বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মুখটা তোমার থাকলে মলিন মনটা আমার কাঁদে
আর ফেলো না পাখির ছানা তোমার পাতা ফাঁদে
দেখবে তখন আসবে পাখি ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে
দেখবে তখন পাখির পাখা তোমার সাথে ঘুরে
এমন একটা সময় তোমার হবে যখন পাখি
তোমার জন্য আসবে নিয়ে ভাইফোঁটাতে রাখি...
ছড়াটা শেষ হতেই চেয়ে দেখে তানশা চোখ মেলে তাকিয়ে আছে। তানশার এমন তাকিয়ে থাকা দেখে কাছে গিয়ে বসে মেঘভূত। গায়ে হাত দিয়ে দেখে গা সাধারণ তাপমাত্রায় চলে এসেছে। আর তা দেখে আনন্দিত হয় মেঘভূত। আদরের স্বরে বলে-
তোমার জ্বর সেরে গেছে একদম। এখন বলো তুমি কী খাবে?
হুমম, খাবো। কথাটা বলেই তানশা ভাবতে থাকে কী খাবে। যা চাইবে তাই পাবে। কিন্তু যে কোনো একটা চাইতে হবে। শেষমেষ অনেক ভেবে চিন্তে তানশা সিদ্ধান্ত নিলো সে এ বেলায় নোনা ইলিশ আর গরম ভাত খাবে।
আচ্ছা, তুমি একটা মিনিট বসো। আমি দেখি কী করতে পারি! বলেই চোখের পলকে উপস্থিত করল পদ্মার ডাগর ইলিশের বড় এক টুকরো মাছ। কড়া করে ভাজা এই মাছটি দিয়ে ঢেকে তানশার প্রিয় শাদা শাদা মুক্তদানা ভাতগুলো।
তানশা উঠে বসে। চলো আমি তোমাকে খাবার মুখে তুলে দেই।
গরম ভাতের ধুঁয়ো উঠছে। দুজনে মুখোমুখি বসে আছে। একটা মোমবাতি জ্বালিয়ে মাঝখানে বসিয়ে দেয় তানশা। মোমের আলোয় কী অদ্ভুত সুন্দর লাগছে মেঘভূতকে!
মেঘভূত তার কোমল হাতে তুলে দিচ্ছিল ইলিশ ভাজা আর ভাত।
মেঘভূত যত্ন করে তানশাকে খাইয়ে দেয়। অনেক অনেক দিন পর দীপ খুব স্বাদ করে ভাত খায়, মুঠো মুঠো গরম ভাত আর ইলিশের-
তারপর? তারপর শীতলপাটি বিছিয়ে বারান্দায় বসে দুজনে। ঝড় থেমে গেছে। বাইরে মিষ্টি জোছনা। মেঘভূতের কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়ে তানশা। আরামে তার চোখ বুজে আসে। চুলে হাত বুলিয়ে দেয় মেঘভূত।
মেঘভূতের দিকে তাকালেই ভয়ের বদলে একটা বিনম্র শ্রদ্ধা জেগে ওঠে তার জন্য। কোমল পশমে আবৃত্ত তার সারা শরীর। ভালো লাগার সবগুলো দিক রয়েছে মেঘভূতের মধ্যে। আর তাই ক্রমশ স্বপ্নজ সুন্দরের সাথে সাথে শ্রদ্ধা জানায় মেঘভূতকে।
চারপাশের আলোর নাচন দেখে বুঝতে পারে বেলা অনেক আর সে আছে বারান্দায়। ঘুমের ঘোরে কখন বারান্দায় এসে ঘুমিয়েছে সে মনে করতে পারে না! তবে ভেসে ওঠে স্বপ্নজ জীবনকথা।
তানশা আদর করে বলে মেঘভূত এই মেঘভূত...
মেঘাভূত গম্ভীর কণ্ঠে বলে,
হুম বল
তানশা বলে আমি কি আলোবৃষ্টিতে ভিজব, তুমি ভিজবে আমার সাথে?
মেঘভূত : আলোবৃষ্টিতে ভিজছি নাতো, হাত দিয়ে আলোবৃষ্টি ধরার চেষ্টা করছি।
তানশা : এত আলোবৃষ্টি পাগল কেন তুমি বলতো?
মেঘভূত : মা-বাবার দেয়া নামটা সার্থক করতে। তুমিও এসো।
কথায় কথায় অনেক ভিজেছ এইবার এসো তো বলে তানশা মেঘভূতের হাতটা ধরে ঘরে নিয়ে আসে। তাওয়েল দিয়ে বৃষ্টির পানি মুছিয়ে দেয় তানশা।
মেঘভূত তানশার স্বপ্নপরী । আরেকটা ছোট্ট পরীর জন্য অপেক্ষা করছে তারা। সেই ছোট্ট পরীকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন তাদের ।
প্রতিরাতে মেঘভূূতের কাছে ছোট্ট পরীর গল্প না শুনলে তানশার ঘুম আসে না। আকাশও তার স্বপ্নের পরীকে ঘুম পাড়ানোর জন্য ছোট্ট পরীর গল্প বলে যায়, পরীর চুলগুলো আমরা কাটব না। যখন এক বছর হবে পরীর চুলগুলো বড় বড় হবে। দুইটা বেনি করে তাতে লাল ফিতা বেঁধে দিবে তুমি। পরী বাবার হাত ধরে দুইটা বেনি দুলিয়ে দুলিয়ে হাঁটবে। আর পরী জানবে এই দুইটা বেনি দুলিয়ে হাঁটা তানশার খুব পছন্দ। পরীর গল্প শুনতে শুনতে তানশা ঘুমিয়ে যায়...
এই স্বপ্নজ জীবনের হাত ধরে রঙিন সময় গড়ে তোলে তানশা আর মেঘভূত। তাদের সেই সুন্দর সময়ে অনবদ্য সুন্দরের রঙধনু ওঠে। ক্রমশ শব্দচয়িত হয়-
সুন্দরের সাথে সাথে গড়ে ওঠে মিষ্টি
মেঘভূত গান গায় ঝরে আলোবিষ্টি
শাদাফুল ফুটে থাকে কাঁটাহীন ডালেতে
গান চলে ছন্দিত নন্দিত তাল আর তালেতে...
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now