বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
জ্বিন কফিল
পর্ব ৬
হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেলো ।অবাক হয়ে দেখি
লতিফা আমার ঘরে ।আমি ধড়মড় করে উঠে বসলাম
।লতিফা বললো,আপনেরে একটা ধাধা জিজ্ঞেস
করতে আসছি ।আচ্ছা বলেন তো-
‘হেন কোনো গাছ আছে এ ধরায়
স্থলে জলে কভু তাহা নাহি জন্মায়’
আমি ধধার জবাব না দিয়ে বললাম,তুমি কখন
আসছো ?
লতিফা বলল,অনেক্কখন হইছে আসছি ।আপনি
ঘুমাইতেছিলেন আপনারে জাগাই নাই ।এখন বলেন
,ধাধার উত্তর দেন ।
আমি বললাম,এইটার উত্তর জানা নেই ।
‘উত্তর খুব সোজা ।উত্তর হইল –পরগাছা ।আচ্ছা
আরেকটা ধরি,বলেন দেখি---’
‘পাকলে খেতে চায়না,কাচা খেতে চায়
এ কেমন ফল বলতো আমায়’
মেয়েটার কান্ড কারখানায় আমার ভয় ভয় লাগতে
লাগলো ।কেন সে এই রকম করে ?কেন বার
বার আমার ঘরে আসে? লোকের চোখে
পড়লে নানান কথা রটবে ।মেয়ে যত সুন্দর তারে
নিয়ে রটনাও তত বেশি
লতিফা আমার বিছানায় বসতে বসতে বললো,কই
বলেন এটার উত্তর কি
‘পাকলে খেতে চায়না,কাচা খেতে চায়
এ কেমন ফল বলতো আমায়’
বলতে পারলনে না-এটা হলো শসা ।পাকা শসা কেউ
খায় না ।সবাই কাচা শসা খায় ।আচ্ছা আপনার বুদ্ধি এত
কম কেন ?একটাও পারেন না ।আপনি একটা ধাধা
ধরেন আমি সঙ্গে সঙ্গে বলে দেবো
‘আমি ধাধা জানিনা লতিফা’
‘আপনি কি জানেন?শুধু আল্লাহ আল্লাহ করতে
জানেন আর কিছু জানেন ?’
‘লতিফা তুমি এখন ঘরে যাও’
‘ঘরেই তো আছি ।এইটা ঘরনা?এইটা কি বাহির?’
‘যখন তখন তুমি আমার ঘরে আসো –এটা ঠিকনা’
‘ঠিক না কেন?আপনি কি বাঘ না ভালুক?’
আমি চুপ করে রইলাম ।আধা পাগল এই মেয়েকে
আমি কি বলবো ?এই মেয়ে একদিন নিজে
বিপদে পড়বে ।আমাকেও বিপদে ফেলবে
,লতিফা বললো,আমি যে মাঝে মধ্যে আপনার
এখানে আসি সেইটা আপনার ভাল লাগেনা-ঠিকনা ?
‘হ্যা ঠিক’
‘ভাল লাগেনা কেন?’
‘নানান জনে নানান কথা বলতে পারে’
‘কি কথা বলতে পারে?আপনার সঙ্গে আমার ভালবাসা
হয়ে গেছে ?চুপ করে আছেন কেন
বলেন?’
‘তুমি এখন যাও লতিফা’
‘আচ্ছা যাই ।কিন্তু আমি আবার আসবো ।রাত দুপুরে
আসব ।তখন দেখবেন কি বিপদ’
‘কেন এই রকম করতেছো লতিফা?’
লতিফা উঠে দাড়াতে দাড়াতে বললো, যে ভয় পায়
তাকে ভয় দেখাতে আমার ভাল লাগে ।এইজন্য
আরকম করি ।আচ্ছা মৌলানা সাহেব যাই । আসসালামু
আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহে ওয়া বরকাতুহু হি হি হি
ভাই,আপনার কাছে সত্য কথা গোপন করবনা ।সত্য
গোপন করা বিরাট অন্যায় ।আল্লাহ পাক সত্য
গোপনকারীকে পছন্দ করেননা ।চাকরি পাওয়ার
পরেও আমি মোক্তার সাহেবের বাড়িতে
থেকে গেলাম শুধু লতিফার জন্য ।তারে দেখার
জন্য মনটা ছটফট করতো ।রাত্রে ভাল ঘুম হতনা ।
শুধু লতিফার কথা ভাবতাম । মনে মনে অপেক্ষা
করতাম কোনো এক সময় তারে এক নজর
হলেও দেখবো ।তার পায়ের শব্দ শুনলেও বুক
ধড়ফড় করতো ।বলতে খুব শরম লাগছে তবু ভাই
সাব বলি-লতিফার চুলের একটা কাটা আমি সব সময়
আমার সঙ্গে রাখতাম ।আমার কাছে মনে হত এইটা
চুলের কাটানা,এইটা সাত রাজার ধন । আমি
আল্লাহপাকের দরবারে কান্নাকাটি করতাম ।বলতাম-
হে পতোয়ারদিগার ,হে গাফুরুর রহিম,তুমি আমাকে
একি বিপদে ফেললা ।তুমি আমারে উদ্ধার করো ।
আল্লাহপাক আমারে উদ্ধার করলেন ।লতিফার
বিবাহের প্রস্তাব আসলো ।ছেলে এম বি বি এস
ডাক্তার ।বাড়ি গৌরিপুর ।ভাল বংশ । খানদানি পরিবার ।
ছেলে নিজে এসে মেয়ে দেখে গেলো
।মেয়ে তার খুব পছন্দ হলো ।পছন্দ না হওয়ার
কোনো কারন নেই ।লতিফার মত রূপবতী
মেয়ে সচরাচর দেখা যায়না ।ছেলেও দেখতে
শুনতে ভাল ।শুধু গায়ের রংটা একটু ময়লা ।কথা বার্তায়
ও ছেলে অতি ভদ্র ।বিয়ে ঠিকই হয়ে গেলো
।বারই শ্রাবন ।শুক্রবার দিবাগত রাতে বিবাহ পড়ানো
হবে
আমার মনটা বড়ই খারাপ হয়ে গেলো ।আমি জানি এই
মেয়ের সঙ্গে আমার বিবাহের কোনো
প্রশ্নই ওঠেনা ।কোথায় সে আর কোথায় আমি ।
চাকর-শ্রেনীর আশ্রিত একজন মানুষ ।জমিজমা
নেই,আত্মীয়-স্বজন নেই,সহায় সম্বল নেই ।
তারজন্য আমি কনোদিন আফসোস করি নাই ।
আল্লাহপাক যাকে যা দেন তাই নিয়েই সন্তুষ্ট
থাকতে হয় ।আমিও ছিলাম ।কিন্তু যেদিন লতিফার
বিয়ের কথা পাকাপাকি হয়ে গেলো সেদিন কি যে
কষ্ট লাগলো বলে আপনাকে বুঝাতে পারবনা ।
সারারাত শহরের পথে পথে ঘুরলাম ।জীবনে
কোনোদিন নামাজ কাজা করিনাই –এই প্রথম এশার
নামাজ কাজা করলাম ।ফজরের নামাজ কাজা করলাম ।
এতোদিন পরে লজ্জা লাগছে-আমার প্রায় মাথা
খারাপের মত হয়ে গিয়েছিল ।ভোরবেলা
মোক্তার সাহেবের বাসায় গেলাম ।সবার কাছ
থেকে বিদায় নিলাম ।এইখানে আর থাকবনা ।বাজারে
চালের আড়তে থাকবো ।মোক্তার সাহেবের
স্ত্রী বললেন,এখন যাবে কেন বাবা?মেয়ের
বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে ।কতো কাজকর্ম ।
কাজকর্ম শেষ করে তারপরে যাও ।
আমি মিথ্যা কথা বলিনা ।প্রথম মিথ্যা বললাম ।আমি
বললাম,মা সিদ্দিকুর রহমান সাহেব আজই আমাকে
দোকানে গিয়ে উঠতে বলেছেন-উনি আমার
মনিব ।অন্নদাতা ।উনার কথা না রাখলে অন্যায় হবে ।
বিয়ের সময় আমি চলে আসবো ।কাজকর্মের
কোনো অসুবিধা হবেনা মা ।
সবার কাছ থেকেই বিদায় নিলাম ।লতিফার কাছ থেকে
বিদায় নিতে পারলাম না ।সে যখন সামনে এসে
দাড়ালো তখন চোখ তুলে তার দিকে তাকাতে
পর্যন্ত পারলাম না ।
লতিফা বলো,চলে যাচ্ছেন ?আমি বললাম-হ্যা
‘কেন,আমরা কি কোন দোষ করেছি ?’
‘ছি ছি দোষ করবে কেন ?’
‘আচ্ছা যাওয়ার আগে এই ধধাটা ভাঙ্গায়ে দিয়ে যান-
বলেন দেখি-
ছাই ছাড়া শোয় না
লাথি ছাড়া ওঠে না ।এই জিনিস কি ?’
‘জানি না লতিফা’
‘এত সহজ জিনিস পারলেন না ।এটা হল কুকুর ।আচ্ছা
যান ।দোষ ঘাট হলে ক্ষমা করে দিয়েন ।’
আমি আড়তে চলে আসলাম ।রাত ৮ টার দিকে
মোক্তার সাহেব লোক পাঠিয়ে আমাকে ডাকিয়ে
নিয়ে গেলেন ।তিনি শোবার ঘরে চেয়ারে
বসেছিলেন ।আমাকে এইখানে নিয়ে যাওয়া হলো
।আমি খুবই অবাক হলাম ।একটু ভয় ভয়ো করতে
লাগল ।মোক্তার সাহেবের স্ত্রী খাটে বসে
আছেন ।নিঃশব্দে কাদছেন ।আমি কিছুই বুঝলাম না।
বুক ধড়ফড় করতে লাগলো ।না জানি কি হয়েছে ।
মোক্তার সাহেব বললেন,তোমাকে আমি
পুত্রের মত স্নেহ করেছি ।তার বদলে তুমি এই
করলে ?দুধ দিয়ে কাল সাপ পোষার কথা শুনে
এসেছি ।আজ নিজের চোখে দেখলাম ।
আমি মোক্তার সাহেবের স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে
বললাম,মা আমি কিছুই বুঝতেছি না।
মোক্তার সাহেব চাপা স্বরে বললেন,বোকা
সাজার দরকার নাই ।বোকা সাজবা না ।তুমি যা করছো তা
তুমি ভালই জানো ।তুমি পথের কুকুরের ও অধম
আমি মোক্তার বললাম,আমার কি অপরাধ দয়া করে
বলেন ।
মোক্তার সাহেব রাগে কাপতে কাপতে
বললেন,মেথরপট্টিতে যে শুয়োর থাকে তুই
তার চেয়েও অধম-তুই নর্দমার ময়লা ।বলতে
বলতে তিনি কেদে ফেললেন ।
মোক্তার সাহেবের স্ত্রী বললেন,লতিফা সবই
আমাদের বলেছে ।কিছুই লুকায় নাই ।এখন এই
অপমান এই লজ্জার হাত থেকে বাচার একমাত্র উপায়
লতিফার সঙ্গে তোমাত বিবাহ দেওয়া ।তুমি তাতে
রাজি আছো?না মেয়ের সর্বনাশ করে পালানোই
তোমার ইচ্ছা ?
আমি বললাম, মা আপনি কি বলছেন কিছুই বুঝতে
পারতেছি না ।লতিফা কি বলেছে আমি কিছুই জানি না ।
তবে আপনারা যা বলবেন-আমি তাই করবো ।
আল্লাহপাক উপরে আছেন ।তিনি সব জানেন,আমি
কোনো অন্যায় করি নাই মা
মোক্তার সাহেব চুপ করে বললেন,চুপ থাক
শুওরের বাচ্চা ।চুপ থাক,
সেই রাতেই কাজী ডাকিয়ে বিয়ে পড়ানো
হলো ।বাসররাতে লতিফা বললো,আমি একটা অন্যায়
করেছি-আপনার সাথে যেন বিবাহ হয় এই জন্য বাবা
মাকে মিথা করে বলেছি-আমার পেটে সন্তান
আঁচে ।বিরাট অপরাধ করেছি,আপনার কাছে ক্ষমা
চাই।
আমি বললাম,লতিফা আমি তোমার অপরাধ ক্ষমা করলাম
।তুমি আল্লাহপাকের কাছে ক্ষমা চাও ।
‘আপনি ক্ষমা করলেই আল্লাহ ক্ষমা করবেন ।তাছাড়া
আমি তেমন কোন বড় অপরাধ করি নাই ।সামান্য মিথ্যা
বলেছি ।আপনাকে বিবাহ করার জন্য অনেক বড়
অপরাধ করার জন্যেও আমি তৈরি ছিলাম ।আচ্ছা এখন
বলেন এই ধধাটির মানে কি--’
‘আমার একটা পাখি আছে
যা দেই সে খায়
কিছুতেই মরে না পাখি
জলে মারা যায়’
বুঝলেন ভাই সাহেব,আনন্দে আমার চোখে পানি
এসে গেল।এই আনন্দের কোনো সীমা
নেই ।আমার মত নাদান মানুষের জন্য আল্লাহপাক
এত আনন্দ রেখে দিয়েছেন আমি কল্পনাও করি
নাই ।আমি কতবার যে বললাম,আল্লাহপাক আমি
তোমার নেয়ামত স্বীকার করি ।আমি তোমার
নেয়ামত স্বীকার করি ।
বিয়ের পর আমি শ্বশুর বাড়িতেই থেকে গেলাম ।
আমার এবং লতিফার বড় দুঃখের সময় কাটতে লাগলো
।শ্বশুর বাড়ির কেউ আমাদের দেখতে পারে না ।
খুবই খারাপ ব্যবহার করে ।আমার শাশুড়ী দিন রাত
লতিফাকে অভিশাপ দেন-মর মর তুই মর ।
আমার স্বশুর সাহেব একদিন আমাকে ডেকে
বললেন,সকাল বেলায় তুমি আমার সামনে আসবা না ।
সকাল বেলায় তোমার মুখ দেখলে আমার দিন
খারাপ যায় ।
শ্বশুর বাড়ির কেউ আমার সঙ্গে কথা বলে না ।তারা
এক সঙ্গে খেতে বসে ।সেখানে আমার যাওয়া
নিষেধ ।সবার খাওয়া দাওয়া শেষ হলে লতিফা থালায়
করে আমার জন্য ভাত নিয়ে আসে ।সেই ভাত
আমার গলা দিয়ে নামতে চায় না ।
লতিফা রোজ বলে, চলো অন্য কোথাও যাই
গিয়ে ।
আমি চুপ করে থাকি ।কই যাবো বলেন?আমার কি
যাওয়ার জায়গা আছে? যাওয়ার কেউ জায়গা নাই।লতিফা
খুব কান্নাকাটি করে।
একদিন খুব অপমানের মধ্যে পড়লাম।আমার
শ্বশুরের পাঞ্জাবীর পকেট থেকে ১০০০ টাকা
চুরি গেছে ।তিনি আমাকে ডেকে নিয়ে
বললেন,এই যে দাড়িওয়ালা তুমি কি আমার টাকা
নিয়েছো ?
আমার চোখে পানি এসে গেলো ।একি
অপমানের কথা ।আমি দরিদ্র ।আমার যাওয়ার জায়গা নাই-
সবই সত্য কথা কিন্তু তাই বলে আমি কি চোর?ছি ছি
শ্বশুর সাহেব বললেন,কথা বলো না কেন ?
আমি বললাম,আমারে অপমান কইরেন না ।যত
ছোটই হই আমি আপনার কন্যার স্বামী ।
স্বশুর সাহেব বললেন,চুপ ।চোর আবার ধর্মের
কথা বলে ।
লতিফা সেই দিন থেকে খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে
দিলো ।সে বলল, এই বাড়ির ভাত সে মুখে নিবেনা
।
আমাত শ্বাশুড়ী বললেন, ঢং করিস না ।এই বাড়ির ভাত
ছাড়া তুই ভাত পাইবি কই ?
দুই দিন দুই রাত গেলো লতিফা পানি ছাড়া কিছুই মুখে
দেয় না ।আমারে বলে,তুমি আমারে অন্য
কোথাও নিয়া চলো ।দরকার হইলে গাছতলায় নিয়া
চলো ।এই বাড়ির ভাত আমি মুখে দিব না ।
আমি মহাবিপদে পড়লাম ।
সারারাত আল্লাহরে ডাকলাম ।ফজরের নামাজের
শেষে আল্লাহপাকের দরবারে হাত উঠায়ে
বললাম,হে মাবুদ।হে পাক পরোয়ারদিগার-তুমি ছাড়া
আমি কার কাছে যাবো?আমার দুঃখের কথা কারে
বলব ?কে আঁচে আমার?তুমি আমারে বিপদে
থাইক্যা বাচাও ।
আল্লাহপাক আমার প্রার্থনা শুনলেন ।
ভোরবেলায় চালের আড়তে গিয়েছি ।সিদ্দিকুর
রহমান সাহেব আমাকে ডেকে বললেন,এই যে
মৌলানা,আমার একটা উপকার করতে পারবে?
আমি বললাম,জ্বি জনাব বলেন ।
‘ময়মনসিংহ শহরে আমি নতুন বাড়ি কিনেছি ।এখান
থেকে ঐ বাড়িতে থাকব ।সপ্তাহে সপ্তাহে
এইখানে আসব ।নেত্রকোনায় আমার যে বাড়ি
আছে-তুমি কি এই বাড়িতে থাকতে পারবে?
নেত্রকোনাত বাড়ি আমি বিক্রি করতে চাই না।শুনলাম
তুমি বিবাহ করেছো-তুমি এবং তোমার স্ত্রী
দুজনে মিলে থাকো ।’
আমি বললাম,জনাব আমি অবশ্যই থাকবো।
‘তাহলে তুমি এক কাজ করো ।আজকেই চলে
আসো।একতলার কয়েকটা ঘর নিয়ে তুমি থাকো
.২ তলার ঘর তালাবন্ধ থাক’
‘জ্বি আচ্ছা’
‘বাড়িটা শহর থেকে দূরে ।তবে ভয়ের কিছু
নেই,একজন দারোয়ান আঁচে .২৪ ঘন্টা থাকবে ।
দারোয়ানের নাম-বলরাম ।ভাল লোক’
‘জনাব আমি আজকেই উঠবো’
সেইদিন বিকালেই সিদ্দিক সাহেবের বাড়িতে গিয়া
উঠলাম ।বিরাট বাড়ি ।বাড়ির নাম সরজুবালা হাউস ।হিন্দু বাড়ি
ছিল ।সিদ্দিক সাহেবের বাবা কিনে নিয়েছিলেন ।
৮ ইঞ্চি ইটের দেয়ালের বাড়ির চারদিক ঘেরা .২
তলা পাকা দালান ।বিরাট বড় বড় বারান্দা ।দেয়ালের
ভেতরে নানান জাতের গাছ গাছড়া ।দিনের বেলায়
অন্ধকার হয়ে থাকে ।
আমি বললাম,বাড়ি পছন্দ হয়েছে লতিফা ?
লতিফা আনন্দে কেদে ফেললো .২ দিন খাওয়া
দাওয়া না করায় লতিফার শরীর নষ্ট হয়ে গিয়েছিল ।
চোখ ছোট ছোট,ঠোট কালচে ।মুখ শুকিয়ে
এতটুকু হয়ে গেছে ।এই অবস্থাতেই সে
রান্নাবান্না করল ।অতি সামান্য আয়োজন ।ভাত ডাল
পেপে ভাজা ।খেতে অমৃতের মত লাগলো ভাই
সাহেব ।
খাওয়া দাওয়ার পর দুজনে হাত ধরাধরি করে বাগানে
হাটলাম ।হাসবেন না ভাইসাব ।তখন আমাদের বয়স ছিল
অল্প ।মন ছিল অন্য রকম ।হাটতে হাটতে আমার
মনে হলো এই দুনিয়াতে আল্লাহপাক আমার মত
সুখী মানুষ তৈরি করেন নাই ।আনন্দে বার বার
চোখে পানি এসে যাচ্ছিল ভাই সাহেব
ক্লান্ত হয়ে একসময় একটা লিচুগাছের নিচে আমরা
বসলাম ।আমি যে মিথ্যা কথা বইলা আপনেরে বিবাহ
করছি এই জন্য কি আমার উপর রাগ করেছেন ?
আমি বললাম,না লতিফা ।আমার মত সুখী মানুষ নাই ।
যদি সুখী হন তাহলে এই ধাধাটা পারেন কিনা
দেখেন ।বলেন দেখি-
‘কাটলে বাচে না কাটলে মরে
এমন সুন্দর ফল কোন গাছেতে ধরে?’
‘পারলাম না লতিফা’
‘ভালমত চিন্তা কইরা বলো,এইটা পারা দরকার ।খুব
দরকার।’
‘পারবো না লতিফা ।আমার বুদ্ধি কম’
‘এইটা হইলো সন্তানের নাড়ি কাটা ।সন্তানের
জন্মের পর নাড়ি কাটলে সন্তান বাচে ।না কাটলে
বাচেনা ।আচ্ছা এই ধধাটা আপনেরে কেন
জিজ্ঞেস করলাম বলেন তো ?’
‘তুমি বলো ।আমার বিচার বুদ্ধি খুবই কম’
‘এইটা আপনেরে বললাম-কারন আমার সন্তান হবে’
লতিফা লজ্জায় ২ হাতে মুখ ডেকে ফেললো ।কি
যে আনন্দ আমার হলো ভাই সাহেব ।কি যে
আনন্দ ।
সমাপ্ত
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now