বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
-ওরে বাবা , এইভাবে তাকাস না প্লিজ ! (নীল)
-কেন রে ? (ছোঁয়া)
-ভেতরটা কেমন জানি একটা করে উঠে ।
-কেন তোর দিকে বুঝি কেউ এইভাবে কোনদিন
তাকায়নি ?
-নারে !
-এএএএ..... মিথ্যা বলার আর জায়গা পাস না ।
-আচ্ছা যা বুঝলাম ।
-কি বুঝলি ? আর এমন ভাবে বললি যেমন ঠেকায়
পরে বলছিস ''আচ্ছা যা ভালবাসি ''
-কিহ ? ভালবাসি আমি তোকে ?
.
নীল চুপ করে ওঠে চলে যাচ্ছে , আর ছোঁয়াও
ওকে ডাকেনি কারণ ডাকলেও লাভ নেই ও
যেতেই থাকবে । অসম্ভব রকমের এক রোখা
একটা ছেলে নীল ।
.
আর সত্যিই এই পর্যন্ত কোন মেয়ে নীলের
দিকে এইভাবে রাগি চোখে তাকায়নি । কারন নীল
একটু অন্যরকম ।
অবশ্য একটা সময় খুব করে চাইত কেউ তার দিকে
রাগি দৃষ্টিতে তাকাক ।
আর এইদিকে ছোঁয়াই একমাত্র নীলের দিকে
এইভাবে তাকানোর অধিকার রাখে ।
নীল আর ছোঁয়া খুব ভাব বন্ধু , একে অপরকে
ছাড়া চলবেই না ।
ছোঁয়া নীলকে খুব পছন্দ করে আর নীল ও
ছোঁয়াকে ।
কিন্তু কেউ কোনদিন কাউকে অন্য চোখে
দেখেনি ।
সামনে সেমিস্টার পরীক্ষা আর এর মাঝেই নীল
হঠাৎ করে এক্সিডেন্ট করে । আর ওর ফোনটা
হারিয়ে যায় ।
ছোঁয়া তাকে হন্য হয়ে খুঁজতে থাকে , কারন
নীলের ফোন বন্ধ আর ওর বাসাও ছোঁয়া চিনে
না ।
.
অনেক প্রচেষ্টার পর ছোঁয়া নীলের বাড়ির ঠিকানা
পায়.....
.
কোন এক সকালে নীল ঘুম ভাঙার পর চোখ
খুলেই দেখে ছোঁয়া রাগি চেহারা নিয়ে নীলের
দিকে এমনভাবে তাকিয়ে আছে যেন ওকে
আজকে শেষ করেই ফেলবে ।
নীল কিছু বুঝে ওঠার আগেই ব্যাপক জোরে
জোরে বলতে লাগল .....
.
-কুত্তা , বিলাই , হারামী , গাধার সরদার তোর সাথে
কোন কথা নাই !
নীল কিছু বুজে উঠতে পারছিল না কি বলবে ।
শুধু বলল ...
.
-তুই এখানে ?
-হ্যাঁ আমি , কেন অন্য কেউ আসার কথা ছিল বুঝি ?
.
এই সময় ছোঁয়ার ডাক পড়ল-ছোঁয়া মা এইদিকে
আসো ,
নীলের জন্য চা টা নিয়ে যাও তো ।
.
এই রে ! মারছে পুরাই । মার গলা কিন্তু ছোঁয়াকে
এতো আদর করে ডাকার মানেটা কি আর কে
জানে আমার সম্বন্ধে কি কি বানিয়ে বলছে মার
কাছে ।নীল এইসব ভাবতে ভাবতেই চা হাতে
ছোঁয়ার আগমন ।.
-এই নিন স্যার , আপনার চা ।
চিন্তিত মনে , কম্পিত হস্তে চায়ের কাপটা হাতে নিল
নীল ..
আর বলল
-এইযে মহারানি ! সকাল সকাল আমার বাড়িতে কি অকাজ
করতে আসছিস বলতো ?
-তার আগে বল তুই এইভাবে হারিয়ে গেলি কেন ?
-হারালাম কই ? আছিতো ।
-ন্যাকামো করিস না , তোর ফোন অফ আর আমি
তোর বাসার ঠিকানাও জানি না । আমি এতদিন কি করে
ছিলাম তুই এটা বুঝিস ??
-না তো ! বুঝিনা ।
-বুঝবি কি করে ? আমি তো তোর কেউ না ।বানর
কোথাকার সবার প্রবলেম সলভ করে বেরাস আর
এই কাছের মানুষের মনের কথাটা বুঝতে পারিস না ।
এই কথাটা বলতে বলতে কখন যে ছোঁয়ার
চোখের কোনে জল জমা হয়ে গেছে তা
ছোঁয়া খেয়ালই করেনি ।
.
নীল এবার হয়তো বুঝে গেছে ছোঁয়া তাকে
কতটা ভালবাসে তাই আলতো করে ছোঁয়ার হাতটা
ধরল , আর বলল এমনভাবে সারাজীবন ভালবাসবি
তো ?
ছোঁয়া কিছু বলছিল এইবার সত্যি সত্যিই মেয়েটি
কেঁদে দিল । চোখের পানি অভিমানী দুটি গাল
বেয়ে বেয়ে পরতে লাগল ।
পানির ফোটা মাটিতে পরার আগেই নীল হাত
পেতে তা ধরে ফেলল ।
আর বলল এমনিভাবেই তোর চোখের পানিকে
আগলে রাখব কখনও নিচে পরতে দিব না ।
ছোঁয়া আর কিছু বলল না ,নীলের বুকে মাথা গুঁজে
দিল ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now