বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
*-*-*-* আপডেট *-*-*-*
লেখা: ফ|য়স|ল আহম্মেদ শ|ওন
সুমি এমন কিছু বলবে আমি তা
শোনতে মোটেও প্রস্তুত ছিলামনা।
.
ওদের বাসাটা ছিলো একতালা। চারপাশে
পাকা করে উপরে টিন দেওয়া। পাঁচটা রুম
ছিলো তিনটাতেই ওরা থাকতো আর দুইটা রুম
ভাড়া দেওয়ার জন্য। আমি ওই দুইটা রুম থেকে
একটা রুম নিজে থাকার জন্য নেই। আর একটা রুম আগে থেকেই ভাড়া দেওয়া ছিলো। প্রথমত
সুমির মা আমাকে রুমটা ভাড়া দিতে চায় নি।
যখন বলেছি শুধু রাতেই আমি থাকবো আর
সারাদিন কাজে থাকি, তখন কি যেনো
ভেবে রুমটা আমাকে ভাড়া দিয়েছিলো।
.
আগে রফিক ভাইয়ের সাথে থাকতাম। তার সাথে প্রায় দুই বছর ছিলাম।সে বিয়ে করবে বলে আমাকেই তার বাসা ছেড়ে চলে আসতে হয়েছে। সুমিদের বাসায় আসার পর সকালে উঠে ডিম, একটু ভাজি আর ভাত রান্না করে খেয়ে কাজে বের হয়ে যেতাম। আবার রাতে এসে বাকি খাবার গুলো খেয়ে শুয়ে পড়তাম। প্রতি শুক্রবারি আমি অবসর থাকতাম। আর সেইদিন সুমিদের ঘরেই সকালে, দুপুরে আর রাতে খেতাম। কারন প্রতি শুক্রবারই ওদের বাজার করে এনে দিতাম আমি। আবার আমিও মাঝে মধ্যে আন্টিকে কাজ থেকে আসার আগে ফোন দিয়ে বলতাম,আন্টি আমার জন্য একটা ডিম ভেজে রাইখেনতো, আমার রুম থেকে ডাউলটা একটু গরম করে রেখেনতো।
আন্টিও খুশিমতোই এগুলো করে দিতো।
.
মাঝে মাঝে সুমির সাথে টুকটাক কথা বলতাম। আর রাতে বাসায় এসে আন্টির সাথে রাতে একটা আধা ঘন্টার সিরিয়াল দেখতাম স্টার জলশাতে। আমার কি দোষ! রফিক ভাইয়ের সাথে যখন থাকতাম সেই বাসার নিচে একটা চায়ের দোকান ছিলো। চায়ের দোকানটা চালাতো একটা মহিলা। যখন কাজ শেষে ঘরে ফিরতাম তখন ফ্রেশ হয়ে ওই দোকানে বসে চা খেতাম। আর তখন দেখতাম ওই মহিলাটা জলশাতে নাটক দেখতেছে। একদিন মনোযোগ দিয়ে দেখলাম নাটকটা। নাটকের একটা জিনিস খুব ভালো লেগেছিলো নায়ক নায়কার রসিকতার দৃশ্যটা। সেইদিনের পর থেকে নাটকটা প্রতিদিনি দেখতাম।
.
আমি নাটক দেখার কারনে সুমি অনেক হাসতো। এই প্রথম নাকি ও কোনো ছেলেকে দেখেছে যে কিনা স্টার জলশার নাটক দেখে।
.
আজকে সকালে উঠে যখন ভাত রান্না করতে রান্নাঘরে গেলাম। ঠিক তখনি সুমি এসে আমাকে বলে উঠলো,আপনি যেয়ে ফ্রেশ হন আমি ভাত রান্না করে দিচ্ছি।
"আরে না! কি যে বলেন! আমি নিজেই করে নিচ্ছি।
এক প্রকার জোড় করে আমার হাত থেকে মেয়েটা পাতিলাটা নিয়ে নিলো। আর বল্লো, শুনেন! আজকে থেকে স্টার জলশার ওই সিরিয়াল দেখা বন্ধ করেন। পাশের ভাড়াটিয়া ভাবী আপনার এই কথা শুনে খুব হাসশে।
"হাসশে কেন?
"এই যে মেয়ে মানুষের মতো নাটক দেখেন।
"কেন?এই নাটক ছেলেরা দেখেনা?
"হুম দেখে, কিন্তু আপনি আর দেখবেন না।
মেয়েটা কথাটা একটু জোড় দিয়েই বল্লো। আমি আর কিছু বল্লাম না। আমি যেই রান্নাঘর থেকে বের হয়ে যাবো ঠিক তখনি মেয়েটা আমাকে বলে উঠলো, ডিম ভেজে দেই, ভাত দিয়ে খেয়ে যান। আমি পরে ভাজি,ডাউল রান্না করে রাখবোনে রাতে এসে খেয়েন।
"অযথা এগুলা কষ্ট করে করা দরকার নাই।
"যান আপনি এখন।
মেয়েটা কথাটা বলেই চাউল ধুতে লাগলো। আমি আর কিছুনা বলে রান্নাঘর থেকে বের হয়ে গেলাম।
.
ফ্রেশ হয়ে রুমে এসে মোবাইল টিপাতে লাগলাম। কিছুক্ষন পর দেখলাম মেয়েটা ডিম আর ভাত নিয়ে আমার রুমে ঢুকেছে। জিনিসটা অন্য কারো চোখে পড়লে হয়তো ভাববে আমাদের মাঝে কিছু একটা চলছে। মেয়েটা ভাত আর ডিম রেখে আমাকে বলে উঠলো, আপনার রুমেতো আলু, ডিম আর ডাউল বাদে কিছু নেই। কাজ শেরে আসার সময় শাকসবজি নিয়ে আইসেন।
"দেখেন আজকে আমাকে রান্না করে দিছেন ভালো কথা। আর এমনটা করবেন না। কেউ দেখলে অযথা উল্টা পাল্টা ভাববে। তখন আমারি সমস্যা হবে।
"আপনার কি সমস্যা হবে?
"আমাকে আপনার মা যদি চলে যেতে বলে। তখন আমার কি হবে! জানেন না আপনি কোথাও ব্যাচেলার ভাড়া দিতে চায়না?
"আমি না চাইলে এই জায়গা থেকে আপনাকে চুল পরিমাণ কেউ সরাতে পারবে না। আর কে কি বলবে দেখলে,সেইটা আমি বুঝবো। এই নিয়ে আপনের ভাবতে হবেনা। যান খেয়ে নিন। আর আসার সময় বাজার নিয়ে আইসেন। ঘরে যা আছে তা দিয়ে রাতে আপনার হয়ে যাবে।
কথাটা বলেই মেয়েটা আমার রুম থেকে বের হয়ে গেলো। মেয়েটা এমন করছে কেন! আর যাওয়ার সময় এইটা ও কি বল্লো? ও না চাইলে আমাকে কেউ এইখান থেকে চুল পরিমাণ সরাতে পারবে না!! আমি আর কিছুই ভাবতে পারলামনা। কোনো মতো খেয়ে বাহির দিয়ে দরজাটা লক করে কাজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। রুমে বেশি কিছু ছিলোনা তাই আর তালা মারা প্রয়োজন হয়না।
.
রাতে কাজ শেষে বাড়িতে এসে দেখি আলু ভর্তা বানানো। একটা দিক দিয়ে মনে হচ্ছিলো খুব সুবিধাই হয়েছিলো। এখন আর এই রান্না করার জামেলাটা কমেছে!
তারপর ফ্রেশ হয়ে এসে খেয়ে শুয়ে পড়লাম। ভাবছিলাম একটু যেয়ে নাটক দেখে আসি। কিন্তু মেয়েটার বলা কথাটা মনে করে আর গেলাম না।
.
কিছুক্ষন পর হঠাৎ মেয়েটা হাতে ল্যাপটপ নিয়ে এসে আমাকে বল্লো, এই নিন আমার ল্যাপটপে অনেক নাটক, মুভি আছে এইখান থেকে যেইটা ভালো লাগে বের করে দেখেন।স্টার জলশা না দেখে আমার ল্যাপটপ থেকে নাটক দেখেন।
"আরে না ঠিক আছে! সমস্যা নাই।
"সমস্যা আছে! ঘুম না আসা পর্যন্ত মুভি দেখে সময় কাটান।
কথাটা বলেই মেয়েটা ওর ল্যাপটপ টা আমার বিছানায় রেখে চলে গেলো। আসলে এই মেয়েটা কি! হঠাৎ করে এমন বিহেভিয়ার করতেছে কেন। আমি কিছুক্ষনের জন্য ধ্যানে পড়ে গেলাম। তারপর আর কিছুনা ভেবে। ল্যাপটপ থেকে মুভি চালু করে দেখতে লাগলাম।
.
সময়টা ভালোই যাচ্ছিলো। এখন আমার আর রান্না করা লাগেনা। মেয়েটাই রান্না করে দেয়। বাঙ্গালি বলে একটা কথা আছেনা? খেতে দিলে বসতে দেও বসতে দিলে শুইতে দেও। আমারো ঠিক সেই রকমটাই হয়েছিলো। মেয়েটা আমাকে রান্না করে দিতো বলে একটা ঝামেলা কমছিলো। কিন্তু কাপড়-চোপড় ধোয়ার ঝামেলা টা কমে নাই। সেইটা আমারি করতে হয়। ইশ! কেউ ফ্রিতে যদি আমার কাপড় গুলো ধুয়ে দিতো! নাহ! এইটা একটু বেশি হয়ে যায়! মেয়েটা প্রতিদিন রাতে আমাকে ওর ল্যাপটপ দিয়ে যেতো সময় কাটানোর জন্য। আর সকালে, বিকেলে রান্না করে দিতো। এর থেকে আর বেশি কিছু লাগবেনা।মাঝে মেয়েটা আমাকে কথায় কথায়য় তুমি করে বলে উঠতো। আমি বুঝতে পেরেছিলাম মেয়েটা আপনি ডাকটাকে আপডেট দিয়ে তুমিতে আনতে চায়। কিন্তু আমি তা চাচ্ছিলামনা। কারন মেয়েটা আজ আপনি ডাকটা আপডেট দিয়ে তুমিতে নিয়ে গেলে। পরে আমাকে আপডেট দিয়ে যদি নিজের করে নেয়। আমি তা বলছিনা! যদি আরকি! আমাকে নিজের করে নেয়! তাহলেতো আমার এই বাড়ি সারতে হবে। তারসাথে একটা খারাপ চরিত্রদারের সার্টিফিকেটো পেয়ে যাবো। তখন কি হবে! তখনতো আমার বিশ্রামকক্ষ দূরে থাক আশ্রয়কক্ষ নিয়ে টানাটানি লেগে যাবে।
.
মেয়েটার কাজ কর্মগুলো আমাকে নিয়মিতভাবে ভাবাতো। প্রতিদন বাসায় ৮ বাজে এসে পড়তাম। মাঝে মাঝে দেড়ি করলে বিভিন্ন কৈফত দিতে হতো, কই ছিলাম, কেন দেড়ি হলো আরো কত কিছু। আজকেও ঠিকতা হলো, বস খুব রাগ দেখিয়েছিলো আমাকে। দোষটা আমার ছিলো! তবে রাগটা একটু বেশিই দেখিয়ে ফেলেছিল। এই কারনে মুডটা খুব খারাপ ছিলো। বাসাতে আসার পর মেয়েটা আমাকে বলতে লাগলো, কয়টা বাজে?
আমি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বল্লাম, ১০টা ২৪।
"কই ছিলেন এই ২ ঘন্টা ২৪ মিনিট?
"সব কিছুকি আপনাকে বলতে হবে?
"এইভাবে কথা বলতাছেন কেন?
আমি আর কিছু না বলে রুম থেকে টাউজারটা নিয়ে ওয়াশ রুমে চলে গেলাম।
.
ওয়াশ রুম থেকে বের হয়ে রুমে এসে দেখি মেয়েটা প্লেটে ভাত বেড়ে রেখেছে। আমি ওকে বলে উঠলাম, যান আপনার রুমে যান।
"কি হইছে আপনার?
"এমনি কিছুনা। যাম রুমে যান আপনার প্লিজ!
মেয়েটা আর কিছু না বলেই ওর রুমে চলে গেলো।
.
সকালে ঘুম থেকে উঠতে খুব দেড়ি হয়ে গেলো। দরজা লাগানো ছিলো বিদায় হয়তো মেয়েটা আর ডাক দেই নি আমাকে।কিছু রান্না করাও হয়নি
থাক! বাহিরের থেকে খেয়ে নিবো। আর তাছাড়া মেয়েটা এখন আর রান্না করতে পারবেনা। কারন পাশের রুমের মানুষ এমনকি আন্টিও ঘুম থেকে উঠে গেছে। আর কাল রাতের ঘটনাটার পর মনে হচ্ছেনাতো মেয়েটা আর আমাকে রান্না করে দিবে।বিছানা থেকে উঠে ফ্রেশ হতে চলে গেলাম।
.
ফ্রেশ হয়ে এসে রেডি হতে লাগলাম ঠিক তখনি মেয়েটা প্লেটে করে কি নিয়ে যেনো হাজির। আমি ওর দিকে তাকাতেই আমাকে বলে উঠলো, রুটি আর বাজি খেয়ে নিন।
"রাখেন বিছানায়।
খাবারটা বিছানায় রেখে মেয়েটা আমার দিকে তাকিয়ে বল্লো, কাল কি হইছিলো। আপনি এরকম ভাবে কথা বলেছিলেন কেন রাতে।
"মুডটা খুব খারাপ ছিলো। বস খুব বকছিলো।
"ওহ!
"সরি! প্লিজ কিছু মনে করবেন না।
"আরে না! কিছু মনে করি নি।
তারপর আমি আর কিছু না বলে খেতে লাগলাম। কেন যে মেয়েটার সাথে এমন ভাবে কথা বল্লাম! আসলেই মেয়েটার মাঝে কোনো রাগ নাই। রাগ থাকলে আমাকে আর নাস্তা খাওয়াতে আসতোনা। বলতে গেলে অন্যসব মেয়ে থেকে ও একটু আলাদা টাইপের।
.
খাওয়া শেষে দুইজন এক সাথেই রুম থেকে বের হোলাম। রুম থেকে বের হওয়ার পর দেখতে পেলাম পাশের রুমের সেই ভাবী আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। একটু অন্য রকম দৃষ্টিতে। আমি কিছুটা ভয় পেয়ে গেলাম। সুমি আমার দিকটা একটু খেয়াল করে ভাবীকে শুনিয়েই বলে উঠলো, টেনশন নিও না আমি আছি। কিছু হবেনা। যাও তুমি কাজে যাও।
এই মেয়েটা ভাবীকে শুনিয়ে আমাকে তুমি করে বল্লো! এখন ভাবী কি ভাববে! আমি কিছুক্ষণ ওর দিকে তাকিয়ে রইলাম। মেয়েটা চোখ দিয়ে এক প্রকার ভরষা আমাকে দিলো। আমি আর কিছুনা বলে বাসা থেকে বের হয়ে পরলাম।
.
মেয়েটার এরূপ কথা শুনে একটু আলাদা ভাবেই শরীরটা শিহরণ দিয়ে উঠেছিলো। কথাটার মূল্যটা যে কতটা দামি ছিলো তা বলা খুবই মুশকিল। কোনো মেয়ে এরকম মুহূর্তে এমন ভাবে কথা কখনোই বলতে পারবেনা। যদি কিনা মেয়েটা ছেলেটাকে গভীর ভাবে নিতে পারে।
.
রাতে বাসায় আসার পর প্রতিদিনের মতো দেখলাম মেয়েটা আজো রান্না করে রেখেছে আর বিছানাতে ওর ল্যাপটপটা রেখে গেছে। আসার সময় বাজারো নিয়ে আসলাম। বাজার গুলো রেখে ফ্রেশ হতে চলে গেলাম।
.
ফ্রেশ হয়ে এসে দেখলাম আন্টি আমার রুমে এসে সুমির ল্যাপটপ টার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি কিছুটা ভয় পেয়ে গেলাম। তিনি আমাকে দেখেই বলে উঠলো, এর জন্য ব্যাচেলর ভাড়া দেওয়া ঠিক না!
"আন্টি আমি আবার কি করলাম!
"কি করছো জানোনা। আমার মেয়েকে পটিয়ে বলছো কি করছো?
"আন্টি আসলে এমন কিছু না! বিশ্বাস করেন।
"কি বিশ্বাস করবো হুম!! তোমাকে রান্না করে দেয়, ওর ল্যাপটপ ও তোমার কাছে, আজকে সকালে ঘর থেকে নাস্তা এনে খাওয়িছে তোমাকে। আমার আর কিছু বিশ্বাস করা লাগবেনা। সুন্দর করে বলে দিচ্ছি সামনের মাসের মধ্যে রুম ছাড়বা তুমি।
তার কথাটা শুনে যেই আমি কিছু বলতে যাবো ঠিক তখনি সুমি পিছন থেকে বলে উঠলো, ও কোথাও যাবেনা এখান থেকে। মানুষের কান পড়া শুনে অন্যের উপর দোষ চাপাবানা। জানিতো কেন এমন করতেছো। যে তোমাকে এইসব কথা বলছে, তাকে যদি আমি সামনের মাসে এই বাড়িতে দেখি তাহলে বেশি ভালো হবেনা বলে দিলাম।
.
মেয়েটার মুখে খুব রাগ দেখলাম। আর খুব রাগ নিয়েই মেয়েটা কথাটা বল্লো। আমার জন্য এইটা কি করলো মেয়েটা! ও এমন ভাবে কথাটা বোলবে আসলেই আমি বিশ্বাস করতে পারছিনা! আন্টি আস্তে করে রুম থেকে বের হয়ে গেলো। আমি ওর দিকে তাকিয়ে রইলাম। মেয়েটা আমাকে বলে উঠলো, যান বিছানায় বসেন আমি ভাত দিচ্ছি।
.
মেয়েটা আমাকে ভাত দিয়ে বলে উঠলো, আপনি কোনো টেনশন নিয়েন না। এই বাড়ি থেকে আমি না চাইলে আপনাকে কেউ সরাতে পারবেনা।
"এমনটা কেন করছেন?
কথাটা বলার পর মেয়েটা আমার চোখের দিকে তুক্ষ ভাবে তাকালো। আমি কিছুনা বলে খেতে লাগলাম।
মেয়েটা হঠাৎ করে বলে উঠলো, কোনটা ভালো আর কোনটা খারাপ তা বুঝার যথেষ্ট বয়স আমার অনেক আগেই হয়েছে। কি করলে আমার ভালো হবে সেই ডিসেশনটা আমি নিজে নিতে পারি। আমি রুমে গেলাম।
.
কথাটা বলেই মেয়েটা রুম থেকে বের হয়ে গেলো। কেন যেনো ইচ্ছা হলো ওকে ডাক দেই। কিন্তু আর ডাক দিলাম না! খাওয়া শেষ করে বিছানায় শুয়ে ভাবতে লাগলাম মেয়েটার রাগ হওয়ার দৃশ্যটা। ওর রাগ হয়ে যেয়ে কথা বলাটা আমাকে ওর প্রতি খুবি মায়া সৃষ্টি করে দিচ্ছে। আর কিছু না ভেবে শুয়ে পড়লাম।
.
এখন মেয়েটা সবার সামনেই আমার জন্য রান্না করে। এই বিষয় নিয়ে ওর মাও কোনো মাথা ঘামায়না। সবি ঠিক ঠাক যেতে লাগলো। আন্টিও আগের মতোই আমার সাথে কথা বলে। মেয়েটার প্রতি কেন যেনো আমার মাঝে আলাদা রকম একটা আকর্ষন সৃষ্টি হতে লাগলো!
.
রফিক আজকে আমাকে ফোন দিয়ে বলে উঠলো, তোর কাছে আজকে একটু সময় হবে?
"দুপুরের পর হবে কেন?
"তোর ভাবীরর সাথে একটু মার্কেটে যাবি। আমার একটু কাজ আছে।
"আচ্ছা ঠিক আছে যাবো।
.
দুপুরবেলা কাজ শেরে ভাবীকে তাদের বাসার সামনে থেকে নিয়ে মার্কেটে গেলাম। ভাবী খুব মজা নিতে জানে। রফিক ভাইয়ের চাচাতো বোন। এই হিসাবে তাকে অনেক আগে থেকেই চিনি। দুইজনে রিকশাতে উঠে বসার পর। ভাবী বলে উঠলো, কি ভাই আর কত দিন দেবদাস হয়ে থাকবা?
"যতদিন পর্যন্ত আল্লাহ রাখে।
"মেয়ে দেখি আমরা?
"দূর বিয়ের বয়স হইছে নাকি!
"কি যে বলো! আচ্ছা সত্য করে বলোতো কয় বছর পরে বিয়ে করবা?
"জানিনা!
"ধূর!তোমার মনে হয় বিয়ের প্রতি কোনো ফিলিংসি নাই।
"বাদ দেনতো এসব।
"বাদ দিবোনা। দাঁড়াও তোমার সাথে একটা ছবি তোলে রাখি। ফেসবুকে পোষ্ট দিয়ে দিবো। তখন আমার ফ্রেন্ড লিষ্টের কোনো সুন্দরি যদি পচ্ছন্দ করে তাহলে তোমার গলায় ঝুলিয়ে দিবো।
"আমার সাথে ছবি তোলে ফেসবুকে ছবি দিলে ভাই কিছু বলবেনা?
"জ্বিনা! তোমার ভাইয়া তোমার সাথে ছবি দিলে কিছু বলবেনা। ও তোমাকে খুব ভালো জানে।
কথাটা বলেই ভাবী কয়েকটা সেলফি নিলো আমার সাথে।
.
মার্কেট থেকে বাসায় আসতে আসতে প্রায় সাতটা বেজে গেছে। মহিলা মানুষের সাথে কেউ মার্কেটে যায়। পায়ের অবস্থা শেষ করে ফেলছে আমার। রুমে ঢুকতেই দেখলাম রুমটা খোলা। রুমের ভিতর ঢুকতেই দেখলাম সুমি বসে আছে। আমাকে দেখেই বসা থেকে উঠে বলে উঠলো, কই ছিলেন আপনি?
আমি ঘড়িটার দিকে একটাবার ভালো করে তাকিয়ে দেখলাম। নাহ! আটটাও তো বাজে নাই। তাহলে ও এরকম প্রশ্ন করলো কেন?
" কেন কাজে ছিলাম।
"কাজে ছিলেন আপনি!
"হুম! বেশিতো বাজে নাই।
"মেয়েটা কে ছিলো?
"ওহ! ওইটা আমার ভাবী। আপনি কি করে দেখলেন?
"রাস্তার ভিতর সেলফি নেয়। এইটা আবার কেমন ভাবী? আর আপনি আমাকে মিথ্যা বললেন কেন?
"আমি বুঝতে পারি নাই। আর সত্যি ওইটা আমার ভাবী।
"মানলাম ভাবী। তো মিথ্যা কেন বল্লেন?
"আসলে বুঝতে পারি নি আমি।
"তাই না!! মিথ্যা বলে বুঝতে পারেন নাই!
আমি কিছু না বলে চুপ করে রইলাম। কি বলবো কিছুই ভাবতে পারতেছিনা। মেয়েটা আর কিছু না বলে আমার রুম থেকে বের হয়ে গেলো। আমি শুধু ওর চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলাম।
.
সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলাম মেয়েটা এখনো ঘুম থেকে উঠে নি। তাই আমি নিজেই রান্না করলাম।
.
রাতে বাসায় ফিরে দেখলাম কোনো কিছু গরম করানা। কি হলো মেয়েটার? রাগ করলো নাকি? আমি ঠান্ডা খাবার গুলো খেয়ে শুয়ে পরলাম।
.
পরের দিন সকালে ঠিক একি রকম কান্ড। আর কি করার নিজেই রান্না করতে লাগলাম। হঠাৎ আন্টি আমাকে পিছন থেকে ডাক দিয়ে বল্লো, তোমার সাথে সুমির কিছু হইছে?
"নাতো কেন?
"পরশু রাত থেকে কিছু খাচ্ছেনা।
"কই ও?
"রুমে শুয়ে আছে।
"আপনি এখানে একটু থাকেন। আমি দেখতেছি।
কথাটা বলেই আমি সুমির রুমের দিকে হাটা দিলাম।
.
রুমে যেয়ে দেখি মেয়েটা বালিশ কোলে নিয়ে বসে আছে। আমি ওর সামনে যেতেই ও আমার দিকে তাকালো। আমি ওকে বলে উঠলাম, কি হইছে পরশু রাত থেকে নাকি খান না?
"তো আপনার সমস্যা কোথায়?
"সমস্যা আছে দেখেইতো আসছি।
মেয়েটা কথা না বলে অন্য দিকে তাকিয়ে রইলো। আমি এবার তুমি করেই বলে উঠলাম, আমার দিকে তাকাও।
মেয়েটা চমকিয়ে উঠে আমার দিকে তাকালো। আমি পকেট থেকে মোবাইটা বের করে ওকে রফিক ভাই আর ভাবীর বিয়ের ছবি দেখিয়ে বল্লাম, সত্যি ভাবী লাগে আমার।
"তাহলে মিথ্যাটা বলার কি দরকার ছিলো?
"আর কখনো বলবো না মিথ্যা প্রমিস।
"সরি বলেন নাই এখনো!
"ওকে সরি এগুলা!
"আর কোনো মেয়ের সাথে ছবি তোলবেন না।
"কেন?
"আমি বলেছি তাই।
"যদি তোমার কথা না শুনি?
"শুনতেই হবে!
"জবরদস্তি হচ্ছে না!
"থাক জবরদস্ত! আমার কথা শোনতেই হবে।
"আচ্ছা তোলবোনা খুশি!
কথাটা শুনেই আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলে উঠলো, শুধু আমার সাথেই ছবি তোলবা। আর কারো সাথে না। মনে থাকবেতো?
"হুম থাকবে।
লেখা: ফ|য়স|ল আহম্মেদ শ|ওন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now