বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সাত টুকরা চুল

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Bad Boy (০ পয়েন্ট)

X *-*-*-* সাত টুকরা চুল *-*-*-* লেখা: ফ|য়স|ল আহম্মেদ শ|ওন যেইদিন ঢাকা থেকে আইলো ওইদিনি দেখছিলাম আমাগো উঠানের থেকা ছোট ছাগলের বাচ্চাগুলোরে কুলে নিয়া ইংরেজীতে সুইত না সুইন কইতাছিলো। টকটইকা লাল রং এর লেপিষ্টিক লাগাইছিলো মাইয়াটা। ইশ! শহরের মাইয়াটারে কতো সুন্দর লাগতাছিলো . মাইয়াটা আমার চাচাতো বইন নিশির লগেই শহরে লেখা-পড়া করে। মাইয়াটা গ্রামে আহনের পর থেকাই কেন জানি কোনো কাম কাইজে মন বইতাছে না। এতো সুন্দর কইরা কেমনে কথা মাইয়াটায়। ওর কথা গুলি শুনলে কেমন জানি মাতাল হইয়া যাইগা। কেন যে, বাজানের কথা হুনলাম না! ফাইভ পর্যন্ত পইরা কেন যে পড়া লেখা ছাইড়া দিলাম।আজকে লেখা পড়া করলে আমিও এরম একটা মাইয়ার পাশে বইসা মাতাল করা কথা হুনতে পারতাম! সামনে জাইতে কেমন জানি সরম লাগে। এর লেগা পলায়া পলায়াই দেখি। . দুইদিন হইয়া গেছে মাইয়াটা গ্রামে আইছে। বাড়ির থেকা বাইর হইলেই ওগো পিছনে পিছনে যাই। আজগর মেম্বারের পোলাটা আবার একটু খারাপ টাইপের। মাইয়া মানুষ ঢাকার থেকা আইলেই চোখগুলি যেনো কেমন কেমন করে। আমারে দেখলে আবার সেই সিমানায় আহেনা। কারন ওই ভালো কইরা জানে আমি চেতলে কি করতে পারি! আর এই ফুলের মতো মাইয়ার সাথে ওই কিছু করলে ওরে না আমি মাইরাই হালামু! . কইদিন ধইরা কয়েকটা চিন্তা মাথায় ঘুরতাছিলো। এতো সুন্দর মাইয়া আমাগো গ্রামে আইসে। কি খায় না খায় আল্লায় ভালো জানে। এই মাইয়াটা কি আমাগো মতো কইরা তিন বেলা ভাত খায়। নাকি চাইনিজ খায় তিনবেলা! . আজকে বিকালে নিশিরে ডাক দিয়া কইলাম,ওই তোরে একটা কথা কই? "কি কথা বোলবা? "কিরে? তুই দেহি ওই সুন্দর মাইয়াটার মতো কথা কইতাছোস। "হা হা হা! কি যে কউ। আচ্ছা কি কইবা কউতো। "ওই তর বান্ধবী কি ভাত খায়? " হ! ভাত খাইবোনাতো কি খাইবো? "না না! আমি মনে করছিলাম এতো সুন্দর মাইয়া ভাত খায় নাকি তিনোবেলা চাইনিজ খায়!!! . ওই দিনের পর থেকা যতবারি মাইয়াটারে দেখছিলাম ততবারি মাইয়াটা আর নিশি আমারে দেইখা হালাইতো। আর হাশতো! . ওইদিন দুপুরে আমি খাইয়া একটু উঠানে মাদুর বিছায়া হুইছিলাম। চোখ খুলতেই দেখি নিশি আর ওই মাইয়াটা আমার সামনে। আমার জানি কেমন সরম লাগতাছিলো। ওইসময়ি নিশি আমারে কইলো, ভাইয়া আজকে সাফা কইছে নৌকা দিয়া নদী ঘুরবো। . আমি আর কিছু না কইয়া ঘরে ঢুইকা শাট্টা গায়ে দিয়া চাঁদরটা শইলে দিয়া ওগোরে লইয়া বাইর হয়া গেলাম। . নৌকাতে উইঠা যে মাইয়াটা যে কি খুশি! বার বার আমারে কইতাছিলো, এই যে আপনিতো ভালোই নৌকা চালান। আমি যেই কইদিন এখানে থাকবো আমাকে ততদিন নৌকা দিয়ে ঘুরাবেন বুঝলেন? "হ! আচ্ছা! . ওই দিন অনেকক্ষন নৌকা দিয়া ঘুরাইলাম ওগোরে। মাইয়াটার নাম সাফা কি সুন্দর নাম! আমার নামের ভিতরেও এই দুই অক্ষর আছে। ফায়সাল! একটু আগে পরে আর কি! প্রায় সন্ধ্যার আজান পইরা গেছিলো নৌকা ওহনো ঘাটে বিড়াইতে পারি নাই। মাইয়াটারে দেখলাম শীতে কাপতাছে। আমি আমার চাঁদরটা মাইয়ারে দিয়া কইলাম, এইডা গায়ে দিয়া লন। মাইয়াটা হাশি দিয়া আমারে থেনকু কইছিলো। . নৌকা ঘাটে বিড়ায়া বাসার দিকে রওনা দিলাম। রাস্তা উচা নিচা ছিলো দেইখা মাইয়াটা আমার হাত শক্ত কইরা ধইরা হাটতাছিলো। নিশির তো আবার গ্রামে থাইকা অভ্যাস তাই ওই আগে আগে হাটতাছিলো আর আমি সাফারে লইয়া আস্তে আস্তে আইতাছিলাম। মাইয়াটা এত কথা কইছে আমার লগে আমিতো ওর এরম সুন্দর কথা শুইনা পাগল হইয়া গেতাছিলাম। . ওগোরে বাইতে পৌছায়া দিয়া আমার চাঁদরটা সাফায় দেওয়ার পর আমি চাঁদরটা শইলে দিতেই একটা সুবাস পাইলাম। এতো সুন্দর একটা সুবাস! কেমনে যে বুঝামু! . বাসায় আইয়া চাঁদরটার দিকে ভালো মতো চাইয়া রইলাম। সাত টুকরা লম্বা চুল পাইছিলাম। সাফার চুল। চুল গুলা হাতে নিয়া আমার নতুন উঠাইনা কাপড়-চোপড় যেই টিনের বক্সে রাখি। ওই টিনের বক্সে সাত টুকরা চুল যত্ন কইরা রাইখা দিলাম। . এখন মাইয়াটারে দেখনের লিগা দূরে থাকতে হয়না। ওর সামনে জাইয়া ওর লগে কথা কই আর ওর দিকে একটু একটু কইরা চাইয়া দেখি। প্রতিদিন সকালে তাজা খেজুরের রস আইনা খাওইছি। অনেক খুশি হইয়া যাইতো যখন দেখতো আমি ওর লেগা খেজুরের রস আনছি। নদীতে গোসল করবো। অনেক শখ জাগছে। লইয়া গেলাম! মাইয়াটা নদীতে নামতে নামতে এতো নিচেই নাইমা গেছিলো পরে আর উঠতে পারেনা। তারপর আমি নাইমা মাইয়াটারে উঠাইছিলাম। এতো ডরান ডরাইছিল মাইয়াটায় আমারে শক্ত কইরা অনেকক্ষণ ধইরা রাখছিলো। ওর চুলের ক্লিপটা ওর চুল থেকা খুইলা আমার হাতে পইরা গেছিলো। আমি আর ক্লিপটা দেই নাই। বাসায় যাইয়া ওই টিনের বক্সে রাইখা দিছিলাম। . আজকে সাফা আর নিশি ঢাকা জাইবোগা। সকালে ওগোরে বাসে উঠায়া দিতে গেলাম। . দুইজনরে বাসে উঠনের পর কলা,রুটি,চানাচুর কিন্না নিয়া ওগোরে দিলাম। ঢাকা জাইতে জাইতে খাইবো। সাফা আমারে কইয়া উঠলো, এখন চলে যান। বাস ছেড়ে দিবে। কথাটা বইলাই জানালা দিয়া হাত বাড়ায়া আমার চুলে হাত দিয়া কইলো, চুলগুলা কেটে ছোট কইরেন। . কথা শেষ করার লগে লগে বাস ছাইড়া দিলো। মাইয়াটা হাত নাড়ায়া বিদায় দিতে লাগলো আমারে। . বাসটা অনেক দূর গেছেগা। আমার কেন জানি বুকের ভিতরটা মোচড় দিয়া উঠলো। চোখ দিয়া পানি বাইর হইয়া গেছিলো। ছোটকালে মায়,বাজানে এতো মারছে তবুও একটু চোখ দিয়া পানি বাইর হয় নায়। আজকেতো কেউ আমারে মারে নায়! আজকে কেন চোখ দিয়া আমার পানি বাইর হইতাছে! যাই! বাড়িত যাইয়া ওর সাত টুকরা চুল আর ক্লিপটা একটু দেখিগা। ওর কিছু অস্তিত্ব আমার কাছেতো আছেই!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now