বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বিসর্জন

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X বিসর্জন লিখাঃ Prince Murshed(কাব্য)। ঊর্মির জন্য বাসস্টপেজে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।সেই সকাল ৮টা থেকে একটা টংয়ের দোকানের সামনে পায়চারি করতেছি আর ঘনঘন চা খাচ্ছি।মেয়েটা কেনো যে এত দেরি করছে।কিছুই তো বুঝতেছি না।বাড়িতে কোনো কিছু টের পাইনি তো আবার।ধুর!টের পাবে কেনো?ঊর্মি তো ফজরের নামাজ পড়ে আমাকে কল দিয়ে বের হতে বলেছিল।তাহলে ও নিজে এত দেরি করছে কেনো????? টেনশনে চা গলা দিয়ে নামছে না।তবুও সময় পার করার একমাত্র মাধ্যম তো চা।এতসকালে কাউকে দেখতে পাচ্ছি না আশে পাশে।চায়ের কাপটা হাতে ঊর্মি আসার পথের দিকে তাকিয়ে আছি।সামনে শুধু কুয়াশা ছাড়া আর কিছুই দেখা যাচ্ছে না।দু'য়েকটা গাড়ি লাইট জ্বালিয়ে কুয়াশা ভেদ করে মাঝে মধ্যে গন্তব্যে ছুটে চলতেছে।এইসব দেখতে দেখতে গভীর ভাবনায় হারিয়ে গেলাম। আমি কাব্য।গ্রাম থেকে এসএসসি পাশ করে শহরের একটি নামকরা কলেজে ভর্তি হই।চোখ ভরা স্বপ্ন আর বুক ভরা আশা নিয়ে অচেনা পরিবেশে স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে পাড়ি জমায়। কলেজে ভর্তি হতে যেদিন যাই,সেদিন একটি মেয়েকে দেখে চোখের পলক ফেলতে পারিনি।জানিনা কতক্ষণ মেয়েটির দিকে থাকিয়ে ছিলাম।হঠাৎ কারো ডাকে বাস্তবে ফিরে আসি।দেখি মেয়েটা ডাকছে।মেয়েটি নাকি ভুলে কলম আনে নি।তাই আমার কলমটা চেয়ে নিলো।সেদিন মেয়েটি চলে আসার পর আমি ম্যাডাম থেকে ওর ভর্তি ফর্মটা নিয়ে নাম ঠিকানা জেনে নিই। মেয়েটির নাম ঊর্মি,মানবিক বিভাগের স্টুডেন্ট। সেই দিন মেয়েটিকে ফলো করি।ঊর্মিকে দেখার আশায় প্রতিদিন কলেজে যেতাম।মাঝে মধ্যে ভুল করে শুক্রবারে পর্যন্ত কলেজে চলে যেতাম।প্রতিটি ক্লাস শেষে স্যাঁর চলে যাওয়ার পর ঊর্মির ক্লাসরুমের সামনে ঘোরাঘুরি করতাম।ক্লাস শেষে বন্ধুদেরকে নিয়ে ঊর্মির পেছনে পেছনে ওর বাড়ি পর্যন্ত যেতাম। প্রতিদিন সবার আগে কলেজে আসতাম।সব ক্লাস করে ঊর্মি বের হলেই তারপর আমি কলেজ থেকে বের হতাম।এটিই ছিল আমার নিত্য নৈমিত্তিক রুটিন।কোন কারণে ঊর্মি কলেজে না আসলে,সারাটা দিন আমার অস্থিরতায় কাটতো।তখন এতটা ভীতু ছিলাম যে,ঊর্মির বান্ধবীদের কাছে ও কলেজে না আসার কারণ জানতে চেয়ে হাঁটু কাঁপার কারণে কথা বলতে পারিনি। আমি ঊর্মিকে মনে প্রাণে ভালবাসতাম।কিন্তু কখনো মুখে বলতে পারি নি।সাহসের অভাবে।প্রতিদিন আমি যে ওকে ফলো করতাম,সেইটা নিশ্চয় সে কিছুটা হলেও বুঝতে পেরেছে।বন্ধুদের জোরাজুরিতে একদিন ঊর্মির সামনে গিয়ে দাঁড়ায়।প্রপোজ করতে যাবো ঠিক তখনি একটা ট্রাক খুব জোরে আমাদের দিকে আসতে লাগলো।তখন আমি কিছু না ভেবে ঊর্মিকে নিয়ে লাফ দিয়ে রাস্তার পাশের ক্ষেতে পড়ে যাই।আর গাড়িটা গাছের সাথে ধাক্কা খায়। ক্ষেত থেকে উঠে ঊর্মি ট্রাকের অবস্থা দেখে আমাকে ধন্যবাদ দিয়ে বন্ধু্ত্বের আমন্ত্রণ জানায়।ঊর্মির বন্ধুত্ব অামি গ্রহণ না করে পারি নি।সেই থেকে আমরা দু'জন বন্ধু।দু'জন দু'জনকে সবকিছু শেয়ার করি।কলেজে দু'জন একসাথে থাকতাম।মাঝে মাঝে ফোনেও কথা বলতাম।সারাক্ষণ ফেসবুকে চ্যাট করতাম। দিনকাল ভালোই চলছিল।অনেক ভেবে চিন্তে প্রপোজ করার সিদ্ধান্ত নিলাম।একদিন বিকালে কল দিয়ে ঊর্মিকে পার্কে আসতে বললাম।পার্কে গিয়ে দেখি ঊর্মি আমার আগেই উপস্থিত।হাতে গোলাপ নিয়ে আমি যখনি ওর সামনে গিয়ে দাঁড়াবো ঠিক তখনি ওর পেছনে কেউ একজনকে দেখে চমকে যাই।তখন ঊর্মি আমাকে ঐ ছেলেটার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়।সব শেষে জানতে পারি ছেলেটির সাথে ঊর্মির রিলেশন এক বছরের।ঊর্মি নাকি আমাকে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য এতদিন আমাকে বলেনি। সত্যি আমি খুব অবাক হয়ে গিয়েছিলাম সেটা শুনে।পেছনে লুকানো গোলাপ গুলো পায়ের নিচে দিয়ে মাটির সাথে পিশে ফেলি।ওদেরকে বুঝতে না দিয়ে কানে ফোন দিয়ে কারো সাথে কথা বলার অভিনয় করে ওদের সামনে থেকে চলে আসি। তারপরের দিন কলেজে গিয়ে ঊর্মির সাথে স্বাভাবিকভাবেই কথা বলি।কখনো বুঝতে দিই নি ওর প্রতি আমার দুর্বলতা।যতক্ষণ ওর সামনে থাকতাম ততক্ষণ হাসি খুশি থাকার অভিনয় করতাম।ভাবতাম ও তো একজনকে ভালবাসে।ও তো ওর মনের মানুষকে নিয়েই সুখেই আছে।আমি কেনো ওকে বিরক্ত করবো।বন্ধু আছি এটাই কম কি?বন্ধুত্বের কাছে না হয় ভালবাসাকে বিসর্জন দিলাম? আসলে ভালবাসা সবার কপালে থাকে না।ভাগ্য না হয় আমার পক্ষে নেই।কিন্তু ওর বন্ধুত্বটাতো পেয়েছি।আমার সবকিছু বিসর্জন দিয়ে হলেও ওর বন্ধুত্বের দাম দিয়ে যাবো। ওর সুখ কেড়ে নেওয়ার অধিকার আমার নেই।নিজের স্বার্থের জন্য অন্যের এতটা ক্ষতি করার শিক্ষা আমাকে দেয়নি শিক্ষকরা।তাই আমি নিরবে সবকিছু সয়ে যেতে লাগলাম।সবসময় সব কাজে আগের চেয়ে বেশিই ঊর্মির পাশে থাকতে লাগলাম।ঊর্মিও আমার সাথে আগের মতোই আচরণ করতে থাকে। সময়ের স্রোতে ভাসতে ভাসতে ইন্টার শেষ করে একেক জন একেক কলেজ বা কেউ কেউ পাবলিক ভার্সিটিতেও ভর্তি হয়।কিন্তু ঊর্মির সাথে আমার বন্ধুত্বটা রয়ে যায়।প্রায় সময় ফোনে কথা হয় আবার মাঝে মাঝে দেখাও হয়। হঠাৎ একদিন ঊর্মির জরুরি তলব পেয়ে ওর বাসায় যাই।অবশ্যই আগেও যেতাম।কিন্তু আজকের যাওয়াটা অন্য রকম।সোজা ঊর্মির রুমে চলে যাই।ওখানে গিয়ে ঊর্মি কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে ওর বিয়ের কথা বলে আমাকে।ওর পরিবার নাকি জোর করেই ওকে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে।কিন্তু ও ওর বয়ফ্রেন্ডকে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করবে না।প্রয়োজনে সে আত্মহত্যা করবে। তারপর অনেক ভেবে চিন্তে ঊর্মি ওর বয়ফ্রেন্ডের সাথে পালিয়ে যাওয়ার প্ল্যান করে।আর তাদেরকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করার জন্য ঊর্মি আমাকে ডেকেছে।সবকিছু গুছিয়ে নিয়ে ঊর্মি পালিয়ে যাবার জন্য তৈরি হয়ে আমাকে সকাল ৯টার বাসের টিকেট কাটতে বলে।এই কথা শুনে আমি বাসায় চলে আসি এবং রাতে কক্সবাজারের দুইটি টিকেট কাটি। হঠাৎ কারো ডাকে বাস্তবে ফিরে এলাম।চেয়ে দেখি টংয়ের দোকানদার বলতেছে ভাইজান চা তো ঠান্ডা হয়ে গেলো তাড়াতাড়ি খেয়ে নেন।চা টা শেষ করে বসা থেকে উঠে হাতঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি ৯টা বাজতে আরো ১৫ মিনিট বাকি আছে।এদিকে বাস ছাড়ার সময়ও হয়ে আসছে আর অন্যদিকে ওদের কেউই আসেনি। কিছুক্ষণ পর ঊর্মি অার ওর বয়ফ্রেন্ড হাঁপাতে হাঁপাতে আমার সামনে এসে দাঁড়াল।আমি তখন একমিনিটও দেরি না করে ওদেরকে বাসে তুলে দিই।প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র গুলো ভালোভাবে চেক করে হেল্পারকে বুঝিয়ে দিই।পানির বোতল আর আচার কিনে ঊর্মির হাতে দিয়ে আমি বিদায় নিই। আমি বাস থেকে নামতেই বাসটা আস্তে আস্তে চলতে শুরু করলো আর আমি যতটুকু পযর্ন্ত দেখা যায় বাসটার দিকেই তাকিয়ে থাকলাম।তাকিয়ে থাকতে থাকতে চোখ দু'টি ক্রমশ ঝাপসা হয়ে আসতে লাগল। একসময় বাসটা হাওয়ার সাথে মিলে গেলো।কেনো জানি না,আমার চোখদুটি অশ্রুতে টলমল করতে লাগল.......


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আত্মবিসর্জন
→ অস্থি বিসর্জন
→ বিসর্জন
→ অস্থি বিসর্জন

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now