বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্পঃ """বুঝলি না রে আপু"""
•
- এই যে আমার পঁচা আপুটা(মুচকি হেসে)
- এই যে আমার ভালো ভাইয়াটা(অভিমানী স্বুরে)
- আমার আপুটা অভিমান করছে ক্যারে?
- আমার ভাইয়াটা আপুটাকে পঁচা বলছে ক্যারে!
- আপুটাকে যে বেশী ভালবাসে তাই দুষ্টামি করে বলছে।
- তাই না ভাইয়া!
- হুম আমার লক্ষী আপুটা
- ওলে আমার দুষ্টু ভাইয়াটা(গাল টেনে)
- আমার আপুটা কি করে?
- ভাইয়াটার সাথে কথা বলে।
- ভাইয়াটা কি করে আপুটার সাথে দুষ্টামি করে।
- ভাইয়াটা দুষ্টামি করে না!(অভিমানে বলে)
- না না ভাইয়াটা কি দুষ্টামি করতে পারে! ভাইয়াটা তো শান্ত ছেলে।
- ওলে আমার পঁচা আপুটা(চোখ টিপি দিয়ে)
- হুম(গাল ফুলিয়ে)
- আপুপু...(মন খারাপ করে)
- আমি তো এমনেতেই গাল ফুলিয়েছি; আমি কি আমার ভাইটার উপর রাগ-অভিমান করতে পারি!(ভাইকে জড়িয়ে ধরে)
•
আবার আপুপু... বলে ডাক দিতেই তাওহীদের ঘুমটা ভেংগে যায়।সে মনে করেছিল সত্যিই তার বোন তাকে ভাইয়া বলে ডেকেছিল।কিন্তু এখন বুঝতে পারছে, সে স্বপ্ন দেখেছিল।তাওহীদ নিরবে কাঁদতে কাঁদতে আবার ঘুমিয়ে পড়ে।
কি করবে এ ছাড়া যে তার কোনো কিছু করার নেই।তার একটা মাত্রই বোন; কিন্তু সে বোনটা তাকে আদর করে না, ভালবাসে না, শুধু ঘৃণা করে।তাকে কেন ঘৃণা করে কেন ভালবাসে না, তার কারণ সে জানে না।
•
পরদিন সকালে, তাওহীদদা! তাওহীদদা! এই তাওহীদদা! ঘুম থেকে ওঠ।আর কত ঘুমাস? ওঠে আমার রুমে আয়।তাওহীদ ওঠে তারাতারি করে ফ্রেশ হয়।
সে মনে মনে বলে, আপু একটু ভাল করে ডাক দিলে কি এমন দোষ হয়?
একটা ভাই না থাকলে একটা বোনের কত যে জ্বালা! আপুরে যেদিন থাকব না সেদিন বুঝবি! এখন আর বুঝলি না।
তার বোনের সামনে এসে দাঁড়াতেই বলে
- এতক্ষণ লাগে?
- তাওহীদ চুপ করে থাকে কিছু বলে না।
কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থেকে বলে
- এই নে টাকা, দোকান থেকে নাস্তা নিয়ে আয়।
- আচ্ছা নিয়ে আসতেছি।
•
তাওহীদ অস্টম শ্রেণীতে পড়ে, তার জন্মের সময় তার মা তাকে একা ফেলে ঐ পাড়ে চলে যায়। এটা হল তার একটা কষ্ট আর একটা হল তার বাবা ও বোনের এখনো প্রকৃত আদর না পাওয়া।
যখন থেকে বুঝতে পারে তখন থেকেই দেখছে, তাদের কাছ শুধু বাজে ব্যবহার আর ঘৃণা পেয়ে এসেছে।কিন্তু তার সাথে কেন বাজে আচরণ করে! তাকে কেন ঘৃণা করে! তার কারণ সে বলতে পারে না।
•
- এই যে নাস্তা
- দেরি হল কেন?
- দেরি করি নাই তো
তাওহীদের দিকে বড় বড় চোখে তাকিয়ে থেকে বলে
- একদম চুপ বেশী কথা বলবি না, রুমে যা
তাওহীদ নাস্তাটা টেবিলে উপর রেখে নিজের রুমে চলে যায়।তার বোন নাস্তা করে কলেজে চলে যায়।
•
তাওহীদ নাস্তা খাওয়া শুরু করতেই; তার হৃদয়টা কেঁদে ওঠে।কারণ তাকে যে কোনদিনেই খেতে ডাকে না।সে বই এ পড়েছে এবং নিজে শুনেছে ও দেখেছে, ভাই বোনের সম্পর্ক কত মধুর হয়, কত স্নেহের হয়, কত ভালবাসার হয়।কিন্তু তার বেলা সব শূণ্য।তারপর সে তৈরী হয়ে স্কুলে চলে যায়।তার বাবাও সকালের খাবার খেয়ে অফিসে চলে যায়।
•
বিকালে স্কুল থেকে ফিরে রুমে যাওয়ার সময় দেখে, তার বোন পিঠা খাচ্ছে।তার বোন তার দিকে একবার তাকায়; কিন্তু তাকে খাওয়ার কথা না বলে তার মুখটা আরও কালো করে দেয়।তাওহীদ তার বোনের দিকে একবার তাকিয়ে রুমে চলে যায়।
•
তাওহীদ রাতে দাঁড়িয়ে থেকে রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে থেকে বলতে থাকে
মা! ও মা! আমাকে তোমার কাছে নিয়ে যাও। আমি আর এই দুনিয়াতে থাকতে চাই না।বাবা ও বোনের অবহেলাটা আর সহ্য করতে পারছি না।
জানো মা! আপু কে আপু বলে ডাকতে না করছে।যদি একটা বড় বোন থাকে, আর সে বোনটা কে আপু বা বুবু বলে ডাকতে না পারলে ঐ ভাইটার কেমন লাগে বল না মা!
আর আপু আমাকে আদর করবে ভালবাসবে তো দূরের কথা ভাল করে একটা ডাক ও দেয় না।
জানো মা বাবাকেও বাবা বলে ডাকতে দেয় না।আর সময়ে সময়ে টাকা দেয় এই টাকা দিয়ে কি বাবার আদর-ভালবাসা পাওয়া যায়! বল মা? এতে একটা সন্তানের কত যে কষ্ট হয়, সেটা কি বাবা জানে না! বুঝে না!
•
ভাইয়া বলে ডাক দিতেই তার কথার স্মৃতি থেকে ফিরে আসে।দেখে যে, কাজের মহিলাটা(যাকে সে বুবু বলে ডাকে)কাঁদতেছে।খেতে আসো তারা খেয়ে চলে গেছে, তার এই বুবুই তাকে ছোট থেকে বড় করেছে।তার এই বুবু তাকে অনেক আদর করে অনেক ভালবাসে।এভাবেই তার দিন গুলি চলতে থাকে।
•
তাওহীদের সাথে কেন এ-রকম ব্যবহার করে জানেন? কারণটা হল তার মায়ের মৃত্যু; তারা মনে করে তার জন্য তার মায়ের মৃত্যু হয়।তাই তারা তার সাথে খারাপ ব্যবহার করে, ভালবাসে না, সব সময় অবহেলা করে।
•
তাওহীদের বোন তার আড়ালে বলে, তোর জন্য আমি আমার মাকে হারিয়েছি।তোর জন্য মায়ের আদর-ভালবাসা হারিয়েছি।এখন তোর আদর-ভালবাসা পাবার কোনো অধিকার নেই।
•
তার বাবা বলে, তোর জন্য আমি আমার আদরের বউকে হারিয়েছি।তার বাবাও একি কথা বলে।কিন্তু তারা কেউ চিন্তা করেনি সে যে জন্ম থেকে তার মাকে হারিয়েছে।সাথে হারিয়ে মায়ের আদর-ভালবাসা আর স্নেহ।
ঐ দিন থেকেই তারা তার সাথে এ-রকম ব্যবহার করে আসতেছে।শুধু তার ঐ বুবুই তার সাথে ভাল ব্যবহার করে আসতেছে।
•
কিছুদিন ধরে তাওহীদের মাঝে মাঝে মাথা ব্যথা করে, মাঝে মাঝে মাথা ঘুরায়, আবার মাঝে মাঝে জ্ঞান হারানোর ভাব ও হয়।অতিরিক্ত চিন্তার কারণে তার এ-সব হচ্ছে।
তার এই অসুখের জন্য; এখন কোনদিন স্কুলে যেতে পারে আবার কোনদিন স্কুলে যেতে পারে না।দিন যেতে থাকে, তার এই অসুখটা বাড়তে থাকে।
•
একদিন বিকালে তার বোন তার বান্ধবীদের কথা গুলো ভাবতেছিল। তারা বলেছিল, দেখ তোর ভায়ের সাথে এ-রকম ব্যবহার আর করিস না, তোর ভায়ের তো কোনো দোষ নেই।
যেদিন থাকবে না, সেদিন বুঝবি, এখন আর বুঝতেছিস না। এমন সময় দেখে যে, তার ভাই ঐ নীল আকাশের দিকে তাকিয়ে কাঁদতেছে।
এই প্রথম তার ভায়ের জন্য; তার মনটা কেঁদে ওঠে।মনে মনে বলে, আমি তো তাকে ঘৃণা করি তাহলে আমি কেন কাঁদি!
•
ঐ দিন রাতে সে স্বপ্নে দেখে যে, তার ভাইকে ধরতে যায় কিন্তু ধরতে পারে না।যতই কাছে যাচ্ছে, ততই দূরে চলে যাচ্ছে।কোন ভাবেই ধরতে পারছে না।কেন যে ধরতে পারল না, তার জন্য কাঁদতে থাকে।তখন তাওহীদের কন্ঠটা শুনে, আপুরে চলে গেছি ঐ আকাশে।এখন ধরতে চেয়েও ধরতে পারবি না, যখন ছিলাম তখন বুঝলি না।
সাথে সাথে তার ঘুমটা ভেংগে যায়।ঘুম থেকে ওঠে দেখে যে, তার শরীরটা গামে ভিজে গেছে।তারপর ওঠে তাওহীদের রুমে গিয়ে দেখে যে, সে ঘুমিয়ে আছে।মনে মনে বলে, কাল থেকে আর খারাপ আচরণ করব না, ভাইটাকে ভায়ের অধিকার দিব তাকে ভালবেসে যাব।তারপর তার রুম থেকে এসে আবার ঘুমিয়ে পড়ে।
•
পরদিন সকালে, তাওহীদ! তাওহীদ! এই তাওহীদ! ঘুম থেকে ওঠ।দেখ তোর জন্য নাস্তা বানিয়েছি।এ-সব বলে যখন এসে পরতেছিল, তখন টেবিলে একটা ডায়েরী দেখে।
তারপর তার সাথে করে ডায়েরীটা নিয়ে আসে, পড়া শেষ হলে তার চোখ দিয়ে অঝর ধারায় পানি পরতে থাকে।
আবার এসে ডাকে, তবুও সে ওঠে না।কি করে তাওহীদ ওঠবে! সে যে পাড়ি দিয়েছে ঐ পাড়ে।তখন তার মনে একটা অজানা ভয় কাজ করতে থাকে।তারপর বাবাকে ডেকে বলে, তাকে ডাকতেছি তারপরেও ওঠছে না।তাকে তারাতারি ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে।
•
ডাক্তার দেখে বলে, দুঃখিত সে আর নেই।ঘুমের মাঝেই স্টোক করে।কথাটা শুনে, তার বোন স্বদ্ধ হয়ে যায়।ধীর পায়ে ভায়ের কাছে যায় তারপর বলে
ভাইয়া! এই ভাইয়া! কথা বল দেখ আমি তোকে ভাইয়া বলে ডাকতেছি।এই আমাকে আপু বলে ডাকবি না? বল না একটা বার আপু! তোর মুখে আপু ডাক শুনতে চায়!
বাবাকে বাবা বলে ডাকবি না? কিন্তু সে আর কথা বলে না, আর কোনদিন কথাও বলবে না।তখন তাওহীদের ডায়েরীর কথা গুলো তার কানে ভাসতে থাকে।
•
কি লিখব! এই ডায়েরীর মাঝে? আমার তো লিখার মত কোনো কিছুই নেই।আমার একটাই দুঃখ
আপু কে কেন আপু বলে ডাকতে পারি না, বাবা কে কেন বাবা বলে ডাকতে পারি না।তারা কেন আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে? তার কারণ আমি জানি না।কিন্তু একটি বার ভালো ব্যবহার করলে তাদের কি এমন ক্ষতি হয়?
আপু রে
আপু আপু বলে ডাকতে চেয়েছিলাম কতবার
কিন্তু সে কপালটি হয়নি আমার একবার।(কারণ তুমি ডাকতে দেওনি)
আপু রে কত ভালবাসতাম তোকে কিন্তু তুই বুঝলি না আমাকে।
যেদিন থাকব না সেদিন কাঁদবি কিন্তু এখন বুঝলি না ভাই কি
আপু ভালো থাকিস বাবাকে দেখিস!
তার বোন ও তার বাবা তাকে ডাকে আর কাঁদে।কিন্তু তাওহীদ যে আর আসবে না, এটা এখন আর তারা বুঝতে চায় না।
•
গল্পটা কল্পনা থেকে লেখা।কিন্তু অনেকেই প্রশ্ন করবেন বা বলবেন এ-রকম কোনো বাবা! বা বোন! আছে নাকি? হ্যাঁ আছে, আমাদের দেশে এ-রকম অনেক পরিবার আছে।
যদি সন্তানের জন্য কোনো মায়ের মৃত্যু হয় তাহলে তারা ঐ সন্তান কে দায়ী করে।কিন্তু সন্তানের যে কোনো দোষ নেই, এটা তারা মানতে চায় না বুঝতে চায় না।
•
লিখাঃ MD Mahmudur Rahman Tauhid (অভিমানী এমআরটি)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now