বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মৃত্যুপথ-০৩

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X "মৃত্যুপথ" নাজিম-উদ-দৌলা ----------------- (পর্ব ৩) “রাউন্ড থ্রি” ছোট ছোট পদক্ষেপে নতুন ভাড়াটিয়ার রুমের দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়াল পারভীন। আশে পাশে নজর বুলিয়ে দেখে নিল কেউ লক্ষ করছে কিনা। তারপর দরজায় নক করল। ভেতর থেকে আওয়াজ এলো, “কে?” “মাহতাব ভাই, আমি পারভীন। ভীতরে আসতে পারি?” “তোমার বাড়ি তোমার ঘর না আসতে পারার তো কোন কারণ দেখিনা!” দরজা একটু ফাক করে ভেতরে ঢুকে পড়ল পারভীন। মাহতাব চেয়ারে বসে পত্রিকা পড়ছিল। তার দিকে তাকিয়ে চমৎকার একটা হাসি দিল। সেই হাসিতে পারভীনের ভেতরকার পৃথিবীতে একটা ছোট খাট ঝড় বয়ে গেল। চোখ নামিয়ে নিল সে, ঠোঁটের কোনে ফুটে উঠল অভিসারে বের হওয়া তরুণীর লাজুক হাসি। খাটের কিনারায় বসতে বসতে জিজ্ঞেস করল, “কি করেন মাহতাব ভাই?” “পুরনো পত্রিকা পড়ি”। “পুরান পত্রিকা পইড়া কি লাভ? সব খবর তো পুরান হয়ে গেছে”! “কিছু খবর কখনও পুরনো হয়না পারভীন। অদৃষ্টের নিয়ম তাকে পুরনো হতে দেয়না”। “আপনার কথা বেশির ভাগই বুঝিনা আমি কিন্তু শুনতে ভাল লাগে”। মাহতাব নীরবে আবার সেই হাসি উপহার দিল তাকে। পারভীন নিজের গলায় দামী নেকলেসটাতে হাত বুলচ্ছে। গতকাল এটা মাহতাব তাকে গিফট করেছে। বলল, “কেমন লাগতেছে আমারে?” “চমৎকার! অপ্সরীর মত লাগছে তোমাকে!” বলে পত্রিকা চেয়ারে রেখে উঠল মাহতাব। পারভীনের কাছে এসে বসল। “কিন্তু পারফেক্ট মনে হচ্ছেনা। শাড়ির কালারটা আরও একটু ডিপ হলে মনে হয় বেশি ভাল লাগত”। “হ, আমারও মনে হইতাছিল আর একটু ডিপ কালারের শাড়ি হইলে ভাল হইত”। কথাটা মিথ্যা বলেছে পারভীন। তার মনে হয়েছিল হয়ত মাহতাবের চোখে হালকা রঙের শাড়ি ভাল লাগবে। “কিন্তু কি করমু? ডিপ কালারের শাড়ি নাই তো!” “এই কথা আমাকে আগে বলবে না? আহা! এমন সুন্দর একটা অবয়ব সামান্য ডিপ কালারের শাড়ির অভাবে প্রস্ফুটিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেনা! তাই কি হয়? আমি কালই ব্যবস্থা নিচ্ছি”। “মাহতাব ভাই আপনি এইগুলা কেন করেন আমার জন্য?” “তোমাকে ভাল লাগে তাই”। দ্বিধাহীন উত্তর মাহতাবের। “সত্যি বলতেছেন?” “অমন সুন্দর মুখের দিকে তাকিয়ে কেউ কি মিথ্যা বলতে পারে?” পারভীনের মুখের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মাহতাব। “আপনার মুখে কিচ্ছু আটকায় না!” তারপর কিছুক্ষণ মধুর নিরবতা। ঘরের ভেতর পরস্পরের দিকে তাকিয়ে থাকা দুজন নর নারীর নিঃশ্বাস ফেলার শব্দ ব্যতীত অন্য কোন শব্দ নেই। পারভীন নিরবতা ভাঙল, “আচ্ছা মাহতাব ভাই, একটা প্রশ্ন করি?” “যা খুশি প্রশ্ন কর, অনুমতি নেয়ার প্রয়োজন নেই। তোমার প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে যদি সমস্ত জীবন নিঃশেষ হয়ে যায়, আমি তাতেও দ্বিধান্বিত হবোনা”। “আপনার তো অনেক টাকা পয়সা আছে। ভাল চাকরী করেন। ভাল যায়গায় গিয়া থাকার ক্ষমতা আছে। তাইলে আপনি ক্যান এই খানে আইসা বাসা ভাড়া নিলেন?” “তোমার জন্য”। “ধুর আপনে মিথ্যা বলতাছেন। আমারে পটানোর জন্য অনেক মিথ্যা বলছেন। আমার সাথে তো আপনার এইখানে আইসা পরিচয়”। “মিথ্যা না! আমার এখানে আসার কারণ তুমিই। তোমাকে প্রথম দেখেছিলাম একটা মার্কেটে কেনা কাটা করার সময়। তারপর থেকে আমার রাতের ঘুম হারাম! মাথায় শুধু একটাই চিন্তা কাজ করত- যেমন করেই হোক তোমার সান্নিধ্যে আসতে হবে। তারপর জানলাম তুমি এই বাড়ির মালিক। এখানে একটা রুম খালি আছে শুনে তাই আর দেরি করিনি”। “কিন্তু আমি তো বিবাহিত...” “বিবাহিত এবং অসুখী”। কথাটা সম্পূর্ণ করে দিল মাহতাব। “আমি জানি স্বামীর সাথে তোমার বনিবনা হচ্ছেনা। তোমার টাকায় খেয়ে পড়ে বজ্জাত লোকটা তোমার উপরে মাতব্বরি করে। তোমার মত সুন্দরী স্ত্রীকে সঙ্গী হিসেবে পাওয়ার যোগ্যতা তার নেই”। “ঠিক বলছেন। আসলামরে বিয়ের আগে যেমন মনে করছিলাম সে তেমন না”। মনের আক্ষেপ কণ্ঠে ফুটে উঠল পারভীনের। “আমার পয়সা উড়াইয়া সে মদ গাঞ্জা খাইয়া আসে। আমি কিছু বলতে গেলেই যা তা ব্যাবহার করে”। “থাক। কষ্ট পেওনা। আমি চলে এসেছি। কারো রাগ, ঘৃণা কিংবা হিংসা আর তোমায় স্পর্শ করতে পারবে না”। এক হাত বাড়িয়ে পারভীনের গাল স্পর্শ করল মাহতাব। একদম কাছে চলে এসেছে। তরল কণ্ঠে বলল, “তোমার উপরে সমস্ত অধিকার এখন থেকে একমাত্র আমার”। মাহতাবের হাতের ছোঁয়ায় পারভীনের সমস্ত শরীরে শিহরন জাগাল। সে ক্ষীণ কণ্ঠে বলল, “কিন্তু আমি তো অশিক্ষিত মেয়েমানুষ, আপনি জ্ঞানী গুনি মানুষ। আপনার সাথে আমার মেলেনা”। “কে বলেছে মিলেনা? তোমার আর আমার পথ একই। নিয়তি আমাদের এক সূত্রে গেঁথে দিয়েছে পারভীন”। মাহতাব আরও কাছে চলে এসেছে। পারভীনের গলার কাছটায় তার গরম নিঃশ্বাসের ছোঁয়া লাগছে। একবার মাহতাবের দিকে তাকিয়েই চোখ নামিয়ে নিল সে। পুরুষ মানুষের ঐ দৃষ্টির কি অর্থ তা পারভীনের অজানা নয়। মাহতাবের ছোঁয়ায় কাছে পাওয়ার আহবান। তার নারী সত্তাও জেগে উঠছে, সাড়া দিচ্ছে সেই ডাকে। সমস্ত শরীরে গ্রহণ করতে চাইছে পুরুষের আস্বাদ। দুজন পরস্পরের একদম কাছে চলে এসেছে। দুজোড়া ঠোঁটের মাঝে কেবল একচুল দূরত্ব। আচমকা পিছিয়ে গেল মাহতাব। পারভীনের নাক মুখ লক্ষ করে ডানহাতে প্রচণ্ড এক ঘুষি বসিয়ে দিল। ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক হওয়ার সুযোগ পেলনা পারভীন। ছিটকে গিয়ে দেয়ালের সাথে বাড়ি খেয়েই মাথা ঘুরে উঠল। হাঁটুর নিচে বল পাচ্ছে না সে, পরে যাচ্ছে, প্রানপনে কিছু একটা ধরে তাল সামলানোর চেষ্টা করল। মাহতাব দ্রুত এগিয়ে এসে ধরে ফেলল তাকে। মুখের ওপর শক্ত টেপ লাগিয়ে দিল যেন চিৎকার করতে না পারে। তারপর তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে চেয়ারে বসিয়ে দিল। দড়ি বের করে হাত পা শক্ত করে বাঁধল। সমস্ত কাজটা শেষ করতে ৫ মিনিট লাগল মাহতাবের। কাজ শেষে বলল, “তুমি জিজ্ঞেস করছিলে পুরনো খবর পড়ে কি লাভ? তোমাকে একটা খবর পরে শোনাই তোমায়? তাহলে লাভ লোকসানের হিসাব তুমি পেয়ে যাবে”! পত্রিকা হাতে নিয়ে পড়া শুরু করল মাহতাব, তেজগাঁওয়ে বৃদ্ধা খুনের সন্দেহভাজন আসামি কাজের বুয়াকে খুঁজছে পুলিশ রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বৃদ্ধা শামীম আরা বেগম খুনের সন্দেহভাজন আসামি কাজের বুয়া পারভীনকে খুঁজছে পুলিশ। উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় তার গতিবিধি অনুসরণ করছে তারা। এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে বৃদ্ধার লাশের ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল সন্ধ্যায় আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। তেজগাঁও থানা পুলিশ জানায়, নগদ টাকা লুটে নিতেই বাড়ির বৃদ্ধা ও অসুস্থ গৃহকর্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর থেকেই কাজের বুয়া পারভীন পলাতক। পালানোর আগে বাসার আলমারির দরজা ভেঙে নগদ ২৫ হাজার টাকা, কিছু স্বর্ণালঙ্কার, একটি মোবাইল ফোন ও জামাকাপড় লুট করেছে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে সোহানুজ্জামান বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলার তদন্ত সূত্র জানায়, লুট হওয়া মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে সন্দেহভাজন আসামি কাজের বুয়া পারভিনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। খোয়া যাওয়া মোবাইল ফোনের সিম বদল করলেও উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় ফোন ব্যবহারকারীর গতিবিধি অনুসরণ করছে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। নিহতের স্বজনরা জানান, পলাতক কাজের বুয়া পারভিনের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায়। প্রায় পাঁচ মাস আগে সে ওই বাড়ির গৃহকর্মী হিসেবে কাজে যোগ দেয়। নিহত শামীম আরা ভুগছিলেন জটিল রোগে। তার দুটি কিডনিই অকার্যকর ছিল। নিয়মিত ডায়ালাইসিস করতে হতো। তার স্বামী আসাদুজ্জামান কনকর্ড কোম্পানির সিনিয়র হিসাব কর্মকর্তা। তাদের একমাত্র ছেলে সোহানুজ্জামান বেসরকারি মোবাইল কোম্পানি ও একমাত্র মেয়ে মৌমিতাজ সৌমি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন। এ কারণে দিনের বেশির ভাগ সময় বৃদ্ধা শাহীনবাগের ৫৬৪/২ নম্বর বাসায় একাই থাকতেন। এ ক্ষেত্রে তার দেখাশোনা করতেন ওই কাজের বুয়া। নিহতের দেবর শামসুজ্জামান বলেন, আলমারিতে রাখা নগদ টাকার লোভ সামলাতে পারেনি কাজের বুয়া। ওই টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্য সুযোগ বুঝে অসুস্থ ভাবিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। পরে আলমারি ভেঙে নগদ টাকা, কিছু স্বর্ণালঙ্কার ও ভাবির ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি নিয়ে পালিয়ে যায় সে। থানায় দায়ের করা এজাহারে সোহানুজ্জামান উল্লেখ করেছেন, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ভাইবোন ও তাদের বাবা অফিসে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। পরে দুপুরের দিকে তাদের গাড়ির চালক জুয়েল বাসায় এসে কলিং বেল চাপেন। কিন্তু ভেতর থেকে কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে ফিরে যান। সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে তার বাবা আসাদুজ্জামান দ্বিতীয় তলায় উঠে দেখতে পান তার ফ্ল্যাটের দরজা বাইরে থেকে সিটকিনি লাগানো। ঘরের আলমারির দরজা ভাঙা। বিছানায় মৃতের মতো পড়ে আছেন স্ত্রী। সঙ্গে সঙ্গে তিনি তার ছেলেমেয়ে ও তেজগাঁও থানা পুলিশকে খবর দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও তেজগাঁও থানার এসআই এ এফ এম সায়েদ বলেন, ধারণা করা হচ্ছে বাসার কাজের বুয়া বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। হত্যার পর সে বাসার নগদ টাকাসহ দামি জিনিসপত্র হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছে। তাকে ধরতে নানা কৌশলে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অদ্ভুত একটা বুদ্ধি এসেছে মাহতাবের মাথায়। কাজ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। পত্রিকা নামিয়ে রেখে হাত বাড়িয়ে পারভীনের নাক চেপে ধরল মাহতাব। মুখ বন্ধ থাকায় নাক দিয়ে শ্বাস টানছিল পারভীন। এখন নাকের ফুটো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দম আটকে আসছে। দুচোখে রাজ্যের আতংক। প্রানপনে হাত পা ছুড়ে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করল সে। কিন্তু হাত-পা বাঁধা থাকায় সুবিধা করতে পারছে না। সুন্দরী একজন যুবতী দম আটকে ছটফট করে মরার দৃশ্য যে এতটা আকর্ষণীয় হতে পারে সে সম্পর্কে কোন ধারনাই ছিলনা মাহতাবের। তার চোখ জোড়া জ্বল জ্বল করছে, মুখে তৃপ্তির হাসি। মাহতাবের হয়ত এই দৃশ্য ভাল লাগছে। কিন্তু দর্শক, আপনাদের ভাল নাও লাগতে পারে। মাহতাব তার কাজ করুক। আমাদের আর দেখে কাজ নেই। চলুন আমরা মাহতাবের ঘর থেকে বেরিয়ে যাই। (চলবে) ----------------


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now