বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অনামিকা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X অনামিকা - শামসুজ্জোহা বিপ্লব অনামিকা, কেন জানি আজ তোর কথা খুব বেশী মনে পড়ছে। আমি জানি না তুই কোথায় আছিস? কেমন আছিস? কিভাবে আছিস? তোর রেখে যাওয়া হাজারও স্মৃতি আজও আমার চারপাশে ঘিরে থাকে। আচ্ছা অনামিকা তুইও কি, আমার মত করে তোর স্মৃতির পাতায় দু'জনার পথচলার সেই দিনগুলোর কথা মনে করিস? তোর মনে পড়ে কখনো যদি একটি দিনের জন্যেও তোকে ফাঁকি দিতাম। মোবাইলের সুঁইচ অফ করে রাখতাম। পরের দিন তোর সে কি কান্ড! আমাকে খুঁজে বের করে ঝাঁঝালো কন্ঠে বলতি, -দেখ রেহান। তোর সাথে আমার বহুত হিসাব নিকেশ আছে। তুই বিকেলে অবশ্যই আমার সাথে শহীদ মিনারে এসে দেখা করবি। আমি শুধু তোর বকবকানি শুনেই যেতাম। আর মনেমনে বলতাম। তুই আমার সাথে এভাবে ঝাঁঝালো কন্ঠে কথা বলবি, মিষ্টি অনুরাগের ঝগড়া করবি। সে জন্যেই তো ইচ্ছে করে তোকে এই ফাঁকি দেওয়া। আমি ঠিক বিকেল বেলায় শহীদ মিনারে এসে বসে থাকতাম। সিগারেটের টানে টানে সময় পেরিয়ে যেত। তোর আশার প্রতিক্ষায়। তুই দুর থেকেই আমাকে দেখে ফেলতি। দেখেই চোখ বড় বড় করে আমার দিকে আসতি। তোকে দেখে মনে হত পুলিশ যেন আসামী ধরতে ছুটে আসছে। তোকে ম্যানেজ করবো বলে, এমন একটা ভাব নিতাম। যেন আমি খুব বড় কোন সমস্যায় আছি। কিন্তু তোকে কে সামলায়? সামনে এসেই সেই ঝাঁঝালো কন্ঠে বলতি -আগে বল। তুই কালকে মোবাইলের সুঁইচ অফ করে রাখলি কেন? আমার সাথে দেখা করলি না কেন? কোথায় ছিলি? আর এখন বা এমন ভাব ধরে মুখ গোমড়া করে বসে আছিস কেন? দেখ রেহান আমার সামনে ভাব ধরিস না। তোর এসব ভাবটাব না, আমার খুব ভাল জানা আছে। চল আমার সাথে কথা আছে। -কোথায়? -জাহান্নামে........! এই বলে হাত ধরে টেনে নিয়ে আসতি মুক্তমঞ্চের সিঁড়ির উপর। এসে নিজে বসতি পাশের জায়গাটা ফুঁ দিয়ে পরিষ্কার করে বলতি। -বটগাছের মত দাঁড়িয়ে আছিস কেন? বস। -বসতেই হবে। -আবার চেঁচিয়ে উঠে বলতি। দেখ রেহান ভাব নিস না তো। এমনিতে মেজাজ খুব খারাপ আছে। -আচ্ছা, ঠিক আছে, কি বলবি বল? বেশ কিছুক্ষন চুপচাপ বসে রইলি। আমি তোর চোখের দিকে ভাল করে তাকাতেই চোখে পড়লো। তোর চোখ দুটো কেমন যেন জলে ছলছল করছে। নীরবতা ভেঙ্গে খুব আদর জড়ানো কন্ঠে বলতে লাগলি। -দেখ, রেহান। তুই আমার খুব ভাল বন্ধু। আমার হাসি ঠাট্টা, মান অভিমান ঝগড়া সবি তোর সাথে। আর তাই তুই যদি হঠাৎ করে কিছু না বলে মোবাইলের সুঁইচ অফ করে এভাবে লাপাত্তা হয়ে যাস। তাহলে আমার কেমন লাগে বল। আমি নীরবে তোর কথাগুলো শুনতাম আর মনেমনে ভাবতাম। তোর এই মাঁয়াভরা অনুরাগের ঝগড়া শুনবো বলে, আর তোর হৃদয়ের আবেগটুকু উপলব্দি করবো বলেই তো তোর কাছে থেকে এভাবে হঠাৎ হারিয়ে যাওয়া। কথার মোড় ঘুরাবো বলে হু হু করে হাসি দিয়ে বলতাম, -ঐ তোর এসব দার্শনিক কথাবার্তা বাদ দে তো। আমার পেটে আগুন লাগছে। -মানে? -মানে বুঝলি না। ক্ষুধায় আমার পেট চোঁ চোঁ করছে। চল কিছু খাব। -তা........কি খাবি? -ফুসকা খাব। -মুখ বাঁকা করে বলতি। তুই খাবি ফসকা? ফুসকা খেলে না তোর গলা জ্বলে। -তবুও খাব। তা তোর কি? -তাহলে আর কি, চল। এই বলে বসা থেকে উঠতে উঠতে বলতি। -সীতার মুখে রাম রাম। কারন তুই জানতি। ফুসকা তোর খুব পছন্দের খাবার। আর আমি খুব একটা পছন্দ করতাম না। তোকে আবার রাগানোর জন্য বলতাম। -চল হাঁটতে হাঁটতে জিরো পয়েন্টে গিয়ে ফুসকা খাব। তুই আবার রেগে গিয়ে বলতি -এতদুর হাঁইট্টা গিয়ে ফুসকা খাব। -কেন? তোর পায়ে কি ফোসকা পড়ছে নাকি। যে হাঁটতে পারবি না। -হ্যাঁ... পড়ছে। তুই কি রিক্সা চোখে দেখস না। -না। -তা পারবি কেমনে। চোখে তো তিন ব্যাটারি চশমা লাগাইছোস। আর আমারে কষ্ট দিতে তো তোর খুব ভাল লাগে। -যাক বুঝতে পারছিস তাহলে। এভাবে ঝগড়া করতে করতে হেঁটে চলতাম জিরো পয়েন্টের দিকে। দোকানে গিয়ে মামাকে বলতাম। -মামা, এক প্লেট ফুসকা দাও তো। -মামা, মানুষ তো দু'জন আপনারা। এক প্লেট দিমু না দুই প্লেট। -মামা, এক প্লেট। তুই মামাকে বলতি -না মামা। দুই প্লেট। -আমি বলতাম, না মামা। আমার কাছে পঁচিশ টাকাই আছে। এক প্লেটই দেন। তুই আবার ক্ষেপে গিয়ে ফিসফিস করে বলতি। -দেখ রেহান। তোর সব জায়গায় ঝগড়া না করলে হয় না। আমিও ফিসফিস করে বলতাম। -তোর সাথে ঝগড়া না করলে পেটের ফুসকা হজম হইবো কেমনে। এমনি করে মান অভিমান, হাসি আনন্দ, রাগ-অনুরাগের মধ্যে দিয়েই কাটছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্নের দিনগুলি। হঠাৎ করেই একদিন খুব সকালে তোর ফোন পেয়ে জেগে উঠলাম। ফোন রিসিভ করেই বললাম। -এত সকালে তোরে কোন ভূতে পাইছে? অপর পাশ থেকে যখন তোর কান্না জড়ানো কন্ঠ শুনতে পেলাম। আমার ভিতরটা কেমন জানি মোচড় দিয়ে উঠলো। পাগলের মত ছটপট করে বিছানা থেকে উঠে বসে পড়লাম। -আ রে পাগল কি হয়েছে, বলবি তো। -রেহান শোন, আমি আমি। -হ্যা, বল কি হয়েছে তোর। -আমার মনেহয় এখানেই আমার লেখাপড়া শেষ। তোদের সবাইকে ছেড়ে আমাকে চলে যেতে হবে। -এই দেখ অনামিকা সাতসকালে ফোন দিয়া মাথাটা আউলিয়া দিস না তো। আমার কাছে খুইলা বল। তোর কি হয়েছে? তুই কিছু না বলে। আবারও কাঁদতে শুরু করলি। এবার আমার ভিতরটা কেমন যেন দুমড়ে মুচড়ে গেল। বুঝতে পারলাম। ব্যপারটা সত্যিই সিরিয়াস কিছু। হ্যালো, হ্যালো। কি রে অনামিকা কথা বলছিস না কেন? কথা না বললে বুঝবো কি করে? -হ্যা, হ্যালো, রেহান। তুই একটু সকাল সকাল ক্যম্পাসে আসতে পারবি। -ঐ ডাইনী তোর কি মনেহয়? তুই আসতে বললি আর আমি আসবো না। -না না আমি জানি। তুই আসবি। তুই আসলে, তোকে সব খুলে বলবো। এই বলে ফোনটা কেটে দিলি। বিছানা ছেড়ে ঝটপট রেডি হয়ে ক্যাম্পাসের দিকে রওয়ানা দিলাম। কেমন জানি মনের ভিতর খুব উৎকন্ঠ কাজ করছিল। মুক্তমঞ্চের এখানে চোখ পড়তেই দেখি। তুই একা চুপচাপ সিঁড়ির মধ্যে বসে আছিস। কেমন যেন চোখের পাতা বিষন্নপাতায় ভরা, চোখের পাতাগুলো ফুলে আছে। প্রাণ উচ্ছলতায় ভরা যে অনামিকাকে আমি চিনি। তার কোন কিছুই যেন অনামিকার মাঝে খুঁজে পেলাম না। এ যেন অন্য এক অনামিকাকে আমি দেখছি। তোর পাশে বসে যখন জানতে চাইলাম। -কিরে কি হয়েছে? তুই যেন কথা বলতে পারছিলি না। কেমন যেন বুক চাপড়ে কাঁদতে চাইছিলি। একসময় কাঁদতে কাঁদতে বললি। -তোর বিয়ে। ছেলে প্রবাসী। বিয়ে করে তোকে নিয়ে যাবে। আমি ঠিক মেনে নিতে পারছিলাম না। নিজের অজান্তেই দু'চোখ বেঁয়ে জল গড়িয়ে পড়ছিলো। আমি ঠিক তোকে বুঝতে দেই নি। -আমি হাসতে হাসতেই বলেছিলাম । বিয়ে ভাল তো। তোর তো বিয়ের বয়স হয়েছে। বিয়ে হবে না। আর ছেলে প্রবাসী। ভালই তো। ভালই থাকবি। তুই আমার কথাশুনে আরও হাউমাউ করে কাঁদতে থাকলি। যাবার সময় শুধু বলে গেলি। -তুই কোনদিনই কিছু বুঝবি না। বুঝতে পারবি না। অনামিকা তুই ভুল বলেছিলি। আমি সেদিনিই বুঝতে পেরেছিলাম। তুই আমাকে কতটা ভালবাসতি। হয়তো আমিও........। কিন্তু আমি তোকে বুঝতে দেই নি। আমার কিই বা করার ছিল। তখন আমি কেবল মাত্র অনার্সের ছাত্র। নেই টাকা, নেই ক্যারিয়ার, প্রতিষ্ঠিত হওয়া সে তো অনেক সময়ের ব্যাপার। আর তোর বাবা কখনো আমার জন্য তোকে বসিয়ে রাখতো না। যে বাবা তার মেয়েকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনার ইস্তফা ঘটিয়ে, প্রবাসী ছেলের সাথে বিয়ে দিয়ে, প্রবাসে পাঠাতে পারে। তার কাছে এটা আশা করা অসম্ভব। আমি জানি তোকে যদি পালিয়ে বিয়ে করতা চাইতাম। তুই এক কথায় রাজি হয়ে যেতি। কিন্তু তাতে দু'জনের জীবনই নষ্ট হয়ে যেত। তুই হয়তো কখনো জানতে পারবি না। আমার মধ্যবিত্ত পরিবারের বাবা - মা আমার দিকে তাঁকিয়ে আছে। কবে ছেলে ভাল একটা চাকুরী করবে। তাদের দেখাশুনা করবে। তাদেরকে আমি কখনো কষ্ট দিতে চাই নি রে। জীবনটাকে হুমকির মুখে ফেলতে চাই নি। হয়তো আমার মত ভীতুর পক্ষে পালিয়ে বিয়ে করা সম্ভব ছিল না। তার চেয়ে তুই ভাল থাকবি। এটা ভেবে আর কিছুই বলতে পারি না। আমি জানি আমার এ কথাগুলো কেউ জানবে না। কেউ বুঝতে পারবে না। সবাই আমাকেই খারাপ বলবে। হয়তো তুইও। অনামিকা আজ আমার টাকা পয়শা, ক্যারিয়ার সবকিছু আছে। নেই শুধু তুই। আমি জানি আমার উপর তোর অনেক রাগ, ক্ষোভ, অভিমান। হয়তো সে কারনেই আমার সাথে আর কোন যোগাযোগ করিস নি। শুনেছি তোর বিয়ে হয়ে গেছে। প্রবাসে আছিস। হয়তো ভালই আছিস। কিন্তু আমি যে আজও তোর সেই দুষ্টামিতে ভরা, শাসনের সুরে বলা কথাগুলো ভুলতে পারি নি। আজ আর সেই ভালবাসার সুরে শাসন করার মত কেউ নেই। তোর মত করে কাউকেই আর খুঁজে পাই নি। তাইতো আজও কাউকে ভালও বাসতে পারেনি। আজ অবেলায় তোর কথাগুলো কেন জানি খুব বেশীই মনে পড়ছে,,,,,,,,,,


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now