বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মা কপালে হাত রেখে বলল, "সেই
কখন থেকে শুয়ে আছিস। শরীর
খারাপ?"
"না।" আমি শুকনা কণ্ঠে উত্তর দিলাম।
"খাবার বেড়েছি। আয় খেয়ে নে।"
"তুমি যাও। আমি আসছি।"
সন্ধ্যা থেকেই বিছানায় শুয়ে। মনটা
ভালো নেই একদম। আজ দুই বছর হয়ে
গেলো তার সাথে কোনো
যোগাযোগ নেই। সে কোথায় আছে,
কেমন আছে, কে জানে!
মাথার উপর শোঁ শোঁ শব্দে সিলিং
ফ্যান ঘুরছে। আমি এক দৃষ্টিতে
তাকিয়ে আছি। আমরা মধ্যবিত্ত
ঘরের সন্তানেরা জন্মের পর থেকেই
এই ফ্যানগুলোর সাথে পরিচিত।
চারদেয়ালের ছোট্ট ঘরগুলোতে
দিনে দিনে কতকিছুর পরিবর্তন হয়ে
যায়। শুধু মাথার উপরের ওই সিলিং
ফ্যানটায় যেনো ধ্রুব হয়ে থাকে। । কত
গ্রীষ্মের দুপুরের লম্বা লোডশেডিং
এর একঘেয়েমি বিরক্তি উবে
গিয়েছে এই ফ্যানের বাতাসে! কত
গরমের রাতে দেহের ঘাম শুকিয়ে
শান্তির ঘুম এনে দিয়েছে আধবোজা
দুচোখে....
.
অবশ্য দুনিয়াদারি ভুলে শুধুমাত্র
সিলিং ফ্যানের দিকে তাকিয়ে
থাকার বদঅভ্যাসটা আমি পেয়েছি
আমার বড়ভাইয়ের কাছ থেকে। আমার
বড়ভাই, হাসি-খুশি প্রাণবন্ত একজন
মানুষ। তার মুখের সেই হাসি যদিও
এখন আর দেখা যায় না। ছাত্র
হিসেবে খুব একটা ভালো ছিলনা
ভাইয়া, এইচএসসি এর পর কোনো
বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স হয়নি।
পরিবারের সামর্থ্য ছিলোনা
কোনো বেসরকারি
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর। এই
হতাশাতেই বুঝি আব্বু-আম্মুও
সারাদিন বকাঝকা করত আমাদের
দুইভাই কে।
কেমন জানি হয়ে গেছিলো
ভাইয়া। বিছানাতে চুপচাপ উপরের
দিকে তাকিয়ে শুয়ে থাকত। অনেক
রাতে হঠাত ঘুম ভেঙে গেলে
দেখতাম ভাইয়া তখনও জেগে,
ডিমলাইটের মৃদু আলোতে রূপালি
অশ্রু ঝরানো শূন্য চোখে ফ্যানের
দিকে তাকিয়ে আছে। কিসের
এতো কষ্ট ছিলো? কি এতো ভাবত ওই
সিলিং ফ্যানের দিকে চেয়ে?
সেদিনকার কথা এখনও স্পষ্টভাবে
মনে পড়ে। রাতের খাবারের সময়
টেবিলে অযথাই ভাইয়াকে
বকাবকি। জবাব দিতে গিয়ে আব্বুর
চড়। সেই প্রথম ভাইয়ার গায়ে হাত
তুলতে দেখলাম বাসার কাওকে।
প্লেটের অর্ধেক খাবার প্লেটেই
রয়ে গেলো। রাতে ঘুমানোর সময়
বিনা কারণে রাগ দেখিয়ে
আমাকে রুম থেকে বের করে
দিয়েছিলো ভাইয়া। ডাইনিং
রুমের সোফায় ঘুমিয়েছিলাম
সারারাত।
.
আম্মুর চিৎকারে ঘুম ভেঙেছিলো
পরদিন সকালে। ভাইয়া আমার
ঝুলছিলো সেই সিলিং ফ্যানের
সাথে। দুই বছর আগের ঠিক এই দিনে।
সময় কেটে গেছে সময়ের নিয়মে।
আমরাও এখন ব্যস্ত সবাই নিজেদের
জীবণে। তবুও মাথার উপরের ওই
সিলিং ফ্যানের দিকে তাকালে
কেমন এক বিষন্নতা কাজ করে।
ভাইয়া একবার বলেছিলো চলন্ত
ফ্যান নাকি ভিসিডি প্লেয়ারের
মতো, একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলে
জীবনের বিশেষ বিশেষ দৃশ্য চোখে
ভেসে ওঠে। আমার চোখে কি
ভাসে জানিস ভাইয়া? প্রতি
রাতে মশারি টাঙানো নিয়ে সেই
মারামারির কথা। সন্ধ্যার সময়
একসাথে চানাচুর-মুড়ি খাওয়ার
কথা। তোর মোবাইলে গেম খেলার
জন্য আকুতি-মিনতির কথা। সেই
গ্রীষ্মের দুপুরের তপ্ত রোদে বাসার
ছাদে লাটাই হাতে একসাথে ঘুড়ি
ওড়ানোর কথা। তোর ব্যাগে একটা
কিটক্যাট চকলেট পেয়েছিলাম
ভাইয়া, জন্মদিনে আমাকে দিবি
বলে এনেছিলি, না? সেই চকলেট
এখনও ড্রয়ারে যত্ন করে তুলে
রেখেছি। তোর অর্ধেক ভাগ না
দিয়ে আমি কিভাবে খাই বলতো?
আর কয়দিন পরেই আমার এইচএসসি
পরীক্ষা। ভিতোরে ভিতোরে খুব
হতাশা কাজ করছে। তোকে ভীষণ
মনে পড়ছে রে। এই সময়টাতে তোকে
পাশে পেতে ইচ্ছে করছে। জানিস,
তুই চলে যাওয়ার পর বাসার কেও আর
আমার সাথে রাগারাগি করে না।
ভালোবাসার খুব প্রকাশ দেখায়
সবাই। কিন্তু আমার আর কিছুই ভালো
লাগে না আগের মতো। কেমন জানি
বিরক্ত হয়ে গেছি আশেপাশের
মানুষের উপর।
মা খেতে ডাকছে। আমি বাথরুমে
গিয়ে চোখে-মুখে পানি দিলাম।
চোখ লাল দেখলে আবার শরীর
খারাপ কিনা জিজ্ঞাসা করবে।
মানুষগুলো কেমন অদ্ভুত! স্বাস্থ্যের খবর
সবাই নেয়, কিন্তু মনের খবর কেও
রাখে না। মন পচলেও মানুষ মরে না,
এজন্যই হয়ত। সবাই তো আর আমার
ভাইয়ের মতো স্বার্থপর না ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now