বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

৩৩৬ নাম্বার বেড

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ৩৩৬ নাম্বার বেড, ২১ জুন,২০১২ রুপন্তি:আসসালামু আলাইকুম ভাইয়া আমি:ওয়ালাইকুম আসসালাম ক্রস করে চলে যাচ্ছিলাম।সে ডাক দিলো রুপন্তি:ভাইয়া একটা কথা.... আমি:হ্যা বলো রুপন্তি:আপনার বাসায় কি চিরুনি নাই?? আমি:চিরুনিইইইইইই?? রুপন্তি:হুম চিরুনি।নাই??? আমি:আছে তো।কেনো???তোমার চিরুনি লাগবে??কয়টা লাগবে বলো।এখনই নিয়ে আসছি। রুপন্তি:চুউউউপ।গাধার মতো কথা বলবেন না।সারা জীবনে তো একদিনও সামনে এসে কথা বলার সাহস হয় নাই।আজকে মুখে এত খই ফুটতেছে কিভাবে? আমি:আচ্ছা সসসসসরি..... রুপন্তি:গাধার মতো তুতলাচ্ছেন কেনো?? আমি:কককই?আমি তো তুউউউতলাচ্ছিনা। রুপন্তি:হ্যা হ্যা হইছে আর তু তু করা লাগবে না।শুনেন আজকে বাজারে যেয়ে চুল কাটাবেন,একটা চিরুনি কিনবেন।কাল থেকে যেনো আর অগোছালো চুল না দেখি।আর যদি দেখিইইইই...... আমিঃযদিইই কি?? রুপন্তি:মাথা ন্যাড়া করে দিবো। আমি:আচ্ছা রুপন্তির সামনে গেলে এমনিই চুপসে যাই।কিভাবে যে এতগুলা কথা বলছি নিজেও জানিনা।চলে যাচ্ছিলাম।রুপন্তি আবার ডাক দিলো রুপন্তি:কই যান???কথা শেষ হইছে আমার?? আমি:একটা কথা তো শেষ। রুপন্তি: যতক্ষন আমি যেতে না বলবো দাড়াইয়া থাকবেন।আপনি আমাকে ফলো করায় অনেকে অনেক কথা বলছে।এগুলো কি আপনার কানে যায়??? আমি:কই আমি তো তোমাকে ফলো করি না।আমি তো তোমার এফবি আইডি ই জানিনা।ফলো কিভাবে করবো? রুপন্তি:গাধা সবসময় গাধাই থাকে।শুনেন আপনার এয়ারটেল নাম্বার টা রাতে খোলা রাখবেন।আমি ফোন দিবো। আমি:আমার নাম্বার তুমার কাছে আছে??কই আমি তো তোমাকে মেসেজ বা ফোন দেইনি কখনো। রুপন্তি:এত কিছু জানা লাগবে না।মাগরীবের আজান দিচ্ছে।যান মসজিদে যান।মসজিদ থেকে সোজা বাসায় যাবেন।আমিও গেলাম।বাই।আসসালামু আলাইকুম মসজিদের রাস্তায় হাটছি আর ভাবছি একটু আগে যা হলো তা কি সত্যি নাকি স্বপ্ন মেয়েটাকে দুই বছর ধরেই ভালোবাসি।কিন্তু কখনো সাহস হয়নি সামনে যেয়ে বলার।বাসার বাইরে যতক্ষন থাকি মেয়েটার আশেপাশেই ঘুর ঘুর করি।কলেজ থেকে শুরু করে,টিচারের বাসা,মেয়ের বাসা সব খানেই আমাকে দেখে মেয়েটা।৩মাসের মধ্যেই মেয়েটাও আমাকে দেখে মুচকি হাসে।কিন্তু আমি সামনে যাওয়ার সাহসই পাই না।এভাবেই চলে গেলো ২ বছর।এখন দুজনেই একই ভার্সিটিতে পড়ি।কিছুদিন যাবত মেয়েটা আমাকে ক্রস করার সময় সালাম দেয়।আমিও সালামের উত্তর নিয়ে চলে যাই। ভাবতে ভাবতেই একটা রবি নাম্বার থেকে মেসেজ আসলো 'বাসায় পৌছেছেন?' হ্যা এভাবে আজ অনেক কথা হলো রুপন্তির সাথে... এই পর্যন্ত পড়েই ডাঃসুরাইয়া একটু নড়ে চড়ে বসলেন।চা এর কাপে চুমুক দিতে দিতেই ডায়রীর শেষ পাতায় গেলেন ২২ ফেব্রুয়ারি,২০১৩ আজ রুপন্তির গায়ে হলুদ।গত কাল বিকেলে রুপন্তি ফোন দিয়েছিলো রুপন্তি:রায়ান,তোমার কি কিছুই করার নেই?? আমি:কি করার আছে বলো।আমি আমার পরিবারের বড় ছেলে।মাত্র থার্ড ইয়ার ফাইনাল দিলাম।আমাকে আমার পরিবার নিয়ে ভাবতে হয়। রুপন্তি:আমি যদি তোমার না হতে পারি আর কারো হবো না। আমি:প্লিজ শোনো।প্লিইইইইজ কাদতে কাদতে ফোনটা কেটে দিলো মেয়েটা।আমার সামনে থাকা বালিশটার উপর দু ফোটা অশ্রু ঝরলো আমার কিছুই করার নেই।কালকের পর থেকে ২ প্যাক গোল্ডলিফ শেষ করেছি.... ডায়রীটা বন্ধ করে ডা:সুরাইয়া চায়ে চুমুক দিতে দিতে জুনিয়র ডা:রাকিব সাহেবের দিকে তাকালেন। ডা:রাকিব বলতে শুরু করলেন,"হ্যা এই ডায়রীটা ৩৩৬ নাম্বার বেডের সেই রায়ান নামের পাগলটার।রুপন্তির গায়ে হলুদের রাতেই রুপন্তি সুইসাইড করেছিলো।আর রায়ানের বন্ধু সৃজন তাকে এই খবর টা দেওয়ার পর সে সেন্সলেস হয়ে যায়।৪৮ ঘন্টা পর জ্ঞান ফিরে।কিন্তু সে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে।দিনকে দিন তার পাগলামি বাড়তে থাকায় তাকে এখানে নিয়ে আসা হয়।ডায়রীটা সে তার বালিশের নিচেই রাখে।এখন সে নিচে থাকায় আপনাকে দেখাতে পারলাম।রায়ানের মুখে একটা কথাই শুনা যায়।আর তা হলো,রুপু যা বলেছিলো তাই করেছে,আমি ই শুধু পারিনি"।ছেলেটা এখানে তিনবার সুইসাইডের চেষ্টা করেছে।তাই তাকে এক্সট্রা কেয়ার নেয়া হয়।" ডা:সুরাইয়া চশমাটা খুলে ডায়রীটা একটু ভালোভাবে দেখার চেষ্টা করতেই একটা ছবি দেখতে পেলো হ্যা ছবিটা তার স্কুল লাইফের বান্ধবি রুপন্তির ই ছবি........ বছর তিনেক আগে রুপন্তির বিয়েতে দাওয়াত পেয়েছিলো সুরাইয়া।গায়ে হলুদে যেতে পারেনি বিয়েতে যাওয়ার প্ল্যান ছিলো।কিন্তু রুপন্তির বিয়ে লাল শাড়িতে হয়নি।হয়েছিলো সাদা কাফনের কাপড়ে। এক সপ্তাহ হলো সুরাইয়া এখানে জয়েন করেছে।রায়ান এমনিতে অনেক উশৃংখল হলেও সুরাইয়া কে দেখলেই ঠান্ডা হয়ে যায়।যার কারনে রায়ানের বেপারে জানার আগ্রহ বেড়েছিলো।হয়তো রুপন্তির কাছে সুরাইয়ার ছবি দেখেছিলো রায়ান। ওয়ার্ড বয় রফিক দৌড়ে এসে সুরাইয়া মেডামের রুমে ঢুকে বলতে লাগলো যে ৩৩৬ নং বেডের ছেলেটা নাকি ৪ তালা থেকে লাফ দিয়েছে আর মাথায় চোট খেয়ে স্পট ডেট। কথাটা শুনেই ডা:রাকিব বেরিয়ে গেলেন রফিকের সাথে। সুরাইয়ার চোখ দিয়ে দু ফোটা জল ডায়রীটার উপর পরলো ____ #প্রথম লেখা।ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য অনুরোধ


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now