বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"এবার আমার পালা"
নাজিম-উদ-দৌলা
-------------------
(পর্ব ২)
হঠাৎ আমার কাঁধে কেউ একজন হাত রাখল! চমকে দেখি আমার পাশে নিষাদ দৌড়াচ্ছে! নিষাদ এখানে এল কেমন করে?
“আমাকে বাঁচাও নিষাদ” আমি অনুনয় করলাম ছেলের কাছে।
নিষাদ কিছু বলছে না। ভালভাবে খেয়াল করতেই দেখলাম আসলে এটা নিষাদ নয়! নিষাদের শরীর কিন্তু মুখটা দেখতে কুকুরের মত। নিষাদরুপী একটা কুকুর আমার পিছু নিয়েছে! কুকুরটা আমার কাধ ধরে ঝাঁকাল, “কি হয়েছে ড্যাড!”
আমি প্রানপনে নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলাম। নিষাদ আবার জিজ্ঞেস করল, “ড্যাড, কি হয়েছে? এমন করছ কেন?”
আমার ঘোর কেটে গেল। নিজেকে আবিস্কার করলাম ড্রয়িংরুমে, টিভি স্ক্রিনের সামনে। সিনেমা চলছে "হাই টেনশন', একটা খুব ভায়লেন্সের দৃশ্য দেখাচ্ছে!
একটা ঢোঁক গিলে বললাম, “কি হয়েছিল আমার?”
“তুমি সিনেমা দেখতে দেখতে হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরন শুরু করেছিলে! উল্টা পাল্টা বকছিলে!” নিষাদ বলল।
আমি উঠে দাঁড়ালাম। পায়ে পায়ে হেঁটে নিজের রুমে চলে আসলাম। শরীরটা ইদানীং খারাপ যাচ্ছে। ডাক্তার দেখানো দরকার। আর হরর মুভি দেখাও বন্ধ করতে হবে। মনের উপর খুব বেশি চাপ ফেলছে!
বেডে শুয়ে খেয়াল করলাম নিষাদ এসে মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে। ভঙ্গীটা আমার খুব পরিচিত। এটা মায়ের কাছ থেকে পেয়েছে সে। এর মানে হচ্ছে নিষাদ কিছু একটা বলতে চায়, অনুমতি দরকার!
অনুমতি দিলাম, “কি বলবে বল, নিষাদ!”
“আমি একটা কবিতা লিখেছি ড্যাড। ইংলিশ পোয়েম”।
আমি হাসলাম। আমিও স্টুডেন্ট লাইফে ভাল ইংরেজি কবিতা লিখতাম। এই প্রতিভা নিষাদ জেনেটিকেলি পেয়েছে। বললাম, “তুমি পড়ে শোনাবে নাকি আমি পড়ব?”
“আমিই পড়ে শুনাই?”
“শুনাও!”
নিষাদ শুরু করল...
My Mother seems so far away from me,
On that beautiful white shore across the sea.
Yet I remember love’s soft glow upon her face,
And the feel of her touch and tender embrace.
When I am weary from the burdens I’ve borne,
And the path is unclear and I feel so forlorn,
I remember her loving support was always near,
And her advice made the path ahead seem clear.
When I feel there is no one who seems to care,
Or when the heartache seems too hard to bear,
I remember how she always stood by my side,
And would tenderly wipe away the tears I cried.
When there are moments of great joy and pride,
And I wish my Mother was standing at my side,
I remember she saw more than I thought I could be,
And know I owe my triumphs to her belief in me.
When I reminisce about the things she used to say,
And I miss her and think she is so far away,
I remember what she gave lives on through me,
And one day I’ll see her on the shore across the sea.
কবিতা শেষ করে নিষাদ আর দাঁড়াল না। ঘুরে চলে যেতে উদ্যত হল।
আমি জিজ্ঞেস করলাম, “এই কবিতা কেন লিখেছ তুমি?”
নিষাদ জবাব দিলনা। রুমের দরজাটা টেনে দিয়ে চলে গেল।
জেনির সাথে একবার কথা বলা দরকার। নিষাদকে নিয়ে কিছু একটা করতে হবে। জেনি আর আমার বিয়েটা আটকে আছে ওর কারনেই। নিষাদ ব্যাপারটা কীভাবে নেবে সেটা না বুঝে আমি ফাইনাল কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারছিনা।
জেনিকে ফোন দিলাম। সে রিসিভ করতেই বললাম, “জেনি একটা সমস্যা হয়েছে”।
জেনি বলল, “কি সমস্যা?”
“মনে হচ্ছে নিষাদ তার মায়ের মৃত্যু সম্পর্কে আরও বেশি কিছু জানে!”
“মানে? অসম্ভব!” জেনির কণ্ঠে অবিশ্বাস টের পেলাম।
“হ্যা... সে আজ একটা কবিতা লিখেছে তার মাকে নিয়ে। কবিতার ভাষা সন্দেহজনক!”
দুজনে এ বিষয়ে মিনিট পাঁচেক কথা বলে ফোন রাখতে যাচ্ছি তখন দরজায় নকের শব্দ হল।
আমি বললাম, “ভেতরে এস নিষাদ”।
নিষাদ ভেতরে এলনা, দরজা একটু ফাঁক করে মাথা বাড়িয়ে দিয়ে “কবিতাটা আমি লিখিনি ড্যাড, বেলিন্ডা স্টলার নামে একজন মহিলা লিখেছেন” বলেই চলে যেতে উদ্যত হল।
আমি ডাকলাম, “নিষাদ! দাড়াও”।
নিষাদ দাঁড়াল।
ভেবেছিলাম কেন মিথ্যে বলেছে তা জিজ্ঞেস করব। কিন্তু জানি জিজ্ঞেস করলে সদুত্তর পাওয়া যাবেনা! এইধরনের আচরন নিষাদ হরর মুভি দেখে দেখে শিখেছে। আমি বললাম, “কাল বিকালে তোমার কোন কাজ আছে?”
নিষাদ ঘুরে তাকাল, “না কাজ নেই। কেন?”
“কাল আমি আগে আগে অফিস থেকে ফিরব”।
“নতুন মুভি দেখার জন্য?”
“নাহ! কালকে লং ড্রাইভে যাব। অনেক দূরের পথে!”
নিষাদকে খুব একটা আগ্রহী মনে হচ্ছে না। সে বিনা বাক্যব্যয়ে আমার রুম ছেড়ে বেরিয়ে গেল। ছেলেটাকে আর হরর মুভি দেখানো যাবেনা! অন্য কিছুতে আগ্রহী করে তুলতে হবে!
***
আমি সাধারণত কাউকে কথা দিলে সেটা রাখার আপ্রান চেষ্টা করি। অফিস থেকে তাই আজ আগেই ফিরেছি। নিষাদকে নিয়ে লাঞ্চ সেরেই বেরিয়ে গেছি লং ড্রাইভে। আমরা যাচ্ছি ময়মনসিংহের হোতাপাড়ার দিকে। উদ্দেশ্য প্রাকৃতিক পরিবেশের কাছাকাছি কিছুটা সময় কাঁটিয়ে আসা। এতে করে মাথাটা একটু হালকা হবে। নিষাদকে ঘুরাঘুরি করা, বাইরের জিনিস দেখা- এসবের প্রতি আগ্রহী করে তোলা গেলে হয়ত হরর মুভি দেখার নেশাটা একটু কাটানো যাবে।
বিকেলের নরম রোদ পড়েছে রাস্তায়। দুধারে ঘন জঙ্গল। এদিকটাতে জনবসতি খুব একটা নেই। জঙ্গলের একপাশে দেখলাম একটা রাস্তা এঁকেবেঁকে নেমে গিয়েছে নিচের দিকে। মনে হচ্ছে এই রাস্তায় লোক-চলাচল বিশেষ হয় না। খুব ভাল লাগল আমার। ড্রাইভারকে বললাম রাস্তার ধারে সাইড করে গাড়িটা থামাতে।
“এখানে থামাচ্ছ কেন ড্যাড?” নিষাদের প্রশ্ন।
“দেখছ না কি সুন্দর জায়গা। চল একটু নেমে ঘুরে দেখি”।
ড্রাইভারকে গাড়িতে বসতে বলে দুজনে নেমে এলাম। মাটির রাস্তা ধরে এগিয়ে এলাম বেশ খানিকটা পথ। এখান থেকে জঙ্গলটা ক্রমশ ঘন হয়েছে। রাস্তার পাশে দাড় করিয়ে রাখা গাড়িটা আর চোখে পড়ছে না।
“তোমার ভাল লাগছে না যায়গাটা, নিষাদ?”
“না” নিষাদের সংক্ষিপ্ত উত্তর।
“কেন নিষাদ?”
“আমার ভয় করছে”।
দিনরাত হরর মুভি দেখা নিষাদের মুখে ভয় পাওয়ার কথা শুনে আমার হাসি পেল। আরও কিছুদূর হেঁটে এলাম দুজনে। হঠাৎ কুকুরের কান্নার মতো একটা ডাক শুনতে পেলাম। দূর থেকে আসছিল আওয়াজটা। নিষাদ সতর্ক হয়ে দাড়িয়ে গেল।
“কি হল?” এস আর কিছুক্ষন হাটি!
“আমার মনে হচ্ছে ওটা নেকড়ের ডাক”।
আমার হাসি পেল। হাসি আটকে রেখে বললাম, “কি আবল তাবল বলছ নিষাদ? হরর মুভি দেখে মাথা গেছে তোমার! ঢাকা শহরে নেকড়ে আসবে কোত্থেকে?”
“আমি ফিরব বাবা?”
আমার তখন একটা পুরনো একটা রাস্তা চোখে পড়েছে। “যাব তো অবশ্যই, তার আগে চল ঐ রাস্তাটা কোথায় গেছে সেটা একটু দেখে আসি। মনে হচ্ছে কাছে ধারে একটা গ্রাম আছে”।
“আমি আর যাবনা” গোঁ ধরল নিষাদ।
আমি মাথা ঝাঁকিয়ে বললাম, “ঠিক আছে আমি তোমাকে জোর করছি না। তুমি গাড়িতে গিয়ে বস। আমি খানিক বাদেই আসছি”।
নিষাদ যেন হতাশ হয়েছে এমন ভঙ্গিতে মাথা নেড়ে গাড়ির দিকে ফিরে চলল। আমি কিছুক্ষন তার গমন পথের দিকে তাকিয়ে থেকে আবার রাস্তাটা ধরলাম নিশ্চিন্ত মনে। নিষাদের আপত্তির কোনো কারণই খুঁজে পাচ্ছি না। রাস্তার শেষটা কোথায় সেটা দেখার জন্য আমার মনে একটা জেদ চেপেছে।
কতক্ষন যাবত হাঁটছি বলতে পারব না। কিন্তু মনে হচ্ছে এই রাস্তা আর কখনো শেষ হবেনা। বাড়িঘর বা লোকজন কিছুই চোখে পড়ল না। নির্জন পরিত্যক্ত গোছের জায়গা। এই ব্যাপারটা আগে খেয়াল হয়নি। রাস্তার বাঁকে এসে যে বিষয়টা আমাকে মুগ্ধ করছিল, তা এই জায়গাটার পরিত্যক্ত রূপ ছাড়া আর কিছুই নয়।
সন্ধ্যে হয়ে আসছে। অবচেতন মন বারবার তাগাদা দিচ্ছে ফিরে যাওয়ার জন্য। একদিনের জন্য ঘুরাঘুরি যথেষ্ট হয়েছে। আমি ফিরতি পথ ধরলাম। এতক্ষন দূর থেকে হাইওয়ে ধরে ছুটে চলা দুরপাল্লার যানবাহনের আওয়াজ পাচ্ছিলাম। এখন তাও শুনছি না। আরও একটা বিষয় হচ্ছে, ফেরার পথে জঙ্গলটা একটু বেশি ঘন মনে হচ্ছে।
আরও কিছুদূর হাটার পর বুঝলাম পথ হারিয়েছি। গাজীপুর অঞ্চলের এই জঙ্গল সম্পর্কে অনেক কথা শুনেছি আমি। এখানে রাত বিরাতে ডাকাতি হয়, আর মানুষ মেরে ফেলে যাওয়াটা নতুন কোন বিষয় না। এতক্ষনে ভয়টা উপলব্ধি করতে পেরেছি আমি। দাঁড়িয়ে থেকে অনুমান করার চেষ্টা করছি কোন দিক দিয়ে এসেছিলাম। এখানে সেখানে ঝোপঝাড় আর গর্ত দেখছি। একটা রাস্তা দেখলাম এঁকেবেঁকে একটা ঘন ঝোপের দিকে এগিয়ে গেছে, তারপর তার পিছনে গিয়ে হারিয়ে গেছে। একটা গা-ছমছমে অনুভূতি হল। হাত পা অবশ হয়ে এল। এই প্রথম বারের মত মনে হল, নিষাদের সাথে ফিরে গেলেই ভাল করতাম।
ঠান্ডা বাতাস বইছে। মাথার উপর মেঘও ঘনীভূত হয়ে এসেছে। মাঝে মাঝে গম্ভীর মেঘের গর্জনও শোনা যাচ্ছে। সেই গর্জনকে ভেদ করে আবার মধ্যে মধ্যে রহস্যজনক এক চিৎকার শোনা যাচ্ছে– যেটাকে নিষাদ ভেবেছিল নেকড়ের চিৎকার। সেদিকে তাকিয়ে আছি, এমন সময় কনকনে ঠান্ডা বাতাস লাগল গায়ে।
হাঁটছি আমি। মনে হচ্ছে যেন পেরিয়ে এসেছি অন্তবিহীন পথ। মাঝে মধ্যেই আকাশ বিদীর্ণ করে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছিল। সেই আলোয় স্পষ্ট দেখলাম আমার সামনে এক ঘন জঙ্গল যার শুরু বা শেষ খুজে পাওয়া সম্ভব হবেনা। জায়গাটা তুলনামূলকভাবে নিস্তব্ধ। মাথার অনেক উপরে বাতাসের গর্জন শোনা যাচ্ছিল। ঝড়ের অন্ধকার যেন মিশে গেছে রাতের অন্ধকারে। এই অবস্থায় সেই নেকড়ের অদ্ভুত শব্দটা আমার চারপাশের নানা শব্দের মধ্যে প্রতিধ্বনিত হতে লাগল।
আমার মাঝে একটা ঘোরলাগা অনুভূতি সৃষ্টি হল। এই অর্ধ চৈতন্যাবস্থা স্থায়ী ছিল অনেকক্ষণ। হঠাৎ একটা গা-ঘিনঘিনে বমি বমি ভাব হল। প্রকাণ্ড স্থবিরতা গ্রাস করল আমাকে। মনে হল, সারা পৃথিবীটা হয় ঘুমাচ্ছে, নয় মরে গেছে– শুধু আমার কাছে বসে থাকা কতগুলো জানোয়ারের নিঃশ্বাসের আওয়াজ সেই নৈঃশব্দের ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। গলার কাছে একটু উষ্ণ ছোঁয়া পেলাম। তারপর ব্যাপারটা টের পেলাম, সঙ্গে সঙ্গে আমার হৃদপিণ্ডটা ঠান্ডা হয়ে এল ভয়ে। একটা বিরাট জন্তু আমার উপর শুয়ে আমার গলাটা চাটছে। ভয়ে নড়তে পারলাম না। চোখের পাতার ফাঁক দিয়ে দেখলাম, আমার উপর এক দৈত্যাকার নেকড়ের দুটো বড়ো বড়ো চোখ জ্বল জ্বল করছে। ফাঁক হয়ে থাকা বিরাট মুখের মধ্যে চকচক করছে ধারালো সাদা দাঁত। তার গরম জান্তব ক্ষুরধার নিঃশ্বাস এসে পড়ছে আমার উপর।
হঠাৎ আমার চোখ দুটো নেকড়েটাকে ছেড়ে গেল। দূরে কিছু একটার নড়াচড়া টের পাচ্ছি আমি। মানুষ বলেই মনে হচ্ছে। কে ওটা? অবয়বটা খুব বেশি পরিচিত। আরও কাছে এগিয়ে এল সেই ছায়ামূর্তি। এবার আর চিনতে কোন অসুবিধা হচ্ছেনা। নিষাদ! আমার ছেলে। নিষাদের চোখদুটো নেকড়ের মতই জ্বলজ্বল করছে, মুখের ভেতর থেকে উকি দিচ্ছে ভয়ংকরদর্শন দাঁত। আমি একটা চিৎকার দিয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললাম।
হুঁশ ফেরার পর দেখলাম কোথায় জঙ্গল, কোথায় নেকড়ে, আমি বাড়িতেই বসে আছি। প্রথমে খানিকক্ষণ কিছু মনে ছিল না। তারপর মনে পড়তেই গোঙানির মত একটা আওয়াজ করে লাফ দিয়ে দাড়িয়ে গেলাম। দেখলাম নিষাদ বসে আছে কাছেই। ডিভিডি প্লেয়ারে মুভি চলছে।
“কি হল ড্যাড?”
“কি ব্যাপার নিষাদ? আমরা এখানে এলাম কখন? আমরা কি লং ড্রাইভে যাইনি?”
“নাহ ড্যাড”।
“কেন?”
“তুমিই তো অফিস থেকে ফিরে বললে আজ শরীরটা ভাল লাগছেনা। আজ লং ড্রাইভে যাবেনা!”
“তাহলে মুভি দেখছি কেন?”
“নতুন কোন মুভি বাসায় নেই বলে তুমিই তো বললে ড্রাকুলাস গেস্ট মুভিটা ছাড়ার জন্য। আমি তাই করলাম!”
আমি মাথা নিচু করে নিজের রুমের দিকে হেঁটে যাচ্ছি। এতক্ষনে সবটা মনে পড়েছে। মনে হচ্ছে সিরিয়াস কোন সাইকোলজিক্যাল ডিজঅর্ডারে ভুগছি আমি। নইলে কোনটা স্বপ্ন, কোনটা বাস্তব- তা প্রায়ই গুলিয়ে যাচ্ছে কেন?
বিছানায় শুয়ে পরলাম আমি। সিলিঙের ফ্যানটা কি আস্তে ঘুরছে নাকি? বাতাস এত কম লাগছে কেন? নিষাদের কণ্ঠস্বরে চমকে উঠলাম, “বাবা, ডিনার করবেনা?”
নিষাদ আমার বেডরুমের দরজায় দাঁড়ানো। আমি তার দিকে তাকিয়ে বললাম, “না, তুমি খেয়ে নাও”।
নিষাদ চুপচাপ দাড়িয়ে থাকল।
“কি ব্যাপার কিছু বলবে?”
“আমি একটা কবিতা লিখেছি ড্যাড। ইংলিশ পয়েম”।
“আবার একটা কবিতা নকল করেছ?”
“না ড্যাড, আমি নিজে লিখেছি এবার” নিষাদ তার শার্টের পকেট থেকে একটা ভাঁজ করা কাগজ বের করে ভাঁজ খুলতে লাগল।
আমি বললাম, “রেখে যাও। পরে পড়ব”।
“তুমি ভুলে যাবে ড্যাড, আমি তোমাকে পড়ে শুনাই?” নিষাদ আমার মাথার কাছে চলে এসেছে।
আমি কিছু বললাম না।
নিষাদ শুরু করল...
A face that is always on my mind,
A smile I have seen a million times,
Two eyes that would light up the sky at night,
One last battle you could not fight,
The day was long, then night then morn.
I knew that soon you would be gone,
I clasped your hand so warm in mine,
Soon we would be out of time,
To stay with us you fought so hard,
A million pieces went my heart,
Now a photo I look at to see your smile,
I keep your number on my speed dial,
A video I watch to hear your voice,
This I do.... I have no choice.,
But great memories I will always keep with me,
Your love in my heart for eternity,
I never got to say goodbye,
To understand why, I can but try,
Waiting in heaven from this moment on,
'Till god asks you to bring me home....
কবিতা শেষ হতেই বললাম, “অনেক ভাল লিখেছ নিষাদ। কিন্তু এই একই থিম নিয়ে খুব বেশি লেখার দরকার আছে কি? অন্য কিছু নিয়ে লেখার চেষ্টা কর”।
নিষাদ মাথা ঝাঁকিয়ে চলে গেল। আমি শুয়ে শুয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করতে লাগলাম। হঠাৎ আবার মাথার কাছে নিষাদের কণ্ঠস্বর শুনলাম। “ড্যাড, একটা কথা বলব”।
আমার ঘুম পাচ্ছে ভীষণ। ঘুমজড়ানো কণ্ঠে বললাম, “আবার কি বলবে?”
“ড্যাড, এই কবিতাটা!”
“হুম”
“এটাও আমি লিখি নাই। লিখেছে লরনা ফারগুসন নামে বাইরের এক মহিলা কবি”।
আমি নিষাদের কথা শুনছিনা। আমার ঘুম দরকার! ঘুমিয়ে যাচ্ছি, হারিয়ে যাচ্ছি অতলে...
(শেষ পর্ব আগামীকাল)
--------------------------
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now