বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ছেলেটা চোখ দুটো বড় বড় করে হা করে কিছুক্ষন আমার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল।সেলফোনটা তখন ছেলেটার কান থেকে হাতে চলে এসেছে।কিছুক্ষন অবাক হয়ে তাকিয়ে থেকে ছেলেটা ফোনটা কানে নিয়ে ওপাশে অপেক্ষারত মানুষটাকে কি যেন বলে ফোনটা রেখে দিল।তারপর রাগে অগ্নিমূর্তি হয়ে একেবারে ছাদের কার্নিশটার কাছে এসে আমাকে চেঁচাতে চেঁচাতে বলল
-কি?কি বললেন আপনি?
আমার কাছ থেকে বাড়ীওয়ালার নাম্বার নিয়ে আপনি আমার নামেই নালিশ করবেন?
-হুম করব।আপনি ছাদে দাড়িয়ে দাড়িয়ে এতক্ষন যাবৎ কার সাথে কথা বলছেন?জানেন না,বাড়ীওয়ালার নিষেধ ছাদে দাড়িয়ে টাংকি মাড়া যাবেনা?
-আমি টাংকি কোথায় মাড়ছি?আমিতো ফোনে কথা বলছি!
-ঐ একই হল,ছাদে দাড়িয়ে ফোনে কোন মেয়ের সাথে টাংকি মাড়ছেন।
-এই মেয়ে এই,টাংকি আবার কি?এটা কি ধরনের শব্দ?তোমার বাবা মা তোমাকে ভদ্রতা শেখায় নি?
-হোয়াট ননসেন্স!আপনি আমার বাবা মাকে টানলেন কেন এখানে?এখানে কি বাবা মা এসেছে?
আর আপনিই বা কোথাকার ভদ্রের দাদাশ্বশুড় শুনি,একটু আগেইতো আপনি আপনি করে ডাকছিলেন।এখন আবার তুমি ডাকলেন কেন?
আপনার বাবা মা আপনাকে এটা শেখায়নি যে অপরিচিতদের আপনি করে বলতে হয়?
-এই মেয়ে এই।মুখ সামলে কথা বল বলছি।আমার বাবা মা তুলে কথা বললে খুব খারাপ হয়ে যাবে
কিন্তূ।আর তাছাড়া তুমি আমার জুনিয়র হবা।তোমাকেতো আমি তুমি করেই বলব।
-এঁহহহহহ।নিজে অন্যের বাবা মা তুলে কথা বলতে পারবেন আর আপনাকে কেউ বলতে পারবেনা।আর আমি আপনার জুনিয়র তাহলে আগে আপনি করে বলতেন কেন?
-তখন আপনি অপরিচিত ছিলেন তাই।আজতো দ্বিতীয় ঝগড়া আপনার সাথে তাই কিছুটা পরিচিত হলেন না?তাই তুমি করে বললাম।
-হুম ।দেখেছেন,কেমন ঝগড়াটে আপনি?আজ নিয়ে দুদিন ঝগড়া লাগলেন আমার সাথে।
-কি!আমি ঝগড়াটে?এক হাতে কি তালি বাজে?
-ওহ।তার মানে স্বীকার করছেন যে আপনারও দোষ আছে?
-আজকের ঝগড়াটাতো তুমিই সৃষ্টি করলে
-হুম করেছি।বেশ করেছি।ঐদিন আপনি পায়ে পাড়া দিয়ে লেগেছিলেন।আর আজ আমি লাগলাম।
.
আমার কথা শুনে ছেলেটা মুখে কি যেন বিড়বিড় করতে করতে চলে গেল।
.
ব্যাটাকে একটু জ্বালাতে পেরে ভালই লাগছে।ঐদিন ভার্সিটি থেকে ফেরার পথে বাসের মধ্যে ভুলবশত উনার পায়ে একটু পাড়া লেগেছিল বলে আমার সাথে কি ঝগড়াটাই না করল..... সাথে সাথে সরি বলেছিলাম তাও ছাড়লনা।এতগুলো মানুষের সামনে আমাকে বলে আমি নাকি দিনকানা।.
এই বদমায়েশটা আমাদের মেসের পাশের মেসেই থাকে।অবশ্য দুটো মেসেরই মালিক একজনই।ছাদে উঠলেই ছেলেটাকে দেখা যায় ।
.
আজ ছাদে দাড়িয়ে ওকে ফোনে কথা বলতে দেখেই ওকে একটু জ্বালানোর
ইচ্ছা হল।তাই বাড়ীওয়ালার নাম্বার আমার কাছে থাকা সত্বেও ওর কাছে চাইলাম।আর নাম্বার নিয়েই বললাম যে,এবার বাড়ীওয়ালাকে বলব যে,আপনি ছাদে দাড়িয়ে টাংকি মাড়েন।
.
হি হি হি।কত বড় শয়তান আমি।ভাবতেই হাসি পাচ্ছে।আমার সাথে বাদড়ামি,না?এবার ব্যাটা বুঝবে যে,আমিও লাগতে পারি।দিলামতো ওর কথা বলার মুডটা নষ্ট করে।
অামরা এতক্ষন দুজন দুই বাসার ছাদে থেকে ঝগড়া করছিলাম।
.
বাড়ীওয়ালা আমাদের মেসের নীচতলায় থাকে।ঐ মেসের ছেলেরাও এখানে এসে ভাড়া দিয়ে যায়।
.
আজ আমি ভাড়া দিতে গিয়ে বাড়ীওয়ালা আংকেলের ড্রাইনিং রুমে অপেক্ষা করছিলাম।আংকেল এসে মাত্র আমার টাকাটা নিচ্ছিলেন,ওমনি ঐ বজ্জাত ছেলেটাও এসে হাজির।খুড়িয়ে খুড়িয়ে এসে রুমে প্রবেশ করল।
.
ওকে দেখেই আংকেল অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল
-আরে সামি,তোমার পায়ে কি হয়েছে?এভাবে হাটছ কেন তুমি?
.
বজ্জাতটার নাম তাহলে সামি।এখনতো ওর নাম জানি।তাহলে নাম ধরেই বলি.....
আংকেলের কথা শুনে সামি আমার দিকে তাকিয়ে একটা ভেংচি কেটে বলল
-আর বইলেন না আ্রংকেল এক বজ্জাত মেয়ে হিল জুতা পড়ে পায়ে পাড়া দিয় এই অবস্থা করেছে আমার।
.
আমি ওর পায়ের দিকে তাকিয়ে দেখি পাটা আসলেই অনেকটা ফুলে আছে।
.
মনে মনে খুব মায়া হল।ভাবলাম একেতো বেচাড়ার পায়ে ব্যাথা দিলাম তার উপর কাল ইচ্ছাকৃতভাবে ঝগড়া লাগলাম।নাহ!কাজটা
ঠিক হয়নি।ওকে আরেকবার সরি বলতে হবে।
.
ও পরে এসেও আগে ভাড়া দিয়ে চলে গেল।আমি আংকেলের সাথে আমাদের বাথরুমের দরজা যে ভেঙে গেছে সে ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে দু মিনিট দেরী হল।ভাবলাম ওরতো পায়ে ব্যাথা। আস্তে আস্তে হেটে যেতে ওর লেইট হবে।পেছন থেকে দৌড়ে গিয়ে সরিটা বলে দেব।
.
তাড়াহুড়া করে আংকেলের রুম থেকে বের হয়ে যা দেখলাম তাতে ওকে সরি বলার ইচ্ছাটাতো নষ্ট হলই,আগের পাড়াটাতো ডান পায়ে দিয়েছিলাম।ইচ্ছে হচ্ছে হিল পড়ে গিয়ে এবার ওর বাম পায়ে একটা পাড়া দিয়ে আসি।
.
গিয়ে দেখি ও আমার গাছে ফোঁটা একমাত্র কসমস ফুলটা ছিঁড়ে ফেলেছে।
.
আমারতো তখন প্রেসার লো থেকে হাই।দৌড়ে গিয়ে বললাম
-এই যে মিষ্টার!আপনি আমার গাছের ফুলটা ছিড়লেন কেন?
-এটা তোমার গাছ হতে যাবে কেন?এটাতো বাড়ীওয়ালা আংকেলের গাছ।
-কে বলেছে আপনাকে এটা বাড়ীওয়ালার গাছ? এটা আমি লাগিয়েছি টবের মধ্যে।আমার মন মেজার খারাপ থাকলে কসমস ফুলের গায়ে হাত বুলিয়ে দিলে আমার মন ভাল হয়ে যায়।তাই আমি যেখানেই থাকি কসমসের গাছ লাগাই।
-তো ছাদে না রেখে এখানে কেন?
-কারন কসমসের গাছৈ খুঁটি না দিলে হেলে পড়ে।
-ওহ।তার মানে এটা তোমারই গাছ।তাইতো বলি এই গাছের ফুলগুলো দেখতে এমন কেন!কসমস ফুলতো আরো সুন্দর হওয়ার কথা।ফুলের
মালিই যখন কুৎসিত।তখন ফুলগুলো আর সুন্দর হয় কিভাবে?
-কি!!!!!!!!!! আমি দেখতে কুৎসিত?আর আমি এই ফুল গাছটার মালি?
-যে ফুল গাছের দেখাশুনা করে তাকেতো মালিই বলে।আর তুমি দেখতে যা তাই বললাম।কেন?কখনো আয়নায় মুখ দেখনি?
-একদম বাজে কথা বলবেন না বলছি।আমি দেখতে যথেষ্ট সুন্দরী।আর কেউ একটা ফুলের গাছের কেয়ার করলে মালি হয়ে যায়না।মালিরাতো পুরু বাগান দেখাশুনা করে।
-আরে ঐ একই কথা হল।যাই.... আমার আবার ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।ওমাগো!পায়ে যা ব্যাথা না.... ।
.
কথাটা বলেই ও গেট দিয়ে পা টেনে টেনে বেরিয়ে গেল।আমি পেছন থেকে ডাকলাম
-কি ব্যাপার! আমার ফুলটা নিয়ে যাচ্ছেন কেন? ফুলটা দিয়ে যান বলছি....
.
ও আমার দিকে না তাকিয়ে কেবল যেতে যেতে বলল এত কষ্ট করে খুড়িয়ে খুড়িয়ে গাছটার দিকে এগিয়ে গিয়ে ফুলটা সযত্নে ছিঁড়েছি কি দিয়ে যাবার জন্য?
মনে মনে সাইম্যা হাড়ামিকে গালি দিতে দিতে রুমে চলে গেলাম।
.
বিকেলবেলা একা একা ছাদে গিয়ে কার্নিশের গা ঘেঁষে দাড়িয়ে পাজল বক্স মেলানোর বৃথা চেষ্টা করছিলাম।
.
এই চেষ্টাটা আমি অনেকদিন যাবৎ করে আসছি।কিন্তূ আজ অব্দি আমি কখনো পাজেল বক্সটা মেলাতে পারিনি।এটা নিয়ে আমার মনে ক্ষোভের শেষ নেই। তবে আজ জেদ করে লেগেছি,যে করেই হোক আজ এটা মিলাবই।
.
প্রায় আধা ঘন্টা চেষ্টা করার পরও যখন পারছিলাম না তখনি পাশের ছাদ থেকে এহেম এহেম কাশির শব্দ শুনে ঐ ছাদের দিকে তাকালাম।দেখি ঐ লেংড়া সামির বাচ্চাটা দাড়িয়ে আছে।আমি তাকাতেই বলল
-আমিনা অবাক হয়ে যাচ্ছি জানো?
-কেন?অবাক হচ্ছেন কেন?(রাগি মোডে)
-যে মেয়ে একটা পাজল বক্স মেলাতে পারেনা,তার এত ভাব কেন থাকবে?
-হোয়াট?আমি ভাব নেই?
-তো কি?নিজে বুঝেন না?
-আচ্ছা,তো আপনি বুঝি খুব মেলাতে পারেন?
-অবভিয়াসলি....
-তো মিলিয়ে দেখানতো
-হুম।তো পাজলটা আমার দিকে ছুড়ে দিন।আমি পাঁচমিনিটের মধ্যে মিলিয়ে দিচ্ছি
.
ইচ্ছে না থাকা সত্বেও জেদের জন্য পাজল বক্সটা ওর দিকে ছুড়ে মারলাম।যেহেতু দুটো ছাদের মাঝে ছয়-সাত গজের মত ফারাক তাই আমার বক্সটা ছুড়তে সমস্যা হলনা।
.
বক্সটা ও হাতে নিয়েই হা হা করে অট্রহাসিতে ভেঙে পড়ল।আমিতো ওর মুখের
দিকে তাকিয়ে হা করে দাড়িয়ে আছি।
ওর হাসি দেখে খুব রাগ হচ্ছিল।তাই কোমরে দুহাত চেপে রাগী একটা মোড নিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম
-হাসছেন কেন আপনি?
ও জোড় করে হাসি একটু থামিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল
-তোমার মত বোকা মেয়ে পাজল কি করে মেলাবে বল!তুমি কি করে ভাবলে যে আমি এটা তোমাকে ফেরৎ দেব?আফটার অল তুমি আমার শত্রু।
.
আমারতো তখন রাগে গা জ্বলেই যাচ্ছিল।
রাগে ফুস ফুস করতে করতে আমি ছাদ থেকে নেমে গেলাম।
.
পরদিন সকালে আমি মেসের গেইট থেকে বের হয়ে কলেজ যাওয়ার উদ্দেশ্যে রিক্সা নিলাম।রিক্সায় বসতেই ও কোথা থেকে যেন এসে রিক্সায় আমার পাশে বসে পড়ল।
বসেই রিক্সাওয়ালাকে বলল
-মামা দ্রুত যান।আমার ক্লাসে লেট হয়ে যাচ্ছে।
.
আমি রেগে কিছু বলতে গিয়েও কেন যেন বলতে পারলাম না।
.
পুরু রাস্তাটা ও অনেক বক বক করল কিন্তূ আমি কোন রেসপন্স করলাম না।আমারতো প্রচুর রাগ হচ্ছিল ওর উপর।
ছেলেটা পারেও বটে.....
.
ও আমাকে সবচেয়ে বড় চমকটা দিল ওর ভার্সিটির সামনে এসে।লাফ দিয়ে নেমে দৌড়াতে দৌড়াতে বলল
-ভাড়াটা তুমিই দিয়ে দিও।
আমি কেবল ওর যাওয়ার পানে হা করে তাকিয়ে রইলাম।
ভার্সিটি থেকে ফিরে ভাবতে লাগলাম,এই ছেলে কেন আমার পিছু লেগেছে?ওকে কি করে আমার পিছু ছাড়াই?সেদিন ভুলবশত কেন যে ওর পায়ে পাড়া দিয়েছিলাম?
.
আগে নিয়মিতই আমি ভোরে ঘুম থেকে উঠে, ছাদে সারগাম চর্চা করতাম।কিন্তূ গত কিছুদিন বিভিন্ন কারনে চর্চা বন্ধ ছিল।
ভাবলাম আজ একটু চর্চা করি।সারগাম চর্চা করলে মনও ভাল থাকে।
.
হারমোনিয়াম নিয়ে ছাদে বসে সারগাম করছিলাম।
ওমনি ছেলেদের মেসের ছাদ থেকে চেঁচানির আওয়াজ আসছিল।তাকিয়ে দেখি,ঐ বাঁদর সামি একটা থ্রি কোয়ার্টার আর টি শার্ট পড়ে আমার দিকে দাড়িয়ে চেঁচাচ্ছে।বলছে
-এই মেয়ে,সকাল সকাল উঠে এসব কি শুরু করেছ?পাগল হয়ে গেছ নাকি?
-কেন?কি করেছি আমি?(অবাক হয়ে)
-সকাল সকাল উঠে এ্যাঁএএএএ আঁআআআ করছ কেন?
-হোয়াট দ্যা হ্যাল আর ইউ?আমি এ-আ করছি না।সারগাম চর্চা করছি।আর কাকে কি বলছি? সারগামের মানে আপনার মত বাঁদর কি বুঝবেন?ক্ষ্যাত কোথাকার......
-এই মেয়ে এই!কি বললে?আমি ক্ষ্যাত?আমার মত একটা স্মর্ট ছেলে তোমার চৌদ্দ গোষ্টিতে আছে কিনা সন্দেহ.....
সকালে উঠেই ছাগলের মত ভ্যাঁ ভ্যাঁ শুরু করেছ।যত্তসব পাগল ছাগল।হুহ....
.
সামি একটানা কথাগুলো বলেই চলে গেল।আমিতো ওর কথা শুনেই 'থ' ।হা করে দাড়িয়েই রইলাম কেবল।
.
অনেক ভেবে ডিসিশন
নিলাম যে আর ছাদে যাব না।কেন যে ওকে পায়ে পাড়া দিয়েছিলাম আর একদিন যেচে ঝগড়া লেগেছিলাম।মনে করেছিলাম ও সাধারন ছেলে কিন্তূ ওতো দেখি জাদরেল টাইপের ।সব সময় আমার গায়ে পড়ে ঝগড়া করতে আসে।এখন থেকে ছাদে যাওয়া টোটালি অফ।
.
দুদিন এক নাগাড়ে ছাদে যাইনি।তিনদিনের দিনে বিকেলে রুমে বসে পড়ছিলাম।
হঠাৎ দারুয়ান মামা এসে বলল
আমার কোন ছেলে বন্ধু নাকি আমার সাথে দেখা করতে এসেছে।
.
প্রথমে অবাক হলাম এই ভেবে যে আমারতো কোন ছেলে বন্ধুই নেই তাহলে দেখা করতে কে আসল?
.
নীচে গিয়েতো আমি অবাক হয়ে গেলাম।
এই সামি বাঁদরটা আমার মেসে কেন?ও কেন আমার সাথে দেখা করতে এসেছে?
.
আমি রাগতস্বরে বললাম,ও মাই গড! আপনি এখানেও চলে এসেছেন আমাকে জ্বালাতে?
সামি আমার কথা শুনে মুচকি হাসতে হাসতে বলল
-জ্বালাতে আসিনি।আমার টাকাটা আমাকে দিয়ে দাও।আমি চলে যাচ্ছি।
-টাআআআআআআকা!কিসের টাকা?
-ঐ যে পায়ে পাড়া দিয়েছিলে,মনে নেই?
দুইশত বিশ টাকার ঔষধ খেয়েছি।ঐদিনের রিক্সাভাড়ার বিশ টাকা বাদ দিলে থাকে আর দুশ টাকা।টাকাটা দিয়ে দাও।আমি চলে যাচ্ছি।
-আপনি কিন্তূ যাচ্ছেতাই বাজে বকছেন।আপনি এখন যাবেন?নইলে আমি বাড়ীওয়ালার কাছে বিচার দেব যে আপনি আমাকে জ্বালাচ্ছেন।
-টাকাটা দিয়ে দিন।
তাহলেইতো আমি চলে যাচ্ছি।
-যদি না দেই?
-যতদিন না দিবে ততদিন আসতেই থাকব টাকার জন্য।
-আপনিতো বড্ড বড় মাপের বেহায়া।
-কি আমি বেহায়া?আমার পাওনা টাকা চাইতে এসে আমি এখন বেহায়া হয়ে গেলাম?
.
ওর সাথে যে কথা বলে পারব না।সেটা জানি।তাই ওকে টাকা দুশ দিয়ে দিলাম।
.
হঠাৎ করেই বাসা থেকে ফোন আসল, ইমেডিয়েটলি বাসায় যাওয়ার জন্য।বাসায় গিয়ে শুনি বাবা আমার বিয়ে ঠিক করেছেন।
আমি প্রথমে একটু ধাক্কা খেলেও পরে মানিয়ে নিলাম নিজেকে।কারন বাবা মায়ের ইচ্ছের কাছে আমি খুব অসহায় ছিলাম।এমনিতেও বাবা হার্টের রোগী।উনা চাচ্ছিলেন উনার জীবদ্দশাতেই আমাকে বিয়ে দিয়ে যেতে।আর তাছাড়া মায়ের কাছে শুনেছি ছেলে নাকি এ.এস.পি।খুব ভাল ফ্যামিলির ছেলে।ছেলের বাবা অনেক বড় বিজনেসম্যান।ছোট পরিবার।ছেলেরা দুই ভাই।ছেলেই বড়।
তাই বাবা এ ছেলে হাতছাড়া করতে চান না।
.
যথারীতি দেখতে দেখতে বিয়ের দিন চলে এল।
বাবা মাকে ছেড়ে চলে যেতে হবে ভেবে খুব কান্না পাচ্ছিল।
আমি যখন কেঁদে কেঁদে বিয়ের সাজগুজ সব নষ্ট করে ফেলছিলাম,তখনই বাবার চেঁচামেচি শুনতে পেলাম।
.
জোড়ে জোড়ে বলছেন
-মাথা নষ্ট হয়ে গেছে আপনার?একটা বেকার ছেলের সাথে আমি আমার মেয়ে বিয়ে দেব?
.
কিছুক্ষন পর ভাবীর কাছ থেকে ঝামেলার মূল
বিবরনী শুনলাম।কাহিনী হচ্ছে,বর নাকি বিয়ের আসর থেকে ভেগেছে।এখন ছেলের বাবা আমার বাবার কাছে অনুতপ্ত হয়ে উনার ছোট ছেলেকে দিয়ে আমাকে বিয়ে করিয়ে নিতে চান।কিন্তূ সমস্যা হচ্ছে ছেলে এখনো ষ্টাডি করছে।তার মানে বেকার।বাবা বেকার ছেলের সাথে কিছুতেই মেয়ে বিয়ে দিবেন না বলে জেদ ধরেছেন।
.
আমার অবশ্য এটা নিয়ে কোন মাথা ব্যাথা নেই।বাবা যেটা ভাল মনে করবেন সেটাই করবেন।
.
অবশেষে বাবা মান ইজ্জত রক্ষার খাতিরে আর সবার অনুরুধে রাজী হলেন।
.
জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা খেলাম বাসর ঘরে।যখন দেখলাম আমার স্বামী নামধারী ব্যাক্তিটা ঐ ঝগড়াটে সামি।
.
ও আমার পাশে বসেই একটা চোখ টিপ দিল আমাকে।তারপর জিজ্ঞাসা করল
-গেইমটা কেমন খেললাম?
-গেইম মানে?কিসের গেইম?
-তুমিতো বোকা মেয়ে।নাহলে কি আর তোমার পেছনে এতবার ল লাগার পরও এটা বুঝতে পারলেনা যে তোমায় ভালবাসি।
তোমাকে প্রপোজ করতে চেয়েছিলাম।কিন্তূ কি লাভ হত তাতে?তুমিতো উল্টো ঝগড়া শুরু করে দিতে ।কিন্তূ আমি যে তোমার রুপের মায়াজালে আটকে গিয়েছিলাম।তোমাকে হাড়ানোর কথা ভাবতেই পাড়তাম না আমি।তোমার ফ্যামেলিতে প্রস্তাব পাঠাতেও বিবেকে বাঁধছিল।কারন বেকার ছেলের কাছে কে মেয়ে দিবে?আর বড় ভাইকে রেখে বাবাও আমার বিয়ে দিতে রাজী হতেন না।
ভাইয়া ভাল জব করে।তাই ভাইয়াকে দিয়েই বিয়ের সবকিছু এগিয়ে শুধু বিয়ে পড়ানোর আগে ওকে ভাগিয়ে দিলাম।
.
যদিও মনে মনে আনন্দই লাগছিল তবুও পুরাতন ঝগড়ার রেওয়াজটা ধরে রাখার জন্য রাগী লুক নিয়ে বললাম
-কি! এত বড় প্রতারনা আমার বাবার সাথে?আপনাকেতো আমিইইইইইইই.......
-আর যাই কর হিল পড়ে পায়ে পাড়া দিও না।একবার পাড়া দেওয়ায় অনেকদিন ভুগেছিলাম।
.
এইবার আর হাসি আটকিয়ে রাখতে পাড়লাম না।শব্দ করেই হেসে ফেললাম।কিন্তূ ও হাসল না ।কেবল আস্তে আস্তে আমার কাছে এসে ওর নাকটা আমার নাকের সাথে আলতো করে ঘঁষে দিল।
প্রথম ভালবাসার স্পর্শে আমিও ততক্ষনে হাসি থামিয়ে ফেললাম
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now