বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বিষন্নতায় সুখের ছোঁয়া

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X "বিষন্নতায় সুখের ছোঁয়া" লেখকঃ A B Emran Hossain (অভিমানী ছেলে) . হালকা হালকা শীত পড়ছে। লেপ মুড়ি দিয়ে বেশ আরামেই রাতে ঘুম দিয়েছি। সকালে বিরক্তিকর ফোনটা ঘুম ভাঙ্গিয়ে দিল। দিনটা ছিল ১৪ ই ফেব্রুয়ারি। সকালের শীতটা এতই প্রকোট ছিল যে লেপের ভেতর থেকে হাত বাহির করে রিসিব করতে ইচ্ছে করছিল না। বেশ কয়েকবারই ফোন দিয়েছে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও ফোনটা হাতে নিলাম। আমার খুব কাছের বান্ধবি অর্পা ফোন দিয়েছে। ফোনটা রিসিব করে কানে ধরলাম। . "কিরে গাধা ঘুম থেকে এখনো উঠিস নি?" . এমনিতেই সকালের আরামের ঘুমটা নষ্ট করেছে এর উপর অর্পার বকবকানি ভালো লাগছেনা এখন। ঘুম ঘুম কন্ঠে বললামঃ . "এখানে কোন গাধা থাকেনা, চিড়িয়াখানায় যোগাযোগ করুন" "সকাল সকাল রাগ তুলবি না। তাড়াতাড়ি উঠে রূপায়ন পার্কে চলে আস" "এখন যেতে পারব না" "আরে আস না! তোর জন্য একটা মেয়ে খোঁজে পাইছি" "মেয়ে পাইছিস মানে!!" "প্রেম তো তোর কপালে নাই, তাই তোর জন্য আমি মেয়ে খোঁজে একটা মেয়ে পাইছি একদম ঠিকঠাক।" "সকাল সকাল উল্টা পাল্টা কথা বলিস না তো" "আরে আস, আমার বয়ফ্রেন্ডের সাথেও তোকে আজ পরিচয় করিয়ে দিব" . কথাটা শুনেই এক লাফেই বিছানায় বসে পড়লাম। কারন গত দেড় বছর ধরে অর্পাকে ভালোবেসে আসছি। কিন্তু তা অর্পার অজান্তে। তবে অর্পা তা বহু আগেই বুঝতে পেরেছে। এখন অর্পা বলছে তার বয়ফ্রেন্ড আছে! বুকের ভেতর একটা আচমকা ঝাটকা খেল! ধরা ধরা কন্ঠে বললাম, . "তোর বয়ফ্রেন্ড মানে!!" "বয়ফ্রেন্ড মানে বয়ফ্রেন্ড! আজ আমার বয়ফ্রেন্ডের সাথে পরিচয় করিয়ে দিব, আর তোর জন্য একটা গার্লফ্রেন্ডও খোঁজে আনছি, সেও আসতেছে। তুই তাড়াতাড়ি চলে আয়" "এতদিন সময়গুলো নষ্ট করার কি দরকার ছিল!" "বেশি পেচাল করিস নাতো! পার্কে চলে আয়, আর পাঞ্জাবি পড়ে আসবি। নাহয় মেয়েটা তোকে পছন্দ নাও করতে পারে" . ধুর সকাল সকাল এমন কথা শুনে মনটাই খারাপ হয়ে গেল। যাকে দেড় বছর ধরে ভালোবেসে আসছি আজ তার বয়ফ্রেন্ডের সাথে দেখা করতে যাচ্ছি! মনে মনে বললাম, "বাহ কি ভাগ্য!" . জিন্সের সাথে ধূসর সাদা পাঞ্জাবিটা পড়ে নিলাম। চুলে সাধারনত সিঁথি করি না, আজও করলাম না। বেড়িয়ে পড়লাম রূপায়ন পার্কের উদ্দেশ্যে। পার্কে ঢুকে চারদিকে চোখ ঘুরিয়ে খোঁজতে লাগলাম। অর্পাকে চোখে পড়ছে না। হঠাৎই অর্পার ফোন, . "কিরে গাধা কই তুই" "ধুর সেই কখন এসে শুধু ঘুরছি তোর কোন ছায়াও নেই" "আরে আমি পূর্ব কর্নারে আছি, তাড়াতাড়ি আয়" . এবার মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেছে। আমি দাড়িঁয়ে পশ্চিম কর্নারে আর বলছে এখন পূর্ব কর্নারে যেতে! মেয়েটার একটা কথাও ফেলতে পারি না। সব কথা শুনতে মনে একটা সাচ্ছন্দতা এসে যায়। সব কথা শুনতে ভালোই লাগে। কিন্তু আজ দিনটা অনেকটা ভয়াবহ! আজ অর্পা তার বয়ফ্রেন্ড নিয়ে এসেছে! হারিয়ে ফেলেছি তাকে! মনের ভেতর আকুতি নিয়ে তাড়িতাড়ি করে এগিয়ে যাচ্ছি। . অর্পা এখন আমার সামনে। মনে হচ্ছে এই প্রথমবার অর্পাকে দেখেছি। নীল শাড়ি পড়ে এসেছে। চুল আজ বেনি করেনি। বাতাসে উড়ছে চুলগুলো। চোখে টানা কাজল। চোখের সৌন্দর্য্য ঢেকে রাখতে কপাল ছোঁয়ে চোখের একাংশ ঢেকে দিতে চাচ্ছে সামনের চুলগুলো। অর্পার সৌন্দর্য্যের মৌনতায় মুগ্ধ হচ্ছি। কিছুক্ষনের জন্য ভুলে গিয়েছিলাম আমি কোথায় আছি, কেন এসেছি! শুধু অর্পাকেই দেখছিলাম। মাঝে সম্ভবত দু তিনবার চোখের পলক পড়েছে। . "কিরে এমনে তাকিয়ে আছিস কেন" অর্পার কথায় পলক ফেলে আবারো অর্পার দিকে তাকালাম। মনে পড়েছে আমি এখন পার্কে দাড়িয়ে। কিছু বললাম না, অন্যদিকে তাকালামও না, অর্পাকে এখনো দেখছি। এটাই হয়ত খুব কাছ থেকে একান্তভাবে শেষবার দেখা। কারন অর্পা এখন থেকে তার বয়ফ্রেন্ডের জন্য সাজবে, বয়ফ্রেন্ডকেই বেশি সময় দিবে। আবারো অর্পা বলল, . "কিরে হাবার মত তাকিয়ে আছিস কেন" . অর্পার কথায় চোখের পলকটা নিচে ফেললাম। অর্পা এবার খানিকটা লজ্জা পেয়েছে মনে হয়। বললাম, . "তোর বয়ফ্রেন্ড কই?" . বুকের ভেতরটা অচিরেই যেন ছিড়ছে একটু একটু করে। অর্পাকে বুঝতে দিলাম না। "সে তো অনেকক্ষন আগেই এসেছে" "তা পরিচয় করিয়ে দে" "সে তো আমার সামনেই দাড়িয়ে" . পেছনে তাকালাম, কেউ নেই। বললাম, "কই! কেউ তো নেই" "তুই আছিস?" "হুম, কিন্তু তোর বয়ফ্রেন্ড কই?" "হাদারাম! তোকেই ভালোবাসি। তোকে আমি যতটুকু চিনি তুই কখনোই আমাকে ভালোবাসার কথা বলবি না। তাই আমিই বলতে হল" . মনে মনে ভাবছি ঘুমের ঘুরে স্বপ্ন দেখছি নাতো!! নিজেই নিজেকে ছোট্ট করে চিমটি কাটলাম। নাহ! এ স্বপ্ন নয়, এ যে বিষন্নতার মাঝে অনেকখানি সুখের ছোঁয়া পেয়েছি। . "ভয় পাইয়ে দিছিলি কেন?" "তোর আবার কিসের ভয়!" "যখন তুই বলছিলি তোর বয়ফ্রেন্ডের সাথে দেখা করাবি তখন আমার অবস্থা কি হয়েছিল জানিস!!" "যদি এই ভয়টা থাকত তবে এতদিন বললি না কেন" "এতদিন সাহস ছিলনা, আজ সাহস পাইলাম। এখন বলছি, ভালোবাসি, ভালোবাসি, ভালোবাসি" "এভাবে হবে না হাত ধরে পুরু পার্ক হাঁটবি" "ভালোবাসার মানুষকে তুই না বলে তুমি বল" "আমি পারব না তুমি করে বলতে" "হাতটা তো দাও" "সব কিছুই আমি করে দিতে হবে তুমি ধরো" . অর্পার হাতটা আমার হাতের মুঠোয় মুষ্ঠিবদ্ধ করে পাশি হেটে চলছি দুজনে। হাতের চুড়িগুলো এসে জড়িয়ে ধরছে আমার হাত ঘড়িটায়। বাতাসে চুলগুলো সরু করে উড়াচ্ছে পেছন প্রান্তরে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now