কার্টিসের সঙ্গে তার কোনো শত্রুতা নেই। সে ভাড়াটে বন্দুকবাজ। অর্থের বিনিময়ে লড়াই করে। হতে পারে, এই লড়াইয়ে সে ভুল পক্ষে আছে। কথাটা ভাবতে ভাবতে ওরিন ওসমানের কথা মনে পড়ল তার। লোকটা ক্ষুরের মতো ধারালো। একহারা, ক্ষিপ্র। এখন এগুলো স্মরণে আসায় রৌভের আরও মনে পড়ল, লোকটা সমপর্কে সে আর কী কী শুনেছে। কেউ তার চেয়েও দক্ষ গানফাইটার হতে পারে, এটা স্বীকার করতে কার্ল রৌভের বাধে। হার্ডির বিপক্ষে ওরিনের ড্র করার ঘটনাটা এখনো শহরবাসীদের মুখে ফিরছে। ব্যাপারটায় রৌভ বিরক্ত, কারণ মানুষ ওদের দুজনার মধ্যে তুলনা করতে শুরু করেছে। কারও কারও মতে ওরিন বেশি ক্ষিপ্র। সম্ভাবনাটা তাকে খোঁচাচ্ছে। আগে ওরিনকে মোকাবেলা করবে সে, তারপর নিজের পথ দেখবে। ‘তোমার মনে হয় না ও আসবে এখানে?’ ময়নিহান প্রশ্ন করল, রৌভের দিকে তাকিয়ে। মাথা ওপরে-নিচে দোলাল রৌভ। ‘হ্যাঁ, আসবে। হার্ডি বা প্যালেন্সকে সে বাজারে বেচতে পারে। আমার ধারণা, ওই ইউএস মার্শালের চেয়েও বেশি বুদ্ধি ধরে ওসমান।’ ওরিনকে একাই সামলাবে রৌভ। টমাস হার্ডি শহরের বাইরে। নিজের নিয়তিকে কার্ল রৌভ একাই মোকাবেলা করতে চাইল। স্যাডল চাপানো ঘোড়াগুলো দেখছে ওরিন এসমান। একজন ইন্ডিয়ানের ধৈর্য্য তার। জানে, কীভাবে অপেক্ষা করতে হয় এবং কীভাবে উদ্বেগ ঝেড়ে ফেলতে হয়। এখন অপেক্ষা করছে সে। পেশিগুলোকে বিশ্রাম দিচ্ছে। এতে করে বিপদের সময়ে সর্বদা টানটান থাকে তার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়, চূড়ান্ত মুহূর্তের কথা বলে দেয় কানে কানে। অভিজ্ঞতা থেকে সে বুঝতে পারছে, পরিস্থিতি বিস্ফোরণের বিন্দুতে পৌঁছেছে। মার্শাল ফিরে আসবে। প্যালেন্স এবং হার্ডির কৌশলে পসির সঙ্গে দেখা হবে না তার। আর ওই ঘোড়সওয়ারের দল, যাদের বেশির ভাগই, সন্দেহ নেই, জ্যাক প্যালেন্সের ভাড়াটে গুন্ডা, নয়তো দালাল। তারা হিংস্র নেকড়ের মতো হামলা চালাবে পিভটরকে, ওরিন ওসমানকে খোঁজার নামে ঠান্ডা মাথায় খুন করবে রাঞ্চের সবাইকে। এখন কিথ ওদেরকে ঠিক সময়ে সতর্ক করে দিলেই হয়। অত্যাসন্ন বিপদের কথা জানতে পারলে, কেভিন পিটার্সন বা হাডসনের নেতৃত্বে যথাযথ পাল্টা ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হবে ওরা। মার্শাল সমস্যার একটা শুঁড়, কিন্তু এর প্রাণ ইয়োলো জ্যাকেটে। প্রিন্স ময়নিহান আর কার্ল রৌভকে যদি সরিয়ে দেওয়া যায়, শুঁড়গুলো আপনা থেকেই শুকিয়ে অক্কা পাবে। সুউচ্চ মোগাইওন রিমের পেছনে, পিভটরকে যত বড় বিপদই ঘনিয়ে আসুক না কেন এ মুহূর্তে, চূড়ান্ত আঘাত হানতে হবে এই ইয়োলো জ্যাকেটেই। গড়িয়ে উপুড় হলো ওরিন, চোখে দুরবিন লাগাল। ইয়োলো জ্যাকেট স্যালুন থেকে বেরিয়ে আসছে কয়েকজন লোক, ঘোড়ায় চাপছে। নিঃসাড়ে শুয়ে, ওরিন ওদের যাওয়া দেখল। কমপক্ষে তিরিশজন হবে। বেশিও হতে পারে। যখন নিশ্চিত হলো সবাই চলে গেছে, ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল সে, হাত দিয়ে জামাকাপড়ের ধুলো ঝাড়ল। তারপর ঢালের নিচে নেমে গিয়ে, উঠে বসল স্যাডলে। নীরবে ছুটে চলে সে, একটা হাত ঊরুর ওপর পড়ে, দৃষ্টি সজাগ, ছবি গেঁথে নেওয়ার জন্য মস্তিষ্ক তৈরি। ইউএস মার্শালকে নিয়ে ভাবল সে। রডনি মার্শ নীতিপরায়ণ মানুষ। নতুন দেশে শুরুতে বসতি করা মানুষ। পশ্চিম এবং সেখানে জন্ম নেওয়া মানুষদের জানেন। তিনি নির্বোধ নন, বরং যথেষ্ট বুদ্ধিমান, হুঁশিয়ার লোক। আইন প্রয়োগের ব্যাপারে ভীষণ কঠোর, আবার তেমনি পুরুষের স্বভাববৈশিষ্ট্যগুলোও ভালোই বোঝেন। দক্ষিণী জীবনবিশ্বাসের আদি রীতি-নীতিগুলোকে তিনি শ্রদ্ধা করেন। আর তাই ওরিন যখন বলেছিল, মোনা কার্টিসকে রক্ষা করা তার জন্য ফরজ, কারণ সে তার স্বামীকে হত্যা করেছে, তখন বিষয়টার তাত্পর্য মার্শাল উপলব্ধি করেছিলেন। কিন্তু যা হয়ে থাকে, দীর্ঘ সময় অনুশাসনের মধ্যে বেড়ে উঠলে তিনি কেতাবি আইনের বাইরে যেতে পারেননি। লিভারি স্টেইবলে ঘোড়া ঘোরাল করল ওরিন। ওকে দেখে তীক্ষ দৃষ্টিতে তাকাল জনি। ‘সাবধান থাকলেই ভালো করবে তুমি,’ সতর্ক করল আস্তাবলের মালিক। ‘সারা দুনিয়া তোমাকে খুঁজছে, তোমার রক্তের জন্য হন্যে হয়ে আছে ওরা!’ ‘জানি। রৌভ কোথায়? শহরেই?’ ‘অবশ্যই! ওই খুনিটা ময়নিহানকে ছেড়ে কোথাও নড়ে না।’ ওরিনের মুখ জরিপ করল জনি। ‘রৌভের সঙ্গে ঝামেলা কোর না, ওসমান। ওর কিন্তু দু-হাতই সমান চলে।’ ‘জানি।’ ওরিন কিছুক্ষণ অপলকে দেখল ওর ঘোড়াটাকে। ছায়াচ্ছন্ন একটা স্টলে জনি বেঁধে রাখছে ওকে। কী মনে হতে জনির উদ্দেশে ফিরল সে। ‘জনি, তুমি সব সময় আমার সঙ্গে বন্ধুর মতো আচরণ করেছ। আমি এটা কখনো ভুলব না। আজকের পর, এই শহরে নয়া জমানা চালু হতে যাচ্ছে, তবে আজ আমার সাহায্য দরকার। পিভটরক সমপর্কে তুমি কী জান?’ সামান্য দ্বিধা করে লোকটা, তামাক চিবোয় আস্তে আস্তে। তারপর এক দলা পিক ফেলে সোজা তাকাল ওরিনের দিকে। ‘কথাটা বলার জন্য আজতক পাইনি কাউকে,’ বলল সে, ‘তবে দুটো জিনিস আমি বুঝি। জমিটা বুড়ো কার্টিসের এবং তার মৃত্যুটা দুর্ঘটনা ছিল না। তাকে খুন করা হয়েছে।’ ‘খুন?’ ‘হ্যাঁ।’ মুখ বিকৃত করল জনি। ‘দামি মদ পছন্দ করত সিনিয়র; কোথাও পেলে লোভ সামলাতে পারত না। সেদিন ওর সঙ্গে পরম সুহূদের মতো আচরণ করে ময়নিহান, একত্রে মদ খাওয়ার দাওয়াত দেয় এবং বুড়ো তা কবুল করে।’ ‘এর খানিক পর এখানে এসে একটা ঘোড়াগাড়ি ভাড়া করে বুড়ো, কারণ ওর ঘোড়াটা খোঁড়া হয়ে গিয়েছিল। আমি দেখলাম, কয়েকবারের চেষ্টায় সে উঠে বসল গাড়িতে। একবার তো পড়েই যাচ্ছিল মুখ থুবড়ে।’ ‘মাতাল ছিল?’ ওরিনের চোখ সজাগ, উত্সুক। ‘ওই বুড়ো?’ নাক দিয়ে বিজাতীয় একটা শব্দ করল আস্তাবলের মালিক। ‘আস্ত পিপে ছিল। একটা টার্কি যত খুদ খেতে পারে, ও তার চেয়ে বেশি মদ গিলতে পারত এক বৈঠকে। কিন্তু সেদিন মাত্র এক পেগ খেয়েছিল, জিজ্ঞেস করে জেনেছিলাম, অথচ ওই টুকুতেই হাঁটতে পারছিল না!’ ‘তার মানে, কিছু মেশানো হয়েছিল পানীয়তে।’ মাথা ঝাঁকাল ওরিন। নিশ্চয় ময়নিহানের বুদ্ধি। ‘তারপর কী হলো?’ ‘কার্টিস নিহত হওয়ার পর পথ হারানো ঘোড়াগুলোকে যখন ফিরিয়ে আনা হয়, আমি ওদের একটার পাছায় বুলেট ঘষার দাগ দেখেছিলাম।’ হুম্, ব্যাপারটা তাহলে এ-ই। নেশাচ্ছন্ন একজন মানুষ, একদল চঞ্চল ঘোড়া এবং একটা বুলেট, যা ঘোড়াগুলোকে দিশেহারা করার জন্য যথেষ্ট। প্রিন্স ময়নিহান নিঃসন্দেহে পাকা খেলোয়াড়। ‘তুমি বলছিলে তুমি নিশ্চিত, ওই জমির মালিক কার্টিস। কীভাবে নিশ্চিত হলে?’ কাঁধ ঝাঁকাল জনি। ‘কারণ সে অপর মালিকানাটার ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিয়েছিল। নিশ্চয় ঝামেলার খবর তার কানেও গিয়েছিল। আমরা যদি শুনে থাকতে পারি, তার না জানার তো প্রশ্নই ওঠে না!’ ‘যা-ই হোক, রাঞ্চে ফেরার সময়ে সব কাগজপত্র তার সঙ্গেই ছিল। আমাকে দেখিয়েছিল ওগুলো; সব প্রমাণ।’ ‘এবং সেদিনই সে খুন হয়? লাশ আবিষ্কার করেছিল কে?’ ‘টম হার্ডি। ওই পথেই যাচ্ছিল সে, অনেকটা কাকতালীয়ভাবে।’ মোনার দলিলপত্র প্রিন্স ময়নিহানের কব্জায়। যে করেই হোক, প্রিন্সের সঙ্গে মোলাকাত করতে হবে তাকে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now