বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
কিছু স্বপ্ন কিছু ইচ্ছে
এই আমায় টেনে নিচ্ছে,
তোমার কাছে বারেবার।
কেউনা জানুক আমিতো জানি তুমি আমার
কেউনা জানুক তুমিতো জানো তুমি আমার।
,
--- ঠাস!!!
--- ওই হারামী মারলি কেন ( আমি)
--- বান্দর, কুত্তা, শিয়াল তোকে আমি কতক্ষণ
ধরে
ডাকতাছি,,,,,, কি শুনছ এত মনোযোগ দিয়া! হম?
(তানিশা)
--- ওহ সরি, আসলে ফুল ভলিউমে শুনতাছিলাম
তাই কানে যায়
নাই।
--- কি শুনছ এত মনোযোগ দিয়া? নাকি জিএফ
সাথে
গোপনে টাংকি মারস?
--- ওই একদম উল্টা পাল্টা কথা বলবি না বলে
দিলাম,,,,,,
তাহসানের গান শুনতাছি।
--- তাহসানের গান! বাহ বাহ, আমি তো এতদিন
জানতাম ছেকা
খাইলে, নয়তো মন খারাপ থাকলে শুনে, তোর
কোনটা
হইছে?
--- আমার কোনটাই হয়নাই, ওর গান আমার ভাল
লাগে তাই শুনি।
--- শুন, তাহসানের ফ্যান হবে আমার মত
সুন্দরিরা, যদিও আমি
ওর গান লাইক করি নাহ,,,, বাট তুই ওর গান শুনছ
কোন
উদ্দেশ্য?
--- ওই ওই ওই একদম ফালতু কথা বলবি নাহ,,
দেশের সংবিধানে
কী লেখা আছে যে, কোন শিল্পিরে মেয়েরা
পছন্দ
করলে ছেলেরা তার গান শুনতে পারবে নাহ?
--- ওহ আল্লাহ গো, তুমি কার পাল্লায়
ফালাইলা?
দুস্ত মাফ চাই এইবার অফযা, আর টিকিট টা
চেন্জ করে আন।
--- চেন্জ করবো মানে!! কই দেখি: একটা
রাজশাহীর একটা
খুলনার, ঠিকইতো আছে!
--- হম, ঠিকই আছে, বাট এখন দুইটাই খুলনার
আনবি।
--- কেন খুলনাতে তোর কোন আত্নিয় আছে
নাকি?
--- হম, তুই আছস নাহ
--- ফাইজলামি রাখ
--- আরে বুদ্ধু ফাইজলামি নাহ, খুলনাতে তো
আমার আত্নিয়
বলতে একমাএ তুই, আর আমার একমাএ
বেস্টফ্রেন্ড এর
বোনের বিয়েতে আমি থাকবো নাহ তো কে
থাকবে?
--- কিন্তু তুইতো বললি তুই আসতে পারবি নাহ!
--- ওইটাতো তোকে টেস্ট করার জন্য বলছিলাম
যে
তোর রিএকশন টা কেমন হয়, কিন্তু তুইতো কিছুই
বললি নাহ,
হাবার মত চেয়ে ছিলি।
--- কি আর বলবো বল, খুব কস্ট পাইছিলাম তোর
ওই
ব্যবহারে, তুই যে এমনভাবে মুখের উপর নাহ
করে দিবি
ভাবতে পারি নাই।
--- হইছে হইছে আমার আর ইমোশনাল বানাইতে
হইবো
নাহ, এইবার তারাতারি যাহ, টিকিট টা নিয়ে
আয়।
--- আচ্ছা তুই এখনেই দাড়া,
--- আর শুন!
--- হ্যা বল।
--- আসার সময় কিছু শুকনা খাবার নিয়ে আসিস।
--- আচ্ছা।
,
এইবার তাইলে পরিচিত হয়ে নেই।
আমি নীল, বাবা-মায়ের দুইমাএ ছেলে, মানে
বড় একটা
বোন আছে। খুব আদর করে আমায়, আমার
বিশ্বব্যাংক হল
আমার আপু, ছেলেবেলার থেকে বাবা-মার
কাছ থেকে
যদি কিছু চাইলে না পেতাম বা দিতে চাইতো
নাহ, তখন আমার
আপু চুপি চুপি দিয়ে দিতো।
ওর বিয়েতেই যাচ্ছি। আর যার সাথে এতোক্ষন
কথা বললাম,
ও আমার জানের জান কলিজার পরান
বেস্টফ্রেন্ড তানিশা,
সাইয়ারা সুলতানা তানিশা।
দুজনেই ঢাকা ভার্সিটির চ্যাপ্টার শেষ করে
বাসায় যাচ্ছি। ভার্সিটি
লাইফ শেষ, ওর সাথে আর দেখা হবে নাহ মনটা
খুুব খারাপ
ছিল তাই তাহসানের গান শুনছিলাম। আর এখন
বলে ও নাকি
আমাদের বাসায় যাবে, ইসস আমার যে কি
আনন্দ লাগতাছে।
আসলে আমি ওরে মনে মনে খুব বেশি
ভালবাসি, কিন্তু
কখনও বলতে পারি নাহ। যখনই ওর সামনে গিয়ে
ভাবি মনের
কথাটা বলে দেই, ঠিক তখনই আমার
কাপাকাপি শুরু হয়ে যায়।
কিন্তু এভাবে আর কতদিন! এই একটা সুযোগ
এসেছে এই
বিয়ে উপলক্ষে দেখি কিছু করতে পারি কিনা!
আচ্ছা ওর
মনে কি আমার প্রতি কোন অনুভূতি কাজ করে?
ও কি
আমাকে শুধু বন্ধুই ভাবে!
,
--- কি রে,,,, আনছিস? (তানিশা)
--- হম, এইটা আমার, আর এইটা তোর জানালার
পাশে(আমি)
--- ওয়াও জানালার পাশে! থেংকু দুস্ত উম্মাহ।
--- এই এই এই, কি করছিস? এটা পাবলিক প্লেস।
--- আমার দুস্তরে আমি একটা দিতেই পারি
--- বুঝছি তুই আমারে জনগনের হাতে মাইর
খাওয়াবী
--- মোটেও নাহ।
--- হইছে এইবার চল, ওইতো বাস ছাড়ার সময়
হয়ে গেছে।
--- হম, চল
,
--- দুস্ত এইটা কী? (তানিশা)
--- কেন তুই জানস নাহ! কেডবেরী।
আর কেডবেরী ও যদি নাহ চিনস, তাইলে এইটা
হল চকলেট
--- ওই কুত্তা, আমি কেডবেরী খুব ভাল করেই
চিনি,,,, আর
তুই এখন চকলেট আনছিস কেন?,,,, এখন কি এই
বাসের ভিতর
সবার সামনে আমি চকলেট খাব?
--- তো কি হয়েছে! আর তুই কি বাংলাদেশের
টপ
সেলিব্রেটি নাকি যে বাসের ভিতর চকলেট
খেতে পারবি
নাহ?
--- তুই নাহ খুব কথা পেচাস
--- এখানে কথা পেচানোর কি হলো? আচ্ছা তুই
এখন খাইস
নাহ, বাস থেকে নেমেই খাস।
--- নাহ আমি এখানেই খাবো
--- আচ্ছা তুই যা খুশি তাই কর।
--- তাই করবো,,,
,
আমি আর কিছুই বললাম নাহ, শুধু চেয়ে চেয়ে
ওর খাওয়া
দেখছি, ঠিক একটা অবুঝ শিশুর মত খাচ্ছে।
,
--- কি রে,,,, এইভাবে কি দেখস?
--- কই,,,, কিছু নাহ
--- খাবি?
--- নাহ,,,, তুই খা
--- একটু খেয়ে দেখ
--- নাহ রে,,,, আমার ওইসব ভালো লাগে নাহ,,,
তবে তোর
ঠোটে যেই গুলা আটকে আছে, ওইগুলা দিলে
ভেবে
দেখতে পারি (দুস্টু হাসি দিয়ে)
--- কুত্তা, বিলাই, শয়তান
আমার ও কিছু কিল গুসি হজম করতে হলো।
,
প্রায় আধা-ঘন্টা পরে টের পেলাম আমার
কাধে এর মাথা
দিয়ে ঘুমিয়ে আছে। ওই মুহুর্তে আমার কাছে
মনে
হলো পৃখীবির সব থেকে মায়াবী মুখটা আমার
সামনে।
বাতাসে কিছু চুল ওর মুখের উপর এসে পরলো।
আর আমার
খুব ইচ্ছা হচ্ছিলো চুল গুলো কানের পাশে গুজে
দেই।
কিন্তু সেই সাহস আর হয়ে উঠলো নাহ। সারা
রাস্তা ও
এভাবেই ঘুমিয়ে ছিল।
,
--- তানিশা, এই তানিশা, তানিশা
--- হম,, কি হয়েছে? ( ঘুম কন্ঠে)
--- আমরা এসে গেছি,,, নামতে হবে এইবার।
ও যখন দেখলো আমার কাধে ওর মাথা তখনই
সরিয়ে
নিলো, আর একটু লজ্জা পেল মনে হয়।
,
বাসার সবাই আমার দিকে হা করে তাকিয়ে
আছে। সবাই
হয়তো ভাবছে এই মেয়েকে আমি কোথা
থেকে
তুলে এনেছি।
মা মাঝখান থেকে বলে উঠলো "তুমি তানিশা
নাহ?"
--- জী আন্টি,,, সালামালাইকুম
--- অলাইকুম সালাম মা, এসো ভিতরে এসো
(মা)
তখন সবাই যেন একটু সস্তি পেল মনে হয়।
,
আসলে মা কে আমি সবই বলেছি।
মা আমার জন্য পৃথীবির সবথেকে ভাল বন্ধু।
তবে এই একটা
কথা বলিনি আর তা হল, আমি তানিসা কে
ভালবেসে ফেলেছি।
,
বাসায় বিয়ে তাই সবাই একটু বেশিই বিজি,
বিশেষ করে আমি।
ঘরের একমাত্র ছেলে আর কি।
সব ব্যাস্ততার মাঝেও দেখতে পাচ্ছি সবাই
তানিসা কে খুব
অল্প সময়ের মধ্যে আপন করে নিয়েছে। যেন ও
এই
পরিবারের ই একজন।
বিয়ের কাজের চাপের কারনে তানিসার
সাথে খুব কমই কথা
হয়।
,
আজকে আপুর গায়ে হলুদ। তানিসাকে হলদে
কাপড়ে যেন
একটা হলদে পরির মত লাগছে। চোখ ফিরানো
যাচ্ছে নাহ।
নিজের অজান্তেই তানিসা কে গিয়ে বললাম
"তোমাকে
আজ পরির মত লাগছে" আমার কথা শুনে একটা
হাসি দিয়ে
বললো " হইছে হইছে আর পাম মারতে হবে নাহ"
কি
মেয়ে রে বাবা! প্রশংসা করলে ও নাকি পাম
মারা হয়?
,
আমাদের এদিকে বিয়ের নিয়ম টা হলো,
সন্ধায় কনেকে
সবাই মিলে হলুদ দিবে। আর হলুদ দেওয়া শেষ
হলে একটু
নাচ গান, নিজেরা যা পারি আর কি।
অনুস্ঠানের মাঝে কুইজ এর
অপশন ছিলে। আমিতো কুইজে অংশগ্রহণ করে
ধরা
খেয়ে গেলাম। আমাকে বলা হল নাচতে। আমি
নাচা তো
দুরের কথা নাচের জন্য শরির দুলাতেই পারি
নাহ। অনেক
কস্টে মুক্তি পেলাম গান গাওয়ার মাধ্যমে।
গান গাওয়ার পর সবাই
খুব বাহবা দিলো, তানিসা বললো " একদম
ফাটিয়ে দিয়েছিস
বস"
,
সন্ধায় হলুদে বরের বাড়ির কিছু মেয়ে
আসছিলো।
অনুস্ঠান শেষে আমরা একসাথে আড্ডা
দিচ্ছিলাম, তানিসা ও ছিল
সাথে। এরমাঝে একজন বলল "নীল ভাইয়া,
আপনার গানের
গলা তো খুব সুন্দর, আমাদের একটা গান শুনান,
সবাই একসাথে
বলাতে না করতে পারলাম নাহ। "বাহ, আপনার
গান যতই শুনছি
ততোই মুগ্ধ হচ্ছি। ইসস্ আমার যদি এইরকম একটা
বিএফ
থাকতো?"
সবাই উচ্চসরে হেসে উঠলো, কিন্তু তানিসা
কে দেখলাম
কেমন যানি রাগি দৃস্টি নিয়ে তাকিয়ে
আছে। কিছুই বুঝলাম নাহ।
সবাই চলে গেল আমি ও উঠে আসলাম আর
ভাবতে লাগলাম
তানিসা এইরকম করলো কেন? যাক এত টেনশন
বাদ, কালকে
অনেক কাজ আছে এবার ঘুমাতে হবে।
,
আজ সকাল থেকেই সবাই ব্যাস্ত, আজ বৌভাত।
মানে আজ
আপু চলে যাবে।
সকালে এক ফাকে আপু বললো "কি রে কতদিন
হলো"
--- কি কতদিন?
--- নেকা কিছুই বুঝে নাহ,,,,, বলি মেয়েটার
সাথে কতদিন?
--- যাহ আপু,,, কি বলিস এইসব?
--- ওই একদম লুকানোর চেস্টা করবি নাহ,,,, তোর
আগে
আমি দুনিয়ায় এসেছি বুঝছস?
--- আপু প্লিজ কিছু একটা কর। ওকে খুব বেশি
ভালবাসি।
আপু আমাকে কিছু কমদামী নলেজ দিলো।
সকালে একফাকে তানিসার কাঝে খবর
পাঠালাম বাগান বাড়িতে
দেখা করতে। পেছন থেকে শব্দ হলো
--- কি জন্য ডাকছিস?
--- তোর সাথে কিছু কথা আছে।
--- বল
--- কিভাবে শুরু করবো বুঝতে পারতাছি নাহ।
--- ওই, ডং না করে কি বলবি বল,,, না হয় আমি
গেলাম আমার কাজ
আছে। এই বলে চলে যেতে চাইলো
আমি হাতটা ধরে
--- তানিসা, যানি নাহ তোমার মাঝে কি এমন
মায়া আছে যা
আমাকে তোমার কাছে বারবার টেনে আনে।
তোমার
কাছে আসলে এক অন্যরকম অনুভূতি কাজ করে।
যেদিন
তোমায় প্রথম ক্যাম্পাসে দেখেছি, সেইদিন
থেকে
প্রতিটা ক্ষনে তোমার প্রেমে পড়তে বাধ্য
হয়েছি।
তোমার ওই কাজল কালো চোখ, ভূবোন ভূলানো
হাসি,
ঠোটের তিল, সবকিছুতেই যেন নতুন করে প্রেমে
পরি। আমি চাই সারাজীবন এই মায়ায় জরিয়ে
থাকতে, তুমি কি
আমার সেই তানিসা হবে যার সাথে কাটিয়ে
দেওয়া যাবে বাকি
জীবন টা? দুইজনে একসাথে জৌস্নারাতে চাদ
দেখবো,
একসাথে বৃস্টিতে ভিজবো, তুমি কি আমার
জীবনে চলার
পথে সাথি হবে।
Will u marry me?
--- সরি নীল,,,, এই বলে তানিসা চলে গেল। তার
চলে
যাওয়ার পথে চেয়ে রইলাম আর ভাবছি
কাজটা কি খুব দ্রুত
করে ফেললাম? আজকে না বললে কি এমন
ক্ষতি হতো?
নাহ ঠিকই আছে, আজ যেহেতু রিজেক্ট করলো,
পরে
হয়তো তাই হতো। যাক এইফাকে যেনে নিলাম
যে আমার
প্রতি ওর কোন ফিলিংস নেই। বিয়েটা শেষ
হতে দেই,
তারপর সরি বলে সবকিছু ভুলে যাব।
,
একটু পর প্রচুর ব্যস্ত হয়ে পরলাম, ইচ্ছে করেই
সকালের ঘটনা ভুলে যেতে চাইলাম। বর
পক্ষকে আপ্যায়ন
করছি,,, লক্ষ করলাম কাল রাতের ওই মেয়ে
গুলো আমার
দিকে আকর্ষন বাড়ানোর চেস্টা করছে।
আমি আর ওইদিকে নজর দিলাম নাহ। যাওয়ার
আগে তো
একজন প্রপোজ করে বসলো, তাও তানিসা আর
আমার কিছু
কাজিন এর সামনে। আমি সাথে সাথে না করে
দিয়েছি। পাশে
চেয়ে দেখি তানিসা আমার দিকে অগ্নি
দৃস্টিতে চেয়ে
রয়েছে।
সন্ধায় আপুকে বিধায় দিলাম, সবাই খুব কান্না
করছে। আমার ও
কান্না পাচ্ছিলো, একটা মাএ আপু আমার সব
দুঃখ কস্ট আপুর
সাথে শেয়ার করতাম, কোন রকম কান্না চেপে
যাই।
রাতে তানিসা আমাকে ছাদে ডেকে
পাঠালো। এমনিতেই
মন খারাপ, ভাবলাম সকালের অপমান কি
যথেষ্ট নাহ! আবার কি
বলবে?
গিয়ে দেখি ছাদের এক কোনে দাড়িয়ে
আছে!
কাছে যেতেই ঠাস ঠাস দুইগালে দুইটা চড়
মারলো।
আমার মুখ দিয়ে কিছু বের হচ্ছে নাহ, শুধু অবাক
হওয়ার
ভঙ্গিতে চেয়ে রইলাম
--- কি ভেবেছিস তুই নিজেকে? (তানিশা)
--- কি করলাম আবার? (আমি)
--- কি করেছিস তুই জানিস নাহ?
ওই মেয়েটার সাথে কি এত মধুর সম্পর্ক! যে
সবার
সামনেই প্রপোজ করে?
এতক্ষনে আমি ব্যাপারটা বুঝতে পারলাম
--- ওহ,, ওই মেয়ে! ওই টা তো অধরা, আমার পূর্ব
পরিচিত।
ছেলেবেলা থেকেই আমাকে ভালবাসে,
এইবার ভাবতাছি
ওরে আর কস্ট দিবো নাহ, বাবা-মাকে বলে
কিছু একটা করে
ফেলি, আপুর পর তো সিরিয়াল আমারই! কি
বলস?
--- মানে? তাইলে তুই আমারে প্রপোজ
করছিলি কেন?
--- ওইটা তো আবেগে বলছি,,, আর তুইও তো
রিজেক্ট
কইরা দিছোস! সো, ওইসব ভুইলা যাহ
--- তার মানে আমার প্রতি তোর আবেগ টাই
কাজ করে! মন
থেকে ভালবাসিস নাহ?
--- একদম মনের অন্তস্তল থেকেই
ভালবাসছিলাম। তাই
তো তুই ফিরাইয়া দিলি
--- আমিতো তোর ওই দিন এর প্রশংসারর
প্রতিশোধ নিলাম।
--- বুঝলাম নাহ
--- এখন তো বুঝবা নাই,,, তুমি গান গাওয়ার পর
ওই মেয়ে গুলা
কি বলছিলো?
--- কি বলছিলো আবার, আমার গানের তারিফ
করছে,,, আচ্ছা
ভাল গান গাইলে কি প্রশংসা করা অন্যায়?
--- ওই কুত্তা, আমি প্রশংসার টা বলিনাই,,,
আমার সামনে তোরে
বিএফ এর প্রস্তাব দেয়?
--- তাতে তোর কি? তুই এতো জলছিস কেন?
---,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,(চুপ)
--- কি রে কথা বলছিস নাহ কেন?
--- সব কথা কি মুখে বলতে হয়?
--- তারমানে তুই ও আমাকে?
শুধু মাথা নাড়লো
--- ইয়াহু,,,, আয় আমার বুকে আয়
--- যাহ, শয়তান
এইবলে নিচে চলে গেল।
এইদিকে আমার খুশি দেখে কে,,,, ওকে নিয়ে
বিভিন্ন
যায়গায় ঘুড়তে যাওয়া,,,, আমাদের জেলার
কিছু সুন্দর সুন্দর
স্পট গুলো ঘুরে দেখানো। এভাবেই এক সাপ্তাহ
কেটে গেল। রাতে দেখলাম মন খারাপ,
জিগ্গেস করলাম
কি হয়েছে! বললো কালকে নাকি চলে
যাচ্ছে। আমার
ভেতর টা নড়ে উঠলো। আমি আর কয়টা দিন
থাকার জন্য
বললাম, ও বলে সম্ভব নাহ। ওর জন্য নাকি ওর
বাবা-মা পাএ দেখা
শুরু করেছে। আমি দুচোখে অন্ধকার দেখতে
লাগলাম।
ও অনেক কান্নাকাটি করলো ওইদিন রাতে।
আমি ও ওকে
সান্তনা দিতে পারছিলাম নাহ।
রাতে দেখলাম বাবা-মা কি নিয়ে যেন
আলোচনা করছে।
সাথে তানিশা ও বসা ছিলো, মুখটা মলিন হয়ে
আছে।
খাবার টেবিলে বসতেই বাবা বলা শুরু করলেন,
--- কি রে,,, এভাবে আর কতদিন?
--- কিভাবে? (আমি)
--- এই যে ঘুরাঘুড়ি,,,, লেখাপড়া তো শেষ
এইবার ব্যাবসার
দায়িত্বটা ও নিয়ে নে,,, আমার তো বয়স কম
হলো নাহ,,
আমি এইবার একটু বিশ্রাম নেই।
--- বাবা,, মাএ পড়ালেখা শেষ করলাম,,, আর
দুইটা দিন পরে
দায়িত্বটা নেই?
--- আচ্ছা ঠিক আছে,,,, আর হে শুন কালকে কি
তোর
কোন কাজ আছে?
--- কালকে! নাহ তো,, কেনো?
--- কাল বিকালে পাএী পক্ষের লোক আসবে
তোকে
দেখতে।
--- কিহ? কিসের পাএী পক্ষ? কার বিয়ে?
--- তোর বিয়ে,,, অনেক দূর থেকে আসবে,,, এই
বলে দুইজনই মুচকি মুচকি হাসতে লাগলো।
আমি আর কিছুই বলতে পারলাম নাহ। মাথা
কাজ করছে নাহ
একদিকে তানিশা কে হারাতে বসেছি, আর
অন্যদিকে বাবা
বিয়ের আয়োজন করছে,,, দূরর, এতো ডিপ্রেশনে
মানুষ বাচে কি ভাবে? ভোর সকালে উঠে
দেখি অধরা তৈরি
হচ্ছে।
--- আজ না গেলে হয় নাহ? (আমি)
--- না, মি.নীল,,, আমাকে আজই যেতে হবে
(তানিশা)
তানিশার ব্যবহারে হঠাৎ পরিবর্তন লক্ষ
করলাম, কেমন যেন
একটু পর পর লাগলো।
--- কি হয়েছে? এমনভাবে কথা বলছো কেন
(আমি)
--- কেমনভাবে বলছি মি.নীল! তাছাড়া আমি
আজ যত তারাতারি
চলে যাই ততোই ভাল আপনার জন্য,,,, হবু শশুড়
বাড়ির
লোকজন আবার আমাকে দেখে কি নাহ কি
মনে করে
বলা তো যায় নাহ?
আমি তানিশার চোখে স্পস্ট আমার জন্য রাগ
অভীমান জমে
আছে। আমি তার কথার জবাবে শুধু এতটুকুই
বললাম,
--- আমি এই বিয়ে করছি নাহ।
--- কেন করবেন নাহ? করে ফেলেন,,,, পরে
হয়তো
এত ভাল মেয়ে নাও পেতে পারেন।
--- তানিশা প্লিজ! অনেক হইছে, এইবার থাম।
আর কিছু বললো নাহ।
এখনো কেউ ঘুম থেকে উঠেনি। এখন ওর সাথে
বাসস্টপেজ এ বসে আছি। এর মাঝে অনেক বার
বলেছে
চলে যাও লাগবে নাহ।
তানিশার বাস আর মাএ ১০ মিনিট পর, ভাবতেই
অবাক লাগে তানিশা
আমার সামনে আছে আর মাএ ১০ মিনিটের
জন্য। তারপর
হয়তো আর কোনদিন দেখা হবে নাহ।
টিকিটটা হাতে দিয়ে শেষ অনুরোধটা করলাম
"না গেলে হয়না"?
--- এককথা কতবার বলবো তোমায়?,,, আমি এখন
অন্য কারও
হতে যাচ্ছি, বাবা-মা আজকে ফাইনাল কথা
বলবে,, ভাল
থেকো আর পারলে ভুলে যেও আমায়।
--- আমি তোমায় কোনদিন ও ভুলতে পারবো
নাহ।
তানিশা চলে যাচ্ছে, সাথে করে নিয়ে
যাচ্ছে আমার আশা
স্বপ্ন ভবিষ্যৎ, না পারছি আটকাতে না পারছি
যেতে দিতে।
,
বসে আছি বাসস্টপেজ এ, তানিশা এতক্ষনে
হয়ত চলে
গেছে।
হঠাৎ কাধে কারও স্পর্স পেয়ে ঘুরে দেখি
তানিশা।
--- তুমি যাওনি? (আমি)
--- গেলে বুজি খুব খুশি হতে? (তানিশা)
--- নাহ নাহ কি বলো? আমিতো চাই তোমাকে
সারাজীবন
আমার ভালবাসার বাধনে বেধে রাখতে।
--- তোমার চাওয়াটা মনে হয় পূরন হতে চলেছে
--- মানে?
--- আর মানে মানে করতে হবে নাহ,,,,, মা ফোন
করে
বললো, তারা নাকি বিকালে তোমাদের
বাসায় আসছে।
তোমার বাবর সাথে নাকি কালকে কথা
হয়েছে।
--- সত্তি?
--- একদম তিন সত্তি
--- ইসস্ আমার যে কি খুশি লাগতাছে নাহ বউ
একটু জরাইয়া ধরি তোমায়?
--- কী? কত্তবড় সাহস! জড়াইয়া ধরবা মানে?
আর কে
তোমার বউ? হমম
--- তুমি
--- আ হা গো,,, সখ কতো,,, এখন ও হইনাই
--- হতে কতক্ষন!
--- যখন হবো তখন দেখা যাবে
--- ওকে মেডাম,,, তখন আর ছাড়ছি নাহ
--- হি হি হি
THANKS FOR
READING
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now