বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শার্লক হোমসের গোয়েন্দাগিরি- পর্ব ১

"গোয়েন্দা কাহিনি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X শার্লক হোমসের গোয়েন্দাগিরি ---আহমদ মূসা , , বিয়ের পরেই আমি প্যাডিংটন জেলায় এক বুড়ো ডাক্তারের পড়ন্ত প্র্যাকটিস কিনেছিলাম। বউকে নিয়ে থাকতামও সেখানে। বেকার স্ট্রিটে যাওয়া শিকেয় উঠেছিল পসার জমাতে গিয়ে। দীর্ঘদিন দেখাসাক্ষাৎ হয়নি শার্লক হোমসের সঙ্গে । জুন মাস। সকাল বেলা। প্রাতঃরাশ সবে শেষ হয়েছে। ব্রিটিশ জার্নাল পড়ছি। এমন সময়ে ঘরে ঢুকল হোমস। আমি তো অবাক ওর হঠাৎ আগমন দেখে। ও বলল, ‘ওহে ওয়াটসন, ডাক্তারি করতে গিয়ে গোয়েন্দাগিরি তথ্যবিশ্লেষণী সমস্যায় আগ্রহ এখনও আছে তো?’ ‘বিলক্ষণ। কাল রাতেই পুরোনো কেসগুলো নাড়াচাড়া করছিলাম। ‘আরও কেস চাও?’ ‘নিশ্চয়।’ ‘বার্মিংহামে যেতে হবে কিন্তু। রুগি কে দেখবে?’ ‘প্রতিবেশী ডাক্তার। তিনি ছুটি নিলে তার রুগি আমি সামলাই, আমার রুগিও তিনি সামলাবেন।’ হেলান দিয়ে চেয়ারে বসে অর্ধনির্মীলিত চোখে আমাকে দেখতে দেখতে হোমস বললে, ‘সর্দি লেগেছিল দেখছি।’ ‘তা লেগেছিল। কিন্তু এখন তো সেরে গেছে। তুমি জানলে কী করে? ‘তোমার চটি দেখে।’ পায়ের নতুন চটিজোড়ার দিকে অবাক হয়ে তাকালাম। কিন্তু বুঝলাম না চটির সঙ্গে সর্দির কী সম্পর্ক। হোমস বললে, ‘চটিজোড়া নতুন, কিন্তু শুকতলা আগুনে ঝলসানো। প্রথমে ভেবেছিলাম বৃষ্টিতে ভিজিয়েছ বলে আগুনের সামনে রেখে শুকিয়েছ। তারপর দেখলাম, ভেতরে সাটা দোকানের লেবেলটা এখনও রয়েছে— তার মানে জলে ভেজেনি। ভিজলে লেবেলও উঠে যেত। জুন মাসে বৃষ্টিবাদলা তো থাকেই। তা সত্ত্বেও শুকনো চটি পরে আগুনের সামনে শুকতলা এগিয়ে দিয়ে যখন বসে ছিলে, তখন বুঝে নিতে হবে সর্দি লেগেছিল তোমার। যাই হোক, চল বেরিয়ে পড়ি। মক্কেলকে গাড়িতে বসিয়ে এসেছি।’ প্রতিবেশী ডাক্তারকে চিঠি লিখেছিলাম। বউকে সব কথা জানিয়ে বেরিয়ে এলাম। দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল হোমস। বলল,‘তোমার প্রতিবেশী ডাক্তারের বাড়িতে যত রুগি এসেছে, তার চাইতে বেশি রুগি এসেছে কিন্তু তোমার এই বাড়িতে।” ‘তা তো আসবেই। আমি যার প্র্যাকটিস কিনেছি, তার পসার অনেক বেশি ছিল যে। বুড়ো হয়ে নিজেই রুগি হয়ে গেলেন বলে প্র্যাকটিস বেচে দিলেন। কিন্তু তুমি তা জানলে কী করে? ‘সিঁড়ি দেখে। তোমার সিঁড়ি পাশের বাড়ির সিঁড়ির চেয়ে তিন ইঞ্চি বেশি ক্ষয়েছে। গাড়িতে যিনি বসে আছেন, ওঁর নাম মি. হল পাইক্রফট। এসো, আলাপ করিয়ে দিই। কোচোয়ান, জোরসে চালাও— ট্রেন ধরতে হবে।’ গাড়ির মধ্যে আসীন যুবাপুরুষটি বেশ চটপটে, সুদর্শন। চেহারা দেখে চালাকচতুর বলেই মনে হয়। কিন্তু ঠোটের কোণে বিপদের অশনিসংকেত ঝুলছে। ট্রেনে ওঠার পর জানলাম বিপদটা কী। হোমস বললে, ‘মি. পাইক্রফট, সত্তর মিনিট ট্রেনে বসে থাকতে হবে। এই ফাঁকে বরং আপনার মজার ব্যাপারটা ডা. ওয়াটসনকে আর একবার বলুন, কিছু বাদ দেবেন না।’ হল পাইক্রফট বলতে শুরু করলেন। ‘ব্যাপারটা মজারই বটে। যেন আমাকে নিয়ে কেউ দারুণ রগড় আরম্ভ করেছে। ‘কক্সন অ্যান্ড উডহাউস’ কোম্পানিতে পাঁচ বছর চাকরি করেছি আমি। হঠাৎ তারা দেউলে হয়ে যাওয়ায় আমার চাকরিটি গেল। মালিক একটা ভালো সুপারিশপত্র দিলেন। তাই নিয়ে সমানে চাকরির দরখাস্ত করে চললাম। জমানো টাকা শেষকালে একদিন ফুরিয়ে এল। এই সময়ে লোম্বার্ড স্ট্রিটের মসন অ্যান্ড উইলিয়ামস-এ একটা কর্মখালির বিজ্ঞাপন দেখে দরখাস্ত ছেড়ে দিলাম। কোম্পানিটি লন্ডন শহরের সবচেয়ে বড়ো শেয়ার-দালালের কোম্পানি। কী কপাল দেখুন, পত্রপাঠ জবাব চলে এল। সামনের সোমবার যেন হাজির হই। চেহারাটা খুবসুরত হলে চাকরি আমি পাবই। কাজকর্ম আগের কোম্পানিতে যা করেছিলাম— সেইরকমই। কিন্তু মাইনে বেশি। পাচ্ছিলাম সপ্তাহে তিন পাউন্ড— এখানে চার পাউন্ড। ‘যেদিন চিঠিটা পেলাম, সেইদিনই সন্ধে নাগাদ বাড়ি এল একজন কালো দাঁড়িওয়ালা লোক। চোখও কালো। মাঝবয়েসি। নাম, আর্থার পিনার। পেশায় ফিনান্সিয়াল এজেন্ট। ভিজিটিং কার্ড দেখে জানলাম।’ ‘ভদ্রলোক বেশ চটপটে। বাজে কথায় সময় নষ্ট করার মানুষ নন। এসেই বললেন, “আপনিই তো মি. হল পাইক্রফট?’ ‘চেয়ার এগিয়ে দিয়ে বললাম, ’হ্যাঁ।’ “কক্সন অ্যান্ড উডহাউসে আগে কাজ করতেন?” ‘হ্যাঁ।’ ‘আপনার নাম শুনেছি। কক্সনের ম্যানেজার পার্কার আপনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ।’ ‘তই নাকি?’ ‘আপনার স্মৃতিশক্তি কীরকম?’ ‘খারাপ নয়। ‘রোজ সকালে স্টক এক্সচেঞ্জ পড়ি।’ ‘চমৎকার! চমৎকার! একেই বলে কাজের লোক। বলুন তো, আয়ারশায়ারের কী দর যাচ্ছে?’ ‘এক-শো পাঁচ থেকে সওয়া পাঁচ।’ ‘নিউজিল্যান্ড কনসোলিডেটেড?’ ‘এক-শো চার।’ “ব্রিটিশ ব্রোকেন হিলস?” “সাত থেকে সাড়ে সাত।” “শা-বাশ! শা-বাশ! দারুণ বলেছেন; সত্যিই মাথা ঘুরিয়ে দিলেন আমার। আপনার মতো ব্রেনের লোক মসনের খিদমত খাটবেন, এ কি হয়? আপনার স্থান আরও উঁচু জায়গায়। কবে যাচ্ছেন ওখানে?” “সোমবার।” “কক্ষনো যাবেন না। সোমবার থেকে আপনার চাকরি হয়ে গেল ফ্রাঙ্কো মিডল্যান্ড হার্ডওয়ার কোম্পানিতে; বিজনেস ম্যানেজার। শুধু ফ্রান্সেই এক-শো চৌত্ৰিশটা ব্রাঞ্চ আছে কোম্পানির, ব্রাসেলস আর সানরেমো-র ব্রাঞ্চ তো ধরলামই না।” “সে কী ! এ-রকম কোনো কোম্পানির তো নাম শুনিনি।” “শুনবেন কী করে ? বাজারে তো শেয়ার ছাড়া হয়নি। ভালো জাতের কোম্পানি বলেই নিজেদের মধ্যে থেকে মূলধন জোগাড় করা হয়েছে। কোম্পানির পত্তন ঘটিয়েছে আমার ভাই হ্যারি পিনার, এইবার ম্যানেজিং ডিরেক্টর হবে। তার আগে চাই একজন চালাকচতুর কাজের লোক। র্পাকারের কাছে আপনার নাম শুনেই দৌড়ে এসেছি। প্রথমটা অবশ্য বেশি দিতে পারব না, বছরে পাঁচ-শো পাউন্ড…” “পাঁ-চ-শো পাউন্ড!” “এ ছাড়াও শতকরা এক পাউন্ড কমিশন। মাইনে যা পাবেন, কমিশন পাবেন তার বেশি।” “কিন্তু লোহালক্কড় সম্বন্ধে আমি তো কিসু জানি না।” “বাজারদরটা তো জানেন।” “কিন্তু আপনাদের কোম্পানি এক্কেবারে নতুন…” “বেশ তো, এই নিন এক-শো পাউন্ড আগাম।” “কাজ শুরু করব কখন?” আহ্লাদে গদগদ হয়ে বললাম আমি। “কাল দুপুর একটায় বার্মিংহামে ১২৬বি কর্পোরেশন স্ট্রিটে গিয়ে দেখা করুন আমার ভাইয়ের সঙ্গে। চাকরি পাকা করবে সে-ই। দয়া করে এই কাগজটায় লিখে দিন, ‘কম করে পাঁচ-শো’ পাউন্ড মাইনেয় ফ্রাঙ্কো মিডল্যান্ড হার্ডওয়ার কোম্পানিতে বিজনেস ম্যানেজারের চাকরি নিতে আমার ইচ্ছা আছে।’… ঠিক আছে, ওতেই হবে। এবার বলুন, মসনের চাকরির কী হবে?” “লিখে জানিয়ে দিচ্ছি চাকরি চাই না।” “আরে না, না। ওটি করবেন না। মসনের ম্যানেজার আমাকে বলে কিনা আপনাকে রাস্তা থেকে তুলে এনে ভালো জায়গায় বসাচ্ছে— এর চাইতে ভালো চাকরি আপনাকে কেউ দেবে না। আমিও বাজি ধরে এসেছি, কাজের লোকের কখনো ভালো মাইনের অভাব ঘটবে না।” “শুনেই মাথায় রক্ত চড়ে গেল— আচ্ছা বদমাশ লোক তো! জীবনে যার মুখও দেখিনি, তার এতবড়ো কথা? ঠিক আছে, যাব না, চিঠিও লিখব না।” , চলবে,,,,,,,,,,,


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now